Chapter 5: ভারত (প্রাকৃতিক পরিবেশ)

ভারতের অবস্থান, ভূপ্রকৃতি, নদনদী, জলবায়ু, মৃত্তিকা এবং স্বাভাবিক উদ্ভিদ | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর (WBBSE 2027)

Sabina Yeasmin
Sabina Yeasmin
Uploaded: 03 May 2026 Last Update: 30 May 2026
Chapter 5: ভারত প্রাকৃতিক পরিবেশ | Madhyamik Geography

Chapter 5: ভারত (প্রাকৃতিক পরিবেশ)

সম্পূর্ণ অধ্যায়ের গভীর বিশ্লেষণ ও প্রস্তুতি | 70 MCQ | 44 SAQ | 10 Broad Questions

ভূপ্রকৃতি নদনদী জলবায়ু মৃত্তিকা স্বাভাবিক উদ্ভিদ
🏔️

ভূপ্রকৃতি ও নদনদী

হিমালয়, সমভূমি, মালভূমি এবং গঙ্গা, গোদাবরী, নর্মদা নদী

🌦️

জলবায়ু ও মৃত্তিকা

মৌসুমি বায়ু, পলিমাটি, কৃষ্ণ মৃত্তিকা এবং চিরহরিৎ অরণ্য

MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর

70 টি
1. আয়তনের বিচারে বিশ্বে ভারতের স্থান কততম?
ক) দ্বিতীয়
খ) পঞ্চম
গ) সপ্তম
ঘ) নবম
2. ভারতের প্রমাণ দ্রাঘিমারেখা (Standard Meridian) কত?
ক) ৮২°৩০' পূর্ব
খ) ৮২°৩০' পশ্চিম
গ) ২৩°৩০' উত্তর
ঘ) ২৩°৩০' দক্ষিণ
3. ভারতের দক্ষিণতম বিন্দু কোনটি?
ক) কন্যাকুমারিকা
খ) ইন্দিরা পয়েন্ট
গ) ইন্দিরা কল
ঘ) কিবিথু
4. মূল ভূখণ্ডের দক্ষিণতম বিন্দু কোনটি?
ক) ইন্দিরা পয়েন্ট
খ) কন্যাকুমারিকা অন্তরীপ
গ) রামেশ্বরম
ঘ) পোর্ট ব্লেয়ার
5. কর্কটক্রান্তি রেখা (২৩°৩০' উত্তর) ভারতের কয়টি রাজ্যের ওপর দিয়ে গেছে?
ক) ৬টি
খ) ৭টি
গ) ৮টি
ঘ) ৯টি
6. ভারত ও চীনের মধ্যে সীমানারেখাকে কী বলে?
ক) র‍্যাডক্লিফ লাইন
খ) ম্যাকমোহন লাইন
গ) ডুরান্ড লাইন
ঘ) এল. ও. সি.
7. ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমানারেখাকে কী বলে?
ক) ম্যাকমোহন লাইন
খ) র‍্যাডক্লিফ লাইন
গ) ডুরান্ড লাইন
ঘ) পক প্রণালী
8. ভারতের নবীনতম রাজ্য কোনটি?
ক) ঝাড়খণ্ড
খ) উত্তরাখণ্ড
গ) তেলেঙ্গানা
ঘ) ছত্তিশগড়
9. ভাষার ভিত্তিতে গঠিত ভারতের প্রথম রাজ্য কোনটি?
ক) মহারাষ্ট্র
খ) গুজরাট
গ) অন্ধ্রপ্রদেশ
ঘ) তামিলনাড়ু
10. ভারতের বৃহত্তম রাজ্য কোনটি?
ক) মধ্যপ্রদেশ
খ) মহারাষ্ট্র
গ) উত্তরপ্রদেশ
ঘ) রাজস্থান
11. ভারতের ক্ষুদ্রতম রাজ্য কোনটি?
ক) সিকিম
খ) ত্রিপুরা
গ) গোয়া
ঘ) নাগাল্যান্ড
12. ভারতের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কোনটি?
ক) কাঞ্চনজঙ্ঘা
খ) গডউইন অস্টিন (K2)
গ) মাউন্ট এভারেস্ট
ঘ) নন্দাদেবী
13. হিমালয় পর্বতে অবস্থিত ভারতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কোনটি?
ক) কাঞ্চনজঙ্ঘা
খ) কেদারনাথ
গ) কামেট
ঘ) নামচাবারোয়া
14. পামির গ্রন্থি থেকে নির্গত ভারতের একটি পর্বতমালা হল-
ক) হিমালয়
খ) কারাকোরাম
গ) আরাবল্লী
ঘ) বিন্ধ্য
15. হিমাদ্রি হিমালয়ের গড় উচ্চতা কত?
ক) ৩,০০০ মিটার
খ) ৪,০০০ মিটার
গ) ৬,০০০ মিটারের বেশি
ঘ) ১,৫০০ মিটার
16. শিবালিক হিমালয় ও হিমাচল হিমালয়ের মাঝের উপত্যকাগুলিকে কী বলে?
ক) দুন
খ) মার্গ
গ) কারেওয়া
ঘ) তাল
17. কাশ্মীর উপত্যকা কোন্ দুটি পর্বতশ্রেণির মধ্যে অবস্থিত?
ক) শিবালিক ও পীরপাঞ্জাল
খ) পীরপাঞ্জাল ও জাস্কর
গ) জাস্কর ও লাদাখ
ঘ) লাদাখ ও কারাকোরাম
18. 'কারেওয়া' (Karewa) মৃত্তিকা কোথায় দেখা যায়?
ক) কাশ্মীর উপত্যকায়
খ) দুন উপত্যকায়
গ) ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায়
ঘ) কাংড়া উপত্যকায়
19. ভারতের বৃহত্তম হিমবাহ কোনটি?
ক) জেমু
খ) হিসপার
গ) সিয়াচেন
ঘ) বালটোরো
20. মেঘালয় মালভূমির সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কোনটি?
ক) শিলং
খ) নকরেক
গ) দোদাবেতা
ঘ) সারামতী
21. ভারতের প্রাচীনতম ভঙ্গিল পর্বত কোনটি?
ক) হিমালয়
খ) আরাবল্লী
গ) বিন্ধ্য
ঘ) সাতপুরা
22. আরাবল্লী পর্বতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কোনটি?
ক) গুরুশিখর
খ) ধূপগড়
গ) অমরকণ্টক
ঘ) দোদাবেতা
23. বিন্ধ্য পর্বত কী জাতীয় পর্বত?
ক) ভঙ্গিল পর্বত
খ) স্তূপ পর্বত
গ) আগ্নেয় পর্বত
ঘ) ক্ষয়জাত পর্বত
24. সাতপুরা পর্বতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কোনটি?
ক) গুরুশিখর
খ) ধূপগড়
গ) দোদাবেতা
ঘ) আনাইমুদি
25. পশ্চিমঘাট পর্বতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কোনটি?
ক) আনাইমুদি
খ) দোদাবেতা
গ) কালসুবাই
ঘ) কলসুবাই (Kalsubai)
26. দক্ষিণ ভারতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কোনটি?
ক) দোদাবেতা
খ) কলসুবাই
গ) আনাইমুদি
ঘ) মহাবালেশ্বর
27. নীলগিরি পর্বতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কোনটি?
ক) আনাইমুদি
খ) দোদাবেতা
গ) গুরুশিখর
ঘ) ধূপগড়
28. পূর্বঘাট পর্বতের অপর নাম কী?
ক) সহ্যাদ্রি
খ) মলয়াদ্রি
গ) হিমাদ্রি
ঘ) নীলগিরি
29. দাক্ষিণাত্য মালভূমির উত্তর-পশ্চিম অংশে লাভা গঠিত অঞ্চলকে কী বলে?
ক) মালনাদ
খ) ময়দান
গ) ডেকান ট্র্যাপ
ঘ) বাগার
30. কর্ণাটক মালভূমির পশ্চিমের পাহাড়ি ও এবড়োখেবড়ো অংশকে কী বলে?
ক) ময়দান
খ) মালনাদ
গ) বাগার
ঘ) রোহি
31. রাজস্থান মরুভূমির চলমান বালিয়াড়িগুলিকে কী বলে?
ক) ধান্দ
খ) ধ্রিয়ান
গ) বাগার
ঘ) হামাদা
32. মরুভূমির লবণাক্ত হ্রদগুলিকে রাজস্থানে কী বলে?
ক) ওয়াদি
খ) ধ্রিয়ান
গ) ধান্দ
ঘ) প্লায়া
33. পাঞ্জাব সমভূমিতে নদী দ্বারা সৃষ্ট নতুন পলিমাটিকে কী বলে?
ক) ভাঙ্গর
খ) খাদার বা বেট
গ) ধায়া
ঘ) চোস
34. গাঙ্গেয় সমভূমিতে নদী থেকে দূরের প্রাচীন পলিমাটিকে কী বলে?
ক) খাদার
খ) ভাঙ্গর
গ) ভাবর
ঘ) তরাই
35. শিবালিকের পাদদেশে নুড়ি, পাথর ও বালি গঠিত সচ্ছিদ্র সমভূমিকে কী বলে?
ক) তরাই
খ) ভাঙ্গর
গ) ভাবর
ঘ) খাদার
36. ভাবরের দক্ষিণে আর্দ্র, স্যাঁতসেঁতে ও গভীর অরণ্যাবৃত অঞ্চলকে কী বলে?
ক) খাদার
খ) তরাই
গ) ডেল্টা
ঘ) বেট
37. মালাবার উপকূলের অগভীর উপহ্রদ বা কয়ালগুলিকে কী বলা হয়?
ক) ধান্দ
খ) ব্যাকওয়াটার বা কয়াল
গ) চোস
ঘ) তাল
38. গঙ্গা নদীর উৎপত্তিস্থল কোনটি?
ক) যমুনোত্রী হিমবাহ
খ) গঙ্গোত্রী হিমবাহের গোমুখ গুহা
গ) মানস সরোবর
ঘ) চেমায়ুংদং হিমবাহ
39. গঙ্গার প্রধান উপনদী কোনটি?
ক) কোশী
খ) গণ্ডক
গ) যমুনা
ঘ) শোন
40. ব্রহ্মপুত্র নদ তিব্বতে কী নামে পরিচিত?
ক) দিহং
খ) সিয়াং
গ) সাংপো
ঘ) যমুনা
41. দক্ষিণ ভারতের দীর্ঘতম নদী কোনটি?
ক) কৃষ্ণা
খ) গোদাবরী
গ) কাবেরী
ঘ) নর্মদা
42. নিচের কোনটি পশ্চিমবাহিনী নদী?
ক) গোদাবরী
খ) কৃষ্ণা
গ) কাবেরী
ঘ) নর্মদা
43. নর্মদা নদী কোথা থেকে উৎপন্ন হয়েছে?
ক) মহাবালেশ্বর
খ) ত্রিম্বক
গ) অমরকণ্টক শৃঙ্গ
ঘ) ব্রহ্মগিরি
44. ভারতের বৃহত্তম হ্রদ কোনটি?
ক) চিলকা
খ) উলার
গ) ডাল
ঘ) ভেম্বানাদ
45. ভারতের বৃহত্তম মিষ্টি জলের হ্রদ কোনটি?
ক) চিলকা
খ) ডাল
গ) উলার (Wular)
ঘ) সম্বর
46. ভারতের জলবায়ু প্রধানত কোন্ প্রকৃতির?
ক) নিরক্ষীয়
খ) ভূমধ্যসাগরীয়
গ) ক্রান্তীয় মৌসুমি
ঘ) তুন্দ্রা
47. গ্রীষ্মকালে উত্তর-পশ্চিম ভারতে প্রবাহিত শুষ্ক ও উষ্ণ বায়ুকে কী বলে?
ক) আঁধি
খ) লু (Loo)
গ) কালবৈশাখী
ঘ) বরদইছিলা
48. গ্রীষ্মকালে পশ্চিমবঙ্গে যে বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়বৃষ্টি হয়, তাকে কী বলে?
ক) লু
খ) আঁধি
গ) কালবৈশাখী
ঘ) আম্রবৃষ্টি
49. অসমে কালবৈশাখী ঝড় কী নামে পরিচিত?
ক) আঁধি
খ) ম্যাঙ্গো সাওয়ার
গ) বরদইছিলা
ঘ) কফি বৃষ্টি
50. দক্ষিণ ভারতে (কেরালা ও কর্ণাটক) প্রাক-মৌসুমি বৃষ্টিপাতকে কী বলে?
ক) আম্রবৃষ্টি (Mango Shower)
খ) আঁধি
গ) লু
ঘ) কালবৈশাখী
51. ভারতে শীতকালে কোন্ বায়ুর প্রভাবে আবহাওয়া শুষ্ক থাকে?
ক) দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
খ) উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু
গ) পশ্চিমা বায়ু
ঘ) আয়ন বায়ু
52. শীতকালে ভারতের কোন্ উপকূলে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত হয়?
ক) কঙ্কন উপকূল
খ) মালাবার উপকূল
গ) করমণ্ডল উপকূল
ঘ) গুজরাট উপকূল
53. ভারতে বর্ষাকালের প্রধান কারণ কোন্ বায়ুপ্রবাহ?
ক) উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু
খ) দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
গ) পুবালি জেট বায়ু
ঘ) পশ্চিমা বায়ু
54. দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রথম কোথায় আঘাত হানে?
ক) পশ্চিমবঙ্গ
খ) মহারাষ্ট্র
গ) কেরালা উপকূল
ঘ) তামিলনাড়ু
55. ভারতের তথা পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিবহুল অঞ্চল কোনটি?
ক) চেরাপুঞ্জি
খ) মৌসিনরাম
গ) শিলং
ঘ) আগুম্বে
56. ভারতের একটি বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল (Rain Shadow Area) কোনটি?
ক) চেরাপুঞ্জি
খ) শিলং
গ) মুম্বাই
ঘ) কলকাতা
57. শীতকালে উত্তর-পশ্চিম ভারতে যে হালকা বৃষ্টিপাত ও তুষারপাত হয় তাকে কী বলে?
ক) কালবৈশাখী
খ) মৌসুমি বিস্ফোরণ
গ) পশ্চিমী ঝঞ্ঝা (Western Disturbance)
ঘ) আঁধি
58. ভারতের মোট আয়তনের কত শতাংশ জমিতে পলিমাটি (Alluvial Soil) দেখা যায়?
ক) ২০%
খ) ৩০%
গ) ৪৬%
ঘ) ৬০%
59. কৃষ্ণ মৃত্তিকা বা কালো মাটির (Black Soil) অপর নাম কী?
ক) রেগুর
খ) খাদার
গ) ভাঙ্গর
ঘ) ল্যাটেরাইট
60. কালো মাটি কোন্ চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী?
ক) ধান
খ) পাট
গ) কার্পাস বা তুলা
ঘ) চা
61. ল্যাটেরাইট মাটি (Laterite Soil) ভারতের কোন্ অঞ্চলে বেশি দেখা যায়?
ক) গাঙ্গেয় সমভূমি
খ) ছোটোনাগপুর মালভূমি ও পশ্চিমঘাট পর্বতমালা
গ) পাঞ্জাব সমভূমি
ঘ) কাশ্মীর উপত্যকা
62. পার্বত্য মাটি (Mountain Soil) কোন্ চাষের জন্য উপযোগী?
ক) ধান
খ) কার্পাস
গ) চা, কফি, ফল
ঘ) গম
63. খয়াই (Gully Erosion) ক্ষয় প্রধানত ভারতের কোন্ অঞ্চলে দেখা যায়?
ক) গাঙ্গেয় সমভূমি
খ) চম্বল নদীর উপত্যকা
গ) থর মরুভূমি
ঘ) কাশ্মীর
64. ভারতের কোন্ অরণ্যের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি?
ক) ক্রান্তীয় চিরহরিৎ অরণ্য
খ) ক্রান্তীয় পর্ণমোচী বা পাতাঝরা অরণ্য
গ) ম্যানগ্রোভ অরণ্য
ঘ) পার্বত্য অরণ্য
65. পশ্চিমঘাট পর্বতের পশ্চিম ঢালে কোন্ অরণ্য দেখা যায়?
ক) পর্ণমোচী
খ) ক্রান্তীয় চিরহরিৎ (Evergreen)
গ) ম্যানগ্রোভ
ঘ) কাঁটাঝোপ
66. শাল, সেগুন, চন্দন, পলাশ কোন্ অরণ্যের গাছ?
ক) চিরহরিৎ
খ) ক্রান্তীয় আর্দ্র পর্ণমোচী
গ) ম্যানগ্রোভ
ঘ) আল্পীয়
67. বাবলা, ফণীমনসা, ক্যাকটাস কোন্ অরণ্যের উদ্ভিদ?
ক) চিরহরিৎ
খ) মরু ও মরুপ্রায় উদ্ভিদ (Thorn Forest)
গ) ম্যানগ্রোভ
ঘ) পার্বত্য
68. সুন্দরবনে কোন্ অরণ্য দেখা যায়?
ক) ম্যানগ্রোভ বা লবণাম্বু
খ) চিরহরিৎ
গ) পর্ণমোচী
ঘ) আল্পীয়
69. ঠেসমূল ও শ্বাসমূল কোন্ উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য?
ক) পর্ণমোচী
খ) চিরহরিৎ
গ) ম্যানগ্রোভ
ঘ) মরু উদ্ভিদ
70. জাতীয় বননীতি অনুযায়ী একটি দেশের মোট আয়তনের কত শতাংশ বনভূমি থাকা প্রয়োজন?
ক) ২০%
খ) ২৫%
গ) ৩৩.৩%
ঘ) ৫০%

SAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (১ ও ২ নম্বর)

44 টি
1. ভারত এশিয়া মহাদেশের কোন্ অংশে অবস্থিত?
ভারত এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-মধ্য অংশে (South-central part) অবস্থিত একটি বিশাল উপদ্বীপীয় রাষ্ট্র।
2. ভারতের অক্ষাংশগত ও দ্রাঘিমাংশগত অবস্থান লেখো।
ভারত উত্তরে ৩৭°৬' উত্তর অক্ষাংশ (কাশ্মীর) থেকে দক্ষিণে ৮°৪' উত্তর অক্ষাংশ (কন্যাকুমারী) পর্যন্ত এবং পশ্চিমে ৬৮°৭' পূর্ব দ্রাঘিমা (গুজরাট) থেকে পূর্বে ৯৭°২৫' পূর্ব দ্রাঘিমার (অরুণাচল প্রদেশ) মধ্যে অবস্থিত।
3. ভারতের উত্তর-দক্ষিণে এবং পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তার কত?
ভারতের উত্তর থেকে দক্ষিণে বিস্তার প্রায় ৩,২১৪ কিমি এবং পূর্ব থেকে পশ্চিমে বিস্তার প্রায় ২,৯৩৩ কিমি।
4. সার্ক (SAARC)-এর পুরো নাম কী? এর সদর দপ্তর কোথায়?
SAARC এর পুরো নাম South Asian Association for Regional Cooperation। এর সদর দপ্তর নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অবস্থিত।
5. পক প্রণালী (Palk Strait) কোথায় অবস্থিত?
পক প্রণালী এবং মান্নার উপসাগর ভারত এবং শ্রীলঙ্কাকে একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে।
6. লাইন অফ কন্ট্রোল (LOC) কী?
ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে যুদ্ধবিরতি রেখাকে লাইন অফ কন্ট্রোল বা LOC বলা হয়।
7. কর্কটক্রান্তি রেখা (Tropic of Cancer) ভারতের কোন্ কোন্ রাজ্যের ওপর দিয়ে গেছে?
গুজরাট, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা এবং মিজোরাম—এই ৮টি রাজ্যের ওপর দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা (২৩°৩০' উঃ) গেছে।
8. ভারতের নবীনতম রাজ্য কোনটি এবং কবে গঠিত হয়?
২০১৪ সালের ২রা জুন অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যকে দ্বিখণ্ডিত করে ভারতের ২৯তম (বর্তমানে ২৮তম) এবং নবীনতম রাজ্য 'তেলেঙ্গানা' (Telangana) গঠিত হয়।
9. ভারতের ক্ষেত্রফল কত? আয়তনের দিক থেকে ভারতের স্থান কত?
ভারতের মোট আয়তন প্রায় ৩২,৮৭,২৬৩ বর্গকিলোমিটার। আয়তনের বিচারে রাশিয়ার, কানাডা, আমেরিকা, চীন, ব্রাজিল ও অস্ট্রেলিয়ার পর ভারত বিশ্বে সপ্তম স্থান অধিকার করে।
10. দুন (Dun) কী?
শিবালিক ও হিমাচল হিমালয়ের মাঝখানে অবস্থিত দীর্ঘ ও সংকীর্ণ উপত্যকাগুলিকে দুন বলে। যেমন উত্তরাখণ্ডের দেরাদুন, কোটা দুন।
11. টেরাই বা তরাই (Terai) অঞ্চল কী?
শিবালিক পর্বতের পাদদেশে ভাবর অঞ্চলের দক্ষিণে নদীগুলি পুনরায় ভূপৃষ্ঠে আত্মপ্রকাশ করে যে স্যাঁতসেঁতে, জলাভূমিময় ও গভীর অরণ্যাবৃত অঞ্চল সৃষ্টি করেছে, তাকে তরাই বলে।
12. ভাঙ্গর (Bhangar) ও খাদার (Khadar) কী?
গাঙ্গেয় সমভূমি অঞ্চলে নদী থেকে দূরের উঁচু ও প্রাচীন পলিমাটি যুক্ত কম উর্বর অঞ্চলকে ভাঙ্গর বলে। আর নদীর তীরবর্তী নিচু এবং প্রতি বছর বন্যায় নতুন পলি সঞ্চিত উর্বর অঞ্চলকে খাদার (পাঞ্জাবে বেট) বলে।
13. দোয়াব (Doab) কাকে বলে?
দুটি নদীর মধ্যবর্তী পলিগঠিত উর্বর সমতলভূমিকে দোয়াব বলে। গঙ্গা ও যমুনা নদীর মধ্যবর্তী দোয়াব অঞ্চল অত্যন্ত উর্বর ও কৃষিসমৃদ্ধ।
14. মালনাদ ও ময়দান কী?
কর্ণাটক মালভূমির পশ্চিমদিকের পশ্চিমঘাট পর্বত সংলগ্ন অতি উঁচু-নিচু, এবড়োখেবড়ো পাহাড়ি অঞ্চলকে মালনাদ (পাহাড়ি দেশ) বলে। মালনাদের পূর্বদিকের তরঙ্গায়িত সমতল বা মালভূমি অঞ্চলকে ময়দান বলে।
15. ডেকান ট্র্যাপ (Deccan Trap) কী?
ক্রেটাসিয়াস যুগে ভূগর্ভের লাভা ফাটল দিয়ে নিঃশব্দে বেরিয়ে দাক্ষিণাত্য মালভূমির উত্তর-পশ্চিম অংশে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে সঞ্চিত হয়। ব্যাসাল্ট শিলায় গঠিত এই সিঁড়ির মতো ধাপযুক্ত মালভূমিকে ডেকান ট্র্যাপ বলে।
16. কয়াল (Kayal) কী?
কেরালার মালাবার উপকূলে সমুদ্রের তরঙ্গে বালি জমে সমুদ্রের সাথে আংশিক বা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অনেক লবণাক্ত উপহ্রদ বা ব্যাকওয়াটার সৃষ্টি হয়েছে, এদের স্থানীয় ভাষায় কয়াল বলে। (যেমন ভেম্বানাদ কয়াল)।
17. পূর্বঘাট ও পশ্চিমঘাট পর্বতমালা কোথায় মিলিত হয়েছে?
পূর্বঘাট (মলয়াদ্রি) এবং পশ্চিমঘাট (সহ্যাদ্রি) পর্বতমালা দক্ষিণ ভারতের নীলগিরি পর্বতে এসে মিলিত হয়েছে। নীলগিরির সর্বোচ্চ শৃঙ্গ দোদাবেতা।
18. ভারতের একটি স্তূপ পর্বতের এবং একটি গ্রস্থ উপত্যকার নাম লেখো।
ভারতের দুটি উল্লেখযোগ্য স্তূপ পর্বত হল বিন্ধ্য ও সাতপুরা পর্বত। এই দুই পর্বতের মাঝে নর্মদা নদীর গ্রস্থ উপত্যকা (Rift Valley) অবস্থিত।
19. গঙ্গা নদীর উৎস ও মোহানা কোথায়?
গঙ্গা নদী (২৫২৫ কিমি) উত্তরাখণ্ডের গঙ্গোত্রী হিমবাহের গোমুখ গুহা থেকে উৎপন্ন হয়ে বঙ্গোপসাগরে (সুন্দরবন বদ্বীপ অঞ্চলে) পতিত হয়েছে।
20. গঙ্গার বামতীর ও ডানতীরের দুটি করে উপনদীর নাম লেখো।
গঙ্গার বামতীরের উপনদী: রামগঙ্গা, গোমতী, ঘর্ঘরা, কোশী। গঙ্গার ডানতীরের উপনদী: যমুনা (দীর্ঘতম) এবং শোন।
21. সিন্ধু নদীর উৎস ও প্রধান উপনদীগুলির নাম লেখো।
সিন্ধু নদ তিব্বতের মানস সরোবরের কাছে সিন-কা-বাব হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়েছে। এর পাঁচটি প্রধান উপনদী হল— শতদ্রু, বিপাশা, ইরাবতী, চন্দ্রভাগা এবং বিতস্তা (ঝিলম)।
22. ব্রহ্মপুত্র নদ কোথা থেকে উৎপন্ন হয়েছে এবং কোথায় পড়েছে?
ব্রহ্মপুত্র নদ তিব্বতের চেমায়ুংদং হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়ে (তিব্বতে নাম সাংপো) ভারতে প্রবেশ করে বাংলাদেশে যমুনা নামে গঙ্গার সাথে মিলিত হয়ে মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।
23. দক্ষিণ ভারতের গঙ্গা কাকে এবং কেন বলা হয়?
গোদাবরী নদীকে দক্ষিণ ভারতের গঙ্গা বা বৃদ্ধগঙ্গা বলা হয়। কারণ উত্তর ভারতে গঙ্গার মতো দক্ষিণ ভারতে গোদাবরী হল দীর্ঘতম (১৪৬৫ কিমি), বৃহত্তম এবং পবিত্র নদী।
24. ভারতের পশ্চিমবাহিনী দুটি নদীর নাম লেখো। এদের মোহানায় বদ্বীপ নেই কেন?
নর্মদা ও তাপ্তী হল প্রধান পশ্চিমবাহিনী নদী। এরা গ্রস্থ উপত্যকা দিয়ে প্রবল বেগে প্রবাহিত হওয়ায় এবং এদের যাত্রাপথ ছোটো ও পলি কম থাকায় এদের মোহানায় (আরব সাগরে) বদ্বীপ গড়ে ওঠেনি, খাঁড়ি (Estuary) সৃষ্টি হয়েছে।
25. লু (Loo) কী?
গ্রীষ্মকালে মে-জুন মাসে ভারতের উত্তর-পশ্চিম অংশে (রাজস্থান, গুজরাট, পাঞ্জাব, হরিয়ানা) দিনের বেলায় যে অত্যন্ত শুষ্ক ও উষ্ণ বায়ু প্রবল বেগে প্রবাহিত হয়, তাকে লু বলে। এর প্রভাবে হিটস্ট্রোক হয়।
26. কালবৈশাখী (Norwester) কী?
গ্রীষ্মকালে চৈত্র-বৈশাখ মাসে (এপ্রিল-মে) প্রবল গরমের ফলে ছোটোনাগপুর মালভূমিতে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। এর প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে বিকেলবেলা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে যে কালো মেঘ করে বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়বৃষ্টি হয়, তাকে কালবৈশাখী বলে (অসমে নাম বরদইছিলা)।
27. আম্রবৃষ্টি (Mango Shower) ও কফি বৃষ্টি (Cherry Blossom) কী?
গ্রীষ্মের শেষে বা বর্ষার প্রাক্কালে (মে মাসে) দক্ষিণ ভারতে (কেরালা ও কর্ণাটক) যে সামান্য বৃষ্টিপাত হয়, তা আম ও কফি চাষের পক্ষে খুব উপকারী। তাই একে আম্রবৃষ্টি এবং চেরি ব্লসম বা কফি বৃষ্টি বলে।
28. মৌসুমি বিস্ফোরণ (Monsoon Burst) কাকে বলে?
জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু কেরালার মালাবার উপকূলে পশ্চিমঘাট পর্বতে বাধা পেয়ে হঠাৎ প্রবল বজ্রবিদ্যুৎসহ যে মুষলধারে বৃষ্টিপাত ঘটায় এবং বর্ষার সূচনা করে, তাকে মৌসুমি বিস্ফোরণ বা বর্ষার আগমন বলে।
29. আশ্বিনের ঝড় (Retreating Monsoon Cyclone) কী?
শরৎকালে (অক্টোবর-নভেম্বর) দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু যখন প্রত্যাবর্তন করে, তখন বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ বা সাইক্লোনের সৃষ্টি হয়। এর প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গে যে প্রবল ঝড়বৃষ্টি হয়, তাকে আশ্বিনের ঝড় বলে।
30. পশ্চিমী ঝঞ্ঝা (Western Disturbance) কী?
শীতকালে ভূমধ্যসাগর থেকে আগত দুর্বল নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাত বা সাইক্লোনের প্রভাবে ভারতের উত্তর-পশ্চিম অংশে (পাঞ্জাব, হরিয়ানা, জম্মু ও কাশ্মীর) যে হালকা বৃষ্টিপাত ও তুষারপাত হয়, তাকে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা বলে। এটি গম চাষের পক্ষে খুব ভালো।
31. মৌসিনরামে পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিপাত হয় কেন?
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর বঙ্গোপসাগরীয় শাখা মেঘালয়ের খাসি পাহাড়ের ফানেল আকৃতির উপত্যকায় ঢুকে আটকা পড়ে এবং খাড়া পাহাড়ে প্রবলভাবে বাধা পেয়ে ঘনীভূত হয়ে মৌসিনরামে পৃথিবীর সর্বাধিক শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত (১১৮৭ সেমি) ঘটায়।
32. করমণ্ডল উপকূলে বছরে দু-বার বৃষ্টিপাত হয় কেন?
গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে একবার বৃষ্টি হয়। আবার শীতকালে প্রত্যাবর্তনকারী উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু বঙ্গোপসাগরের ওপর দিয়ে আসার সময় জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করে তামিলনাড়ুর করমণ্ডল উপকূলে বাধা পেয়ে দ্বিতীয়বার প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটায়।
33. রেগুর বা কৃষ্ণ মৃত্তিকা (Black Soil) কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে?
দাক্ষিণাত্য মালভূমির (মহারাষ্ট্র, গুজরাট) ডেকান ট্র্যাপ অঞ্চলে ব্যাসাল্ট নামক আগ্নেয় শিলা আবহবিকারের ফলে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যে কালো রঙের উর্বর মাটি তৈরি করেছে, তাকে রেগুর বা ব্ল্যাক কটন সয়েল বলে।
34. পলিমাটি (Alluvial Soil) ভারতের কৃষিকাজের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন?
নদীর বাহিত পলি, বালি, কাদা সঞ্চিত হয়ে এই মাটি তৈরি হয় বলে এটি অত্যন্ত উর্বর। এতে প্রচুর পটাশ, ফসফরাস ও চুন থাকে। তাই ভারতের মোট কৃষিজাত দ্রব্যের বেশিরভাগই (ধান, গম, পাট) এই পলিমাটিতে (৪৪% এলাকা জুড়ে) উৎপাদিত হয়।
35. ল্যাটেরাইট মাটি (Laterite Soil) অনুর্বর কেন?
অত্যধিক বৃষ্টিপাতের ফলে মাটির ওপরের স্তরের উর্বর সিলিকা ও খনিজ পদার্থ ধৌত প্রক্রিয়ায় (Leaching) মাটির নীচে চলে যায় এবং ওপরে কেবল লোহা ও অ্যালুমিনিয়ামের অক্সাইড পড়ে থাকে। ফলে এই মাটি ইটের মতো শক্ত ও অনুর্বর হয়।
36. মাটি ক্ষয় (Soil Erosion) কাকে বলে?
প্রবল বৃষ্টিপাত, নদীর স্রোত, বায়ুপ্রবাহ, নির্বিচারে বৃক্ষচ্ছেদন, অতিরিক্ত পশুচারণ এবং অবৈজ্ঞানিক কৃষিকাজের ফলে ভূপৃষ্ঠের ওপরের উর্বর মাটির স্তর আলগা হয়ে অপসারিত বা অপসৃত হওয়াকে মৃত্তিকা ক্ষয় বলে।
37. ফালি চাষ (Strip Cropping) কী?
পার্বত্য বা ঢালু জমিতে পাহাড়ের ঢালের আড়াআড়িভাবে চওড়া ফালি বা ফিতে তৈরি করে শস্য (যেগুলির শিকড় মাটিকে শক্ত করে ধরে রাখে) পর্যায়ক্রমে চাষ করাকে ফালি চাষ বলে। এটি মাটি ক্ষয় রোধ করে।
38. সমন্বতি রেখা বরাবর চাষ (Contour Farming) বলতে কী বোঝো?
পাহাড়ের ঢালে একই উচ্চতাযুক্ত অংশগুলিকে (সমন্বতি রেখা) যুক্ত করে ঢালের আড়াআড়িভাবে বাঁধ দিয়ে বা গর্ত খুঁড়ে চাষ করাকে সমন্বতি রেখা বরাবর চাষ বলে। এর ফলে জলের গতিবেগ কমে এবং মৃত্তিকা ক্ষয় রোধ হয়।
39. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ অরণ্য (Tropical Evergreen Forest) কোথায় দেখা যায়?
যেখানে বার্ষিক বৃষ্টিপাত ২০০ সেমির বেশি এবং উষ্ণতা ২৫°C-২৭°C (যেমন পশ্চিমঘাট পর্বতের পশ্চিম ঢাল, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, উত্তর-পূর্ব ভারতের অসম, মেঘালয়), সেখানে চিরহরিৎ অরণ্য (রোজউড, আবলুস, মেহগনি) দেখা যায়।
40. পর্ণমোচী অরণ্যের (Deciduous Forest) গাছগুলি শীতকালে পাতা ঝরিয়ে দেয় কেন?
পর্ণমোচী অরণ্য অঞ্চলে (যেখানে ১০০-২০০ সেমি বৃষ্টি হয়) শীতকাল বা শুষ্ক ঋতুতে বৃষ্টি প্রায় হয় না। তাই গাছগুলি প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচনের মাধ্যমে দেহের জলক্ষয় রোধ করার জন্য তাদের সমস্ত পাতা ঝরিয়ে দেয় (যেমন শাল, সেগুন)।
41. ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের শ্বাসমূল (Pneumatophores) থাকার কারণ কী?
সুন্দরবনের বদ্বীপ অঞ্চলে জোয়ারের জলে ডোবা কর্দমাক্ত ও লবণাক্ত মাটিতে অক্সিজেনের পরিমাণ খুব কম থাকে। তাই মাটির নীচের শিকড়গুলি শ্বাস নেওয়ার জন্য অভিকর্ষের বিপরীতে মাটির ওপরে খাড়াভাবে উঠে আসে, এদের শ্বাসমূল বলে।
42. কৃষি বনসৃজন (Agro-Forestry) কী?
কৃষকেরা তাদের নিজেদের কৃষিজমিতে ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি জমির চারপাশে বা পতিত অংশে যখন নিজেদের প্রয়োজনে (জ্বালানি, ফল, কাঠ) গাছপালা রোপণ করে বনভূমি সৃষ্টি করে, তখন তাকে কৃষি বনসৃজন বলে।
43. সামাজিক বনসৃজন (Social Forestry) বলতে কী বোঝো?
পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং গ্রামীণ মানুষের আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে যখন সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে রাস্তা, রেলপথ, খালের ধার, বা পতিত জমিতে সমাজের সকলের অংশগ্রহণে বৃক্ষরোপণ করা হয়, তখন তাকে সামাজিক বনসৃজন বলে।
44. ভারতের একটি বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল এবং একটি চরমভাবাপন্ন জলবায়ু অঞ্চলের নাম লেখো।
বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলের উদাহরণ হল পশ্চিমঘাট পর্বতের পূর্ব ঢালে অবস্থিত দাক্ষিণাত্য মালভূমি (পুণে)। চরমভাবাপন্ন জলবায়ু (উষ্ণতার প্রসর খুব বেশি) দেখা যায় সমুদ্র থেকে দূরে অবস্থিত দিল্লির জলবায়ুতে।

Broad Questions - বড়ো প্রশ্নোত্তর (৩ ও ৫ নম্বর)

10 টি
1. উত্তর ভারতের নদনদী এবং দক্ষিণ ভারতের নদনদীর মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি আলোচনা করো।

উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের নদনদীর পার্থক্য:

বৈশিষ্ট্যউত্তর ভারতের নদনদী (গঙ্গা, সিন্ধু, ব্রহ্মপুত্র)দক্ষিণ ভারতের নদনদী (গোদাবরী, কৃষ্ণা, কাবেরী)
জলের উৎসএগুলি সুউচ্চ হিমালয় পর্বতের বরফগলা জল এবং বৃষ্টির জলে পুষ্ট।এগুলি উপদ্বীপীয় মালভূমির বৃষ্টির জলে পুষ্ট (বরফগলা জলে নয়)।
জলের প্রবাহবরফগলা জলে পুষ্ট হওয়ায় এগুলি নিত্যবহ বা সারাবছর জলপূর্ণ থাকে।বৃষ্টির জলে পুষ্ট হওয়ায় এগুলি অনিত্যবহ (কেবল বর্ষাকালে জল বেশি থাকে, গ্রীষ্মে শুকিয়ে যায়)।
নদীর দৈর্ঘ্য ও অববাহিকানদীগুলির দৈর্ঘ্য অনেক বেশি এবং এদের অববাহিকা অত্যন্ত বিস্তৃত (যেমন গঙ্গা)।নদীগুলির দৈর্ঘ্য তুলনামূলকভাবে কম এবং অববাহিকা ছোটো।
নদীখাতের প্রকৃতিনদীগুলি নবীন ও নরম পলিমাটির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এদের খাত অগভীর ও প্রশস্ত। নদীগুলি প্রায়ই গতিপথ পরিবর্তন করে।নদীগুলি প্রাচীন ও কঠিন আগ্নেয় শিলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এদের খাত খুব গভীর। এরা গতিপথ পরিবর্তন করে না।
নাব্যতা ও নৌচলাচলসমভূমি অঞ্চলে নদীর গতিবেগ কম এবং সারাবছর জল থাকায় এগুলি নৌচলাচলের বিশেষ উপযোগী।নদীগুলিতে সারাবছর জল থাকে না এবং নদীখাত খরস্রোত ও জলপ্রপাত পূর্ণ হওয়ায় নৌচলাচলের অনুপযোগী।
বিদ্যুৎ উৎপাদনসমভূমিতে নদী ধীরগতি সম্পন্ন হওয়ায় জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ কম।নদীগুলি খাড়া ঢাল বেয়ে প্রবল বেগে নীচে পড়ে জলপ্রপাত সৃষ্টি করে বলে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের অত্যন্ত অনুকূল।
2. ভারতের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।

ভারতের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য:

ভারত ক্রান্তীয় অঞ্চলে অবস্থিত একটি বিশাল দেশ। এর জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল:

  1. মৌসুমি বায়ুর সর্বব্যাপী প্রভাব: ভারতের জলবায়ু প্রধানত মৌসুমি বায়ু (Monsoon) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গ্রীষ্মকালে (জুন-সেপ্টেম্বর) ভারতে মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৮০% হয়ে থাকে এবং শীতকাল শুষ্ক থাকে। তাই ভারতের জলবায়ুকে ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু বলা হয়।
  2. ঋতু বৈচিত্র্য: মৌসুমি বায়ুর আগমন ও প্রত্যাবর্তনের ওপর ভিত্তি করে ভারতে প্রধানত চারটি সুস্পষ্ট ঋতু দেখা যায়— ১) গ্রীষ্মকাল (উষ্ণ ও শুষ্ক), ২) বর্ষাকাল (উষ্ণ ও আর্দ্র), ৩) শরৎকাল বা প্রত্যাবর্তনকারী মৌসুমির কাল, এবং ৪) শীতকাল (শীতল ও শুষ্ক)।
  3. উষ্ণতার তারতম্য: অক্ষাংশ, উচ্চতা ও সমুদ্র থেকে দূরত্বের কারণে ভারতের বিভিন্ন স্থানে উষ্ণতার ব্যাপক তারতম্য দেখা যায়। মে মাসে রাজস্থানে উষ্ণতা ৫০°C ছাড়িয়ে যায়, আবার শীতকালে কার্গিল বা দ্রাসে উষ্ণতা -৪০°C এ নেমে যায়। দক্ষিণ ভারতে সমুদ্রের প্রভাবে সারাবছর সমভাবাপন্ন জলবায়ু বিরাজ করে।
  4. অসম বৃষ্টিপাত বণ্টন: ভারতের সর্বত্র সমান বৃষ্টিপাত হয় না। মেঘালয়ের মৌসিনরামে বছরে প্রায় ১১৮৭ সেমি (সর্বাধিক) বৃষ্টিপাত হয়, আবার রাজস্থানের মরুভূমি অঞ্চলে ২০ সেমিরও কম বৃষ্টিপাত হয়। এর ফলে কোথাও বন্যা আবার কোথাও খরা দেখা দেয়।
  5. মৌসুমি বায়ুর খামখেয়ালিপনা: মৌসুমি বায়ু নির্দিষ্ট সময়ে নিয়ম মেনে ভারতে আসে না। কোনো বছর তা নির্দিষ্ট সময়ের আগে আসে (অতিবৃষ্টি ও বন্যা হয়), আবার কোনো বছর দেরিতে আসে বা কম শক্তিশালী হয় (অনাবৃষ্টি ও খরা দেখা দেয়)। একে মৌসুমি বায়ুর খামখেয়ালিপনা বলে।
3. ভারতের জলবায়ুতে মৌসুমি বায়ুর (Monsoon Wind) প্রভাব সংক্ষেপে আলোচনা করো।

ভারতের জলবায়ুতে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব:

আরবি শব্দ 'মৌসিম' (Mausim) অর্থাৎ 'ঋতু' থেকে মৌসুমি কথাটি এসেছে। ভারতের কৃষি, অর্থনীতি এবং জলবায়ু সম্পূর্ণভাবে মৌসুমি বায়ুর ওপর নির্ভরশীল:

  1. ঋতু পরিবর্তন: মৌসুমি বায়ুর আগমন (দক্ষিণ-পশ্চিম) এবং প্রত্যাবর্তন (উত্তর-পূর্ব)-এর দিক পরিবর্তনের ফলেই ভারতে গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ ও শীতকালের আবর্তন ঘটে।
  2. বৃষ্টিপাতের নিয়ন্ত্রক: ভারতের মোট বার্ষিক বৃষ্টিপাতের প্রায় ৮০-৯০% দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে (জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে) হয়ে থাকে। এই বৃষ্টির ওপর ভারতের খরিফ শস্যের (ধান, পাট) চাষ সম্পূর্ণ নির্ভরশীল।
  3. উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণ: মে-জুন মাসের প্রখর গ্রীষ্মের দাবদাহে যখন ভারত পুড়তে থাকে, তখন মৌসুমি বায়ুর আগমনে বৃষ্টিপাত শুরু হলে বায়ুর উষ্ণতা হঠাৎ ৫°C-১০°C কমে গিয়ে স্বস্তি ফিরিয়ে আনে।
  4. বন্যা ও খরা সৃষ্টি: মৌসুমি বায়ু খুবই খামখেয়ালি। কোনো বছর এর প্রভাবে প্রচুর বৃষ্টিপাত হলে আসাম, বিহার, পশ্চিমবঙ্গে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। আবার এল নিনোর (El Nino) প্রভাবে মৌসুমি বায়ু দুর্বল হলে ভারতে বৃষ্টি কম হয় এবং ভয়াবহ খরা বা অনাবৃষ্টির সৃষ্টি হয়।
  5. শীতকালীন শুষ্কতা: শীতকালে স্থলভাগ থেকে আগত উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু শুষ্ক হওয়ায় ভারতে শীতকাল বৃষ্টিহীন থাকে। তবে এই বায়ু বঙ্গোপসাগরের ওপর দিয়ে আসার সময় আর্দ্রতা নিয়ে করমণ্ডল উপকূলে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়।
4. গঙ্গা নদীর গতিপথ সংক্ষেপে বর্ণনা করো।

গঙ্গা নদীর গতিপথ (২৫২৫ কিমি):

গঙ্গা ভারতের দীর্ঘতম, বৃহত্তম এবং প্রধান নদী। এর গতিপথকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়:

  1. উচ্চগতি বা পার্বত্য প্রবাহ (উৎস থেকে হরিদ্বার): উত্তরাখণ্ডের কুমায়ুন হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহের গোমুখ তুষারগুহা থেকে ভাগীরথী নামে গঙ্গা উৎপন্ন হয়েছে। এরপর দেবপ্রয়াগের কাছে এর সাথে অলকানন্দা নদী মিলিত হয়ে এর নাম হয় 'গঙ্গা'। এটি শিবালিক পর্বত অতিক্রম করে হরিদ্বারের কাছে সমভূমিতে নেমেছে। (দৈর্ঘ্য ৩২০ কিমি)।
  2. মধ্যগতি বা সমভূমি প্রবাহ (হরিদ্বার থেকে রাজমহল পাহাড়): হরিদ্বার থেকে বিহারের রাজমহল পাহাড় পর্যন্ত গঙ্গার মধ্যগতি। এই বিস্তীর্ণ সমভূমিতে গঙ্গার সাথে প্রধান উপনদী যমুনা (এলাহাবাদের কাছে) মিলিত হয়েছে। এছাড়া ডানদিক থেকে শোন এবং বাঁদিক থেকে রামগঙ্গা, গোমতী, ঘর্ঘরা, গণ্ডক, কোশী প্রভৃতি উপনদী গঙ্গায় মিশেছে। এই প্রবাহে গঙ্গার গতিবেগ অনেক কমে যায়।
  3. নিম্নগতি বা বদ্বীপ প্রবাহ (রাজমহল থেকে বঙ্গোপসাগর): রাজমহল পাহাড়ের পর গঙ্গা পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানের কাছে দুটি শাখায় ভাগ হয়েছে। প্রধান শাখাটি পদ্মা নামে বাংলাদেশে প্রবেশ করে ব্রহ্মপুত্রের সাথে মিলে মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। অপর শাখাটি ভাগীরথী-হুগলি নামে পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সুন্দরবনের কাছে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। নিম্নগতিতে স্রোত একদম না থাকায় গঙ্গা মোহানায় পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপ সৃষ্টি করেছে।
5. পলিমাটি (Alluvial Soil) এবং কৃষ্ণ মৃত্তিকার (Black Soil) বৈশিষ্ট্য ও উৎপাদিত ফসল আলোচনা করো।

১. পলিমাটি (Alluvial Soil):

  • বৈশিষ্ট্য: ভারতের প্রায় ৪৬% আয়তন জুড়ে নদী অববাহিকা ও উপকূলীয় সমভূমিতে পলিমাটি দেখা যায়। এটি নদীবাহিত পলি, বালি, কাদা সঞ্চিত হয়ে তৈরি হয়। এতে নাইট্রোজেন ও জৈব পদার্থের অভাব থাকলেও পটাশ, ফসফরিক অ্যাসিড ও চুন প্রচুর পরিমাণে থাকায় এটি ভারতের সবচেয়ে উর্বর মাটি। নদীর কাছের নতুন পলিমাটিকে খাদার (খুব উর্বর) এবং দূরের পুরোনো পলিমাটিকে ভাঙ্গর (কম উর্বর) বলে।
  • উৎপাদিত ফসল: এই উর্বর মাটিতে ভারতের প্রায় সব ধরনের ফসলই ভালো হয়। বিশেষত ধান, গম, পাট, আখ, তৈলবীজ এবং শাকসবজির ফলন সর্বাধিক হয়।

২. কৃষ্ণ মৃত্তিকা বা রেগুর (Black Soil):

  • বৈশিষ্ট্য: দাক্ষিণাত্য মালভূমির (মহারাষ্ট্র, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ) ব্যাসাল্ট শিলা আবহবিকারের ফলে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে এই কালো রঙের মাটি তৈরি করেছে। এতে লোহা, চুন, ম্যাগনেশিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম প্রচুর পরিমাণে থাকে বলে এর রং কালো হয়। এই মাটির জলধারণ ক্ষমতা অত্যন্ত বেশি। ভিজে গেলে এই মাটি আঠালো হয় এবং শুকিয়ে গেলে ফেটে গভীর ফাটলের সৃষ্টি হয়।
  • উৎপাদিত ফসল: এই মাটি কার্পাস বা তুলা (Cotton) চাষের জন্য সবচেয়ে আদর্শ, তাই একে Black Cotton Soil বলা হয়। এছাড়া আখ, জোয়ার, বাজরা, তামাক এবং চিনাবাদাম খুব ভালো হয়।
6. ল্যাটেরাইট মাটি (Laterite Soil) কীভাবে সৃষ্টি হয়? এর বৈশিষ্ট্য ও ফসল লেখো।

ল্যাটেরাইট মাটি সৃষ্টির প্রক্রিয়া:

ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলে যেখানে অত্যধিক বৃষ্টিপাত এবং অত্যধিক উষ্ণতা পর্যায়ক্রমে দেখা যায়, সেখানে ল্যাটেরাইট মাটি সৃষ্টি হয়। প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে মাটির ওপরের স্তরের উর্বর সিলিকা ও ক্ষারীয় খনিজ পদার্থগুলি ধৌত প্রক্রিয়ায় (Leaching) গলে মাটির নীচে চলে যায়। ফলে মাটির ওপরের স্তরে লোহা (Iron) এবং অ্যালুমিনিয়ামের অক্সাইড বেশি পরিমাণে পড়ে থাকে। লোহা থাকায় এই মাটির রং ইটের (ল্যাটিন শব্দ 'ল্যাটার' মানে ইট) মতো লাল হয়।

বৈশিষ্ট্য:

  • এই মাটিতে জৈব পদার্থ (হিউমাস), নাইট্রোজেন ও ফসফরাস খুব কম থাকায় এটি অত্যন্ত অনুর্বর প্রকৃতির হয়।
  • শুকিয়ে গেলে এই মাটি ইটের মতো শক্ত ও পাথুরে হয়ে যায় এবং ভিজে গেলে আঠালো হয়।
  • পশ্চিমঘাট ও পূর্বঘাট পর্বতের অংশবিশেষ, ছোটোনাগপুর মালভূমি এবং মেঘালয় মালভূমিতে এই মাটি বেশি দেখা যায়।

উৎপাদিত ফসল:

অনুর্বর হওয়ায় এতে কৃষিকাজ ভালো হয় না। তবে সার ও সেচের সাহায্যে এখানে চা, কফি, রবার, কাজুবাদাম, চিনাবাদাম এবং জোয়ার, বাজরা, রাগি (মিলেট) চাষ করা হয়।

7. মৃত্তিকা ক্ষয়ের (Soil Erosion) কারণগুলি বিস্তারিত আলোচনা করো।

মৃত্তিকা ক্ষয়ের কারণ:

ভূপৃষ্ঠের ওপরের উর্বর মাটির স্তর আলগা হয়ে জল বা বায়ু দ্বারা অপসারিত হওয়াকে মৃত্তিকা ক্ষয় বলে। এর প্রধান কারণগুলি হল:

  1. নির্বিচারে বৃক্ষচ্ছেদন (Deforestation): গাছের শিকড় মাটিকে শক্তভাবে ধরে রাখে। কৃষিকাজ, শিল্প, ঘরবাড়ি তৈরি ও জ্বালানির জন্য নির্বিচারে বনভূমি ধ্বংস করার ফলে মাটি আলগা হয়ে খুব সহজেই জল ও বায়ুর দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। এটি মৃত্তিকা ক্ষয়ের প্রধান কারণ।
  2. অতিরিক্ত পশুচারণ: পাহাড়ের ঢালে বা তৃণভূমিতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে গবাদি পশু চরালে ঘাসের আচ্ছাদন নষ্ট হয়ে যায় এবং পশুর খুরের আঘাতে মাটি শিথিল হয়ে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
  3. অবৈজ্ঞানিক কৃষিকাজ: পাহাড়ের খাড়া ঢালে ধাপ বা টেরাস না কেটে আড়াআড়িভাবে ঢাল বরাবর হাল চালালে বৃষ্টির জলের স্রোতে প্রচুর মাটি ধুয়ে নীচে নেমে আসে। জুম চাষ (Shifting cultivation) বা স্থানান্তর কৃষির ফলেও ব্যাপক মাটি ক্ষয় হয়।
  4. প্রবল বৃষ্টিপাত ও বন্যা: অতিরিক্ত ও প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে নরম মাটি নালির মতো গভীর হয়ে ক্ষয় পায় (একে গালি ক্ষয় বা খয়াই বলে, যেমন চম্বল উপত্যকা)। বন্যার জলেও প্রচুর মাটি ক্ষয় হয়।
  5. বায়ুপ্রবাহ: উদ্ভিদহীন শুষ্ক মরু বা মরুপ্রায় অঞ্চলে (যেমন রাজস্থান) প্রবল বায়ুপ্রবাহের কারণে মাটির ওপরের সূক্ষ্ম ও উর্বর স্তর উড়ে গিয়ে অন্যত্র অপসারিত হয় (একে চাদর ক্ষয় বা Sheet erosion বলে)।
8. মৃত্তিকা ক্ষয় রোধ বা সংরক্ষণের (Soil Conservation) উপায়গুলি আলোচনা করো।

মৃত্তিকা সংরক্ষণের উপায়:

মাটি একটি অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ। এর ক্ষয় রোধ করার জন্য নিম্নলিখিত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিগুলি গ্রহণ করা উচিত:

  1. বৃক্ষরোপণ ও বনসৃজন (Afforestation): মাটির ক্ষয় রোধের সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হল প্রচুর পরিমাণে গাছ লাগানো। গাছের শিকড় মাটিকে জালের মতো আঁকড়ে ধরে রাখে এবং গাছের পাতা বৃষ্টির ফোঁটার সরাসরি আঘাত থেকে মাটিকে রক্ষা করে।
  2. ধাপ চাষ (Terrace Farming): পাহাড়ের খাড়া ঢালে সিঁড়ির মতো চওড়া ধাপ কেটে কৃষিকাজ করলে জলের নিম্নমুখী স্রোতের গতিবেগ বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং মাটি ধুয়ে নীচে নেমে আসা অনেকাংশে রোধ করা যায়।
  3. ফালি চাষ (Strip Cropping): ঢালু জমিতে আড়াআড়িভাবে ফিতের মতো চওড়া ফালি বা স্ট্রিপ তৈরি করে সেখানে ঘাস বা ডালজাতীয় শস্য (যাদের শিকড় মাটিকে ধরে রাখে) পর্যায়ক্রমে চাষ করলে মাটি ক্ষয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।
  4. সমন্বতি রেখা বরাবর চাষ (Contour Farming): পাহাড়ের ঢালে একই উচ্চতাযুক্ত অংশগুলিকে (সমন্বতি রেখা) যুক্ত করে ঢালের আড়াআড়িভাবে মাটির বাঁধ বা আইল দিয়ে চাষ করলে বৃষ্টির জলের গতিবেগ কমে যায় এবং মাটি ক্ষয় রোধ হয়।
  5. পশুচারণ নিয়ন্ত্রণ: নির্দিষ্ট চারণভূমিতে নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে পশুচারণ করতে হবে, যাতে ঘাসের আচ্ছাদন সম্পূর্ণ নষ্ট না হয়।
  6. ঝুম চাষ নিষিদ্ধকরণ: উত্তর-পূর্ব ভারতে উপজাতিদের দ্বারা প্রচলিত জঙ্গল পুড়িয়ে ঝুম চাষ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে।
  7. বাঁধ নির্মাণ ও বায়ুপ্রতিরোধক: নদীর দু-পাড়ে বাঁধ দিয়ে বন্যা ও ভাঙন রোধ করতে হবে। মরু অঞ্চলে বায়ুর গতিপথে সারিবদ্ধভাবে গাছ লাগিয়ে (Shelter belt) বায়ুর অপসারণ ক্ষয় রোধ করতে হবে।
9. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ অরণ্য (Tropical Evergreen Forest) এবং ক্রান্তীয় পর্ণমোচী অরণ্যের (Deciduous Forest) বৈশিষ্ট্য ও উদ্ভিদের নাম লেখো।

১. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বা বৃষ্টি অরণ্য:

  • ভৌগোলিক পরিবেশ: এই অরণ্য সেইসব অঞ্চলে দেখা যায় যেখানে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২০০ সেমির বেশি এবং গড় উষ্ণতা ২৫°C-২৭°C থাকে। (যেমন: পশ্চিমঘাট পর্বতের পশ্চিম ঢাল, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, উত্তর-পূর্ব ভারতের অসম, মেঘালয়)।
  • বৈশিষ্ট্য: ১) প্রচুর আর্দ্রতা ও তাপের কারণে এখানকার গাছগুলি অত্যন্ত দীর্ঘ ও ঘন সন্নিবিষ্ট হয়। ২) সারাবছর পর্যাপ্ত জল পাওয়ায় গাছগুলির পাতা কখনোই একসাথে ঝরে পড়ে না, তাই বনভূমি সারাবছর সবুজ বা চিরহরিৎ (Evergreen) থাকে। ৩) গাছের কাঠ খুব শক্ত ও ভারী হয়। ৪) গাছগুলি এত ঘন থাকে যে সূর্যের আলো মাটিতে পৌঁছাতে পারে না (চাঁদোয়া বা Canopy সৃষ্টি করে)।
  • প্রধান উদ্ভিদ: রোজউড, আবলুস (Ebony), মেহগনি, রবার, আয়রনউড, বাঁশ, বেত।

২. ক্রান্তীয় পর্ণমোচী বা পাতাঝরা অরণ্য:

  • ভৌগোলিক পরিবেশ: ভারতের সর্বাধিক স্থান জুড়ে এই অরণ্য দেখা যায়। যেখানে বার্ষিক বৃষ্টিপাত ১০০-২০০ সেমি (আর্দ্র) এবং ৭০-১০০ সেমি (শুষ্ক) হয় (যেমন: বিহার, উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, মধ্যপ্রদেশ), সেখানে এই অরণ্য জন্মায়।
  • বৈশিষ্ট্য: ১) এই অঞ্চলের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল শুষ্ক শীতকাল ও প্রাক-গ্রীষ্মকাল। ২) শুষ্ক ঋতুতে বা শীতকালে বৃষ্টির অভাবে মাটি শুকিয়ে গেলে গাছগুলি প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন রোধ করার জন্য তাদের সমস্ত পাতা একসাথে ঝরিয়ে দেয়। তাই একে পর্ণমোচী (Deciduous) বা পাতাঝরা অরণ্য বলে। ৩) বৃষ্টি এলে আবার নতুন পাতা গজায়। ৪) এই কাঠ অত্যন্ত মূল্যবান ও বাণিজ্যিকভাবে খুব গুরুত্বপূর্ণ।
  • প্রধান উদ্ভিদ: শাল, সেগুন, চন্দন, পলাশ, শিমুল, মহুয়া, আম, জাম।
10. ম্যানগ্রোভ বা লবণাম্বু অরণ্যের (Mangrove Forest) বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।

ম্যানগ্রোভ অরণ্যের অবস্থান:

ভারতের গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ (সুন্দরবন), মহানদী, গোদাবরী, কৃষ্ণা, কাবেরী নদীর বদ্বীপ এবং গুজরাট ও আন্দামানের উপকূলীয় অঞ্চলে যেখানে জোয়ারের লবণাক্ত জল নিয়মিত প্রবেশ করে, সেখানে ম্যানগ্রোভ বা লবণাম্বু অরণ্য গড়ে উঠেছে।

উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য:

কর্দমাক্ত, লবণাক্ত এবং অক্সিজেনহীন পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এই উদ্ভিদের শরীরে বিশেষ কিছু অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য দেখা যায়:

  1. শ্বাসমূল (Pneumatophores): সমুদ্র উপকূলের কর্দমাক্ত মাটিতে ছিদ্র বা বায়ুর অভাব থাকায় মাটির নীচে শিকড়গুলি পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না। তাই শ্বাস নেওয়ার জন্য মাটির নীচের মূলগুলি অভিকর্ষের বিপরীতে সোজা মাটির ওপরে উঠে আসে। এদের গায়ে ছোটো ছোটো শ্বাসছিদ্র থাকে। এই মূলগুলিকে শ্বাসমূল বলে।
  2. ঠেসমূল (Stilt Root): নরম ও কাদামাটিতে জোয়ার-ভাটা বা ঘূর্ণিঝড়ের প্রবল জলস্রোত ও তরঙ্গের আঘাত থেকে গাছকে সোজাভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে সাহায্য করার জন্য গাছের কাণ্ডের নীচের দিক থেকে কিছু মূল বেরিয়ে চারপাশের মাটিতে তির্যকভাবে প্রবেশ করে। এদের ঠেসমূল বলে।
  3. জরায়ুজ অঙ্কুরোদ্গম (Vivipary Germination): লবণাক্ত মাটিতে বীজ পড়লে তা নষ্ট হয়ে যায়। তাই গাছের ডালে ফল আটকে থাকা অবস্থাতেই ফলের ভেতর বীজের অঙ্কুরোদ্গম হয়। অঙ্কুরিত চারাগাছটি কিছুটা বড়ো হওয়ার পর সরাসরি কাদামাটিতে খাড়াভাবে গেঁথে যায়। একে জরায়ুজ অঙ্কুরোদ্গম বলে।
  4. পাতার প্রকৃতি: বাষ্পমোচন রোধ করার জন্য পাতাগুলি পুরু, রসালো ও চকচকে মোমজাতীয় পদার্থে ঢাকা থাকে।
  5. প্রধান উদ্ভিদ: সুন্দরী, গরাণ, গেঁওয়া, কেয়া, হোগলা, গোলপাতা, বাইন প্রভৃতি। এর মধ্যে সুন্দরবনের 'সুন্দরী' গাছ সবচেয়ে বিখ্যাত।

মনে রেখো!

ভূপ্রকৃতি: হিমালয় নবীন ভঙ্গিল পর্বত, আবল্লী প্রাচীন ভঙ্গিল পর্বত এবং দাক্ষিণাত্য মালভূমি প্রাচীন শিলায় গঠিত।
নদনদী: গঙ্গা ভারতের দীর্ঘতম নদী। গোদাবরী দক্ষিণ ভারতের গঙ্গা এবং নর্মদা পশ্চিমবাহিনী নদী।
জলবায়ু: ভারতের জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমি প্রকৃতির। মৌসিনরাম সর্বাধিক বৃষ্টিবহুল স্থান।
মৃত্তিকা ও অরণ্য: পলিমাটি সবচেয়ে উর্বর। কালো মাটি কার্পাস চাষের জন্য বিখ্যাত। সুন্দরবনে ম্যানগ্রোভ অরণ্য দেখা যায়।

Sponsored Links

Frequently Asked Questions

ভারত এশিয়ার দক্ষিণ-মধ্য অংশে অবস্থিত। এর অক্ষাংশগত বিস্তার ৮°৪' উত্তর থেকে ৩৭°৬' উত্তর এবং দ্রাঘিমাংশগত বিস্তার ৬৮°৭' পূর্ব থেকে ৯৭°২৫' পূর্ব।

গাঙ্গেয় সমভূমিতে নদী থেকে দূরের প্রাচীন, কম উর্বর পলিমাটিকে ভাঙ্গর বলে। অন্যদিকে নদীর কাছের নবীন, অত্যন্ত উর্বর পলিমাটিকে খাদার (পাঞ্জাবে বেট) বলে।

এই নদীগুলি পশ্চিমবাহিনী এবং গ্রস্ত উপত্যকা দিয়ে প্রবল বেগে প্রবাহিত হয়। এদের দৈর্ঘ্য কম এবং নদীর জলে পলির পরিমাণ খুব কম থাকায় মোহানায় বদ্বীপ গঠিত হয়নি, খাঁড়ি সৃষ্টি হয়েছে।

ভারতের মোট বৃষ্টিপাতের ৮০% দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে হয়, যা কৃষিকাজ নিয়ন্ত্রণ করে। মৌসুমি বায়ুর আগমনে গ্রীষ্মের দাবদাহ কমে এবং ঋতু পরিবর্তন ঘটে।

প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে মাটির ওপরের স্তরের উর্বর সিলিকা ও খনিজ পদার্থ ধৌত প্রক্রিয়ায় (Leaching) মাটির নীচে চলে যায় এবং ওপরে কেবল লোহা ও অ্যালুমিনিয়াম পড়ে থাকে। তাই এই মাটি শক্ত ও অনুর্বর হয়।