Sponsored Links
হারিয়ে যাওয়া কালি কলম (শ্রীপান্থ)
শ্রীপান্থ রচিত 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধের সম্পূর্ণ আলোচনা, সারাংশ এবং প্রশ্নোত্তর।
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) দশম শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য সঞ্চয়ন বইয়ের অন্তর্ভুক্ত শ্রীপান্থ রচিত 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধের লাইনভিত্তিক সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা, সারাংশ, এবং পরীক্ষার জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (MCQ, SAQ, Broad ও ব্যাকরণ) বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।
১. প্রবন্ধের বিষয়সংক্ষেপ
হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধটি প্রখ্যাত প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক শ্রীপান্থ (নিখিল সরকার)-এর লেখা। আধুনিক প্রযুক্তি ও কমপিউটারের যুগে কীভাবে ঐতিহ্যবাহী দোয়াত-কালি এবং কলম আমাদের জীবন থেকে ধীরে ধীরে মুছে যাচ্ছে, এই প্রবন্ধে তারই এক বিষণ্ণ ও স্মৃতিমেদুর চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
প্রাবন্ধিক নিজে একজন লেখক এবং একটি লেখালেখির অফিসে কাজ করেন। কিন্তু সেখানে কারও হাতে কলম নেই, সবার সামনেই রয়েছে কমপিউটারের স্ক্রিন আর কি-বোর্ড। এই আধুনিকতা দেখে প্রাবন্ধিকের মনে পড়ে যায় তাঁর গ্রাম্য শৈশবের কথা। তখন তাঁরা বাঁশের কঞ্চি কেটে কলম তৈরি করতেন, উনুনের কড়াইয়ের তলার কালি লাউপাতা দিয়ে ঘষে তুলে নিজেরাই লেখার কালি বানাতেন এবং কলাপাতায় হোম-টাস্ক করতেন। শুধু গ্রাম নয়, প্রাচীনকালে মিশর, সুমের বা রোম সাম্রাজ্যেও নল-খাগড়া, হাড়, ব্রোঞ্জের শলাকা (স্টাইলাস) বা পালকের কলম (কুইল) ব্যবহৃত হতো।
কালের বিবর্তনে বাঁশের কলম বা পালকের কলমের জায়গা নিল ফাউন্টেন পেন বা ঝরনা কলম, যার উদ্ভাবক ছিলেন লুইস অ্যাডসন ওয়াটারম্যান। কালির সমস্যা দূর করতে এই ফাউন্টেন পেন এক যুগান্তকারী বিপ্লব এনেছিল। বিখ্যাত লেখক শরৎচন্দ্র বা শৈলজানন্দের ফাউন্টেন পেনের নেশা ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই ফাউন্টেন পেন বা দোয়াত কলমের জায়গাও দখল করেছে শস্তা বল-পেন। এখন কলম এতই শস্তা যে ফেরিওয়ালারাও বিক্রি করে এবং পকেটমাররাও তা চুরি করতে চায় না। শেষে প্রাবন্ধিক আক্ষেপ করে বলেছেন যে, যন্ত্রযুগের দাপটে কলম হয়তো একদিন জাদুঘরে স্থান পাবে। তবুও কিছু লেখক এখনও কলম আঁকড়ে পড়ে আছেন। ক্যালিগ্রাফিস্ট বা লিপি-কুশলীদের কথা এবং কলমের শক্তির কথা স্মরণ করে প্রাবন্ধিক তাঁর 'কালি-খেকো কলম'-এর প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা ও নস্টালজিয়া প্রকাশ করেছেন।
প্রাবন্ধিক নিজে একজন লেখক এবং একটি লেখালেখির অফিসে কাজ করেন। কিন্তু সেখানে কারও হাতে কলম নেই, সবার সামনেই রয়েছে কমপিউটারের স্ক্রিন আর কি-বোর্ড। এই আধুনিকতা দেখে প্রাবন্ধিকের মনে পড়ে যায় তাঁর গ্রাম্য শৈশবের কথা। তখন তাঁরা বাঁশের কঞ্চি কেটে কলম তৈরি করতেন, উনুনের কড়াইয়ের তলার কালি লাউপাতা দিয়ে ঘষে তুলে নিজেরাই লেখার কালি বানাতেন এবং কলাপাতায় হোম-টাস্ক করতেন। শুধু গ্রাম নয়, প্রাচীনকালে মিশর, সুমের বা রোম সাম্রাজ্যেও নল-খাগড়া, হাড়, ব্রোঞ্জের শলাকা (স্টাইলাস) বা পালকের কলম (কুইল) ব্যবহৃত হতো।
কালের বিবর্তনে বাঁশের কলম বা পালকের কলমের জায়গা নিল ফাউন্টেন পেন বা ঝরনা কলম, যার উদ্ভাবক ছিলেন লুইস অ্যাডসন ওয়াটারম্যান। কালির সমস্যা দূর করতে এই ফাউন্টেন পেন এক যুগান্তকারী বিপ্লব এনেছিল। বিখ্যাত লেখক শরৎচন্দ্র বা শৈলজানন্দের ফাউন্টেন পেনের নেশা ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই ফাউন্টেন পেন বা দোয়াত কলমের জায়গাও দখল করেছে শস্তা বল-পেন। এখন কলম এতই শস্তা যে ফেরিওয়ালারাও বিক্রি করে এবং পকেটমাররাও তা চুরি করতে চায় না। শেষে প্রাবন্ধিক আক্ষেপ করে বলেছেন যে, যন্ত্রযুগের দাপটে কলম হয়তো একদিন জাদুঘরে স্থান পাবে। তবুও কিছু লেখক এখনও কলম আঁকড়ে পড়ে আছেন। ক্যালিগ্রাফিস্ট বা লিপি-কুশলীদের কথা এবং কলমের শক্তির কথা স্মরণ করে প্রাবন্ধিক তাঁর 'কালি-খেকো কলম'-এর প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা ও নস্টালজিয়া প্রকাশ করেছেন।
২. লেখক পরিচিতি
শ্রীপান্থ (১৯৩২-২০০৪): প্রখ্যাত সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক নিখিল সরকারের ছদ্মনাম হলো শ্রীপান্থ। তিনি ময়মনসিংহ এবং কলকাতায় পড়াশোনা করেন। তরুণ বয়স থেকেই তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং দীর্ঘদিন 'আনন্দবাজার পত্রিকা'র সম্পাদকীয় বিভাগে কাজ করেছেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি কলকাতার সমাজ ও সংস্কৃতি নিয়ে গভীর গবেষণা করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলির মধ্যে রয়েছে- 'দেবদাসী', 'ঠগী', 'হারেম', 'আজব নগরী', 'শ্রীপান্থের কলকাতা', 'যখন ছাপাখানা এলো', 'মোহন্ত এলোকেশী সম্বাদ', 'কেয়াবাৎ মেয়ে', 'মেটিয়াবুরুজের নবাব', 'বটতলা' ইত্যাদি। বাংলা ভাষায় প্রথম ধাতব হরফে ছাপা বই হ্যালহেডের 'আ গ্রামার অব দ্য বেঙ্গল ল্যাঙ্গোয়েজ'-এর সাম্প্রতিক সংস্করণের দীর্ঘ ভূমিকাও তিনি লিখেছেন।
৩. প্রবন্ধের গুরুত্বপূর্ণ অংশের বিস্তারিত ব্যাখ্যা
কথায় বলে - কালি কলম মন, লেখে তিন জন। কিন্তু কলম কোথায়?
ব্যাখ্যা: প্রাবন্ধিক শ্রীপান্থ প্রবন্ধের শুরুতেই প্রচলিত একটি প্রবাদের উল্লেখ করেছেন। প্রবাদটি হলো, কোনো কিছু লিখতে গেলে মূলত তিনটি জিনিসের সমন্বয় প্রয়োজন—কালি, কলম এবং লেখকের মন বা একাগ্রতা। কিন্তু আধুনিক যুগে এসে প্রাবন্ধিক আক্ষেপ করছেন যে, লেখার জন্য মন থাকলেও, আধুনিক অফিসে বা কর্মক্ষেত্রে কালি ও কলম আজ প্রায় বিলুপ্ত। তাদের জায়গা দখল করেছে কমপিউটারের কি-বোর্ড ও স্ক্রিন।
'কালি নেই, কলম নেই, বলে আমি মুনশি'! কালগুণে বুঝিবা আজ আমরাও তা-ই।
ব্যাখ্যা: 'মুনশি' শব্দের অর্থ হলো লিপিকর বা লেখক। প্রবাদটি সেইসব মানুষদের প্রতি ব্যঙ্গ করে বলা হতো যারা নিজেদের লেখক বলে দাবি করে কিন্তু তাদের কাছে লেখার ন্যূনতম উপাদান অর্থাৎ কালি বা কলম থাকে না। প্রাবন্ধিক আক্ষেপ করে বলেছেন যে, তাঁরা একটি লেখালেখির অফিসে কাজ করলেও এবং প্রত্যেকেই লেখক হলেও, কারও হাতে কোনো কলম নেই। সবাই কমপিউটারের কি-বোর্ডে টাইপ করেন। তাই বর্তমান যুগের প্রভাবে (কালগুণে) তাঁরাও যেন কালি ও কলমবিহীন সেই 'মুনশি'দের পর্যায়েই নেমে গেছেন।
আমরা কলম তৈরি করতাম রোগা বাঁশের কঞ্চি কেটে। মুশকিল হতো কলমের মুখটি চিরে দেওয়ার সময়।
ব্যাখ্যা: প্রাবন্ধিক তাঁর গ্রামের শৈশব স্মৃতি রোমন্থন করেছেন। পঞ্চাশ-ষাট বছর আগে গ্রামের স্কুল-পড়ুয়ারা বাজার থেকে কলম কিনত না, তারা নিজেরাই বাঁশের কঞ্চি কেটে কলম বানাত। কিন্তু কলমের মুখটা সুঁচালো করার পর তা চিরে দেওয়াটা ছিল সবচেয়ে কঠিন কাজ। মুখটা চিরে দেওয়া হতো যাতে কালি একসঙ্গে গড়িয়ে না পড়ে, বরং ধীরে ধীরে চুঁইয়ে লেখার পাতে পড়ে।
গোরুকে অক্ষর খাওয়ানোও নাকি পাপ।
ব্যাখ্যা: গ্রামের ছেলেরা কলাপাতায় হোম-টাস্ক করে তা মাস্টারমশাইকে দেখাত। মাস্টারমশাই তা আড়াআড়ি ছিঁড়ে ফেরত দিলে, ফেরার পথে ছেলেরা তা পুকুরে ফেলে দিত। বাইরে বা রাস্তায় ফেললে তা কোনো গোরু খেয়ে নিতে পারত। প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের সমাজে অক্ষর বা বিদ্যার প্রতি এক গভীর শ্রদ্ধা ছিল। অক্ষরজ্ঞানহীন মানুষকে ব্যঙ্গ করে 'ক অক্ষর গোমাংস' বলা হয়। সেই বিশ্বাস থেকেই মনে করা হতো যে গোরুকে অক্ষর বা লেখা কাগজ খাওয়ানো একটি পাপের কাজ।
'তিল ত্রিফলা সিমুল ছালা/ছাগ দুগ্ধে করি মেলা/লৌহপাত্রে লোহায় ঘসি/ছিঁড়ে পত্র না ছাড়ে মসি।'
ব্যাখ্যা: এটি একটি প্রাচীন ছড়া, যা ভালো কালি তৈরি করার ব্যবস্থাপত্র বা নির্দেশিকা। তিল, ত্রিফলা (আমলকী, বয়ড়া, হরীতকী), শিমুল গাছের ছাল ছাগলের দুধের সঙ্গে মিশিয়ে লোহার পাত্রে লোহার দণ্ড দিয়ে ঘষতে হতো। এই পদ্ধতিতে তৈরি কালি এতটাই পাকা বা মজবুত হতো যে, যে পাতায় বা কাগজে লেখা হতো তা ছিঁড়ে গেলেও কালির রং উঠত না বা মুছত না। এটি প্রাচীন বাংলার দেশীয় কালি তৈরির উৎকৃষ্ট নিদর্শন।
সিজার যে কলমটি দিয়ে কাসকাকে আঘাত করেছিলেন সেটি কিন্তু এই স্টাইলাস বা ব্রোঞ্জের ধারালো শলাকা। কলম সেদিন খুনিও হতে পারে বইকী।
ব্যাখ্যা: প্রাচীন রোম সাম্রাজ্যে লেখার জন্য ব্রোঞ্জের তৈরি ধারালো শলাকা ব্যবহার করা হতো, যার পোশাকি নাম ছিল 'স্টাইলাস'। রোমের সম্রাট জুলিয়াস সিজার যখন গুপ্তঘাতকদের দ্বারা আক্রান্ত হন, তখন আত্মরক্ষার্থে তিনি তাঁর হাতের এই ধারালো স্টাইলাস বা কলম দিয়েই কাসকা নামক এক ঘাতককে আঘাত করেছিলেন। তাই প্রাবন্ধিক বলেছেন যে, কলম শুধুমাত্র জ্ঞান বিতরণের হাতিয়ার নয়, পরিস্থিতির চাপে তা কখনো কখনো ভয়ংকর খুনি বা অস্ত্রেও পরিণত হতে পারে।
লর্ড কার্জন বাঙালি সাংবাদিকদের গরম গরম ইংরেজি দেখে তাঁদের বলতেন- 'বাবু কুইল ড্রাইভারস'।
ব্যাখ্যা: ইংরেজ আমলে পালকের কলমকে ইংরেজিতে বলা হতো 'কুইল'। তৎকালীন অনেক বাঙালি সাংবাদিক ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় এবং বলিষ্ঠ ইংরেজিতে সমালোচনা করে সংবাদপত্রে লিখতেন। ভারতের তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড কার্জন বাঙালিদের এই তেজস্বী ইংরেজি লেখা পড়ে বিরক্ত ও বিদ্রূপ করে তাঁদের 'বাবু কুইল ড্রাইভারস' অর্থাৎ 'কলম-পেষা বাবু' বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।
দার্শনিক তাঁকেই বলি- যিনি কানে কলম গুঁজে দুনিয়া খোঁজেন।
ব্যাখ্যা: এটি একটি ব্যঙ্গাত্মক ও মজাদার উক্তি। আগেকার দিনে পণ্ডিতমশাই বা হিসাবরক্ষকরা কাজের সুবিধার জন্য প্রায়ই পকেটের বদলে কানের পিছনে কলম গুঁজে রাখতেন। কিন্তু অনেক সময় তাঁরা কানের পিছনে কলম আছে তা ভুলেই গিয়ে চারিদিকে কলম খুঁজতে শুরু করতেন। যে ব্যক্তি নিজের কাছে থাকা জিনিসটির কথা ভুলে গিয়ে সারা দুনিয়া তন্ন তন্ন করে খোঁজে, প্রাবন্ধিক তাকেই কৌতুক করে 'দার্শনিক' বলেছেন, কারণ দার্শনিকরাও সব সময় সত্যের সন্ধানে আনমনা থাকেন।
বিমর্ষ ওয়াটারম্যান মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলেন- আর নয়, এর একটা বিহিত তাঁকে করতেই হবে। জন্ম নিল ফাউন্টেন পেন।
ব্যাখ্যা: ফাউন্টেন পেনের উদ্ভাবক লুইস অ্যাডসন ওয়াটারম্যান একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। একবার তিনি দোয়াত ও কলম নিয়ে অন্য একজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে চুক্তিপত্র সই করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু অসাবধানতাবশত দোয়াত উলটে চুক্তিপত্রের ওপর কালি পড়ে যায়। তিনি আবার কালি আনতে গেলে, ইতিমধ্যে অন্য এক ব্যবসায়ী এসে চুক্তি পাকা করে চলে যান। এই আর্থিক ক্ষতির ফলে চরম বিমর্ষ ও হতাশ হয়ে ওয়াটারম্যান প্রতিজ্ঞা করেন যে এমন একটি কলম তিনি তৈরি করবেন যাতে কালির পাত্র বা দোয়াত বয়ে নিয়ে যাওয়ার ঝক্কি না থাকে। এই জেদ এবং প্রয়োজনের তাগিদ থেকেই তিনি আবিষ্কার করেন যুগান্তকারী 'ফাউন্টেন পেন' বা ঝরনা কলম।
ফাউন্টেন পেনের এক বিপদ, তা লেখককে নেশাগ্রস্ত করে।
ব্যাখ্যা: ফাউন্টেন পেনের লেখা অত্যন্ত সাবলীল এবং এর ডিজাইনও খুব আকর্ষণীয়। তাই যারা পয়সাওয়ালা লেখক, তাদের ফাউন্টেন পেনের প্রতি এক ধরনের মোহ বা নেশা তৈরি হয়। তারা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের, বিভিন্ন নিবের এবং নানা রঙের দামি ফাউন্টেন পেন সংগ্রহ করতে ভালোবাসেন। প্রখ্যাত লেখক শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায় এবং কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়েরও এমন ফাউন্টেন পেন সংগ্রহের প্রবল নেশা ছিল।
এই সব দোয়াতের কালি দিয়েই না শেক্সপিয়ার, দান্তে, মিল্টন, কালিদাস, ভবভূতি, কাশীরাম দাস, কৃত্তিবাস থেকে রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিমচন্দ্র, শরৎচন্দ্র সব অমর রচনা লিখে গেছেন।
ব্যাখ্যা: প্রাবন্ধিক সুভো ঠাকুরের বিখ্যাত দোয়াত সংগ্রহ দেখে মুগ্ধ হয়ে এই কথাগুলো ভেবেছিলেন। প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের প্রথম ভাগ পর্যন্ত বিশ্বের সমস্ত বিখ্যাত সাহিত্যিকরা দোয়াত ও কলম ব্যবহার করেই তাঁদের যুগান্তকারী সাহিত্য সৃষ্টি করেছেন। অর্থাৎ, বিশ্বসাহিত্যের এত বড়ো বড়ো অমর রচনার নেপথ্যে আধুনিক কমপিউটার বা ফাউন্টেন পেন নয়, বরং সেই সেকেলে দোয়াত-কলম এবং হাতে তৈরি কালিরই অবদান রয়েছে। এটি দোয়াত-কলমের এক ঐতিহাসিক ও গৌরবময় স্বীকৃতির প্রকাশ।
বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন 'লাঠি তোমার দিন ফুরাইয়াছে'। কলমের দিনও কি ফুরালো?
ব্যাখ্যা: ঊনবিংশ শতাব্দীতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর 'কমলাকান্তের দপ্তর' গ্রন্থে বন্দুক ও আধুনিক অস্ত্রের প্রচলনের ফলে লাঠির কার্যকারিতা শেষ হয়ে যাওয়ার কথা বোঝাতে লিখেছিলেন "লাঠি তোমার দিন ফুরাইয়াছে"। সেই প্রসঙ্গের সূত্র ধরে প্রাবন্ধিক শ্রীপান্থ আক্ষেপ করে বলেছেন যে, আধুনিক যুগে টাইপরাইটার এবং বিশেষ করে কমপিউটারের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির আগমনে হাতে লেখা বা কলমের ব্যবহার প্রায় বিলুপ্তির পথে। তাই বঙ্কিমচন্দ্রের লাঠির মতোই আজ কলমের দিনও হয়তো সত্যিই ফুরিয়ে এসেছে।
"সমানি সম শীর্ষাণি ঘনানি বিরলানি চ।" সব অক্ষর সমান, প্রতিটি ছত্র সুশৃঙ্খল পরিচ্ছন্ন।
ব্যাখ্যা: প্রাচীনকালে যখন ছাপাখানা ছিল না, তখন লিপিকুশলী বা ক্যালিগ্রাফিস্টরা হাতে লিখে পুথি নকল করতেন। উদ্ধৃত সংস্কৃত শ্লোকটির অর্থ হলো- সব অক্ষর সমান উচ্চতার হবে, তাদের শীর্ষ বা মাথার দিক সমান হবে এবং অক্ষরগুলির মধ্যে ঘনত্ব ও ফাঁক সুশৃঙ্খল হবে। প্রাচীন লিপিকররা এই নিয়ম মেনে মুক্তোর মতো সুন্দর হস্তাক্ষরে অত্যন্ত নিখুঁত ও পরিচ্ছন্নভাবে পুথি লিখতেন, যা দেখলে চোখ জুড়িয়ে যেত।
কলমকে বলা হয় তলোয়ারের চেয়েও শক্তিধর।
ব্যাখ্যা: ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে "The pen is mightier than the sword" (তলোয়ারের চেয়ে কলম বেশি শক্তিশালী)। তলোয়ার দিয়ে হয়তো কাউকে হত্যা করা যায় বা জোর করে রাজ্য দখল করা যায়, কিন্তু কলমের লেখার মাধ্যমে মানুষের মন ও চিন্তাধারাকে পরিবর্তন করা যায়, সমাজে বিপ্লব আনা যায় এবং যুগ যুগ ধরে মানুষের মনে চিরস্থায়ী প্রভাব ফেলা যায়। তাই কলমের নীরব শক্তি তলোয়ারের হিংস্র শক্তির চেয়ে অনেক বেশি।
৪. বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) ৫০+ টি প্রশ্ন
১. 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
(ক) রাজশেখর বসু (খ) শ্রীপান্থ (গ) শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় (ঘ) শঙ্খ ঘোষ
উত্তর: (খ) শ্রীপান্থ
২. শ্রীপান্থ কার ছদ্মনাম?
(ক) নিখিল সরকার (খ) বিমল কর (গ) সমরেশ বসু (ঘ) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
উত্তর: (ক) নিখিল সরকার
৩. "কালি কলম মন, লেখে..."- কে লেখে?
(ক) এক জন (খ) দুই জন (গ) তিন জন (ঘ) চার জন
উত্তর: (গ) তিন জন
৪. প্রাবন্ধিক যেখানে কাজ করেন সেটা কীসের আপিস?
(ক) ব্যবসার (খ) ব্যাঙ্কের (গ) লেখালেখির (ঘ) পোস্ট আপিস
উত্তর: (গ) লেখালেখির
৫. "কালি নেই, কলম নেই, বলে আমি..."- কী?
(ক) পণ্ডিত (খ) মুনশি (গ) লেখক (ঘ) কেরানি
উত্তর: (খ) মুনশি
৬. গ্রামে কলম তৈরি করা হতো কী দিয়ে?
(ক) প্লাস্টিক দিয়ে (খ) পালক দিয়ে (গ) রোগা বাঁশের কঞ্চি কেটে (ঘ) নল-খাগড়া দিয়ে
উত্তর: (গ) রোগা বাঁশের কঞ্চি কেটে
৭. কঞ্চির কলম তৈরির সময় কোথায় মুশকিল হতো?
(ক) কঞ্চি কাটতে (খ) কলমের মুখটি চিরে দেওয়ার সময় (গ) কালি ভরতে (ঘ) লিখতে
উত্তর: (খ) কলমের মুখটি চিরে দেওয়ার সময়
৮. শৈশবে লেখকের লেখার পাত কী ছিল?
(ক) খাতা (খ) শ্লেট (গ) কলাপাতা (ঘ) তালপাতা
উত্তর: (গ) কলাপাতা
৯. গোরুকে অক্ষর খাওয়ানো কী বলে মনে করা হতো?
(ক) পুণ্য (খ) পাপ (গ) ভাগ্য (ঘ) আনন্দ
উত্তর: (খ) পাপ
১০. ভালো কালি তৈরির জন্য ছাগলের দুধের সাথে কী মেশাতে হতো?
(ক) তিল, ত্রিফলা, সিমুল ছালা (খ) আঠা (গ) মধু (ঘ) তেল
উত্তর: (ক) তিল, ত্রিফলা, সিমুল ছালা
১১. লেখকের বাড়িতে উনুনের কড়াইয়ের তলার কালি কী পাতা দিয়ে ঘষে তোলা হতো?
(ক) কলাপাতা (খ) লাউপাতা (গ) পানপাতা (ঘ) কচুপাতা
উত্তর: (খ) লাউপাতা
১২. কালির জলের মধ্যে যারা ওস্তাদ তারা কী ঘষত?
(ক) আমলকী (খ) হরতকী (গ) বয়ড়া (ঘ) আতপ চাল
উত্তর: (খ) হরতকী
১৩. প্রাচীন মিশরে কী দিয়ে কলম বানানো হতো?
(ক) পালক (খ) নল-খাগড়া (গ) হাড় (ঘ) বাঁশ
উত্তর: (খ) নল-খাগড়া
১৪. ফিনিসীয়রা কলম হিসেবে কী ব্যবহার করত?
(ক) নল-খাগড়া (খ) পালক (গ) বনপ্রান্ত থেকে কুড়ানো হাড় (ঘ) ব্রোঞ্জের শলাকা
উত্তর: (গ) বনপ্রান্ত থেকে কুড়ানো হাড়
১৫. রোম সাম্রাজ্যে ব্যবহৃত ব্রোঞ্জের ধারালো শলাকা কলমের পোশাকি নাম কী ছিল?
(ক) কুইল (খ) স্টাইলাস (গ) রিফিল (ঘ) নিব
উত্তর: (খ) স্টাইলাস
১৬. জুলিয়াস সিজার কাকে কলম (স্টাইলাস) দিয়ে আঘাত করেছিলেন?
(ক) ব্রুটাসকে (খ) অ্যান্টনিকে (গ) কাসকাকে (ঘ) আলেকজান্ডারকে
উত্তর: (গ) কাসকাকে
১৭. চিনারা চিরকালই কীসে লিখে আসছে?
(ক) কলমে (খ) পালকে (গ) তুলিতে (ঘ) কাঠে
উত্তর: (গ) তুলিতে
১৮. খাগের কলম এখন সাধারণত কখন দেখা যায়?
(ক) সরস্বতী পুজোর সময় (খ) দুর্গা পুজোর সময় (গ) পরীক্ষায় (ঘ) স্কুলে
উত্তর: (ক) সরস্বতী পুজোর সময়
১৯. পালকের কলমের ইংরেজি নাম কী?
(ক) স্টাইলাস (খ) কুইল (গ) ফাউন্টেন (ঘ) নিব
উত্তর: (খ) কুইল
২০. লর্ড কার্জন বাঙালি সাংবাদিকদের কী বলতেন?
(ক) বাবু কুইল ড্রাইভারস (খ) বাবু রাইটার্স (গ) বাবু জার্নালিস্ট (ঘ) বাবু এডিটরস
উত্তর: (ক) বাবু কুইল ড্রাইভারস
২১. উইলিয়াম জোন্স কিংবা কেরি সাহেবের স-মুনশি ছবিতে কীসের কলম দেখা যায়?
(ক) বাঁশের কলম (খ) পালকের কলম (গ) ফাউন্টেন পেন (ঘ) খাগের কলম
উত্তর: (খ) পালকের কলম
২২. পণ্ডিত মশাইয়ের কলম কোথায় খ্যাত ছিল?
(ক) পকেটে রাখার জন্য (খ) হাতে রাখার জন্য (গ) কানে গুঁজে রাখার জন্য (ঘ) ব্যাগে রাখার জন্য
উত্তর: (গ) কানে গুঁজে রাখার জন্য
২৩. প্রাবন্ধিক ছেলেবেলায় একজন দারোগাবাবুকে কলম কোথায় রাখতে দেখেছিলেন?
(ক) টুপিতে (খ) বেল্টে (গ) পকেটে (ঘ) পায়ের মোজায় গোঁজা
উত্তর: (ঘ) পায়ের মোজায় গোঁজা
২৪. কলমের দুনিয়ায় সত্যিকারের বিপ্লব ঘটায় কে?
(ক) পালকের কলম (খ) বল-পেন (গ) ফাউন্টেন পেন (ঘ) ডট-পেন
উত্তর: (গ) ফাউন্টেন পেন
২৫. ফাউন্টেন পেনের বাংলা নাম 'ঝরনা কলম' কে দিয়েছিলেন বলে মনে করা হয়?
(ক) বঙ্কিমচন্দ্র (খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (গ) শরৎচন্দ্র (ঘ) সত্যজিৎ রায়
উত্তর: (খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
২৬. ফাউন্টেন পেনের আবিষ্কারক কে?
(ক) লুইস অ্যাডসন ওয়াটারম্যান (খ) লর্ড কার্জন (গ) জুলিয়াস সিজার (ঘ) উইলিয়াম জোন্স
উত্তর: (ক) লুইস অ্যাডসন ওয়াটারম্যান
২৭. ওয়াটারম্যান চুক্তিপত্র সই করতে গিয়ে কী বিপদে পড়েছিলেন?
(ক) কলম হারিয়ে গিয়েছিল (খ) দোয়াত উপুড় হয়ে কাগজে কালি পড়ে গিয়েছিল (গ) কাগজ ছিঁড়ে গিয়েছিল (ঘ) কলম ভেঙে গিয়েছিল
উত্তর: (খ) দোয়াত উপুড় হয়ে কাগজে কালি পড়ে গিয়েছিল
২৮. লেখক প্রথম কোথায় ফাউন্টেন পেন কিনতে গিয়েছিলেন?
(ক) চৌরঙ্গিতে (খ) কলেজ স্ট্রিটের একটা নামী দোকানে (গ) বটতলায় (ঘ) পাড়ার দোকানে
উত্তর: (খ) কলেজ স্ট্রিটের একটা নামী দোকানে
২৯. দোকানি লেখককে শস্তার কোন কলমটি দিয়েছিলেন?
(ক) পার্কার (খ) শেফার্ড (গ) জাপানি পাইলট (ঘ) সোয়ান
উত্তর: (গ) জাপানি পাইলট
৩০. দোকানি কলমটি কোথায় ছুঁড়ে মেরেছিলেন?
(ক) মেঝেতে (খ) কাচের গ্লাসে (গ) কাঠের বোর্ডের উপর (ঘ) দেওয়ালটিতে
উত্তর: (গ) কাঠের বোর্ডের উপর
৩১. বিখ্যাত লেখক শৈলজানন্দ কী সংগ্রহ করতেন?
(ক) বই (খ) ফাউন্টেন পেন (গ) দোয়াত (ঘ) পালক
উত্তর: (খ) ফাউন্টেন পেন
৩২. শৈলজানন্দ কার কাছ থেকে ফাউন্টেন পেনের নেশা পেয়েছিলেন?
(ক) রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকে (খ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কাছ থেকে (গ) বঙ্কিমচন্দ্রের কাছ থেকে (ঘ) ত্রৈলোক্যনাথের কাছ থেকে
উত্তর: (খ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কাছ থেকে
৩৩. ফাউন্টেন পেনের আদি নাম কী ছিল?
(ক) স্টাইলাস (খ) কুইল (গ) রিজার্ভার পেন (ঘ) ডট পেন
উত্তর: (গ) রিজার্ভার পেন
৩৪. বিদেশি উন্নত নিব কী কেটে তৈরি হতো?
(ক) কাঠ বা বাঁশ (খ) গোরুর শিং নয়তো কচ্ছপের খোল (গ) হাড় (ঘ) পাথর
উত্তর: (খ) গোরুর শিং নয়তো কচ্ছপের খোল
৩৫. এক সময় লেখা শোকানো হতো কী দিয়ে?
(ক) হাওয়া দিয়ে (খ) রোদ দিয়ে (গ) বালি দিয়ে (ঘ) পাখা দিয়ে
উত্তর: (গ) বালি দিয়ে
৩৬. সোনার দোয়াত কলম যে সত্যিই হতো, তা লেখক কার সংগ্রহ দেখে জেনেছিলেন?
(ক) সুভো ঠাকুরের (খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (গ) শরৎচন্দ্রের (ঘ) বঙ্কিমচন্দ্রের
উত্তর: (ক) সুভো ঠাকুরের
৩৭. একটি বিদেশি কাগজে ফাউন্টেনের বিজ্ঞাপনে কত রকম নিবের কথা বলা হয়েছিল?
(ক) একশো রকম (খ) পাঁচশো রকম (গ) সাতশো রকম (ঘ) হাজার রকম
উত্তর: (গ) সাতশো রকম
৩৮. "লাঠি তোমার দিন ফুরাইয়াছে"- কে লিখেছিলেন?
(ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (খ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (গ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (ঘ) বিদ্যাসাগর
উত্তর: (গ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
৩৯. যাঁরা ওস্তাদ কলমবাজ তাঁদের কী বলা হয়?
(ক) ক্যালিগ্রাফিস্ট বা লিপি-কুশলী (খ) টাইপিস্ট (গ) ক্লার্ক (ঘ) মুনশি
উত্তর: (ক) ক্যালিগ্রাফিস্ট বা লিপি-কুশলী
৪০. অষ্টাদশ শতকে চারখন্ড রামায়ণ কপি করে একজন লেখক কী পেয়েছিলেন?
(ক) একশো টাকা (খ) নগদ সাত টাকা, কিছু কাপড় আর মিঠাই (গ) সোনা (ঘ) জমি
উত্তর: (খ) নগদ সাত টাকা, কিছু কাপড় আর মিঠাই
৪১. উনিশ শতকে বারো আনায় কত অক্ষর লেখানো যেত?
(ক) এক হাজার (খ) দশ হাজার (গ) বত্রিশ হাজার (ঘ) পঞ্চাশ হাজার
উত্তর: (গ) বত্রিশ হাজার
৪২. কলমকে কীসের চেয়েও শক্তিধর বলা হয়?
(ক) বন্দুকের (খ) তলোয়ারের (গ) কামানের (ঘ) বোমার
উত্তর: (খ) তলোয়ারের
৪৩. অনেক ধরে ধরে টাইপ-রাইটারে কে লিখে গেছেন?
(ক) অন্নদাশঙ্কর রায় (খ) সুভাষ মুখোপাধ্যায় (গ) সত্যজিৎ রায় (ঘ) শরৎচন্দ্র
উত্তর: (ক) অন্নদাশঙ্কর রায়
৪৪. শেষ পর্যন্ত নিবের কলমের মান মর্যাদা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন কে?
(ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (খ) সত্যজিৎ রায় (গ) সুবোধ ঘোষ (ঘ) শ্রীপান্থ
উত্তর: (খ) সত্যজিৎ রায়
৪৫. রবীন্দ্রনাথের চিত্রশিল্পী হওয়ার সূচনা কোথায় হয়েছিল?
(ক) ক্যানভাসে (খ) হাতে লেখা পান্ডুলিপির পাতায় অক্ষর কাটাকুটি করতে গিয়ে (গ) স্কুলের খাতায় (ঘ) দেওয়ালে
উত্তর: (খ) হাতে লেখা পান্ডুলিপির পাতায় অক্ষর কাটাকুটি করতে গিয়ে
৪৬. 'কঙ্কাবতী' ও 'ডমরুধর'-এর লেখক কে?
(ক) বঙ্কিমচন্দ্র (খ) ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায় (গ) শরৎচন্দ্র (ঘ) প্রভাতকুমার
উত্তর: (খ) ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
৪৭. ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায় কীভাবে মারা গিয়েছিলেন?
(ক) বিষপানে (খ) নিজের হাতের কলম হঠাৎ বুকে ফুটে গিয়ে (গ) সাপের কামড়ে (ঘ) অসুখে
উত্তর: (খ) নিজের হাতের কলম হঠাৎ বুকে ফুটে গিয়ে
৪৮. 'তুমি সবল, আমি দুর্বল... ধরে নাও আমি মৃত।'- এটি কোন দেশের কবির উক্তি?
(ক) ফরাসি কবির (খ) ইংরেজি কবির (গ) জাপানি কবির (ঘ) চিনা কবির
উত্তর: (ক) ফরাসি কবির
৪৯. শ্রীপান্থ (নিখিল সরকার) কোন পত্রিকার সম্পাদকীয় বিভাগে চাকরি করতেন?
(ক) যুগান্তর (খ) বর্তমান (গ) আনন্দবাজার পত্রিকা (ঘ) আজকাল
উত্তর: (গ) আনন্দবাজার পত্রিকা
৫০. বাংলা মুলুকে প্রথম ধাতব হরফে ছাপা বইয়ের নাম কী?
(ক) বর্ণপরিচয় (খ) আ গ্রামার অব দ্য বেঙ্গল ল্যাঙ্গোয়েজ (গ) কথামালা (ঘ) বোধোদয়
উত্তর: (খ) আ গ্রামার অব দ্য বেঙ্গল ল্যাঙ্গোয়েজ
৫. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ) ৪০+ টি প্রশ্ন
১. 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধটি কার লেখা এবং তাঁর আসল নাম কী?
উত্তর: প্রবন্ধটি শ্রীপান্থের লেখা। তাঁর আসল নাম নিখিল সরকার।
২. "কালি কলম মন, লেখে তিন জন।" - এই প্রবাদটির অর্থ কী?
উত্তর: কোনো কিছু লিখতে গেলে মূলত তিনটি জিনিসের প্রয়োজন হয়—কালি, কলম এবং লেখকের মন বা একাগ্রতা।
৩. প্রাবন্ধিক যেখানে কাজ করেন, সেখানকার পরিবেশ কেমন?
উত্তর: প্রাবন্ধিক একটি লেখালেখির অফিসে কাজ করেন, যেখানে সবাই লেখক, কিন্তু কারও হাতে কলম নেই। সবাই কমপিউটারের স্ক্রিন আর কি-বোর্ডে টাইপ করে লেখেন।
৪. "কালি নেই, কলম নেই, বলে আমি মুনশি!" - কথাটি কখন বলা হতো?
উত্তর: প্রাচীনকালে কেউ নিজেকে লেখক বা মুনশি বলে দাবি করলে অথচ তার কাছে কালি-কলম না থাকলে, তাকে ব্যঙ্গ করে এই কথাটি বলা হতো।
৫. ছেলেবেলায় প্রাবন্ধিকরা কীভাবে কলম তৈরি করতেন?
উত্তর: ছেলেবেলায় প্রাবন্ধিকরা রোগা বাঁশের কঞ্চি কেটে, তার মুখটা সুঁচালো করে এবং কালির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য মুখটা চিরে দিয়ে কলম তৈরি করতেন।
৬. শৈশবে প্রাবন্ধিকদের লেখার পাত কী ছিল?
উত্তর: শৈশবে প্রাবন্ধিকদের লেখার পাত ছিল কলাপাতা। কাগজ না থাকায় তারা কলাপাতা কেটেই তাতে হোম-টাস্ক করতেন।
৭. কলাপাতা বাইরে বা রাস্তায় ফেলা হতো না কেন?
উত্তর: বাইরে ফেললে গোরু সেই অক্ষর লেখা কলাপাতা খেয়ে নিতে পারত। গোরুকে অক্ষর বা বিদ্যা খাওয়ানোকে পাপ বলে মনে করা হতো।
৮. প্রাচীনকালে ভালো কালি তৈরির ব্যবস্থাপত্র কী ছিল?
উত্তর: "তিল ত্রিফলা সিমুল ছালা/ছাগ দুগ্ধে করি মেলা/লৌহপাত্রে লোহায় ঘসি/ছিঁড়ে পত্র না ছাড়ে মসি।" - এটিই ছিল ভালো কালির প্রাচীন ব্যবস্থাপত্র।
৯. প্রাবন্ধিকরা বাড়িতে কীভাবে সহজ কালি তৈরি করতেন?
উত্তর: কাঠের উনুনের কড়াইয়ের তলার কালি লাউপাতা দিয়ে ঘষে তুলে পাথরের বাটির জলে গুলে নেওয়া হতো। কখনো তার সাথে পোড়া আতপ চাল বা হরতকী বাটা মেশানো হতো এবং লাল খুন্তির ছ্যাঁকা দিয়ে তৈরি হতো কালি।
১০. প্রাচীন মিশরে বা সুমেরিয়রা কী দিয়ে কলম বানাতেন?
উত্তর: প্রাচীন মিশরে বা সুমেরিয়রা নীল নদীর তীর থেকে নল-খাগড়া ভেঙে এনে, তা সুঁচালো বা ভোঁতা করে তুলি বা কলম বানাতেন।
১১. ফিনিসীয়দের কলম কীসের তৈরি হতো?
উত্তর: ফিনিসীয়রা বনপ্রান্ত থেকে কুড়িয়ে পাওয়া হাড় দিয়ে কলম তৈরি করতেন।
১২. 'স্টাইলাস' কী?
উত্তর: প্রাচীন রোম সাম্রাজ্যে লেখালেখির জন্য ব্যবহৃত ব্রোঞ্জের তৈরি ধারালো শলাকা বা কলমের পোশাকি নাম ছিল 'স্টাইলাস'।
১৩. স্টাইলাস কীভাবে খুনি হয়ে উঠেছিল?
উত্তর: রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার আত্মরক্ষার্থে এই ব্রোঞ্জের ধারালো স্টাইলাস দিয়েই কাসকা নামক এক ঘাতককে আঘাত করেছিলেন।
১৪. পালকের কলমের ইংরেজি নাম কী এবং সাহেবরা কীভাবে তা কাটতেন?
উত্তর: পালকের কলমের ইংরেজি নাম 'কুইল'। সাহেবরা পালক কাটার জন্য পেনসিল শার্পনারের মতো ব্লেডযুক্ত একটি ছোট্ট যন্ত্র তৈরি করেছিলেন।
১৫. "বাবু কুইল ড্রাইভারস" - কথাটি কে, কাদের বলতেন?
উত্তর: ভারতের ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড কার্জন, বাঙালি সাংবাদিকদের তেজস্বী ইংরেজি লেখা পড়ে বিদ্রূপ করে তাঁদের "বাবু কুইল ড্রাইভারস" বলতেন।
১৬. দার্শনিক তাঁকেই বলি- প্রাবন্ধিক কাকে দার্শনিক বলেছেন?
উত্তর: যে পণ্ডিত ব্যক্তি কানের পিছনে কলম গুঁজে রেখে, তা ভুলে গিয়ে সারা দুনিয়া তন্ন তন্ন করে কলম খোঁজেন, তাঁকেই প্রাবন্ধিক ব্যঙ্গ করে দার্শনিক বলেছেন।
১৭. ফাউন্টেন পেন কে আবিষ্কার করেন?
উত্তর: লুইস অ্যাডসন ওয়াটারম্যান ফাউন্টেন পেন আবিষ্কার করেন।
১৮. ফাউন্টেন পেন আবিষ্কারের কারণ কী ছিল?
উত্তর: দোয়াত উলটে কালি পড়ে চুক্তিপত্র নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ওয়াটারম্যান এক বড়ো ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হন। এই সমস্যা দূর করতেই তিনি ফাউন্টেন পেন আবিষ্কার করেন।
১৯. ফাউন্টেন পেনের বাংলা নাম কী এবং তা কে দিয়েছিলেন?
উত্তর: ফাউন্টেন পেনের বাংলা নাম হলো 'ঝরনা কলম', যা সম্ভবত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দিয়েছিলেন।
২০. ফাউন্টেন পেনের আদি নাম কী ছিল?
উত্তর: ফাউন্টেন পেনের আদি নাম ছিল 'রিজার্ভার পেন'।
২১. দোকানি জাপানি পাইলট কলমটির শক্তপোক্ত দিকটি কীভাবে প্রমাণ করেছিলেন?
উত্তর: দোকানি ধাঁ করে কলমটি একটি কাঠের বোর্ডের উপর ছুঁড়ে মেরে গেঁথে দিয়েছিলেন এবং তারপর সেটি খুলে দেখিয়েছিলেন যে কলমের নিব একদম অক্ষত আছে।
২২. ফাউন্টেন পেনের নেশা কাদের ছিল?
উত্তর: প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং লেখক শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ফাউন্টেন পেন সংগ্রহের প্রবল নেশা ছিল।
২৩. বিদেশি উন্নত নিবগুলি কী দিয়ে তৈরি হতো?
উত্তর: বিদেশি উন্নত নিবগুলি গোরুর শিং অথবা কচ্ছপের খোল কেটে তৈরি করা হতো, যাতে তা খুব টেকসই হয়।
২৪. একসময় লেখা শোকানো হতো কীভাবে?
উত্তর: একসময় লেখা শোকানোর জন্য বালি ছড়ানো হতো এবং পরবর্তীকালে ব্লটিং পেপার ব্যবহার করা হতো।
২৫. সোনার দোয়াত কলম যে সত্যিই হতো, তা প্রাবন্ধিক কীভাবে জেনেছিলেন?
উত্তর: প্রাবন্ধিক শ্রীপান্থ, বিখ্যাত সংগ্রাহক সুভো ঠাকুরের রকমারি এবং সোনার দোয়াতের সংগ্রহ দেখে জেনেছিলেন।
২৬. "লাঠি তোমার দিন ফুরাইয়াছে" - কে, কোথায় লিখেছিলেন?
উত্তর: ঊনবিংশ শতাব্দীতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর 'কমলাকান্তের দপ্তর' গ্রন্থে কথাটি লিখেছিলেন।
২৭. ক্যালিগ্রাফিস্ট বা লিপি-কুশলী কাদের বলা হতো?
উত্তর: প্রাচীনকালে যাঁরা অত্যন্ত ওস্তাদ কলমবাজ ছিলেন এবং অত্যন্ত সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে হাতে লিখে পুথি নকল করতেন, তাঁদের ক্যালিগ্রাফিস্ট বা লিপি-কুশলী বলা হতো।
২৮. পুথি নকল করার নিয়ম কী ছিল?
উত্তর: পুথি লেখার নিয়ম ছিল- "সমানি সম শীর্ষাণি ঘনানি বিরলানি চ", অর্থাৎ সব অক্ষর সমান হবে, শীর্ষ সমান হবে এবং ঘনত্ব ও ফাঁক সুশৃঙ্খল হবে।
২৯. অষ্টাদশ শতকে চারখন্ড রামায়ণ কপি করে একজন লেখক কী পেয়েছিলেন?
উত্তর: অষ্টাদশ শতকে চারখন্ড রামায়ণ কপি করে একজন লেখক পারিশ্রমিক হিসেবে নগদ সাত টাকা, কিছু কাপড় আর মিঠাই পেয়েছিলেন।
৩০. উনিশ শতকে কত টাকায় বত্রিশ হাজার অক্ষর লেখানো যেত?
উত্তর: উনিশ শতকে মাত্র বারো আনায় বত্রিশ হাজার অক্ষর লেখানো যেত।
৩১. কলমকে কীসের চেয়েও শক্তিধর বলা হয়?
উত্তর: প্রবাদ অনুযায়ী, কলমের নীরব শক্তি ও প্রভাব তলোয়ারের হিংস্র শক্তির চেয়েও অনেক বেশি। তাই কলমকে তলোয়ারের চেয়েও শক্তিধর বলা হয়।
৩২. আধুনিক কালের কোন কোন লেখক টাইপ-রাইটার ব্যবহার করতেন?
উত্তর: লেখক অন্নদাশঙ্কর রায় দীর্ঘদিন টাইপ-রাইটারে লিখেছেন এবং পরে কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ও টাইপ-রাইটার ব্যবহার করতেন।
৩৩. শেষ পর্যন্ত নিবের কলমের মান মর্যাদা কে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন?
উত্তর: বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ও লেখক সত্যজিৎ রায় শেষ পর্যন্ত নিবের কলমের মান মর্যাদা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। তাঁর লিপিশিল্পের নেশা ছিল।
৩৪. রবীন্দ্রনাথের চিত্রশিল্পী হওয়ার সূচনা কীভাবে হয়েছিল?
উত্তর: হাতে লেখা পান্ডুলিপির পাতায় অক্ষর কাটাকুটি করতে গিয়ে আনমনে রচিত ছন্দোবদ্ধ সাদা-কালো ছবি থেকেই রবীন্দ্রনাথের চিত্রশিল্পী হওয়ার সূচনা ঘটেছিল।
৩৫. "তুমি সবল, আমি দুর্বল... ধরে নাও আমি মৃত।" - ফরাসি কবির এই উক্তির তাৎপর্য কী?
উত্তর: আধুনিক বল-পেনের প্রবল চাহিদার কাছে দোয়াত-কলম বা ফাউন্টেন পেন যে আজ অসহায় ও মৃতপ্রায় হয়ে তার কাছে আত্মসমর্পণ করেছে, এই আক্ষেপই উক্তিটির তাৎপর্য।
৩৬. কোন বিখ্যাত লেখক নিজের হাতের কলম ফুটে গিয়ে মারা গিয়েছিলেন?
উত্তর: 'কঙ্কাবতী' ও 'ডমরুধর'-এর বিখ্যাত লেখক ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায় হঠাৎ নিজের হাতের কলম বুকে ফুটে গিয়ে মারা গিয়েছিলেন।
৩৭. প্রাবন্ধিকের মতে কমপিউটার কলমকে কোথায় পাঠাবে বলে প্রতিজ্ঞা করেছে?
উত্তর: প্রাবন্ধিকের মতে, অত্যাধুনিক কমপিউটার কলমকে জাদুঘরে (মিউজিয়ামে) পাঠাবে বলে যেন প্রতিজ্ঞা করেছে।
৩৮. "বাবু কুইল ড্রাইভারস" কথাটির বাংলা অর্থ কী?
উত্তর: "বাবু কুইল ড্রাইভারস" কথাটির বাংলা ব্যঙ্গাত্মক অর্থ হলো 'কলম-পেষা বাবু' বা যারা পালকের কলম দিয়ে লেখেন।
৩৯. বল-পেন বা ডট পেনের গর্ব কী নিয়ে?
উত্তর: বল-পেন বা ডট পেনের গর্ব হলো তার এক রোগা লিকলিকে রিফিলে কালি ভরে কে কত দূর পর্যন্ত দৌড়াতে বা লিখতে পারে, তা নিয়ে।
৪০. একটি দামি সোনায় গড়া ও হিরে বসানো কলমের দাম কত ধার্য হয়েছিল?
উত্তর: একটি দামি সোনায় গড়া ও হিরে বসানো কলমের দাম আড়াই হাজার পাউন্ড ধার্য হয়েছিল।
৬. রচনাধর্মী প্রশ্ন (Broad Questions) ১০ টি প্রশ্ন
১. 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক তাঁর ছেলেবেলায় কলম তৈরি এবং কালি তৈরির যে বর্ণনা দিয়েছেন, তা নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর: 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধে শ্রীপান্থ তাঁর গ্রামের শৈশব স্মৃতি রোমন্থন করে কলম ও কালি তৈরির এক জীবন্ত বর্ণনা দিয়েছেন।
কলম তৈরি: ছেলেবেলায় তাঁরা বাজার থেকে কলম কিনতেন না। তাঁরা গ্রামের রোগা বাঁশের কঞ্চি কেটে নিজেরাই কলম তৈরি করতেন। কলম তৈরির সবচেয়ে কঠিন কাজ ছিল কলমের মুখটি চিরে দেওয়া। বড়োরা শিখিয়ে দিয়েছিলেন যে কলমের মুখটি শুধু সুঁচালো করলেই হবে না, তা সামান্য চিরে দিতে হবে, যাতে কালি একসঙ্গে গড়িয়ে না পড়ে ধীরে ধীরে লেখার পাতে (কলাপাতায়) চুঁইয়ে পড়ে।
কালি তৈরি: প্রাচীনকালে ভালো কালি তৈরির জন্য তিল, ত্রিফলা, শিমুল ছাল আর ছাগলের দুধ ইত্যাদি লাগত। কিন্তু প্রাবন্ধিকদের কালি তৈরির পদ্ধতি ছিল খুব সহজ ও ঘরোয়া। কাঠের উনুনে রান্না হওয়ার ফলে কড়াইয়ের তলায় যে কালি জমত, তা লাউপাতা দিয়ে ঘষে তুলে পাথরের বাটিতে রাখা জলে গুলে নেওয়া হতো। ওস্তাদ ছেলেরা সেই জলে হরতকী ঘষত বা পোড়া আতপ চাল বেটে মেশাত। শেষে একটা লাল টকটকে পোড়া খুন্তি সেই জলে ছ্যাঁকা দিয়ে ফোটিয়ে নেওয়া হতো। তারপর ন্যাকড়ায় ছেঁকে নিলেই তৈরি হয়ে যেত চমৎকার দেশি কালি।
কলম তৈরি: ছেলেবেলায় তাঁরা বাজার থেকে কলম কিনতেন না। তাঁরা গ্রামের রোগা বাঁশের কঞ্চি কেটে নিজেরাই কলম তৈরি করতেন। কলম তৈরির সবচেয়ে কঠিন কাজ ছিল কলমের মুখটি চিরে দেওয়া। বড়োরা শিখিয়ে দিয়েছিলেন যে কলমের মুখটি শুধু সুঁচালো করলেই হবে না, তা সামান্য চিরে দিতে হবে, যাতে কালি একসঙ্গে গড়িয়ে না পড়ে ধীরে ধীরে লেখার পাতে (কলাপাতায়) চুঁইয়ে পড়ে।
কালি তৈরি: প্রাচীনকালে ভালো কালি তৈরির জন্য তিল, ত্রিফলা, শিমুল ছাল আর ছাগলের দুধ ইত্যাদি লাগত। কিন্তু প্রাবন্ধিকদের কালি তৈরির পদ্ধতি ছিল খুব সহজ ও ঘরোয়া। কাঠের উনুনে রান্না হওয়ার ফলে কড়াইয়ের তলায় যে কালি জমত, তা লাউপাতা দিয়ে ঘষে তুলে পাথরের বাটিতে রাখা জলে গুলে নেওয়া হতো। ওস্তাদ ছেলেরা সেই জলে হরতকী ঘষত বা পোড়া আতপ চাল বেটে মেশাত। শেষে একটা লাল টকটকে পোড়া খুন্তি সেই জলে ছ্যাঁকা দিয়ে ফোটিয়ে নেওয়া হতো। তারপর ন্যাকড়ায় ছেঁকে নিলেই তৈরি হয়ে যেত চমৎকার দেশি কালি।
২. "আশ্চর্য, সবই আজ অবলুপ্তির পথে।" - 'সব' বলতে কী বোঝানো হয়েছে? তাদের অবলুপ্তির কারণ কী? এর ফলে লেখকের মনে কী ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে?
উত্তর: 'সব' বলতে: শ্রীপান্থের 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধে 'সব' বলতে প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহৃত নানা ধরনের লেখার সরঞ্জাম যেমন—বাঁশের কলম, খাগের কলম, পালকের কলম, দোয়াত-কালি, এমনকি আধুনিক ফাউন্টেন পেন এবং হাতে লেখার শিল্প বা ক্যালিগ্রাফির ঐতিহ্যকে বোঝানো হয়েছে।
অবলুপ্তির কারণ: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতির ফলেই এই অবলুপ্তি ঘটেছে। প্রথমত, শস্তা ও সহজলভ্য বল-পেন বা ডট পেনের দাপটে ফাউন্টেন পেন ও দোয়াত-কালি বাজার থেকে হারিয়ে গেছে। দ্বিতীয়ত এবং প্রধান কারণ হলো টাইপরাইটার এবং অত্যাধুনিক কমপিউটারের আগমন। কমপিউটারের কি-বোর্ডে টাইপ করে অতি দ্রুত ও নির্ভুলভাবে লেখা যায় বলে হাতের লেখা এবং কলমের ব্যবহার আজ জাদুঘরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
লেখকের ভাবনা: এই আধুনিক যন্ত্র সভ্যতার দাপটে কলমের এই অবলুপ্তি প্রাবন্ধিককে গভীর বিষণ্ণ ও বিপন্ন করে তুলেছে। তিনি ভাবেন, মানুষের হাত থেকে যদি কলমই কেড়ে নেওয়া হয়, যদি হাতের লেখা চিরকালের জন্য মুছে যায়, তবে মানুষের শিল্পবোধ, আবেগ ও মননের কী হবে! তিনি এক তীব্র নস্টালজিয়া ও শূন্যতা অনুভব করেছেন।
অবলুপ্তির কারণ: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতির ফলেই এই অবলুপ্তি ঘটেছে। প্রথমত, শস্তা ও সহজলভ্য বল-পেন বা ডট পেনের দাপটে ফাউন্টেন পেন ও দোয়াত-কালি বাজার থেকে হারিয়ে গেছে। দ্বিতীয়ত এবং প্রধান কারণ হলো টাইপরাইটার এবং অত্যাধুনিক কমপিউটারের আগমন। কমপিউটারের কি-বোর্ডে টাইপ করে অতি দ্রুত ও নির্ভুলভাবে লেখা যায় বলে হাতের লেখা এবং কলমের ব্যবহার আজ জাদুঘরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
লেখকের ভাবনা: এই আধুনিক যন্ত্র সভ্যতার দাপটে কলমের এই অবলুপ্তি প্রাবন্ধিককে গভীর বিষণ্ণ ও বিপন্ন করে তুলেছে। তিনি ভাবেন, মানুষের হাত থেকে যদি কলমই কেড়ে নেওয়া হয়, যদি হাতের লেখা চিরকালের জন্য মুছে যায়, তবে মানুষের শিল্পবোধ, আবেগ ও মননের কী হবে! তিনি এক তীব্র নস্টালজিয়া ও শূন্যতা অনুভব করেছেন।
৩. ফাউন্টেন পেন কীভাবে আবিষ্কৃত হয়েছিল? ফাউন্টেন পেনের বাংলা নাম কী এবং তা কে দিয়েছিলেন?
উত্তর: ফাউন্টেন পেন আবিষ্কারের কাহিনি: ফাউন্টেন পেনের উদ্ভাবক হলেন লুইস অ্যাডসন ওয়াটারম্যান। ফাউন্টেন পেন আবিষ্কারের আগে লেখার জন্য দোয়াত এবং নিবের কলম ব্যবহার করা হতো, যা বহন করা ছিল অত্যন্ত অসুবিধাজনক। ওয়াটারম্যান একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। একবার তিনি দোয়াত ও কলম নিয়ে অন্য একজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে চুক্তিপত্র সই করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু অসাবধানতাবশত দোয়াত উলটে চুক্তিপত্রের ওপর কালি পড়ে যায় এবং কাগজটি নষ্ট হয়ে যায়। তিনি যখন আবার নতুন করে কালির সন্ধানে ছোটেন এবং ফিরে আসেন, তখন জানতে পারেন যে অন্য একজন তৎপর ব্যবসায়ী এসে চুক্তি পাকা করে চলে গেছেন। দোয়াত-কালির এই ঝক্কির কারণে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে বিমর্ষ ওয়াটারম্যান প্রতিজ্ঞা করেন যে এর একটা বিহিত করতেই হবে। তাঁর এই জেদ এবং কালির আধারযুক্ত কলম তৈরির প্রচেষ্টা থেকেই জন্ম নেয় ফাউন্টেন পেন।
বাংলা নাম: ফাউন্টেন পেনের চমৎকার বাংলা নাম হলো 'ঝরনা কলম'। প্রাবন্ধিকের মতে, এই নামটি সম্ভবত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেওয়া।
বাংলা নাম: ফাউন্টেন পেনের চমৎকার বাংলা নাম হলো 'ঝরনা কলম'। প্রাবন্ধিকের মতে, এই নামটি সম্ভবত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেওয়া।
৪. "কলমকে বলা হয় তলোয়ারের চেয়েও শক্তিধর।" - কথাটির অর্থ বুঝিয়ে দাও। প্রাবন্ধিক কেন এ কথা বলেছেন?
উত্তর: অর্থ: ইংরেজি প্রবাদ "The pen is mightier than the sword"-এর বাংলা রূপ হলো এটি। তলোয়ার বা অস্ত্র দিয়ে হয়তো গায়ের জোরে যুদ্ধ জয় করা যায় বা মানুষকে হত্যা করা যায়, কিন্তু তার প্রভাব সাময়িক। অন্যদিকে, কলম বা সাহিত্যের মধ্যে দিয়ে মানুষের মন ও চিন্তাধারাকে প্রভাবিত করা যায়। কলম সমাজে বিপ্লব আনতে পারে, মানুষের বিবেককে জাগাতে পারে এবং যুগে যুগে কোটি কোটি মানুষের মনে চিরস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কলমের নীরব মানসিক শক্তি তলোয়ারের হিংস্র শারীরিক শক্তির চেয়ে অনেক বেশি।
প্রাবন্ধিকের মন্তব্য: 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধে শ্রীপান্থ কলমের এই শক্তির কথা স্মরণ করেছেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, কলম শুধুমাত্র কালি মাখানো একটি কাঠি নয়, এটি মানবসভ্যতার ইতিহাস, শিল্প ও বিপ্লবের এক শক্তিশালী হাতিয়ার। যদিও আধুনিক কালে ফাউন্টেন পেন বা বল-পেনের ক্ষেত্রে 'ব্যারেল' বা 'কার্টিজ'-এর মতো বারুদের অনুষঙ্গযুক্ত শব্দ ব্যবহার করা হয়, তবুও তা প্রকৃত অর্থেই সৃজনশীল। ইতিহাস সাক্ষী যে, অনেক কলমধারীকে সত্য ও ন্যায়ের জন্য মিথ্যাচারী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তলোয়ার হাতে লড়াইও করতে হয়েছে। কলমের এই বহুমুখী ও অসীম শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই প্রাবন্ধিক এ কথা বলেছেন।
প্রাবন্ধিকের মন্তব্য: 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধে শ্রীপান্থ কলমের এই শক্তির কথা স্মরণ করেছেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, কলম শুধুমাত্র কালি মাখানো একটি কাঠি নয়, এটি মানবসভ্যতার ইতিহাস, শিল্প ও বিপ্লবের এক শক্তিশালী হাতিয়ার। যদিও আধুনিক কালে ফাউন্টেন পেন বা বল-পেনের ক্ষেত্রে 'ব্যারেল' বা 'কার্টিজ'-এর মতো বারুদের অনুষঙ্গযুক্ত শব্দ ব্যবহার করা হয়, তবুও তা প্রকৃত অর্থেই সৃজনশীল। ইতিহাস সাক্ষী যে, অনেক কলমধারীকে সত্য ও ন্যায়ের জন্য মিথ্যাচারী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তলোয়ার হাতে লড়াইও করতে হয়েছে। কলমের এই বহুমুখী ও অসীম শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই প্রাবন্ধিক এ কথা বলেছেন।
৫. 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধে প্রাচীনকালের লিপিকুশলী বা ক্যালিগ্রাফিস্টদের সম্পর্কে কী তথ্য পাওয়া যায়?
উত্তর: শ্রীপান্থ তাঁর 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধে প্রাচীনকালের লিপিকুশলী বা ক্যালিগ্রাফিস্টদের অসামান্য দক্ষতার কথা সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করেছেন।
ছাপাখানা আবিষ্কারের আগে বই বা পুথি নকল করার জন্য এই লিপিকুশলীদের ওপর নির্ভর করতে হতো। তাঁরা ওস্তাদ কলমবাজ ছিলেন এবং অত্যন্ত নিখুঁত ও সুন্দর হস্তাক্ষরে পুথি লিখতেন। পুথি লেখার সংস্কৃত নিয়ম "সমানি সম শীর্ষাণি ঘনানি বিরলানি চ" তাঁরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতেন। অর্থাৎ, প্রতিটি অক্ষর হতো সমান, তাদের শীর্ষ সমান এবং অক্ষরগুলির ঘনত্ব ও ফাঁক হতো সুশৃঙ্খল। তাঁদের হস্তাক্ষর ছিল একেবারে মুক্তোর মতো।
এই অসামান্য শিল্পের জন্য মুঘল দরবার থেকে শুরু করে সারা বিশ্বের রাজা, জমিদার ও সাধারণ গৃহস্থরা তাঁদের সম্মান করতেন এবং ভরণপোষণের ব্যবস্থা করতেন। পুথি নকল করা নিয়ে লিপিকরদের মনে গভীর গর্ব ছিল। যদিও তাঁদের রোজগার খুব সামান্য ছিল (অষ্টাদশ শতকে চারখন্ড রামায়ণ কপি করে নগদ সাত টাকা, কিছু কাপড় ও মিঠাই পাওয়া যেত), তবুও তাঁদের সৃষ্টি করা পুথিগুলি ছিল অমূল্য।
ছাপাখানা আবিষ্কারের আগে বই বা পুথি নকল করার জন্য এই লিপিকুশলীদের ওপর নির্ভর করতে হতো। তাঁরা ওস্তাদ কলমবাজ ছিলেন এবং অত্যন্ত নিখুঁত ও সুন্দর হস্তাক্ষরে পুথি লিখতেন। পুথি লেখার সংস্কৃত নিয়ম "সমানি সম শীর্ষাণি ঘনানি বিরলানি চ" তাঁরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতেন। অর্থাৎ, প্রতিটি অক্ষর হতো সমান, তাদের শীর্ষ সমান এবং অক্ষরগুলির ঘনত্ব ও ফাঁক হতো সুশৃঙ্খল। তাঁদের হস্তাক্ষর ছিল একেবারে মুক্তোর মতো।
এই অসামান্য শিল্পের জন্য মুঘল দরবার থেকে শুরু করে সারা বিশ্বের রাজা, জমিদার ও সাধারণ গৃহস্থরা তাঁদের সম্মান করতেন এবং ভরণপোষণের ব্যবস্থা করতেন। পুথি নকল করা নিয়ে লিপিকরদের মনে গভীর গর্ব ছিল। যদিও তাঁদের রোজগার খুব সামান্য ছিল (অষ্টাদশ শতকে চারখন্ড রামায়ণ কপি করে নগদ সাত টাকা, কিছু কাপড় ও মিঠাই পাওয়া যেত), তবুও তাঁদের সৃষ্টি করা পুথিগুলি ছিল অমূল্য।
৬. "আমরা কালিও তৈরি করতাম নিজেরাই।" - প্রাচীনকালে এবং প্রাবন্ধিকের ছেলেবেলায় কালি তৈরির পদ্ধতি দুটি আলোচনা করো।
উত্তর: 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক প্রাচীনকালের এবং তাঁর নিজের ছেলেবেলার কালি তৈরির দুটি ভিন্ন পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেছেন।
প্রাচীনকালের পদ্ধতি: প্রাচীনেরা খুব পাকা ও ভালো কালি তৈরির জন্য একটি ছড়া ব্যবহার করতেন— "তিল ত্রিফলা সিমুল ছালা/ছাগ দুগ্ধে করি মেলা/লৌহপাত্রে লোহায় ঘসি/ছিঁড়ে পত্র না ছাড়ে মসি।" অর্থাৎ, তিল, ত্রিফলা (আমলকী, বয়ড়া, হরীতকী) এবং শিমুল গাছের ছাল ছাগলের দুধের সঙ্গে মিশিয়ে লোহার পাত্রে লোহার দণ্ড দিয়ে ঘষলে যে কালি তৈরি হতো তা অত্যন্ত মজবুত হতো। পাতা ছিঁড়ে গেলেও সেই কালি উঠত না।
লেখকের ছেলেবেলার পদ্ধতি: প্রাবন্ধিকরা গ্রামে সহজ পদ্ধতিতে কালি বানাতেন। কাঠের উনুনে রান্না হওয়ার ফলে কড়াইয়ের তলায় যে কালি জমত, তা লাউপাতা দিয়ে ঘষে তুলে পাথরের বাটির জলে গুলে নেওয়া হতো। ওস্তাদ ছেলেরা তার মধ্যে হরতকী বা পোড়া আতপ চাল বাটা মেশাত। সবশেষে একটি লাল টকটকে পোড়া খুন্তি সেই জলে ছ্যাঁকা দিয়ে ফোটিয়ে নেওয়া হতো। তারপর ন্যাকড়ায় ছেঁকে নিলেই তৈরি হতো দেশি কালি।
প্রাচীনকালের পদ্ধতি: প্রাচীনেরা খুব পাকা ও ভালো কালি তৈরির জন্য একটি ছড়া ব্যবহার করতেন— "তিল ত্রিফলা সিমুল ছালা/ছাগ দুগ্ধে করি মেলা/লৌহপাত্রে লোহায় ঘসি/ছিঁড়ে পত্র না ছাড়ে মসি।" অর্থাৎ, তিল, ত্রিফলা (আমলকী, বয়ড়া, হরীতকী) এবং শিমুল গাছের ছাল ছাগলের দুধের সঙ্গে মিশিয়ে লোহার পাত্রে লোহার দণ্ড দিয়ে ঘষলে যে কালি তৈরি হতো তা অত্যন্ত মজবুত হতো। পাতা ছিঁড়ে গেলেও সেই কালি উঠত না।
লেখকের ছেলেবেলার পদ্ধতি: প্রাবন্ধিকরা গ্রামে সহজ পদ্ধতিতে কালি বানাতেন। কাঠের উনুনে রান্না হওয়ার ফলে কড়াইয়ের তলায় যে কালি জমত, তা লাউপাতা দিয়ে ঘষে তুলে পাথরের বাটির জলে গুলে নেওয়া হতো। ওস্তাদ ছেলেরা তার মধ্যে হরতকী বা পোড়া আতপ চাল বাটা মেশাত। সবশেষে একটি লাল টকটকে পোড়া খুন্তি সেই জলে ছ্যাঁকা দিয়ে ফোটিয়ে নেওয়া হতো। তারপর ন্যাকড়ায় ছেঁকে নিলেই তৈরি হতো দেশি কালি।
৭. 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
উত্তর: সাহিত্যের নামকরণ সাধারণত বিষয়বস্তু, ব্যঞ্জনা বা মূল ভাবের ওপর নির্ভর করে হয়। প্রাবন্ধিক শ্রীপান্থ রচিত প্রবন্ধটির 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' নামকরণটি অত্যন্ত সার্থক ও ব্যঞ্জনাময়।
প্রবন্ধের শুরুতেই লেখক জানিয়েছেন তিনি একটি লেখালেখির অফিসে কাজ করেন, কিন্তু সেখানে কারও হাতে কোনো কলম নেই, সবাই কমপিউটারে টাইপ করেন। এই আধুনিক প্রযুক্তির দাপট লেখকের মনে এক গভীর শূন্যতা ও নস্টালজিয়া তৈরি করেছে। তিনি তাঁর শৈশবে ফিরে গিয়েছেন, যখন বাঁশের কঞ্চি দিয়ে কলম তৈরি হতো, নিজের হাতে কালি তৈরি করা হতো এবং কলাপাতায় লেখা হতো। এরপর তিনি ইতিহাস ঘেঁটে প্রাচীন মিশর, রোম বা ফিনিসীয়দের নলখাগড়া, হাড় বা পালকের কলমের কথা বলেছেন। কালের নিয়মে ফাউন্টেন পেন এবং শেষে বলপেন এসে কীভাবে দোয়াত-কলমকে বাজার থেকে হঠিয়ে দিয়েছে, তার করুণ চিত্রও তুলে ধরেছেন।
আজ কলম এতটাই অবহেলিত যে কমপিউটার তাকে জাদুঘরে পাঠানোর উপক্রম করেছে। কালি এবং কলম, যা একদিন মানুষের মনন ও সাহিত্যের প্রধান বাহন ছিল, তা আজ আধুনিক সভ্যতার গ্রাসে সত্যি সত্যিই হারিয়ে যেতে বসেছে। এই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের প্রতি লেখকের আক্ষেপ ও ভালোবাসাই প্রবন্ধের মূল উপজীব্য হওয়ায় এর নামকরণটি সম্পূর্ণ সার্থক।
প্রবন্ধের শুরুতেই লেখক জানিয়েছেন তিনি একটি লেখালেখির অফিসে কাজ করেন, কিন্তু সেখানে কারও হাতে কোনো কলম নেই, সবাই কমপিউটারে টাইপ করেন। এই আধুনিক প্রযুক্তির দাপট লেখকের মনে এক গভীর শূন্যতা ও নস্টালজিয়া তৈরি করেছে। তিনি তাঁর শৈশবে ফিরে গিয়েছেন, যখন বাঁশের কঞ্চি দিয়ে কলম তৈরি হতো, নিজের হাতে কালি তৈরি করা হতো এবং কলাপাতায় লেখা হতো। এরপর তিনি ইতিহাস ঘেঁটে প্রাচীন মিশর, রোম বা ফিনিসীয়দের নলখাগড়া, হাড় বা পালকের কলমের কথা বলেছেন। কালের নিয়মে ফাউন্টেন পেন এবং শেষে বলপেন এসে কীভাবে দোয়াত-কলমকে বাজার থেকে হঠিয়ে দিয়েছে, তার করুণ চিত্রও তুলে ধরেছেন।
আজ কলম এতটাই অবহেলিত যে কমপিউটার তাকে জাদুঘরে পাঠানোর উপক্রম করেছে। কালি এবং কলম, যা একদিন মানুষের মনন ও সাহিত্যের প্রধান বাহন ছিল, তা আজ আধুনিক সভ্যতার গ্রাসে সত্যি সত্যিই হারিয়ে যেতে বসেছে। এই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের প্রতি লেখকের আক্ষেপ ও ভালোবাসাই প্রবন্ধের মূল উপজীব্য হওয়ায় এর নামকরণটি সম্পূর্ণ সার্থক।
৮. "বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন 'লাঠি তোমার দিন ফুরাইয়াছে'। কলমের দিনও কি ফুরালো?" - প্রাবন্ধিক কেন এই সংশয় প্রকাশ করেছেন?
উত্তর: ঊনবিংশ শতাব্দীতে যখন আধুনিক বন্দুক ও আগ্নেয়াস্ত্রের বহুল প্রচলন শুরু হয়, তখন মানুষের আত্মরক্ষা বা যুদ্ধের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার 'লাঠি' তার গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে। সেই পরিবর্তন লক্ষ করেই বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় আক্ষেপ করে লিখেছিলেন, "লাঠি তোমার দিন ফুরাইয়াছে"।
এই একই ঐতিহাসিক বিবর্তনের সূত্র ধরে প্রাবন্ধিক শ্রীপান্থ আধুনিক যুগে কলমের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। একসময় বাঁশের কলম, পালকের কলম, দোয়াত-কালি বা ফাউন্টেন পেন ছিল মানুষের জ্ঞান অর্জন ও সাহিত্য সৃষ্টির একমাত্র মাধ্যম। কিন্তু বর্তমানে টাইপরাইটার এবং বিশেষ করে অত্যাধুনিক কমপিউটারের আগমনের ফলে মানুষের হাতে লেখার প্রয়োজনীয়তা প্রায় শেষ হয়ে গেছে। অফিসে, আদালতে, এমনকি ব্যক্তিগত জীবনেও মানুষ আজ কি-বোর্ডে টাইপ করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। যন্ত্রযুগের এই দাপটে কলম আজ অবলুপ্তির পথে এবং জাদুঘরে স্থান পাওয়ার অপেক্ষায়। তাই লাঠির মতোই কলমের দিনও ফুরিয়ে এল কি না, তা নিয়ে প্রাবন্ধিকের মনে এই গভীর সংশয় ও আক্ষেপের জন্ম হয়েছে।
এই একই ঐতিহাসিক বিবর্তনের সূত্র ধরে প্রাবন্ধিক শ্রীপান্থ আধুনিক যুগে কলমের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। একসময় বাঁশের কলম, পালকের কলম, দোয়াত-কালি বা ফাউন্টেন পেন ছিল মানুষের জ্ঞান অর্জন ও সাহিত্য সৃষ্টির একমাত্র মাধ্যম। কিন্তু বর্তমানে টাইপরাইটার এবং বিশেষ করে অত্যাধুনিক কমপিউটারের আগমনের ফলে মানুষের হাতে লেখার প্রয়োজনীয়তা প্রায় শেষ হয়ে গেছে। অফিসে, আদালতে, এমনকি ব্যক্তিগত জীবনেও মানুষ আজ কি-বোর্ডে টাইপ করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। যন্ত্রযুগের এই দাপটে কলম আজ অবলুপ্তির পথে এবং জাদুঘরে স্থান পাওয়ার অপেক্ষায়। তাই লাঠির মতোই কলমের দিনও ফুরিয়ে এল কি না, তা নিয়ে প্রাবন্ধিকের মনে এই গভীর সংশয় ও আক্ষেপের জন্ম হয়েছে।
৯. দোয়াত ও কলমের বিবর্তনের ইতিহাস 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধে কীভাবে ধরা পড়েছে তা আলোচনা করো।
উত্তর: 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধে শ্রীপান্থ মানবসভ্যতায় দোয়াত ও কলমের বিবর্তনের এক চমৎকার ঐতিহাসিক রূপরেখা তুলে ধরেছেন।
প্রাচীন যুগে: প্রাচীন মিশর বা সুমেরীয় সভ্যতায় নীল নদীর তীরের নল-খাগড়াকে ভোঁতা বা সুঁচালো করে কলম হিসেবে ব্যবহার করা হতো। ফিনিসীয়রা বন থেকে কুড়ানো হাড় দিয়ে লিখত। প্রাচীন রোমে ব্রোঞ্জের তৈরি ধারালো শলাকা বা 'স্টাইলাস' ব্যবহৃত হতো। চিনে চিরকালই তুলি দিয়ে লেখার চল ছিল।
মধ্যযুগ ও গ্রাম্য জীবনে: লেখক তাঁর শৈশবে গ্রামে বাঁশের কঞ্চি কেটে কলম বানাতেন। সাহেবরা পাখির পালকের কলম (কুইল) ব্যবহার করতেন। কাচের, কাট-গ্লাসের, শ্বেতপাথরের, পিতলের, এমনকি সোনার দোয়াতও ব্যবহৃত হতো।
আধুনিক যুগ: দোয়াত উপুড় হয়ে কালি পড়ার সমস্যা দূর করতে লুইস অ্যাডসন ওয়াটারম্যান আবিষ্কার করেন ফাউন্টেন পেন বা ঝরনা কলম। এটি কলমের দুনিয়ায় বিপ্লব আনে। সোনার নিব, হিরের মুখ বসিয়ে ফাউন্টেন পেনকে আকর্ষণীয় করা হয়। কিন্তু কালের নিয়মে এই ফাউন্টেন পেনকেও হঠিয়ে দেয় শস্তা ও লিকলিকে বল-পেন বা ডট পেন। এবং বর্তমানে কমপিউটারের কি-বোর্ড এসে কলম নামক জিনিসটাকেই প্রায় জাদুঘরে পাঠিয়ে দেওয়ার উপক্রম করেছে।
প্রাচীন যুগে: প্রাচীন মিশর বা সুমেরীয় সভ্যতায় নীল নদীর তীরের নল-খাগড়াকে ভোঁতা বা সুঁচালো করে কলম হিসেবে ব্যবহার করা হতো। ফিনিসীয়রা বন থেকে কুড়ানো হাড় দিয়ে লিখত। প্রাচীন রোমে ব্রোঞ্জের তৈরি ধারালো শলাকা বা 'স্টাইলাস' ব্যবহৃত হতো। চিনে চিরকালই তুলি দিয়ে লেখার চল ছিল।
মধ্যযুগ ও গ্রাম্য জীবনে: লেখক তাঁর শৈশবে গ্রামে বাঁশের কঞ্চি কেটে কলম বানাতেন। সাহেবরা পাখির পালকের কলম (কুইল) ব্যবহার করতেন। কাচের, কাট-গ্লাসের, শ্বেতপাথরের, পিতলের, এমনকি সোনার দোয়াতও ব্যবহৃত হতো।
আধুনিক যুগ: দোয়াত উপুড় হয়ে কালি পড়ার সমস্যা দূর করতে লুইস অ্যাডসন ওয়াটারম্যান আবিষ্কার করেন ফাউন্টেন পেন বা ঝরনা কলম। এটি কলমের দুনিয়ায় বিপ্লব আনে। সোনার নিব, হিরের মুখ বসিয়ে ফাউন্টেন পেনকে আকর্ষণীয় করা হয়। কিন্তু কালের নিয়মে এই ফাউন্টেন পেনকেও হঠিয়ে দেয় শস্তা ও লিকলিকে বল-পেন বা ডট পেন। এবং বর্তমানে কমপিউটারের কি-বোর্ড এসে কলম নামক জিনিসটাকেই প্রায় জাদুঘরে পাঠিয়ে দেওয়ার উপক্রম করেছে।
১০. "তুমি সবল, আমি দুর্বল... ধরে নাও আমি মৃত।" - উক্তিটির অন্তর্নিহিত অর্থ 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধ অবলম্বনে বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: উদ্ধৃত উক্তিটি একজন ফরাসি কবির, যা প্রাবন্ধিক শ্রীপান্থ তাঁর 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধে ব্যবহার করেছেন।
প্রাবন্ধিক নিজে ছিলেন 'কালি-খেকো' কলম অর্থাৎ দোয়াত-নিবের কলম বা ফাউন্টেন পেনের একান্ত ভক্ত। এই কলমের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর শৈশব, আবেগ এবং শিল্পবোধ। কিন্তু আধুনিক যুগে শস্তা, সহজলভ্য এবং ব্যবহারিক দিক থেকে সুবিধাজনক বল-পেন বা ডট পেন বাজার দখল করে নিয়েছে। ফাউন্টেন পেনের আভিজাত্য বা দোয়াত-কলমের ঐতিহ্যের কোনো স্থান আধুনিক দ্রুত গতির জীবনে আর নেই।
তাই প্রাবন্ধিক আক্ষেপ করে বলেছেন যে, বল-পেনের এই বাণিজ্যিক শক্তির (সবল) কাছে তাঁর মতো ঐতিহ্যপ্রেমী মানুষ আজ অসহায় ও দুর্বল। বল-পেনের দাপটে দোয়াত-কলম আজ প্রায় বিলুপ্ত। নতুনের এই আগ্রাসনের কাছে পুরোনো ঐতিহ্যের যে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ, এবং যান্ত্রিকতার কাছে আবেগের যে মৃত্যু, ফরাসি কবির এই উক্তিটির মাধ্যমেই প্রাবন্ধিক সেই বেদনাদায়ক সত্যটিকেই অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
প্রাবন্ধিক নিজে ছিলেন 'কালি-খেকো' কলম অর্থাৎ দোয়াত-নিবের কলম বা ফাউন্টেন পেনের একান্ত ভক্ত। এই কলমের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর শৈশব, আবেগ এবং শিল্পবোধ। কিন্তু আধুনিক যুগে শস্তা, সহজলভ্য এবং ব্যবহারিক দিক থেকে সুবিধাজনক বল-পেন বা ডট পেন বাজার দখল করে নিয়েছে। ফাউন্টেন পেনের আভিজাত্য বা দোয়াত-কলমের ঐতিহ্যের কোনো স্থান আধুনিক দ্রুত গতির জীবনে আর নেই।
তাই প্রাবন্ধিক আক্ষেপ করে বলেছেন যে, বল-পেনের এই বাণিজ্যিক শক্তির (সবল) কাছে তাঁর মতো ঐতিহ্যপ্রেমী মানুষ আজ অসহায় ও দুর্বল। বল-পেনের দাপটে দোয়াত-কলম আজ প্রায় বিলুপ্ত। নতুনের এই আগ্রাসনের কাছে পুরোনো ঐতিহ্যের যে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ, এবং যান্ত্রিকতার কাছে আবেগের যে মৃত্যু, ফরাসি কবির এই উক্তিটির মাধ্যমেই প্রাবন্ধিক সেই বেদনাদায়ক সত্যটিকেই অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
৭. ব্যাকরণ ও নির্মিতি (Grammar & Composition) সিলেবাস অনুযায়ী
কারক ও অকারক সম্পর্ক
- আমি ছাড়া কারও হাতে কলম নেই। - কর্মকারকে 'শূন্য' বিভক্তি।
- আমরা কলম তৈরি করতাম রোগা বাঁশের কঞ্চি কেটে। - সম্বন্ধ পদে 'এর' বিভক্তি।
- লৌহপাত্রে লোহায় ঘসি - করণ কারকে 'য়' বিভক্তি।
- গোরুকে অক্ষর খাওয়ানোও নাকি পাপ। - কর্মকারকে 'কে' বিভক্তি।
- আমরা কলেজে পড়ছি। - অধিকরণ কারকে 'এ' বিভক্তি।
- লর্ড কার্জন বাঙালি সাংবাদিকদের বলতেন... - কর্তৃকারকে 'শূন্য' বিভক্তি।
সমাস নির্ণয়
- দোয়াত-কলম: দোয়াত ও কলম (দ্বন্দ্ব সমাস)।
- অক্ষরজ্ঞানহীন: অক্ষরজ্ঞানে হীন (করণ তৎপুরুষ সমাস)।
- ফেরিওয়ালা: ফেরি করে যে (উপপদ তৎপুরুষ সমাস)।
- ঝরনা-কলম: ঝরনার মতো কলম (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়) অথবা ঝরনা নামাঙ্কিত কলম।
- পকেটমার: পকেট মারে যে (উপপদ তৎপুরুষ সমাস)।
- শ্বেতপাথর: শ্বেত যে পাথর (সাধারণ কর্মধারয় সমাস)।
বাক্য ও বাচ্য পরিবর্তন
- বাক্য: আমি গ্রামের ছেলে। (জটিল বাক্যে)
উত্তর: আমি হই সেই ছেলে যে গ্রামে থাকে। - বাক্য: কলম শুধু সুঁচলো হলে চলবে না, কালি যাতে এক সঙ্গে গড়িয়ে না-পড়ে তার জন্য মুখটা চিরে দেওয়া চাই। (সরল বাক্যে)
উত্তর: কলম শুধু সুঁচলো হলে চলবে না, কালি এক সঙ্গে গড়িয়ে না-পড়ার জন্য মুখটা চিরে দেওয়া চাই। - বাচ্য: আমরা কলম তৈরি করতাম রোগা বাঁশের কঞ্চি কেটে। (কর্মবাচ্যে)
উত্তর: আমাদের দ্বারা রোগা বাঁশের কঞ্চি কেটে কলম তৈরি করা হতো। - বাচ্য: গোরুকে অক্ষর খাওয়ানোও নাকি পাপ। (কর্তৃবাচ্যে)
উত্তর: গোরুকে অক্ষর খাওয়ালে নাকি পাপ হয়। / গোরুকে অক্ষর খাওয়ানোকে নাকি লোকে পাপ বলে।
নির্মিতি (অনুশীলনের জন্য)
- কাল্পনিক সংলাপ: "কমপিউটারের যুগে বই পড়ার ভবিষ্যৎ" - এই বিষয়ে দুই ছাত্রের মধ্যে একটি কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো।
- প্রতিবেদন রচনা: "বিদ্যালয়ে হস্তাক্ষর প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী" - এই শিরোনামে সংবাদপত্রে প্রকাশের উপযোগী একটি প্রতিবেদন রচনা করো।
- প্রবন্ধ রচনা: "আধুনিক জীবনে প্রযুক্তি বনাম ঐতিহ্য" অথবা "ছাত্রজীবনে সংবাদপত্রের ভূমিকা"।
- বঙ্গানুবাদ: Education is the backbone of a nation. No nation can prosper without education. It is education that removes darkness and ignorance from the society. We should try to spread education among all classes of people.
(অনুবাদ: শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতি উন্নতি করতে পারে না। শিক্ষাই সমাজ থেকে অন্ধকার এবং অজ্ঞতা দূর করে। আমাদের উচিত সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের মধ্যে শিক্ষার প্রসার ঘটানোর চেষ্টা করা।)
হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধ সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্ন (FAQs)
প্রবন্ধটি প্রখ্যাত সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক শ্রীপান্থের লেখা। তাঁর আসল নাম নিখিল সরকার।
ছেলেবেলায় প্রাবন্ধিকরা গ্রামের রোগা বাঁশের কঞ্চি কেটে, তার মুখটা সুঁচালো করে এবং কালির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য মুখটা একটু চিরে দিয়ে কলম তৈরি করতেন।
ফাউন্টেন পেনের বাংলা নাম হলো 'ঝরনা কলম' (সম্ভবত রবীন্দ্রনাথের দেওয়া)। এর আবিষ্কারক হলেন লুইস অ্যাডসন ওয়াটারম্যান।
কারণ আধুনিক যুগে টাইপরাইটার এবং বিশেষ করে কমপিউটারের কি-বোর্ডের দাপটে হাতে লেখার অভ্যাস কমে গেছে, ফলে কলম আজ জাদুঘরে যাওয়ার অপেক্ষায়, তাই তাঁর এই সংশয়।