Sponsored Links
জ্ঞানচক্ষু (আশাপূর্ণা দেবী)
আশাপূর্ণা দেবী রচিত 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পের সম্পূর্ণ আলোচনা, সারাংশ, এবং প্রশ্নোত্তর।
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) দশম শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য সঞ্চয়ন বইয়ের প্রথম অধ্যায় আশাপূর্ণা দেবী রচিত 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পের সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, লেখক পরিচিতি এবং পরীক্ষার জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (MCQ, SAQ, Broad ও ব্যাকরণ) বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।
১. গল্পের বিষয়সংক্ষেপ
জ্ঞানচক্ষু গল্পটি আশাপূর্ণা দেবীর লেখা একটি মনস্তাত্ত্বিক গল্প। গল্পের প্রধান চরিত্র তপন, একটি কিশোর, যার লেখক সম্পর্কে একটি অদ্ভুত ধারণা ছিল। সে ভাবত লেখকরা সাধারণ মানুষের মতো নয়, তারা যেন ভিন গ্রহের প্রাণী। কিন্তু তার ছোটোমাসির সঙ্গে একজন সত্যিকার লেখকের বিয়ে হলে তার এই ভুল ধারণা ভাঙে এবং তার 'জ্ঞানচক্ষু' খুলে যায়। সে বুঝতে পারে লেখকরাও সাধারণ মানুষের মতোই জীবনযাপন করেন।
নতুন মেসোমশাইকে দেখে উৎসাহিত হয়ে তপন নিজেও একটি গল্প লিখে ফেলে। তার ছোটোমাসি গল্পটি মেসোমশাইকে দেখায় এবং তিনি সামান্য 'কারেকশান' করে সেটি 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় ছাপিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। গল্পটি সত্যিই ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত হয়, কিন্তু আনন্দের বদলে তপনের জীবনে নেমে আসে চরম হতাশা ও অপমান। সে দেখতে পায় যে তার গল্পটি মেসোমশাই আগাগোড়াই পরিবর্তন করে নিজের ভাষায় লিখেছেন। তপন বুঝতে পারে যে তার নিজের লেখার কোনো মূল্য সেখানে নেই। এই চরম অপমানের মুহূর্তে তার প্রকৃত 'জ্ঞানচক্ষু' উন্মোচিত হয় এবং সে সংকল্প করে যে ভবিষ্যতে সে নিজেই নিজের লেখা সম্পাদকের কাছে জমা দেবে, যাতে অন্যের দ্বারা সংশোধিত হয়ে নিজের লেখার অপমান না ঘটে।
নতুন মেসোমশাইকে দেখে উৎসাহিত হয়ে তপন নিজেও একটি গল্প লিখে ফেলে। তার ছোটোমাসি গল্পটি মেসোমশাইকে দেখায় এবং তিনি সামান্য 'কারেকশান' করে সেটি 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় ছাপিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। গল্পটি সত্যিই ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত হয়, কিন্তু আনন্দের বদলে তপনের জীবনে নেমে আসে চরম হতাশা ও অপমান। সে দেখতে পায় যে তার গল্পটি মেসোমশাই আগাগোড়াই পরিবর্তন করে নিজের ভাষায় লিখেছেন। তপন বুঝতে পারে যে তার নিজের লেখার কোনো মূল্য সেখানে নেই। এই চরম অপমানের মুহূর্তে তার প্রকৃত 'জ্ঞানচক্ষু' উন্মোচিত হয় এবং সে সংকল্প করে যে ভবিষ্যতে সে নিজেই নিজের লেখা সম্পাদকের কাছে জমা দেবে, যাতে অন্যের দ্বারা সংশোধিত হয়ে নিজের লেখার অপমান না ঘটে।
২. লেখক পরিচিতি
আশাপূর্ণা দেবী (১৯০৯-১৯৯৫): তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান ও জনপ্রিয় লেখিকা। প্রথাগত শিক্ষার সুযোগ না পেলেও স্বশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে তিনি অসামান্য সূক্ষ্ম দৃষ্টি, সংবেদনশীলতা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বাঙালি মধ্যবিত্ত জীবনের নানা দিক তার গল্প ও উপন্যাসে দক্ষতার সঙ্গে ফুটিয়ে তুলেছেন। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলির মধ্যে রয়েছে- 'ছোট ঠাকুরদার কাশীযাত্রা', 'প্রথম প্রতিশ্রুতি', 'সুবর্ণলতা', 'বকুলকথা' প্রভৃতি। তিনি 'রবীন্দ্র পুরস্কার', 'সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার', 'জ্ঞানপীঠ পুরস্কার' সহ অসংখ্য সম্মান ও পুরস্কার লাভ করেছেন।
৩. বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) ৫০+ টি প্রশ্ন
১. 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পটির রচয়িতা কে?
(ক) মহাশ্বেতা দেবী (খ) আশাপূর্ণা দেবী (গ) লীলা মজুমদার (ঘ) মহাশ্বেতা দেবী
উত্তর: (খ) আশাপূর্ণা দেবী
২. তপনের নতুন মেসোমশাই পেশায় কী ছিলেন?
(ক) ডাক্তার (খ) উকিল (গ) কলেজের প্রফেসর (ঘ) সম্পাদক
উত্তর: (গ) কলেজের প্রফেসর
৩. তপন লেখক সম্পর্কে কী ভাবত?
(ক) তারা সাধারণ মানুষ (খ) তারা আকাশ থেকে পড়া জীব (গ) তারা খুব ধনী (ঘ) তারা খুব গরিব
উত্তর: (খ) তারা আকাশ থেকে পড়া জীব
৪. তপনের জ্ঞানচক্ষু কবে খুলেছিল?
(ক) গল্প লেখার পর (খ) নতুন মেসোকে দেখে (গ) গল্প ছাপার পর (ঘ) পুরস্কার পাওয়ার পর
উত্তর: (খ) নতুন মেসোকে দেখে
৫. নতুন মেসোমশাই কোন পত্রিকায় তপনের গল্প ছাপিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন?
(ক) শুকতারা (খ) আনন্দমেলা (গ) সন্ধ্যাতারা (ঘ) দেশ
উত্তর: (গ) সন্ধ্যাতারা
৬. তপন কোন খাতা নিয়ে গল্প লিখতে বসেছিল?
(ক) রাফ খাতা (খ) হোম টাস্কের খাতা (গ) নতুন খাতা (ঘ) ডায়েরি
উত্তর: (খ) হোম টাস্কের খাতা
৭. তপন গল্পটি কোথায় বসে লিখেছিল?
(ক) নিজের ঘরে (খ) ছাদে (গ) তিনতলার সিঁড়িতে (ঘ) বাগানে
উত্তর: (গ) তিনতলার সিঁড়িতে
৮. তপনের লেখা গল্পের নাম কী ছিল?
(ক) প্রথম অভিজ্ঞতা (খ) প্রথম দিন (গ) স্কুলের প্রথম দিন (ঘ) প্রথম পুরস্কার
উত্তর: (খ) প্রথম দিন
৯. তপনের চিরকালের বন্ধু কে?
(ক) তার মা (খ) ছোটোমাসি (গ) মেজোকাকু (ঘ) নতুন মেসো
উত্তর: (খ) ছোটোমাসি
১০. ছোটোমাসি তপনের চেয়ে বয়সে কত বড়ো?
(ক) পাঁচ বছরের (খ) ছয় বছরের (গ) বছর আষ্টেকের (ঘ) দশ বছরের
উত্তর: (গ) বছর আষ্টেকের
১১. তপনের বাড়িতে কার নাম কবি, সাহিত্যিক, কথাশিল্পী হয়ে গিয়েছিল?
(ক) ছোটোমাসির (খ) নতুন মেসোর (গ) তপনের (ঘ) মেজোকাকুর
উত্তর: (গ) তপনের
১২. "কোনোখান থেকে টুকলিফাই করিসনি তো?" - কথাটি কে বলেছিল?
(ক) মা (খ) ছোটোমাসি (গ) মেসো (ঘ) মেজোকাকু
উত্তর: (খ) ছোটোমাসি
১৩. "রত্নের মূল্য জহুরির কাছেই" - এখানে 'রত্ন' কে বা কী?
(ক) তপন (খ) তপনের গল্প (গ) নতুন মেসো (ঘ) ছোটোমাসি
উত্তর: (খ) তপনের গল্প
১৪. "রত্নের মূল্য জহুরির কাছেই" - এখানে 'জহুরি' কে?
(ক) ছোটোমাসি (খ) নতুন মেসো (গ) পত্রিকার সম্পাদক (ঘ) তপনের বাবা
উত্তর: (খ) নতুন মেসো
১৫. "তপন কৃতার্থ হয়ে বসে বসে দিন গোনে।" - কিসের জন্য দিন গোনে?
(ক) পরীক্ষা শেষ হওয়ার (খ) গল্প ছাপার অক্ষরে দেখার (গ) মেসোর আসার (ঘ) বাড়ি যাওয়ার
উত্তর: (খ) গল্প ছাপার অক্ষরে দেখার
১৬. "তার চেয়ে দুঃখের কিছু নেই, তার থেকে অপমানের!" - কীসের কথা বলা হয়েছে?
(ক) নিজের গল্প অন্য কেউ কারেকশান করে দেওয়া (খ) নিজের গল্প পড়তে বসে অন্যের লেখা লাইন পড়া (গ) গল্প ছাপা না হওয়া (ঘ) পরীক্ষায় ফেল করা
উত্তর: (খ) নিজের গল্প পড়তে বসে অন্যের লেখা লাইন পড়া
১৭. তপন গভীরভাবে কী সংকল্প করে?
(ক) আর কখনো গল্প লিখবে না (খ) নিজের লেখা নিজে গিয়ে দেবে (গ) মেসোকে আর গল্প দেখাবে না (ঘ) ছোটোমাসিকে কিছু বলবে না
উত্তর: (খ) নিজের লেখা নিজে গিয়ে দেবে
১৮. তপন গল্পটি কোন বিষয় নিয়ে লিখেছিল?
(ক) রাজারানির গল্প (খ) খুন জখম অ্যাকসিডেন্ট (গ) না খেতে পেয়ে মরে যাওয়া (ঘ) ভরতি হওয়ার দিনের অভিজ্ঞতা আর অনুভূতি
উত্তর: (ঘ) ভরতি হওয়ার দিনের অভিজ্ঞতা আর অনুভূতি
১৯. তপন প্রথম গল্পটি লেখার পর আরো কয়টি গল্প লিখেছিল?
(ক) একটি (খ) দু'তিনটে (গ) চার-পাঁচটি (ঘ) দশটি
উত্তর: (খ) দু'তিনটে
২০. "পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনাও ঘটে?" - অলৌকিক ঘটনাটি কী?
(ক) তপনের মেসোর আসা (খ) তপনের গল্প লেখা (গ) তপনের গল্প ছাপার অক্ষরে প্রকাশ পাওয়া (ঘ) তপনের পুরস্কার পাওয়া
উত্তর: (গ) তপনের গল্প ছাপার অক্ষরে প্রকাশ পাওয়া
২১. সূচিপত্রে তপনের নাম কীভাবে লেখা ছিল?
(ক) শ্রীতপন রায় (খ) শ্রীতপন কুমার রায় (গ) তপন রায় (ঘ) তপন কুমার রায়
উত্তর: (খ) শ্রীতপন কুমার রায়
২২. "আমাদের থাকলে আমরাও চেষ্টা করে দেখতাম।" - উক্তিটি কার?
(ক) বাবার (খ) মায়ের (গ) মেজোকাকুর (ঘ) ছোটোমামার
উত্তর: (গ) মেজোকাকুর
২৩. "তপন যেন কোথায় হারিয়ে যায় এইসব কথার মধ্যে।" - কেন?
(ক) সবাই তার প্রশংসা করছিল বলে (খ) সবাই মেসোর মহত্ত্বের কথা বলছিল বলে (গ) সে গল্পটি পড়তে পারছিল না বলে (ঘ) সে লজ্জিত হয়েছিল বলে
উত্তর: (খ) সবাই মেসোর মহত্ত্বের কথা বলছিল বলে
২৪. তপনের মা তপনকে কী পড়তে বলেছিলেন?
(ক) স্কুলের বই (খ) নিজের লেখা গল্প (গ) খবরের কাগজ (ঘ) মেসোর লেখা বই
উত্তর: (খ) নিজের লেখা গল্প
২৫. তপন গল্পটি পড়তে গিয়ে কী দেখল?
(ক) তার নিজের লেখাই ছাপা হয়েছে (খ) মেসো আগাগোড়াই কারেকশান করে নতুন করে লিখেছেন (গ) গল্পটিতে অনেক বানান ভুল আছে (ঘ) গল্পটির শেষ অংশ বাদ পড়েছে
উত্তর: (খ) মেসো আগাগোড়াই কারেকশান করে নতুন করে লিখেছেন
২৬. গল্পটি পড়ার সময় তপনের কেমন লাগছিল?
(ক) আনন্দ হচ্ছিল (খ) গর্ব বোধ হচ্ছিল (গ) বোবার মতো বসে ছিল (ঘ) হাসি পাচ্ছিল
উত্তর: (গ) বোবার মতো বসে ছিল
২৭. "তপনের মনে হয় আজ যেন তার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন।" - কেন?
(ক) তার গল্প ছাপা হয়নি বলে (খ) তার গল্পটি মেসো সম্পূর্ণ পরিবর্তন করে দিয়েছেন বলে (গ) সবাই তাকে বকাঝকা করছিল বলে (ঘ) সে গল্পটি পড়তে পারছিল না বলে
উত্তর: (খ) তার গল্পটি মেসো সম্পূর্ণ পরিবর্তন করে দিয়েছেন বলে
২৮. ছোটোমাসি বিয়ে হয়ে কেমন হয়ে গেছে বলে তপনের মনে হয়?
(ক) অহংকারী (খ) মুরুব্বি মুরুব্বি (গ) গম্ভীর (ঘ) রাগী
উত্তর: (খ) মুরুব্বি মুরুব্বি
২৯. "এ দেশের কিছু হবে না" - কথাটি কে বলতেন?
(ক) ছোটোমামা (খ) মেজোকাকু (গ) বাবা (ঘ) নতুন মেসো
উত্তর: (ঘ) নতুন মেসো
৩০. তপন তার মেসোকে দেখে কী বুঝতে পারল?
(ক) লেখকরা খুব ব্যস্ত থাকেন (খ) লেখকরা আকাশ থেকে পড়া জীব নয় (গ) লেখকরা অনেক টাকা রোজগার করেন (ঘ) লেখকরা খুব জ্ঞানী হন
উত্তর: (খ) লেখকরা আকাশ থেকে পড়া জীব নয়
৩১. 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকার সম্পাদক মেসোর কথা 'না' করতে পারবেন না কেন?
(ক) মেসো খুব বড় লেখক বলে (খ) সম্পাদকের সাথে মেসোর ভালো পরিচয় আছে বলে (গ) মেসো একজন প্রফেসার বলে (ঘ) মেসো সম্পাদককে টাকা দেবেন বলে
উত্তর: (খ) সম্পাদকের সাথে মেসোর ভালো পরিচয় আছে বলে
৩২. তপন যখন গল্প লিখছিল, তখন বাড়ির সবাই কী করছিল?
(ক) ঘুমাচ্ছিল (খ) নিথর নিথর ছিল (গ) গল্প করছিল (ঘ) টিভি দেখছিল
উত্তর: (খ) নিথর নিথর ছিল
৩৩. তপন যখন তার গল্পটি নিজে পড়ল, তখন তার কেমন অনুভূতি হয়েছিল?
(ক) গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল (খ) মাথায় হাত দিয়ে বসল (গ) কেঁদে ফেলল (ঘ) খুব হেসে উঠল
উত্তর: (ক) গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল
৩৪. "তবে বিয়ে হয়ে ছোটোমাসি যেন একটু মুরুব্বি মুরুব্বি হয়ে গেছে" - 'মুরুব্বি' শব্দের অর্থ কী?
(ক) বন্ধু (খ) অভিভাবক বা বড়োদের মতো (গ) ছোটোদের মতো (ঘ) অচেনা
উত্তর: (খ) অভিভাবক বা বড়োদের মতো
৩৫. তপনের লেখা প্রথম গল্পটি নিয়ে মেসো কী বলেছিলেন?
(ক) খুব খারাপ হয়েছে (খ) একটু কারেকশান করে দিলে ছাপতে দেওয়া চলে (গ) একদম ছাপানো যাবে না (ঘ) এখনই ছাপিয়ে দেব
উত্তর: (খ) একটু কারেকশান করে দিলে ছাপতে দেওয়া চলে
৩৬. 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকাটি কে নিয়ে এসেছিল?
(ক) তপনের বাবা (খ) ছোটোমাসি আর মেসো (গ) পত্রিকার লোক (ঘ) পিয়ন
উত্তর: (খ) ছোটোমাসি আর মেসো
৩৭. গল্প ছাপা হলে যে ভয়ংকর আহ্লাদটা হবার কথা, সে আহ্লাদ তপন খুঁজে পায় না কেন?
(ক) সবাই মেসোর প্রশংসা করছিল বলে (খ) গল্পটি তার নিজের লেখা ছিল না বলে (গ) পত্রিকায় তার নাম ভুল ছাপা হয়েছিল বলে (ঘ) পত্রিকার বাঁধাই ভালো ছিল না বলে
উত্তর: (ক) সবাই মেসোর প্রশংসা করছিল বলে
৩৮. "কই তুই নিজের মুখে একবার পড় তো তপন শুনি!" - কে বলেছিলেন?
(ক) বাবা (খ) মা (গ) ছোটোমাসি (ঘ) মেসো
উত্তর: (খ) মা
৩৯. গল্প পড়ার সময় তপনের কী মনে হয়েছিল?
(ক) সে খুব ভালো লিখেছে (খ) এর প্রত্যেকটি লাইন নতুন ও অপরিচিত (গ) গল্পটি খুব ছোটো (ঘ) গল্পটিতে অনেক ছবি আছে
উত্তর: (খ) এর প্রত্যেকটি লাইন নতুন ও অপরিচিত
৪০. তপন ছাতে উঠে গিয়ে কী করেছিল?
(ক) ঘুড়ি উড়িয়েছিল (খ) শার্টের তলাটা তুলে চোখ মুছেছিল (গ) চিৎকার করে কেঁদেছিল (ঘ) গল্পটা ছিঁড়ে ফেলেছিল
উত্তর: (খ) শার্টের তলাটা তুলে চোখ মুছেছিল
৪১. আশাপূর্ণা দেবী কোন উপন্যাসের জন্য বেশি পরিচিত?
(ক) পথের পাঁচালী (খ) প্রথম প্রতিশ্রুতি (গ) দেবদাস (ঘ) অরণ্যের অধিকার
উত্তর: (খ) প্রথম প্রতিশ্রুতি
৪২. মেসোমশাই কী খাচ্ছিলেন যখন তপন গল্প পড়ছিল?
(ক) চা (খ) কফি (গ) শরবত (ঘ) দুধ
উত্তর: (খ) কফি
৪৩. "আজ আর অন্য কথা নেই, শুধু তপনের গল্পের কথা, আর..." - আর কার কথা?
(ক) তপনের স্কুলের কথা (খ) তপনের মেসোর মহত্ত্বের কথা (গ) পত্রিকার কথা (ঘ) ছোটোমাসির কথা
উত্তর: (খ) তপনের মেসোর মহত্ত্বের কথা
৪৪. তপনের মতে, তার বয়সি ছেলেমেয়েরা গল্প লিখতে গেলে কী নিয়ে লেখে?
(ক) ভূত-প্রেতের গল্প (খ) রূপকথার গল্প (গ) রাজারানির গল্প বা খুন-জখম (ঘ) হাসির গল্প
উত্তর: (গ) রাজারানির গল্প বা খুন-জখম
৪৫. তপনের মেসোমশাইয়ের মতে, তপনের লেখায় কী আছে?
(ক) হাত আছে, চোখও আছে (খ) শুধু কল্পনা আছে (গ) প্রচুর ভুল আছে (ঘ) কিছুই নেই
উত্তর: (ক) হাত আছে, চোখও আছে
৪৬. তপনের লেখা গল্পটি মেসোমশাই কার হাতে তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন?
(ক) আনন্দবাজারের সম্পাদককে (খ) সন্ধ্যাতারা-র সম্পাদককে (গ) শুকতারা-র সম্পাদককে (ঘ) দেশ-এর সম্পাদককে
উত্তর: (খ) সন্ধ্যাতারা-র সম্পাদককে
৪৭. তপন যখন বোবার মতো বসে ছিল, তখন সে কী ধমক খেল?
(ক) তার পায়া ভারী হয়ে গেছে (খ) সে খুব অলস (গ) সে পড়তে জানে না (ঘ) সে মিথ্যুক
উত্তর: (ক) তার পায়া ভারী হয়ে গেছে
৪৮. 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পটি কোন বয়সের ছেলের মানসিকতা নিয়ে লেখা?
(ক) শিশু (খ) কিশোর (গ) যুবক (ঘ) বৃদ্ধ
উত্তর: (খ) কিশোর
৪৯. তপন কী বলে গড়গড়িয়ে পড়ে যায়?
(ক) নিজের লেখা (খ) মেসোর লেখা (গ) বইয়ের লেখা (ঘ) কিছুই পড়ে না
উত্তর: (খ) মেসোর লেখা
৫০. 'জ্ঞানচক্ষু' খোলার অর্থ কী?
(ক) অন্ধের দৃষ্টি পাওয়া (খ) বিদ্যার্জন করা (গ) প্রকৃত সত্য বা জ্ঞান লাভ করা (ঘ) চশমা পরা
উত্তর: (গ) প্রকৃত সত্য বা জ্ঞান লাভ করা
৪. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ) ৪০+ টি প্রশ্ন
১. 'কথাটা শুনে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল!' - কোন কথাটা?
উত্তর: তপনের নতুন মেসোমশাই, যাঁর সঙ্গে তার ছোটোমাসির বিয়ে হয়েছে, তিনি যে একজন লেখক এবং তাঁর অনেক বই ছাপা হয়েছে, এই কথাটি শুনে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গিয়েছিল।
২. তপনের নতুন মেসোমশাইকে দেখে কী জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল?
উত্তর: তপনের ধারণা ছিল লেখকরা সাধারণ মানুষ নন, তারা অন্য গ্রহের জীব। কিন্তু নতুন মেসোমশাইকে দেখে তার এই ভুল ধারণা ভাঙে এবং সে বুঝতে পারে লেখকরাও তপনের বাবা, মামা বা কাকুর মতোই সাধারণ মানুষ। এই ঘটনাটিকেই তার জ্ঞানচক্ষু খুলে যাওয়া বলা হয়েছে।
৩. মেসোমশাইকে সাধারণ মানুষের মতো কী কী করতে দেখা যায়?
উত্তর: মেসোমশাই অন্যান্য সাধারণ মানুষের মতোই দাড়ি কামান, সিগারেট খান, খাবার সময় অর্ধেক খাবার রেখে দেন, সময়মতো স্নান ও ঘুমোন এবং খবরের কাগজ নিয়ে গল্প ও তর্ক করেন।
৪. "রত্নের মূল্য জহুরির কাছেই" - কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: যেমন একজন জহুরিই রত্নের আসল কদর বুঝতে পারেন, তেমনি তপনের লেখা গল্পের প্রকৃত মূল্য এবং সেটির গুণমান একজন সত্যিকার লেখক অর্থাৎ তার নতুন মেসোমশাই-ই বুঝতে পারবেন, এটাই বোঝানো হয়েছে।
৫. তপনের লেখা গল্পটি পড়ে ছোটোমাসি প্রথমে কী বলেছিল?
উত্তর: তপনের লেখা গল্পটি কিছুটা পড়েই ছোটোমাসি পিঠ চাপড়ানো সুরে বলেছিল, "ওমা এ তো বেশ লিখেছিস রে? কোনোখান থেকে টুকলিফাই করিসনি তো?"
৬. মেসোমশাই তপনের গল্পটি নিয়ে কী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন?
উত্তর: মেসোমশাই বলেছিলেন যে তিনি তপনের গল্পটি একটু 'কারেকশান' বা সংশোধন করে 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় ছাপতে দেবেন।
৭. তপন গল্পটি কীসের ওপর ভিত্তি করে লিখেছিল?
উত্তর: তপন তার গল্পটি স্কুলে ভরতি হওয়ার দিনের নিজস্ব অভিজ্ঞতা এবং অনুভূতির ওপর ভিত্তি করে লিখেছিল, যা মেসোমশাইয়ের খুব পছন্দ হয়েছিল।
৮. "তপন বিহ্বল দৃষ্টিতে তাকায়।" - তপনের এমন দৃষ্টির কারণ কী?
উত্তর: যখন মেসোমশাই চায়ের টেবিলে সকলের সামনে তপনের গল্পের প্রশংসা করেন এবং বলেন যে তার লেখার 'হাত আছে, চোখও আছে', তখন তপন নিজের প্রশংসা শুনে বিহ্বল হয়ে পড়ে।
৯. তপন কখন গল্প লিখতে বসেছিল?
উত্তর: দুপুরবেলা, যখন বাড়ির সবাই নিথর নিথর অর্থাৎ ঘুমে বা বিশ্রামে আচ্ছন্ন ছিল, তখন তপন তিনতলার সিঁড়িতে বসে গল্প লিখতে শুরু করেছিল।
১০. গল্প লেখার পর তপনের কেমন অনুভূতি হয়েছিল?
উত্তর: গল্পটি সম্পূর্ণ লেখার পর যখন তপন সেটি নিজে পড়ল, তখন তার গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল এবং মাথার চুল খাড়া হয়ে উঠল, কারণ তার মনে হচ্ছিল সত্যিই সে একটা হুবহু গল্প লিখে ফেলেছে।
১১. "তবে বিয়ে হয়ে ছোটোমাসি যেন একটু মুরুব্বি মুরুব্বি হয়ে গেছে" - তপন এমনটা কেন ভেবেছে?
উত্তর: ছোটোমাসি তপনের সমবয়সি এবং চিরকালের বন্ধু হলেও, বিয়ের পর তার আচরণে একটু বড়োদের মতো বা অভিভাবকসুলভ গাম্ভীর্য এসেছে, তাই তপন এমনটা ভেবেছে।
১২. বাড়িতে তপনের কী কী নাম হয়ে গিয়েছিল?
উত্তর: গল্প লেখার কথা বাড়িতে জানাজানি হওয়ার পর তপনের নাম হয়ে গিয়েছিল 'কবি', 'সাহিত্যিক' এবং 'কথাশিল্পী'।
১৩. "পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনাও ঘটে?" - অলৌকিক ঘটনাটি কী ছিল?
উত্তর: তপনের নিজের লেখা গল্প সত্যিই ছাপার অক্ষরে 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় প্রকাশিত হবে এবং হাজার হাজার ছেলের হাতে ঘুরবে, এই ঘটনাটিকেই তার কাছে অলৌকিক বলে মনে হয়েছিল।
১৪. 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকার সূচিপত্রে কী লেখা ছিল?
উত্তর: 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকার সূচিপত্রে লেখা ছিল- "প্রথম দিন (গল্প) শ্রীতপন কুমার রায়"।
১৫. গল্প ছাপা হওয়ার খবরে সারা বাড়িতে কী প্রতিক্রিয়া হয়েছিল?
উত্তর: তপনের লেখা গল্প পত্রিকায় ছাপা হয়েছে শুনে সারা বাড়িতে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। পত্রিকাটি সকলের হাতে হাতে ঘুরছিল এবং সবাই তার প্রশংসা করছিল।
১৬. গল্প ছাপা হওয়ার পর মেসোমশাই কী বলেছিলেন?
উত্তর: মেসোমশাই মৃদু হেসে বলেছিলেন যে তপনের লেখাটি নেহাত কাঁচা ছিল বলে তাকে একটু-আধটু 'কারেকশান' বা সংশোধন করতে হয়েছে।
১৭. মেজোকাকু গল্প ছাপা হওয়া প্রসঙ্গে কী মন্তব্য করেছিলেন?
উত্তর: মেজোকাকু মন্তব্য করেছিলেন যে, তপনের মতো একজন লেখক মেসো থাকলে তাঁরাও চেষ্টা করে দেখতেন, অর্থাৎ মেসোর কারণেই গল্পটি ছাপা হয়েছে।
১৮. গল্প ছাপা হলে যে আহ্লাদ হওয়ার কথা, তপন তা কেন পেল না?
উত্তর: কারণ সকলেই তপনের গল্পের চেয়ে মেসোমশাইয়ের 'কারেকশান' করা এবং তাঁর সুপারিশে গল্পটি ছাপা হওয়ার বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছিল। এই কথায় তপন যেন হারিয়ে গিয়েছিল।
১৯. তপন যখন নিজের গল্প পড়তে শুরু করল, তখন সে কী বুঝতে পারল?
উত্তর: তপন বুঝতে পারল যে গল্পের প্রত্যেকটি লাইন নতুন এবং তার কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত। মেসোমশাই গল্পটিকে আগাগোড়াই কারেকশান করে নতুন করে লিখেছেন, সেখানে তপনের নিজের কিছুই নেই।
২০. তপনকে কী ধমক শুনতে হয়েছিল?
উত্তর: তপন যখন পড়তে পারছিল না এবং বোবার মতো বসে ছিল, তখন তাকে শুনতে হয়েছিল, "কীরে তোর যে দেখি পায়া ভারী হয়ে গেল। সবাই শুনতে চাইছে তবু পড়ছিস না?"
২১. তপনের জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন কোনটি বলে তার মনে হয়েছিল?
উত্তর: যেদিন সে জানতে পারল যে তার নিজের নামে ছাপা হওয়া গল্পটিতে তার নিজের লেখা একটি বাক্যও নেই, সম্পূর্ণ মেসোমশাইয়ের লেখা, সেই দিনটিকে তার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন বলে মনে হয়েছিল।
২২. এই গভীর দুঃখের মুহূর্তে তপন কী সংকল্প করেছিল?
উত্তর: তপন সংকল্প করেছিল যে, যদি কখনো সে নিজের লেখা ছাপতে দেয়, তবে সে নিজেই গিয়ে সম্পাদকের কাছে জমা দেবে। নিজের কাঁচা লেখা ছাপা হোক বা না হোক, আর অন্যের সাহায্য নেবে না।
২৩. তপন আর কী শুনতে চায় না বলে সংকল্প করে?
উত্তর: তপন আর কখনও শুনতে চায় না যে "অমুক তপনের লেখা ছাপিয়ে দিয়েছে।"
২৪. তপনের কাছে সবচেয়ে অপমানের বিষয় কী ছিল?
উত্তর: নিজের গল্প পড়তে বসে অন্যের লেখা লাইন পড়া, অর্থাৎ নিজের নামে অন্যের সৃষ্টিকে পড়ার গ্লানিই তপনের কাছে সবচেয়ে বড়ো অপমানের বিষয় ছিল।
২৫. তপনের মেসোমশাই পেশায় কী ছিলেন এবং তিনি কোথায় এসেছিলেন?
উত্তর: তপনের মেসোমশাই পেশায় একজন কলেজের প্রফেসর ছিলেন এবং তিনি গরমের ছুটি থাকায় তার শ্বশুরবাড়িতে (তপনের মামাবাড়ি) এসেছিলেন।
২৬. তপন তার লেখা প্রথম গল্পটি কোন খাতায় লিখেছিল?
উত্তর: তপন তার লেখা প্রথম গল্পটি একটি হোম টাস্কের খাতায় লিখেছিল, যেটি বিয়ে বাড়িতেও তার মা সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন।
২৭. ছোটোমাসি তপনের গল্পের খাতাটি কার কাছে নিয়ে গিয়েছিল?
উত্তর: ছোটোমাসি তপনের গল্পের খাতাটি তার স্বামী অর্থাৎ তপনের নতুন লেখক মেসোমশাইয়ের কাছে নিয়ে গিয়েছিল।
২৮. ছোটোমাসি যখন মেসোমশাইয়ের ঘুম ভাঙিয়ে দেয়, তখন তপনের কেমন লেগেছিল?
উত্তর: তপন মুখে 'না-না' করে আপত্তি জানালেও, মনে মনে সে পুলকিত বা আনন্দিত হয়েছিল, কারণ সে চেয়েছিল তার লেখাটি মেসোমশাই পড়ুক।
২৯. মেসোমশাই প্রথমবার গল্পটি পড়ে কী অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছিলেন?
উত্তর: মেসোমশাই প্রথমবার গল্পটি পড়ে মুখে করুণার ছাপ নিয়ে বলেছিলেন যে গল্পটি দিব্যি হয়েছে এবং একটু 'কারেকশান' করে দিলে ছাপতে দেওয়া চলে।
৩০. "আহ্লাদে কাঁদো কাঁদো হয়ে যায়।" - কে এবং কেন?
উত্তর: তপন যখন বুঝতে পারে যে মেসোমশাই সত্যিই তার গল্পটি ছাপিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন এবং তাকে করুণা করছেন, তখন সে আনন্দে বা আহ্লাদে কাঁদো কাঁদো হয়ে যায়।
৩১. ছোটোমাসি মেসোকে কী অনুরোধ করেছিল?
উত্তর: ছোটোমাসি মেসোকে অনুরোধ করেছিল তপনের গল্পটি ছাপিয়ে দেওয়ার জন্য এবং বলেছিল যে এটিই মেসোর উপযুক্ত কাজ হবে।
৩২. বিকেলে চায়ের টেবিলে কী কথা উঠেছিল?
উত্তর: বিকেলে চায়ের টেবিলে তপনের গল্প লেখার কথা উঠেছিল, যা শুনে প্রথমে সবাই হাসাহাসি করেছিল।
৩৩. ছুটি ফুরানোর পর তপন কী করছিল?
উত্তর: ছুটি ফুরানোর পর রীতিমতো পড়া শুরু হলেও, তপন প্রথম গল্পটি সম্পর্কে আশা ছেড়ে দিয়ে বিষণ্ণ মনে বসেছিল এবং তার হোম টাস্কও করা হয়নি।
৩৪. ছোটোমাসি আর মেসো একদিন কী নিয়ে বেড়াতে এসেছিলেন?
উত্তর: ছোটোমাসি আর মেসো একদিন হাতে 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকার একটি নতুন সংখ্যা নিয়ে তপনদের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।
৩৫. "বুকের রক্ত ছলকে ওঠে তপনের।" - কেন?
উত্তর: ছোটোমাসি আর মেসোর হাতে 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকা দেখে তপনের মনে আশা জাগে যে হয়তো তার লেখা গল্পটি সত্যিই ছাপা হয়েছে, এই কথা ভেবেই তার বুকের রক্ত ছলকে ওঠে।
৩৬. 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকা দেখে তপনের মনে কী প্রশ্ন জেগেছিল?
উত্তর: তপনের মনে প্রশ্ন জেগেছিল যে সত্যিই কি তার জীবনের সবচেয়ে সুখের দিনটি এল আজ? সত্যিই কি তার লেখা গল্প হাজার হাজার ছেলের হাতে ঘুরবে?
৩৭. বাবা গল্প ছাপা হওয়ার কথা শুনে কী বলেছিলেন?
উত্তর: বাবা বলেছিলেন যে, মেসোমশাই যদি নিজে গিয়ে না দিতেন, তাহলে ফট করে একটা লিখলেই তা ছাপা হতো না।
৩৮. "মাসি বলে, 'তা হোক, নতুন নতুন অমন হয়-'" - কীসের প্রসঙ্গে?
উত্তর: মেসোমশাই যখন বলেন যে তপনের লেখাটা কাঁচা ছিল বলে তাকে একটু-আধটু কারেকশান করতে হয়েছে, তখন সেই প্রসঙ্গেই মাসি একথা বলেছিল।
৩৯. মা তপনকে গল্পটি পড়তে বলার সময় কী বলেছিলেন?
উত্তর: মা বলেছিলেন, "কই তুই নিজের মুখে একবার পড় তো তপন শুনি! বাবা, তোর পেটে পেটে এত!"
৪০. গল্প পড়ার পর তপনের কী মনে হয়েছিল?
উত্তর: গল্প পড়ার পর তপনের মনে হয়েছিল যে এর মধ্যে তার নিজের কিছুই নেই, মেসোমশাই পুরো গল্পটি নিজের পাকা হাতে নতুন করে লিখেছেন।
৫. রচনাধর্মী প্রশ্ন (Broad Questions) ১০+ টি প্রশ্ন
১. 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পে তপনের লেখক সম্পর্কে কী ধারণা ছিল এবং সেই ধারণা কীভাবে ভেঙেছিল?
উত্তর: আশাপূর্ণা দেবীর 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পে কিশোর তপনের মনে লেখকদের সম্পর্কে একটি কাল্পনিক এবং অবাস্তব ধারণা ছিল। সে ভাবত লেখকরা সাধারণ মানুষের মতো নয়, তারা যেন আকাশ থেকে পড়া কোনো ভিন গ্রহের জীব। তার ধারণা ছিল লেখকদের জীবনযাপন, খাওয়া-দাওয়া, চলাফেরা সবকিছুই সাধারণ মানুষের থেকে আলাদা। তার বাবা, ছোটোমামা বা মেজোকাকুর মতো সাধারণ মানুষ যে কখনও লেখক হতে পারে, এ বিষয়ে তার গভীর সন্দেহ ছিল।
তপনের এই ভুল ধারণা ভাঙে যখন তার ছোটোমাসির সঙ্গে একজন সত্যিকার লেখকের বিয়ে হয়। বিয়ের পর নতুন মেসোমশাই যখন গরমের ছুটিতে মামাবাড়িতে এসে থাকেন, তখন তপন তাকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পায়। সে সবিস্ময়ে লক্ষ করে যে তার লেখক মেসোমশাই সম্পূর্ণ সাধারণ একজন মানুষ। তিনি অন্যান্যদের মতোই দাড়ি কামান, সিগারেট খান, খাবার সময় অর্ধেক খাবার রেখে দিয়ে অভিযোগ করেন, সময়মতো স্নান ও ঘুমোন। এমনকি তিনি সাধারণ মানুষের মতোই খবরের কাগজের খবর নিয়ে তর্ক করেন এবং সিনেমা দেখতে বা বেড়াতে যান। জলজ্যান্ত একজন লেখককে এভাবে নিছক সাধারণ মানুষের মতো আচরণ করতে দেখে তপনের লেখক সম্পর্কে পূর্বের অবাস্তব ধারণা ভেঙে যায়। এই ঘটনাটিকেই গল্পে তপনের প্রথমবার 'জ্ঞানচক্ষু' খুলে যাওয়া বলা হয়েছে।
তপনের এই ভুল ধারণা ভাঙে যখন তার ছোটোমাসির সঙ্গে একজন সত্যিকার লেখকের বিয়ে হয়। বিয়ের পর নতুন মেসোমশাই যখন গরমের ছুটিতে মামাবাড়িতে এসে থাকেন, তখন তপন তাকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পায়। সে সবিস্ময়ে লক্ষ করে যে তার লেখক মেসোমশাই সম্পূর্ণ সাধারণ একজন মানুষ। তিনি অন্যান্যদের মতোই দাড়ি কামান, সিগারেট খান, খাবার সময় অর্ধেক খাবার রেখে দিয়ে অভিযোগ করেন, সময়মতো স্নান ও ঘুমোন। এমনকি তিনি সাধারণ মানুষের মতোই খবরের কাগজের খবর নিয়ে তর্ক করেন এবং সিনেমা দেখতে বা বেড়াতে যান। জলজ্যান্ত একজন লেখককে এভাবে নিছক সাধারণ মানুষের মতো আচরণ করতে দেখে তপনের লেখক সম্পর্কে পূর্বের অবাস্তব ধারণা ভেঙে যায়। এই ঘটনাটিকেই গল্পে তপনের প্রথমবার 'জ্ঞানচক্ষু' খুলে যাওয়া বলা হয়েছে।
২. "তার চেয়ে দুঃখের কিছু নেই, তার থেকে অপমানের!" - কোন ঘটনাটি তপনের কাছে সবচেয়ে দুঃখের ও অপমানের ছিল? কেন তা অপমানের বলে তার মনে হয়েছিল?
উত্তর: ঘটনাটি: আশাপূর্ণা দেবীর 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পে, তপনের লেখা 'প্রথম দিন' গল্পটি যখন 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় ছাপা হয়ে বেরোয়, তখন বাড়িতে সবার অনুরোধে সে গল্পটি পড়তে বসে। কিন্তু পড়তে গিয়ে সে স্তম্ভিত হয়ে যায়। সে দেখে যে গল্পটির একটি লাইনও তার নিজের লেখা নয়। তার লেখক মেসোমশাই গল্পটিকে "কারেকশান" করার নামে আগাগোড়াই পরিবর্তন করে নিজের ভাষায় নতুন করে লিখেছেন। নিজের নামে ছাপা হওয়া গল্পটিতে অন্যের লেখা লাইন পড়াটাকেই তপন সবচেয়ে দুঃখের ও অপমানের বলে মনে করেছে।
অপমানের কারণ: তপন একজন কিশোর হলেও তার মধ্যে প্রবল আত্মসম্মানবোধ ছিল। সে নিজের প্রথম স্কুলে ভরতি হওয়ার অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি দিয়ে অত্যন্ত আবেগ নিয়ে গল্পটি লিখেছিল। গল্পটি ছাপা হওয়ার খবরে সে প্রথমে ভীষণ আনন্দিত হয়েছিল, কারণ সে ভেবেছিল তার নিজের সৃষ্টি স্বীকৃতি পেয়েছে। কিন্তু যখন সে বুঝতে পারে যে গল্পটিতে তার নিজের কোনো অবদানই নেই, তখন তার মনে হয় সে যেন অন্যের কৃতিত্বকে নিজের বলে দাবি করছে। মেসোর মহত্ত্বের কারণেই গল্পটি ছাপা হয়েছে, তপনের লেখার গুণের জন্য নয়- এই রূঢ় সত্যটি তার আত্মসম্মানে চরম আঘাত হানে। নিজের মৌলিকত্ব হারিয়ে অন্যের করুণায় সাহিত্যিক পরিচিতি পাওয়াটা তার কাছে চরম লজ্জার ও অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
অপমানের কারণ: তপন একজন কিশোর হলেও তার মধ্যে প্রবল আত্মসম্মানবোধ ছিল। সে নিজের প্রথম স্কুলে ভরতি হওয়ার অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি দিয়ে অত্যন্ত আবেগ নিয়ে গল্পটি লিখেছিল। গল্পটি ছাপা হওয়ার খবরে সে প্রথমে ভীষণ আনন্দিত হয়েছিল, কারণ সে ভেবেছিল তার নিজের সৃষ্টি স্বীকৃতি পেয়েছে। কিন্তু যখন সে বুঝতে পারে যে গল্পটিতে তার নিজের কোনো অবদানই নেই, তখন তার মনে হয় সে যেন অন্যের কৃতিত্বকে নিজের বলে দাবি করছে। মেসোর মহত্ত্বের কারণেই গল্পটি ছাপা হয়েছে, তপনের লেখার গুণের জন্য নয়- এই রূঢ় সত্যটি তার আত্মসম্মানে চরম আঘাত হানে। নিজের মৌলিকত্ব হারিয়ে অন্যের করুণায় সাহিত্যিক পরিচিতি পাওয়াটা তার কাছে চরম লজ্জার ও অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
৩. 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পের নামকরণ কতটা সার্থক তা আলোচনা করো।
উত্তর: 'জ্ঞানচক্ষু' শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো অন্তর্দৃষ্টি বা প্রকৃত সত্য উপলব্ধির ক্ষমতা। আশাপূর্ণা দেবীর গল্পটিতে কিশোর তপনের দু'বার 'জ্ঞানচক্ষু' বা অন্তর্দৃষ্টি উন্মোচনের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে, যা গল্পের নামকরণের মূল ভিত্তি।
গল্পের শুরুতে দেখি, তপনের ধারণা ছিল লেখকরা সাধারণ মানুষের মতো নয়, তারা আকাশ থেকে পড়া জীব। কিন্তু নতুন লেখক মেসোমশাইকে খুব কাছ থেকে দেখে তার এই ভুল ধারণা ভাঙে। সে বুঝতে পারে লেখকরাও সাধারণ মানুষ। এটি ছিল তার প্রথম জ্ঞানচক্ষু উন্মোচন।
এর ফলে উৎসাহিত হয়ে তপন নিজেও গল্প লেখে এবং মেসোমশাই সেটি পত্রিকায় ছাপিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। যখন সত্যি সত্যিই গল্পটি 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় তার নামে ছাপা হয়, তখন তার আনন্দ বাঁধনছাড়া হয়ে যায়। কিন্তু এই আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয় না। গল্পটি পড়তে গিয়ে সে আবিষ্কার করে মেসোমশাই তার গল্পটিকে সম্পূর্ণ নতুন করে লিখেছেন। সেখানে তপনের নিজের কোনো অবদান নেই। এই চরম অপমানের মুহূর্তে তপনের দ্বিতীয় এবং প্রকৃত জ্ঞানচক্ষু খুলে যায়। সে উপলব্ধি করে যে, অন্যের করুণা বা সুপারিশে পাওয়া খ্যাতির চেয়ে নিজের অক্ষমতাও অনেক বেশি সম্মানজনক। সে প্রতিজ্ঞা করে যে ভবিষ্যতে সে নিজেই নিজের লেখা জমা দেবে, যাতে অন্যের দ্বারা তার সৃষ্টির অপমৃত্যু না ঘটে।
গল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তপনের এই মানসিক বিবর্তন এবং প্রকৃত সত্যকে উপলব্ধি করার প্রক্রিয়াটিই প্রধান হয়ে উঠেছে। তাই 'জ্ঞানচক্ষু' নামকরণটি বিষয়বস্তুর সঙ্গে অত্যন্ত মানানসই এবং সার্থক।
গল্পের শুরুতে দেখি, তপনের ধারণা ছিল লেখকরা সাধারণ মানুষের মতো নয়, তারা আকাশ থেকে পড়া জীব। কিন্তু নতুন লেখক মেসোমশাইকে খুব কাছ থেকে দেখে তার এই ভুল ধারণা ভাঙে। সে বুঝতে পারে লেখকরাও সাধারণ মানুষ। এটি ছিল তার প্রথম জ্ঞানচক্ষু উন্মোচন।
এর ফলে উৎসাহিত হয়ে তপন নিজেও গল্প লেখে এবং মেসোমশাই সেটি পত্রিকায় ছাপিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। যখন সত্যি সত্যিই গল্পটি 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় তার নামে ছাপা হয়, তখন তার আনন্দ বাঁধনছাড়া হয়ে যায়। কিন্তু এই আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয় না। গল্পটি পড়তে গিয়ে সে আবিষ্কার করে মেসোমশাই তার গল্পটিকে সম্পূর্ণ নতুন করে লিখেছেন। সেখানে তপনের নিজের কোনো অবদান নেই। এই চরম অপমানের মুহূর্তে তপনের দ্বিতীয় এবং প্রকৃত জ্ঞানচক্ষু খুলে যায়। সে উপলব্ধি করে যে, অন্যের করুণা বা সুপারিশে পাওয়া খ্যাতির চেয়ে নিজের অক্ষমতাও অনেক বেশি সম্মানজনক। সে প্রতিজ্ঞা করে যে ভবিষ্যতে সে নিজেই নিজের লেখা জমা দেবে, যাতে অন্যের দ্বারা তার সৃষ্টির অপমৃত্যু না ঘটে।
গল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তপনের এই মানসিক বিবর্তন এবং প্রকৃত সত্যকে উপলব্ধি করার প্রক্রিয়াটিই প্রধান হয়ে উঠেছে। তাই 'জ্ঞানচক্ষু' নামকরণটি বিষয়বস্তুর সঙ্গে অত্যন্ত মানানসই এবং সার্থক।
৪. "রত্নের মূল্য জহুরির কাছেই" - উক্তিটির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে এর তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: প্রসঙ্গ: আশাপূর্ণা দেবী রচিত 'জ্ঞানচক্ষু' গল্প থেকে উদ্ধৃত অংশটি গৃহীত হয়েছে। কিশোর তপন যখন তার স্কুলে ভরতি হওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি আস্ত গল্প লিখে ফেলে, তখন সে সেটি সবার আগে তার সমবয়সি ছোটোমাসিকে দেখায়। ছোটোমাসি গল্পটি পড়ে প্রশংসা করলেও, তপনের মনে হয়েছিল যে তার লেখার প্রকৃত কদর একমাত্র তার নতুন লেখক মেসোমশাই-ই করতে পারবেন। এই ভাবনা বোঝাতেই প্রবাদপ্রতিম উক্তিটি ব্যবহার করা হয়েছে।
তাৎপর্য বিশ্লেষণ: 'রত্ন' বলতে মহামূল্যবান পাথরকে বোঝায় এবং 'জহুরি' হলেন সেই ব্যক্তি যিনি রত্ন চেনেন এবং তার সঠিক মূল্যায়ন করতে পারেন। সাধারণ মানুষের চোখে একটি সাধারণ পাথর এবং একটি আসল রত্নের মধ্যে পার্থক্য ধরা নাও পড়তে পারে, কিন্তু জহুরির জহুরি চোখ ঠিকই আসল রত্নটিকে চিনে নেয়।
গল্পে তপনের লেখা গল্পটি হলো 'রত্ন' এবং তার নতুন লেখক মেসোমশাই হলেন 'জহুরি'। তপন মনে করেছিল যে, তার বাড়ির সাধারণ মানুষেরা সাহিত্যের প্রকৃত মূল্য বোঝে না। তারা হয়তো গল্পটিকে ছেলেমানুষি বলে উড়িয়ে দেবে বা ঠাট্টা করবে। কিন্তু মেসোমশাই যেহেতু নিজেই একজন প্রতিষ্ঠিত লেখক, তাই সাহিত্যের গুণাগুণ বিচার করার ক্ষমতা তাঁর আছে। তপনের কাঁচা হাতের লেখার মধ্যেও যদি কোনো সম্ভাবনা বা প্রতিভা লুকিয়ে থাকে, তবে তা একমাত্র মেসোমশাইয়ের চোখেই ধরা পড়বে এবং তিনিই তার সঠিক মূল্যায়ন করতে পারবেন। এই বিশ্বাস থেকেই তপন আশা করেছিল যে মেসোমশাই তার গল্পটি পড়লে সে তার লেখার প্রকৃত মর্যাদা পাবে।
তাৎপর্য বিশ্লেষণ: 'রত্ন' বলতে মহামূল্যবান পাথরকে বোঝায় এবং 'জহুরি' হলেন সেই ব্যক্তি যিনি রত্ন চেনেন এবং তার সঠিক মূল্যায়ন করতে পারেন। সাধারণ মানুষের চোখে একটি সাধারণ পাথর এবং একটি আসল রত্নের মধ্যে পার্থক্য ধরা নাও পড়তে পারে, কিন্তু জহুরির জহুরি চোখ ঠিকই আসল রত্নটিকে চিনে নেয়।
গল্পে তপনের লেখা গল্পটি হলো 'রত্ন' এবং তার নতুন লেখক মেসোমশাই হলেন 'জহুরি'। তপন মনে করেছিল যে, তার বাড়ির সাধারণ মানুষেরা সাহিত্যের প্রকৃত মূল্য বোঝে না। তারা হয়তো গল্পটিকে ছেলেমানুষি বলে উড়িয়ে দেবে বা ঠাট্টা করবে। কিন্তু মেসোমশাই যেহেতু নিজেই একজন প্রতিষ্ঠিত লেখক, তাই সাহিত্যের গুণাগুণ বিচার করার ক্ষমতা তাঁর আছে। তপনের কাঁচা হাতের লেখার মধ্যেও যদি কোনো সম্ভাবনা বা প্রতিভা লুকিয়ে থাকে, তবে তা একমাত্র মেসোমশাইয়ের চোখেই ধরা পড়বে এবং তিনিই তার সঠিক মূল্যায়ন করতে পারবেন। এই বিশ্বাস থেকেই তপন আশা করেছিল যে মেসোমশাই তার গল্পটি পড়লে সে তার লেখার প্রকৃত মর্যাদা পাবে।
৫. "আজ যেন তার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন।" - তপনের এমন মনে হওয়ার কারণ কী? এই দুঃখের মুহূর্তে সে কী সংকল্প করেছিল?
উত্তর: দুঃখের কারণ: আশাপূর্ণা দেবীর 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পে তপনের লেখা 'প্রথম দিন' গল্পটি যখন 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় তার নিজের নামে প্রকাশিত হয়, তখন সে ভেবেছিল এটি তার জীবনের সবচেয়ে সুখের দিন। কিন্তু গল্পটি পড়তে গিয়ে সে চরম আঘাত পায়। সে দেখতে পায় যে তার মেসোমশাই গল্পটিকে 'কারেকশান' করার নামে আগাগোড়াই বদলে দিয়েছেন। ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত গল্পটির একটি লাইনও তার নিজের নয়। নিজের নামে অন্যের লেখা গল্প পড়ার এই চরম গ্লানি ও অপমান তপনকে গভীরভাবে আহত করে। সে বুঝতে পারে যে লেখক হিসেবে তার কোনো স্বীকৃতিই এখানে নেই, যা আছে তা কেবল মেসোর করুণা। এই তীব্র মানসিক যন্ত্রণার জন্যই দিনটিকে তার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন বলে মনে হয়েছিল।
সংকল্প: এই গভীর দুঃখ ও অপমানের মুহূর্তে তপন এক দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করে। সে নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করে যে, জীবনে যদি কখনও তাকে কোনো লেখা ছাপতে দিতে হয়, তবে সে নিজে গিয়ে সম্পাদকের কাছে জমা দেবে। নিজের কাঁচা লেখা ছাপা হোক বা না হোক, তাতে তার কোনো আক্ষেপ থাকবে না। কিন্তু সে আর কখনও অন্যের সাহায্য বা সুপারিশ নেবে না। সে চায় না যে ভবিষ্যতে তাকে আর কখনও শুনতে হয় যে "অমুক তপনের লেখা ছাপিয়ে দিয়েছে" বা নিজের নামে অন্যের লেখা পড়তে গিয়ে তাকে অপদস্থ হতে হয়। এই সংকল্প তপনের আত্মসম্মানবোধ ও পরিণত মানসিকতার পরিচয় দেয়।
সংকল্প: এই গভীর দুঃখ ও অপমানের মুহূর্তে তপন এক দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করে। সে নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করে যে, জীবনে যদি কখনও তাকে কোনো লেখা ছাপতে দিতে হয়, তবে সে নিজে গিয়ে সম্পাদকের কাছে জমা দেবে। নিজের কাঁচা লেখা ছাপা হোক বা না হোক, তাতে তার কোনো আক্ষেপ থাকবে না। কিন্তু সে আর কখনও অন্যের সাহায্য বা সুপারিশ নেবে না। সে চায় না যে ভবিষ্যতে তাকে আর কখনও শুনতে হয় যে "অমুক তপনের লেখা ছাপিয়ে দিয়েছে" বা নিজের নামে অন্যের লেখা পড়তে গিয়ে তাকে অপদস্থ হতে হয়। এই সংকল্প তপনের আত্মসম্মানবোধ ও পরিণত মানসিকতার পরিচয় দেয়।
৬. তপনের চরিত্রটি 'জ্ঞানচক্ষু' গল্প অবলম্বনে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: আশাপূর্ণা দেবী রচিত 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো কিশোর তপন। তার চরিত্রের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য নীচে আলোচনা করা হলো:
১. কল্পনাপ্রবণ ও কৌতূহলী: তপন অত্যন্ত কল্পনাপ্রবণ। লেখকদের সম্পর্কে তার মনে এক অদ্ভুত ও অতিপ্রাকৃত ধারণা ছিল। আবার নতুন মেসোকে সাধারণ মানুষের মতো আচরণ করতে দেখে তার কৌতূহল মেটে এবং 'জ্ঞানচক্ষু' খোলে।
২. সৃজনশীল ও সংবেদনশীল: ছোটোবেলা থেকেই সে প্রচুর গল্প শুনেছে ও পড়েছে। মেসোমশাইকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে সে নিজেই গল্প লিখতে শুরু করে। তার বয়সি ছেলেমেয়েরা যেখানে রাজারানির বা খুনের গল্প লেখে, সেখানে তপন নিজের স্কুলে ভরতির অভিজ্ঞতা নিয়ে গল্প লিখে তার সংবেদনশীল মনের পরিচয় দেয়।
৩. সরল ও বিশ্বাসী: ছোটোমাসি ও মেসোর প্রতি তার গভীর বিশ্বাস ছিল। সে সরল মনে বিশ্বাস করেছিল যে মেসোমশাই একটু কারেকশান করে তার গল্পটি ছাপিয়ে দেবেন।
৪. তীব্র আত্মসম্মানবোধ: তপনের চরিত্রের সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক হলো তার প্রখর আত্মসম্মানবোধ। যখন সে জানতে পারে যে ছাপা হওয়া গল্পটিতে তার নিজের কোনো লেখা নেই, তখন সে আনন্দে আত্মহারা হওয়ার বদলে অপমানে গুটিয়ে যায়। অন্যের করুণায় পাওয়া খ্যাতির চেয়ে সে নিজের ব্যর্থতাকেও মাথা পেতে নিতে রাজি হয়। তার এই দৃঢ় সংকল্প তার মানসিক পরিণত হওয়ারই ইঙ্গিত দেয়।
১. কল্পনাপ্রবণ ও কৌতূহলী: তপন অত্যন্ত কল্পনাপ্রবণ। লেখকদের সম্পর্কে তার মনে এক অদ্ভুত ও অতিপ্রাকৃত ধারণা ছিল। আবার নতুন মেসোকে সাধারণ মানুষের মতো আচরণ করতে দেখে তার কৌতূহল মেটে এবং 'জ্ঞানচক্ষু' খোলে।
২. সৃজনশীল ও সংবেদনশীল: ছোটোবেলা থেকেই সে প্রচুর গল্প শুনেছে ও পড়েছে। মেসোমশাইকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে সে নিজেই গল্প লিখতে শুরু করে। তার বয়সি ছেলেমেয়েরা যেখানে রাজারানির বা খুনের গল্প লেখে, সেখানে তপন নিজের স্কুলে ভরতির অভিজ্ঞতা নিয়ে গল্প লিখে তার সংবেদনশীল মনের পরিচয় দেয়।
৩. সরল ও বিশ্বাসী: ছোটোমাসি ও মেসোর প্রতি তার গভীর বিশ্বাস ছিল। সে সরল মনে বিশ্বাস করেছিল যে মেসোমশাই একটু কারেকশান করে তার গল্পটি ছাপিয়ে দেবেন।
৪. তীব্র আত্মসম্মানবোধ: তপনের চরিত্রের সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক হলো তার প্রখর আত্মসম্মানবোধ। যখন সে জানতে পারে যে ছাপা হওয়া গল্পটিতে তার নিজের কোনো লেখা নেই, তখন সে আনন্দে আত্মহারা হওয়ার বদলে অপমানে গুটিয়ে যায়। অন্যের করুণায় পাওয়া খ্যাতির চেয়ে সে নিজের ব্যর্থতাকেও মাথা পেতে নিতে রাজি হয়। তার এই দৃঢ় সংকল্প তার মানসিক পরিণত হওয়ারই ইঙ্গিত দেয়।
৭. 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় গল্প ছাপা হওয়ার পর তপনের বাড়ির পরিস্থিতি কেমন হয়েছিল? তপনের মানসিক অবস্থা তখন কেমন ছিল?
উত্তর: বাড়ির পরিস্থিতি: 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় তপনের লেখা গল্প ছাপা হওয়ার পর সারা বাড়িতে এক তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। পত্রিকাটি সবার হাতে হাতে ঘুরছিল এবং সকলেই একবার করে চোখ বুলিয়ে তপনের প্রশংসা করছিল। কিন্তু সেই প্রশংসার চেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছিল মেসোমশাইয়ের মহত্ত্ব নিয়ে। বাবা, মেজোকাকু সকলেই বলতে শুরু করেন যে মেসো নিজে গিয়ে সুপারিশ না করলে তপনের মতো আনকোরা ছেলের গল্প সম্পাদক কড়ে আঙুল দিয়েও ছুঁতেন না। মেসোমশাইও মৃদু হেসে জানান যে তিনি গল্পটিতে একটু-আধটু 'কারেকশান' করেছেন। অর্থাৎ, তপনের লেখার যোগ্যতার চেয়ে মেসোর কৃপাদৃষ্টিই বাড়ির সবার কাছে বড়ো হয়ে উঠেছিল।
তপনের মানসিক অবস্থা: এই পরিস্থিতিতে তপনের মানসিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত বিপর্যস্ত। গল্প ছাপা হলে যে ভয়ংকর আহ্লাদ বা আনন্দ হওয়ার কথা, সে তা অনুভব করতে পারছিল না। বাড়ির সকলের মুখে মেসোর মহত্ত্বের কথা শুনে সে যেন কোথায় হারিয়ে যাচ্ছিল। এরপর যখন মায়ের কথায় সে নিজের গল্প পড়তে বসে এবং আবিষ্কার করে যে মেসোমশাই তার গল্পটি সম্পূর্ণ বদলে দিয়ে নিজের ভাষায় লিখেছেন, তখন সে বোবা হয়ে যায়। তার মনে তীব্র গ্লানি ও অপমানবোধ জন্ম নেয়। সে ছাতে গিয়ে একা একা কাঁদে এবং উপলব্ধি করে যে অন্যের করুণায় পাওয়া খ্যাতির চেয়ে বড়ো অপমান আর কিছু হতে পারে না।
তপনের মানসিক অবস্থা: এই পরিস্থিতিতে তপনের মানসিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত বিপর্যস্ত। গল্প ছাপা হলে যে ভয়ংকর আহ্লাদ বা আনন্দ হওয়ার কথা, সে তা অনুভব করতে পারছিল না। বাড়ির সকলের মুখে মেসোর মহত্ত্বের কথা শুনে সে যেন কোথায় হারিয়ে যাচ্ছিল। এরপর যখন মায়ের কথায় সে নিজের গল্প পড়তে বসে এবং আবিষ্কার করে যে মেসোমশাই তার গল্পটি সম্পূর্ণ বদলে দিয়ে নিজের ভাষায় লিখেছেন, তখন সে বোবা হয়ে যায়। তার মনে তীব্র গ্লানি ও অপমানবোধ জন্ম নেয়। সে ছাতে গিয়ে একা একা কাঁদে এবং উপলব্ধি করে যে অন্যের করুণায় পাওয়া খ্যাতির চেয়ে বড়ো অপমান আর কিছু হতে পারে না।
৮. "তপন বিহ্বল দৃষ্টিতে তাকায়।" - তপনের এই বিহ্বলতার কারণ কী ছিল? এর পরের ঘটনাটি সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর: বিহ্বলতার কারণ: আশাপূর্ণা দেবীর 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পে, বিকেলে চায়ের টেবিলে যখন তপনের গল্প লেখার কথা ওঠে, তখন সবাই হাসাহাসি করে। কিন্তু নতুন মেসোমশাই গম্ভীরভাবে তপনের পক্ষে কথা বলেন। তিনি জানান যে তপনের লেখার 'হাত' ও 'চোখ' দুই-ই আছে। সমবয়সি অন্যান্য ছেলেমেয়েরা যেখানে অবাস্তব বা রোমাঞ্চকর বিষয় নিয়ে লেখে, সেখানে তপন তার নিজের জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে গল্প লিখেছে, যা প্রশংসনীয়। একজন প্রতিষ্ঠিত লেখকের মুখে নিজের এই অপ্রত্যাশিত প্রশংসা শুনে তপন অবাক ও মুগ্ধ হয়ে যায়, তাই সে বিহ্বল দৃষ্টিতে মেসোর দিকে তাকিয়ে থাকে।
পরের ঘটনা: ছুটি ফুরিয়ে গেলে মেসোমশাই গল্পটি নিয়ে নিজের বাড়ি চলে যান। তপন কৃতার্থ হয়ে দিন গুনতে থাকে কবে তার গল্প ছাপার অক্ষরে বেরোবে। এই আশায় সে তার স্কুলের পড়া ও হোম টাস্ক অবহেলা করে আরও দু-তিনটে গল্প লিখে ফেলে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর যখন তার আশা প্রায় শেষ, তখন একদিন ছোটোমাসি ও মেসোমশাই 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকা নিয়ে তাদের বাড়িতে আসেন। তপন দেখে সত্যি সত্যিই তার গল্প পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু পড়তে গিয়ে সে চরম আঘাত পায়, কারণ গল্পটি মেসো সম্পূর্ণ নিজের ভাষায় পরিবর্তন করে দিয়েছিলেন।
পরের ঘটনা: ছুটি ফুরিয়ে গেলে মেসোমশাই গল্পটি নিয়ে নিজের বাড়ি চলে যান। তপন কৃতার্থ হয়ে দিন গুনতে থাকে কবে তার গল্প ছাপার অক্ষরে বেরোবে। এই আশায় সে তার স্কুলের পড়া ও হোম টাস্ক অবহেলা করে আরও দু-তিনটে গল্প লিখে ফেলে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর যখন তার আশা প্রায় শেষ, তখন একদিন ছোটোমাসি ও মেসোমশাই 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকা নিয়ে তাদের বাড়িতে আসেন। তপন দেখে সত্যি সত্যিই তার গল্প পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু পড়তে গিয়ে সে চরম আঘাত পায়, কারণ গল্পটি মেসো সম্পূর্ণ নিজের ভাষায় পরিবর্তন করে দিয়েছিলেন।
৯. "তবে তপনেরই বা লেখক হতে বাধা কী?" - তপনের মনে এমন ভাবনা কেন এসেছিল? এই ভাবনার পরিণতি কী হয়েছিল?
উত্তর: ভাবনার কারণ: তপন ছোটোবেলা থেকেই অনেক গল্প পড়েছে এবং তার ধারণা ছিল যে লেখকরা সাধারণ মানুষের মতো নয়, তারা অন্য জগতের মানুষ। কিন্তু তার ছোটোমাসির সাথে একজন লেখকের বিয়ে হওয়ার পর, সে নতুন মেসোমশাইকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পায়। সে দেখে যে মেসোমশাই সাধারণ মানুষের মতোই জীবনযাপন করেন। এই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে তার লেখক সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা ভেঙে যায়। সে উপলব্ধি করে যে লেখকরা যদি তার বাবা বা কাকুর মতো সাধারণ মানুষ হতে পারে, তবে তার মতো একজন সাধারণ কিশোরেরও লেখক হতে কোনো বাধা নেই।
পরিণতি: এই ভাবনা থেকে উৎসাহিত হয়ে তপন দুপুরবেলা লুকিয়ে তিনতলার সিঁড়িতে বসে একটি আস্ত গল্প লিখে ফেলে। গল্পটি সে তার ছোটোমাসিকে দেখায় এবং মাসির মাধ্যমে তা মেসোমশাইয়ের হাতে পৌঁছায়। মেসোমশাই গল্পটির প্রশংসা করেন এবং তা 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় ছাপিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। শেষ পর্যন্ত গল্পটি পত্রিকায় ছাপা হলেও, মেসোমশাই সেটি আগাগোড়াই পরিবর্তন করে দিয়েছিলেন। এর ফলে তপনের লেখক হওয়ার প্রথম প্রচেষ্টা চরম হতাশা ও অপমানে পর্যবসিত হয়, তবে এর মাধ্যমেই তার প্রকৃত 'জ্ঞানচক্ষু' উন্মোচিত হয় এবং সে স্বাবলম্বী হওয়ার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করে।
পরিণতি: এই ভাবনা থেকে উৎসাহিত হয়ে তপন দুপুরবেলা লুকিয়ে তিনতলার সিঁড়িতে বসে একটি আস্ত গল্প লিখে ফেলে। গল্পটি সে তার ছোটোমাসিকে দেখায় এবং মাসির মাধ্যমে তা মেসোমশাইয়ের হাতে পৌঁছায়। মেসোমশাই গল্পটির প্রশংসা করেন এবং তা 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় ছাপিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। শেষ পর্যন্ত গল্পটি পত্রিকায় ছাপা হলেও, মেসোমশাই সেটি আগাগোড়াই পরিবর্তন করে দিয়েছিলেন। এর ফলে তপনের লেখক হওয়ার প্রথম প্রচেষ্টা চরম হতাশা ও অপমানে পর্যবসিত হয়, তবে এর মাধ্যমেই তার প্রকৃত 'জ্ঞানচক্ষু' উন্মোচিত হয় এবং সে স্বাবলম্বী হওয়ার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করে।
১০. "শুধু এইটাই জানা ছিল না, সেটা এমনই সহজ মানুষেই লিখতে পারে।" - 'সেটা' বলতে কী বোঝানো হয়েছে? সহজ মানুষ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: 'সেটা' বলতে: আশাপূর্ণা দেবীর 'জ্ঞানচক্ষু' গল্প থেকে উদ্ধৃত এই অংশে 'সেটা' বলতে গল্প লেখার বিষয়টিকে বোঝানো হয়েছে। তপন ছোটোবেলা থেকেই প্রচুর গল্প শুনেছে এবং বস্তা বস্তা বই পড়েছে। তাই 'গল্প' জিনিসটা কী, সে সম্পর্কে তার স্পষ্ট ধারণা ছিল। কিন্তু গল্প কীভাবে লেখা হয় বা কারা লেখে, সে সম্পর্কে তার ধারণা ছিল অবাস্তব।
সহজ মানুষ: 'সহজ মানুষ' বলতে এখানে সাধারণ রক্তমাংসের মানুষদের বোঝানো হয়েছে। তপনের ধারণা ছিল যে যারা বই লেখে তারা আকাশ থেকে পড়া কোনো ভিন গ্রহের জীব। তারা সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করে না। কিন্তু তার নতুন মেসোমশাইকে দেখে তার এই ধারণা সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। সে দেখে মেসোমশাই সাধারণ মানুষের মতোই দাড়ি কামান, সিগারেট খান, ঘুমান এবং গল্পগুজব করেন। তখন তপন বুঝতে পারে যে লেখকরা কোনো অতিপ্রাকৃত জীব নয়, বরং তার চারপাশের চেনা মানুষদের মতোই তারা সহজ ও সাধারণ মানুষ। এই সাধারণ মানুষেরাই যে অসাধারণ সব গল্প লিখতে পারে, এটাই তপনের কাছে একটি নতুন আবিষ্কার ছিল।
সহজ মানুষ: 'সহজ মানুষ' বলতে এখানে সাধারণ রক্তমাংসের মানুষদের বোঝানো হয়েছে। তপনের ধারণা ছিল যে যারা বই লেখে তারা আকাশ থেকে পড়া কোনো ভিন গ্রহের জীব। তারা সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করে না। কিন্তু তার নতুন মেসোমশাইকে দেখে তার এই ধারণা সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। সে দেখে মেসোমশাই সাধারণ মানুষের মতোই দাড়ি কামান, সিগারেট খান, ঘুমান এবং গল্পগুজব করেন। তখন তপন বুঝতে পারে যে লেখকরা কোনো অতিপ্রাকৃত জীব নয়, বরং তার চারপাশের চেনা মানুষদের মতোই তারা সহজ ও সাধারণ মানুষ। এই সাধারণ মানুষেরাই যে অসাধারণ সব গল্প লিখতে পারে, এটাই তপনের কাছে একটি নতুন আবিষ্কার ছিল।
৬. ব্যাকরণগত প্রশ্ন (Grammar) ১৫+ টি প্রশ্ন
কারক ও অকারক সম্পর্ক
- কথাটা শুনে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল! - কর্মকারকে 'শূন্য' বিভক্তি।
- কলমটি নিয়ে তিনতলার সিঁড়িতে উঠে গেল। - করণকারকে 'শূন্য' বিভক্তি।
- রত্নের মূল্য জহুরির কাছেই। - সম্বন্ধ পদে 'র' বিভক্তি।
- পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনাও ঘটে? - কর্তৃকারকে 'শূন্য' বিভক্তি।
- ছাতে উঠে গিয়ে শার্টের তলাটা তুলে চোখ মোছে। - অধিকরণ কারকে 'তে' বিভক্তি।
- তপনের নতুন মেসোমশাই একজন লেখক। - সম্বন্ধ পদে 'এর' বিভক্তি।
সমাস নির্ণয়
- জ্ঞানচক্ষু: জ্ঞান রূপ চক্ষু (রূপক কর্মধারয় সমাস)
- জলজ্যান্ত: যা জলজ্যান্ত তাই জ্যান্ত (সাধারণ কর্মধারয় সমাস)
- দিবানিদ্রা: দিবাকালীন নিদ্রা (মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস)
- জীবন-মরণ: জীবন ও মরণ (দ্বন্দ্ব সমাস)
- মেসোমশাই: যিনি মেসো তিনিই মশাই (সাধারণ কর্মধারয় সমাস)
- ছোটোমাসি: ছোটো যে মাসি (সাধারণ কর্মধারয় সমাস)
- সন্ধ্যাতারা: সন্ধ্যায় উদিত তারা (মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস)
বাক্য ও বাচ্য পরিবর্তন
- বাক্য: তপন প্রথমটা ভাবে ঠাট্টা, কিন্তু যখন দেখে মেসোর মুখে করুণার ছাপ, তখন আহ্লাদে কাঁদো কাঁদো হয়ে যায়। (সরল বাক্যে)
উত্তর: তপন প্রথমটা ঠাট্টা ভাবলেও মেসোর মুখে করুণার ছাপ দেখে আহ্লাদে কাঁদো কাঁদো হয়ে যায়। - বাক্য: পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনাও ঘটে? (নির্দেশক বাক্যে)
উত্তর: পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনাও ঘটে কি না সন্দেহ। / পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনা ঘটে না। - বাচ্য: কথাটা শুনে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল! (কর্মবাচ্যে)
উত্তর: কথাটা শোনা হলে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল! - বাচ্য: তপন বইটা ফেলে রেখে চলে যায়। (ভাববাচ্যে)
উত্তর: তপনের বইটা ফেলে রেখে চলে যাওয়া হয়।
জ্ঞানচক্ষু গল্প সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্ন (FAQs)
জ্ঞানচক্ষু গল্পটি প্রখ্যাত বাঙালি লেখিকা আশাপূর্ণা দেবীর লেখা।
গল্পের প্রধান চরিত্রের নাম হলো তপন।
তপনের লেখা গল্পটির নাম ছিল 'প্রথম দিন' এবং সেটি 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল।
তপন তার নতুন লেখক মেসোমশাইকে সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করতে দেখে প্রথম বুঝতে পারে যে লেখকরা ভিন্ন গ্রহের কেউ নন। এরপর নিজের লেখা গল্প পত্রিকায় অন্যের নামে পরিবর্তিত হয়ে ছাপা হওয়ার অপমানজনক ঘটনার মধ্যে দিয়ে তার প্রকৃত জ্ঞানচক্ষু বা অন্তর্দৃষ্টি খুলে যায়।