Chapter 2: বায়ুমণ্ডল (Atmosphere)
সম্পূর্ণ অধ্যায়ের গভীর বিশ্লেষণ ও প্রস্তুতি | 70 MCQ | 50 SAQ | 20 Broad Questions
বায়ুপ্রবাহ বিশ্ব উষ্ণায়ন বৃষ্টিপাত বায়ুর স্তর আর্দ্রতা
☁️
বায়ুমণ্ডলের স্তর
ট্রপোস্ফিয়ার থেকে এক্সোস্ফিয়ার, ওজোন স্তর ও তাপের সমতা
🌪️
বায়ুপ্রবাহ ও বৃষ্টি
নিয়ত বায়ু, ঘূর্ণবাত, এল নিনো এবং অধঃক্ষেপণ
MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর
70 টি1. বায়ুমণ্ডলে সর্বাধিক পরিমাণে কোন্ গ্যাস থাকে?
ক) অক্সিজেন
খ) কার্বন ডাইঅক্সাইড
গ) নাইট্রোজেন
ঘ) আর্গন
ব্যাখ্যা: বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ সর্বাধিক, প্রায় ৭৮.০৮%।
2. বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের শতকরা পরিমাণ কত?
ক) ৭৮.০৮%
খ) ২০.৯৪%
গ) ০.০৩%
ঘ) ০.৯৩%
ব্যাখ্যা: বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের শতকরা পরিমাণ প্রায় ২০.৯৪% বা ২১%।
3. বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইডের শতকরা পরিমাণ কত?
ক) ০.০৩%
খ) ০.৯৩%
গ) ২১%
ঘ) ০.০০৩%
ব্যাখ্যা: বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2) এর পরিমাণ ০.০৩৩% বা প্রায় ০.০৩%।
4. নিচের কোনটি বায়ুমণ্ডলের একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস?
ক) হাইড্রোজেন
খ) অক্সিজেন
গ) আর্গন
ঘ) ওজোন
ব্যাখ্যা: আর্গন একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস, যার পরিমাণ বায়ুমণ্ডলে প্রায় ০.৯৩%।
5. বায়ুমণ্ডলে ভাসমান সূক্ষ্ম ধূলিকণাকে কী বলে?
ক) অ্যারোসল
খ) অ্যালবেডো
গ) ইনসোলেশন
ঘ) প্লাঙ্কটন
ব্যাখ্যা: বায়ুমণ্ডলে ভাসমান কঠিন ও তরল সূক্ষ্ম কণাগুলিকে একত্রে অ্যারোসল (Aerosol) বলে।
6. উষ্ণতার ভিত্তিতে বায়ুমণ্ডলকে প্রধানত কয়টি স্তরে ভাগ করা যায়?
ব্যাখ্যা: উষ্ণতার ভিত্তিতে বায়ুমণ্ডলকে ৬টি স্তরে ভাগ করা যায়- ট্রপোস্ফিয়ার, স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার, মেসোস্ফিয়ার, থার্মোস্ফিয়ার, এক্সোস্ফিয়ার ও ম্যাগনেটোস্ফিয়ার।
7. বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে নীচের স্তরটির নাম কী?
ক) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
খ) মেসোস্ফিয়ার
গ) ট্রপোস্ফিয়ার
ঘ) এক্সোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা: ভূপৃষ্ঠের ঠিক উপরের বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে নীচের স্তরটি হল ট্রপোস্ফিয়ার বা ক্ষুব্ধমণ্ডল।
8. বায়ুমণ্ডলের কোন্ স্তরে ঝড়, বৃষ্টি, মেঘ ইত্যাদি যাবতীয় আবহাওয়ার গোলযোগ দেখা যায়?
ক) মেসোস্ফিয়ার
খ) ট্রপোস্ফিয়ার
গ) থার্মোস্ফিয়ার
ঘ) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা: ট্রপোস্ফিয়ারে জলীয় বাষ্প ও ধূলিকণা থাকায় এখানে মেঘ, বৃষ্টি, ঝড় সৃষ্টি হয়, তাই একে ক্ষুব্ধমণ্ডল বলে।
9. উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে ট্রপোস্ফিয়ারে প্রতি ১০০০ মিটারে বা ১ কিমিতে কত ডিগ্রি হারে উষ্ণতা হ্রাস পায়?
ক) ৫.৪°C
খ) ৬.৪°C
গ) ৭.৪°C
ঘ) ৮.৪°C
ব্যাখ্যা: প্রতি ১ কিমি উচ্চতা বৃদ্ধিতে ৬.৪°C হারে উষ্ণতা কমে। একে উষ্ণতা হ্রাসের স্বাভাবিক হার (Normal Lapse Rate) বলে।
10. ট্রপোস্ফিয়ার ও স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের মধ্যবর্তী সীমানাকে কী বলে?
ক) স্ট্র্যাটোপজ
খ) মেসোপজ
গ) ট্রপোপজ
ঘ) থার্মোপজ
ব্যাখ্যা: ট্রপোস্ফিয়ারের ঊর্ধ্বসীমায় যেখানে উষ্ণতা হ্রাস বা বৃদ্ধি পায় না, তাকে ট্রপোপজ (Tropopause) বলে।
11. জেট বিমানগুলি বায়ুমণ্ডলের কোন্ স্তর দিয়ে চলাচল করে?
ক) ট্রপোস্ফিয়ার
খ) মেসোস্ফিয়ার
গ) থার্মোস্ফিয়ার
ঘ) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা: স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে মেঘ, ঝড়, বৃষ্টি না থাকায় (শান্তমণ্ডল) জেট বিমানগুলি এই স্তর দিয়ে নিরাপদে চলাচল করে।
12. ওজোন গ্যাস (O3) এর স্তর বায়ুমণ্ডলের কোথায় দেখা যায়?
ক) ট্রপোস্ফিয়ারে
খ) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে
গ) মেসোস্ফিয়ারে
ঘ) আয়নোস্ফিয়ারে
ব্যাখ্যা: স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের ১৫-৩০ কিমি উচ্চতায় ওজোন গ্যাসের একটি আবরণ আছে, যাকে ওজোনোস্ফিয়ার বলে।
13. সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি (UV rays) বায়ুমণ্ডলের কোন্ স্তর শোষণ করে?
ক) ট্রপোপজ
খ) মেসোস্ফিয়ার
গ) ওজোনোস্ফিয়ার
ঘ) থার্মোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা: ওজোন স্তর সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে পৃথিবীকে জীবজগতের বাসের উপযোগী করে তোলে।
14. বায়ুমণ্ডলের শীতলতম স্তর কোনটি?
ক) ট্রপোস্ফিয়ার
খ) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
গ) মেসোস্ফিয়ার
ঘ) এক্সোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা: মেসোস্ফিয়ারের ঊর্ধ্বসীমায় (মেসোপজ) উষ্ণতা কমে প্রায় -৯০°C থেকে -১০০°C হয়, এটিই শীতলতম স্তর।
15. মহাশূন্য থেকে আগত উল্কাপিণ্ড বায়ুমণ্ডলের কোন্ স্তরে এসে পুড়ে ছাই হয়ে যায়?
ক) মেসোস্ফিয়ার
খ) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
গ) আয়নোস্ফিয়ার
ঘ) এক্সোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা: উল্কাপিণ্ড মেসোস্ফিয়ারে পৌঁছালে বায়ুর ঘর্ষণে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
16. বেতার তরঙ্গ বায়ুমণ্ডলের কোন্ স্তরে বাধা পেয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসে?
ক) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
খ) আয়নোস্ফিয়ার (থার্মোস্ফিয়ার)
গ) মেসোস্ফিয়ার
ঘ) ট্রপোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা: থার্মোস্ফিয়ারের নীচের অংশ আয়নিত অবস্থায় থাকায় একে আয়নোস্ফিয়ার বলে। এখান থেকেই রেডিও বা বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়।
17. মেরুজ্যোতি বা মেরুপ্রভা (Aurora) বায়ুমণ্ডলের কোন্ স্তরে দেখা যায়?
ক) মেসোস্ফিয়ার
খ) আয়নোস্ফিয়ার
গ) এক্সোস্ফিয়ার
ঘ) ট্রপোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা: আয়নোস্ফিয়ারে সৌর বায়ুর কণার সাথে গ্যাসীয় অণুর সংঘর্ষে যে আলোকচ্ছটার সৃষ্টি হয়, তাকে মেরুজ্যোতি বলে।
18. কৃত্রিম উপগ্রহ ও মহাকাশ স্টেশন বায়ুমণ্ডলের কোন্ স্তরে থাকে?
ক) থার্মোস্ফিয়ার
খ) এক্সোস্ফিয়ার
গ) ম্যাগনেটোস্ফিয়ার
ঘ) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা: এক্সোস্ফিয়ার স্তরে কৃত্রিম উপগ্রহ (Artificial Satellites) এবং মহাকাশ স্টেশনগুলি পৃথিবীকে আবর্তন করে।
19. যে সূর্যরশ্মি বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত না করে মহাশূন্যে ফিরে যায়, তাকে কী বলে?
ক) ইনসোলেশন
খ) অ্যালবেডো
গ) তাপের সমতা
ঘ) পরিচলন
ব্যাখ্যা: সূর্য থেকে আগত সৌর বিকিরণের ৩৪% মেঘ, ধূলিকণা ও ভূপৃষ্ঠ দ্বারা প্রতিফলিত হয়ে মহাশূন্যে ফিরে যায়, একে পৃথিবীর অ্যালবেডো (Albedo) বলে।
20. পৃথিবীর অ্যালবেডোর পরিমাণ কত?
ক) ৬৬%
খ) ৩৪%
গ) ৫০%
ঘ) ১০০%
ব্যাখ্যা: পৃথিবীতে আগত সৌর বিকিরণের প্রায় ৩৪% মহাশূন্যে ফিরে যায়।
21. ভূপৃষ্ঠ এবং বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে আগত সৌর বিকিরণের কত শতাংশ?
ব্যাখ্যা: কার্যকরী সৌর বিকিরণ বা Effective Insolation-এর পরিমাণ ৬৬%, যা পৃথিবীকে উত্তপ্ত করে।
22. বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হওয়ার প্রধান পদ্ধতি কোনটি?
ক) বিকিরণ
খ) পরিবহন
গ) পরিচলন
ঘ) শোষণ
ব্যাখ্যা: ভূপৃষ্ঠ উত্তপ্ত হওয়ার পর সেই তাপ দীর্ঘ তরঙ্গরূপে মহাশূন্যে ফিরে যাওয়ার সময় বায়ুমণ্ডলকে সবচেয়ে বেশি উত্তপ্ত করে। একে বিকিরণ (Radiation) বলে।
23. দিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন উষ্ণতার পার্থক্যকে কী বলে?
ক) গড় উষ্ণতা
খ) উষ্ণতার প্রসর
গ) ইনসোলেশন
ঘ) অ্যালবেডো
ব্যাখ্যা: কোনো নির্দিষ্ট স্থানের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্যকে উষ্ণতার প্রসর (Range of temperature) বলে।
24. সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর স্বাভাবিক চাপ কত?
ক) ১০০৩.২৫ মিলিবার
খ) ১০১৩.২৫ মিলিবার
গ) ১০২৩.২৫ মিলিবার
ঘ) ১০৩৩.২৫ মিলিবার
ব্যাখ্যা: সমুদ্রপৃষ্ঠে প্রতি বর্গ সেমিতে বায়ুর স্বাভাবিক চাপ ১০১৩.২৫ মিলিবার (mb)।
25. বায়ুর চাপ মাপার যন্ত্রের নাম কী?
ক) ব্যারোমিটার
খ) থার্মোমিটার
গ) হাইগ্রোমিটার
ঘ) অ্যানিমোমিটার
ব্যাখ্যা: ব্যারোমিটার (টরিসেলি, ফর্টিন্স বা অ্যানিরয়েড) যন্ত্রের সাহায্যে বায়ুর চাপ মাপা হয়।
26. উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বায়ুর চাপ-
ক) বৃদ্ধি পায়
খ) হ্রাস পায়
গ) একই থাকে
ঘ) প্রথমে বাড়ে পরে কমে
ব্যাখ্যা: উচ্চতা বাড়লে বায়ুর ঘনত্ব কমে যায়, ফলে বায়ুর চাপও হ্রাস পায়।
27. জলীয় বাষ্পযুক্ত বায়ু শুষ্ক বায়ুর তুলনায়-
ক) ভারী হয়
খ) হালকা হয়
গ) সমান ওজনের হয়
ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা: জলীয় বাষ্প শুষ্ক বায়ুর চেয়ে হালকা, তাই বায়ুতে জলীয় বাষ্প বাড়লে বায়ুর চাপ কমে (নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়)।
28. পৃথিবীতে মোট কয়টি স্থায়ী বায়ুচাপ বলয় রয়েছে?
ব্যাখ্যা: পৃথিবীতে ৩টি নিম্নচাপ ও ৪টি উচ্চচাপ বলয় সহ মোট ৭টি স্থায়ী বায়ুচাপ বলয় রয়েছে।
29. নিরক্ষীয় অঞ্চলে কোন্ বায়ুচাপ বলয় দেখা যায়?
ক) কর্কটীয় উচ্চচাপ
খ) নিরক্ষীয় নিম্নচাপ
গ) মকরীয় উচ্চচাপ
ঘ) সুমেরুবৃত্তপ্রদেশীয় নিম্নচাপ
ব্যাখ্যা: নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর লম্বভাবে সূর্যকিরণ পড়ায় বায়ু উত্তপ্ত ও হালকা হয়ে উপরে ওঠে, ফলে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় সৃষ্টি হয়।
30. 'ডোলড্রামস্' (Doldrums) বা শান্তবলয় কোথায় অবস্থিত?
ক) ক্রান্তীয় অঞ্চলে
খ) মেরু অঞ্চলে
গ) নিরক্ষীয় অঞ্চলে
ঘ) নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে
ব্যাখ্যা: নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ে (৫° উঃ - ৫° দঃ) বায়ু সর্বদা ঊর্ধ্বে ওঠায় অনুভূমিক বায়ুপ্রবাহ থাকে না। এই শান্ত অবস্থাকে ডোলড্রামস্ বলে।
31. অশ্ব অক্ষাংশ (Horse Latitude) কোন্ বায়ুচাপ বলয়ে অবস্থিত?
ক) নিরক্ষীয় নিম্নচাপ
খ) কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ
গ) সুমেরু উচ্চচাপ
ঘ) কুমেরু উচ্চচাপ
ব্যাখ্যা: উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধের ২৫°-৩৫° অক্ষাংশে ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয়ে বায়ুর শান্ত অবস্থার কারণে একে অশ্ব অক্ষাংশ বলা হয়।
32. করিওলিস বল (Coriolis force) কীসের প্রভাবে সৃষ্টি হয়?
ক) পৃথিবীর পরিক্রমণ গতি
খ) পৃথিবীর আবর্তন গতি
গ) মাধ্যাকর্ষণ শক্তি
ঘ) চন্দ্রের আকর্ষণ
ব্যাখ্যা: পৃথিবীর আবর্তন গতির কারণে ভূপৃষ্ঠের উপর প্রবাহমান বায়ু ও সমুদ্রস্রোতের দিকবিক্ষেপকারী বলকে করিওলিস বল বলে।
33. ফেরেলের সূত্র (Ferrel's Law) অনুসারে বায়ু উত্তর গোলার্ধে কোন্ দিকে বেঁকে যায়?
ক) বামদিকে
খ) ডানদিকে
গ) সোজা পথে
ঘ) উপরের দিকে
ব্যাখ্যা: ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী, করিওলিস বলের প্রভাবে বায়ু উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়।
34. বায়ুর গতিবেগ মাপার যন্ত্রের নাম কী?
ক) ব্যারোমিটার
খ) উইন্ড ভেন
গ) অ্যানিমোমিটার
ঘ) হাইগ্রোমিটার
ব্যাখ্যা: অ্যানিমোমিটার (Anemometer) যন্ত্রের সাহায্যে বায়ুর গতিবেগ মাপা হয়। উইন্ড ভেন দিয়ে বায়ুর দিক নির্ণয় করা হয়।
35. নিয়ত বায়ুপ্রবাহ প্রধানত কয় প্রকার?
ক) ২ প্রকার
খ) ৩ প্রকার
গ) ৪ প্রকার
ঘ) ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা: নিয়ত বায়ু ৩ প্রকার- আয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু এবং মেরু বায়ু।
36. বাণিজ্য বায়ু (Trade wind) নামে কোন্ বায়ু পরিচিত?
ক) পশ্চিমা বায়ু
খ) মেরু বায়ু
গ) আয়ন বায়ু
ঘ) মৌসুমি বায়ু
ব্যাখ্যা: প্রাচীনকালে পালতোলা জাহাজে বাণিজ্য করার সময় আয়ন বায়ুর নির্দিষ্ট গতিপথ সাহায্য করত বলে একে বাণিজ্য বায়ু বলে।
37. ITCZ (Inter Tropical Convergence Zone) বা আন্তঃক্রান্তীয় অভিসারী অঞ্চল কোথায় দেখা যায়?
ক) মেরু অঞ্চলে
খ) নিরক্ষীয় অঞ্চলে
গ) ক্রান্তীয় অঞ্চলে
ঘ) নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে
ব্যাখ্যা: নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ে উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু এসে মিলিত হয়, একেই ITCZ বলে।
38. 'গর্জনশীল চল্লিশা' (Roaring Forties) কোন্ বায়ুকে বলা হয়?
ক) উত্তর গোলার্ধের পশ্চিমা বায়ু
খ) দক্ষিণ গোলার্ধের পশ্চিমা বায়ু
গ) আয়ন বায়ু
ঘ) মেরু বায়ু
ব্যাখ্যা: দক্ষিণ গোলার্ধে জলভাগ বেশি হওয়ায় ৪০° দক্ষিণ অক্ষাংশে পশ্চিমা বায়ু প্রবল বেগে সশব্দে প্রবাহিত হয়, একে গর্জনশীল চল্লিশা বলে।
39. মৌসুমি বায়ু (Monsoon wind) কী ধরনের বায়ু?
ক) নিয়ত বায়ু
খ) সাময়িক বায়ু
গ) স্থানীয় বায়ু
ঘ) আকস্মিক বায়ু
ব্যাখ্যা: মৌসুমি বায়ু ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে দিক পরিবর্তন করে প্রবাহিত হয়, তাই এটি একটি সাময়িক বায়ু।
40. স্থলবায়ু (Land breeze) কখন প্রবল বেগে প্রবাহিত হয়?
ক) দিনের বেলায়
খ) ভোরবেলায় বা গভীর রাতে
গ) দুপুর বেলায়
ঘ) সন্ধ্যায়
ব্যাখ্যা: রাত্রিতে স্থলভাগ দ্রুত শীতল হয়ে উচ্চচাপ সৃষ্টি করে, ফলে স্থলভাগ থেকে জলভাগের দিকে স্থলবায়ু প্রবাহিত হয় (ভোরবেলায় বেগ সবচেয়ে বেশি থাকে)।
41. সমুদ্রবায়ু (Sea breeze) কখন প্রবাহিত হয়?
ক) রাত্রে
খ) দিনের বেলায়
গ) ভোরবেলায়
ঘ) শীতে
ব্যাখ্যা: দিনের বেলায় স্থলভাগ উত্তপ্ত হয়ে নিম্নচাপ সৃষ্টি করে, তাই সমুদ্র থেকে স্থলভাগের দিকে সমুদ্রবায়ু প্রবাহিত হয় (বিকালে বেগ বাড়ে)।
42. লু (Loo) কী ধরনের বায়ু?
ক) শীতল স্থানীয় বায়ু
খ) উষ্ণ ও শুষ্ক স্থানীয় বায়ু
গ) সাময়িক বায়ু
ঘ) নিয়ত বায়ু
ব্যাখ্যা: গ্রীষ্মকালে ভারতের উত্তর-পশ্চিম অংশে দিনের বেলায় প্রবল উষ্ণ ও শুষ্ক বায়ু প্রবাহিত হয়, যাকে লু বলে।
43. চিনুক (Chinook) কোন্ অঞ্চলে প্রবাহিত হয়?
ক) রকি পার্বত্য অঞ্চলে
খ) আল্পস পার্বত্য অঞ্চলে
গ) আন্দিজ পার্বত্য অঞ্চলে
ঘ) হিমালয় অঞ্চলে
ব্যাখ্যা: আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের রকি পর্বতের পূর্ব ঢালে প্রবাহিত উষ্ণ বায়ুকে চিনুক বলে (অর্থ 'তুষার খাদক')।
44. আল্পস পর্বতের ঢালে কোন্ উষ্ণ বায়ু প্রবাহিত হয়?
ক) ফন (Foehn)
খ) চিনুক
গ) সিরোক্কো
ঘ) মিস্ট্রাল
ব্যাখ্যা: ফন হল ইউরোপের আল্পস পর্বতের উত্তর ঢালে প্রবাহিত একটি উষ্ণ ও শুষ্ক বায়ু।
45. ফ্রান্সের রোন উপত্যকায় কোন্ শীতল বায়ু প্রবাহিত হয়?
ক) বোরা
খ) মিস্ট্রাল
গ) সিরোক্কো
ঘ) ফন
ব্যাখ্যা: মিস্ট্রাল (Mistral) হল একটি অতি শীতল ও শুষ্ক স্থানীয় বায়ু।
46. ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে নিম্নচাপ বা শান্ত অবস্থাকে কী বলে?
ক) ঘূর্ণবাতের চোখ
খ) ঘূর্ণবাতের লেজ
গ) শান্তমণ্ডল
ঘ) ITCZ
ব্যাখ্যা: ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে বায়ুর চাপ সবচেয়ে কম থাকে এবং আকাশ মেঘমুক্ত থাকে, একে ঘূর্ণবাতের চোখ (Eye of Cyclone) বলে।
47. ঘূর্ণবাতের বায়ু উত্তর গোলার্ধে কোন্ দিকে ঘোরে?
ক) ঘড়ির কাঁটার দিকে
খ) ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে
গ) সোজা
ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা: ঘূর্ণবাতের বায়ু উত্তর গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে (Anti-clockwise) এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘোরে।
48. প্রতীপ ঘূর্ণবাতের (Anticyclone) কেন্দ্রে কী চাপ থাকে?
ক) নিম্নচাপ
খ) উচ্চচাপ
গ) সমচাপ
ঘ) শূন্যচাপ
ব্যাখ্যা: প্রতীপ ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে উচ্চচাপ থাকে, যেখান থেকে বায়ু বাইরের নিম্নচাপের দিকে বেরিয়ে যায়। আবহাওয়া শান্ত ও রৌদ্রোজ্জ্বল হয়।
49. চীনের উপকূলে ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত কী নামে পরিচিত?
ক) টাইফুন
খ) সাইক্লোন
গ) হ্যারিকেন
ঘ) টর্নেডো
ব্যাখ্যা: চীন সাগরে ঘূর্ণবাত 'টাইফুন' এবং ক্যারিবিয়ান সাগরে 'হ্যারিকেন' নামে পরিচিত।
50. পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা ধ্বংসাত্মক ঘূর্ণিঝড় কোনটি?
ক) সাইক্লোন
খ) হ্যারিকেন
গ) টর্নেডো
ঘ) উইলি-উইলি
ব্যাখ্যা: টর্নেডো পৃথিবীর সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক ও ক্ষুদ্র পরিসরের ঘূর্ণিঝড়, আমেরিকায় একে 'টুইস্টার' বলে।
51. বায়ুতে উপস্থিত জলীয় বাষ্পের পরিমাণ মাপার যন্ত্রের নাম কী?
ক) ব্যারোমিটার
খ) অ্যানিমোমিটার
গ) হাইগ্রোমিটার
ঘ) থার্মোমিটার
ব্যাখ্যা: হাইগ্রোমিটার (Hygrometer) যন্ত্রের সাহায্যে বায়ুর আর্দ্রতা পরিমাপ করা হয়।
52. যে তাপমাত্রায় বায়ু সম্পূর্ণ সম্পৃক্ত হয়, তাকে কী বলে?
ক) হিমাঙ্ক
খ) শিশিরাঙ্ক
গ) স্ফুটনাঙ্ক
ঘ) পরম শূন্য তাপমাত্রা
ব্যাখ্যা: যে তাপমাত্রায় বায়ুর জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হতে শুরু করে, তাকে শিশিরাঙ্ক (Dew Point) বলে।
53. বায়ুর আপেক্ষিক আর্দ্রতা (Relative Humidity) কীসে প্রকাশ করা হয়?
ক) মিলিবার
খ) ডিগ্রি
গ) শতাংশ (%)
ঘ) গ্রাম
ব্যাখ্যা: আপেক্ষিক আর্দ্রতাকে সবসময় শতকরা (%) হিসেবে প্রকাশ করা হয়।
54. সম্পৃক্ত বায়ুর আপেক্ষিক আর্দ্রতা কত হয়?
ব্যাখ্যা: বায়ু যখন সর্বাধিক জলীয় বাষ্প ধারণ করে সম্পৃক্ত (Saturated) হয়, তখন তার আপেক্ষিক আর্দ্রতা ১০০% হয়।
55. জলীয় বাষ্প জলকণায় পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে কী বলে?
ক) বাষ্পীভবন
খ) ঘনীভবন
গ) বিকিরণ
ঘ) পরিচলন
ব্যাখ্যা: জলীয় বাষ্প তাপ বর্জন করে তরল জলকণা বা কঠিন বরফকণায় পরিণত হওয়াকে ঘনীভবন (Condensation) বলে।
56. অধঃক্ষেপণ (Precipitation) নয় কোনটি?
ক) বৃষ্টিপাত
খ) তুষারপাত
গ) শিলাবৃষ্টি
ঘ) শিশির
ব্যাখ্যা: শিশির বা কুয়াশা সরাসরি ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি ঘনীভূত হয়, উপর থেকে ঝরে পড়ে না, তাই এরা অধঃক্ষেপণ নয়।
57. নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রতিদিন বিকেলে কোন্ বৃষ্টিপাত হয়?
ক) পরিচলন বৃষ্টিপাত
খ) শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত
গ) ঘূর্ণবাত বৃষ্টিপাত
ঘ) গুড়িগুড়ি বৃষ্টি
ব্যাখ্যা: নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রচুর উত্তাপের কারণে জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু হালকা হয়ে উপরে উঠে প্রতিদিন বিকেলবেলা পরিচলন বৃষ্টিপাত ঘটায় ('৪ ও ক্লক রেইন')।
58. জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু পর্বতে বাধা পেয়ে পর্বতের প্রতিবাদ ঢালে যে বৃষ্টিপাত ঘটায়, তাকে কী বলে?
ক) পরিচলন বৃষ্টিপাত
খ) ঘূর্ণবাত বৃষ্টিপাত
গ) শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত
ঘ) অম্লবৃষ্টি
ব্যাখ্যা: পর্বতে বাধা পেয়ে বায়ু উপরে উঠে ঘনীভূত হয়ে শৈলোৎক্ষেপ (Orographic) বৃষ্টিপাত ঘটায়।
59. পর্বতের অনুবাত ঢাল (Leeward side) কী নামে পরিচিত?
ক) বৃষ্টিবহুল অঞ্চল
খ) বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল
গ) আর্দ্র অঞ্চল
ঘ) নিম্নচাপ অঞ্চল
ব্যাখ্যা: পর্বত পেরিয়ে বায়ু অনুবাত ঢালে নামার সময় উষ্ণ হয় এবং জলীয় বাষ্প কমে যায়, ফলে বৃষ্টি প্রায় হয় না। একে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল (Rain shadow area) বলে। ভারতের শিলং এর উদাহরণ।
60. বৃষ্টিপাত মাপার যন্ত্রের নাম কী?
ক) ব্যারোমিটার
খ) হাইগ্রোমিটার
গ) রেইনগেজ
ঘ) অ্যানিমোমিটার
ব্যাখ্যা: রেইনগেজ (Rain Gauge) যন্ত্রের সাহায্যে কোনো স্থানের বৃষ্টিপাতের পরিমাণ মাপা হয়।
61. সবচেয়ে বেশি উচ্চতায় অবস্থিত পালকের মতো মেঘকে কী বলে?
ক) সিরাস
খ) কিউমুলাস
গ) স্ট্র্যাটাস
ঘ) নিম্বাস
ব্যাখ্যা: সিরাস (Cirrus) মেঘ বায়ুমণ্ডলের অনেক উঁচুতে থাকে এবং দেখতে সাদা পালকের মতো হয়। এতে বৃষ্টি হয় না।
62. পেঁজা তুলোর মতো দেখতে মেঘ কোনটি?
ক) স্ট্র্যাটাস
খ) কিউমুলাস
গ) নিম্বোস্ট্র্যাটাস
ঘ) সিরাস
ব্যাখ্যা: কিউমুলাস (Cumulus) মেঘ দেখতে পেঁজা তুলো বা ফুলকপির মতো। রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ার নির্দেশক।
63. বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল বৃষ্টিপাত হয় কোন্ মেঘ থেকে?
ক) কিউমুলোনিম্বাস
খ) সিরাস
গ) কিউমুলাস
ঘ) স্ট্র্যাটাস
ব্যাখ্যা: কিউমুলোনিম্বাস (Cumulonimbus) মেঘ দেখতে পাহাড়ের মতো কালো। এতে প্রবল বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়বৃষ্টি (Thunderstorm) হয়।
64. ধোঁয়া ও কুয়াশা মিশে কী তৈরি হয়?
ক) শিশির
খ) ধোঁয়াশা
গ) মেঘ
ঘ) তুহিন
ব্যাখ্যা: শিল্পাঞ্চলে বায়ুদূষণের কারণে ধোঁয়া ও কুয়াশা মিশে বিষাক্ত ধোঁয়াশা (Smog) তৈরি করে।
65. শীতকালে কোনো কোনো স্থানে ঘাসের ওপর বিন্দু বিন্দু জলকণা জমে থাকাকে কী বলে?
ক) তুহিন
খ) কুয়াশা
গ) শিশির
ঘ) বৃষ্টি
ব্যাখ্যা: ভূপৃষ্ঠ শীতল হলে সংলগ্ন বায়ু শিশিরাঙ্কে পৌঁছায় এবং জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে ঘাসের ওপর শিশির (Dew) হিসেবে জমে।
66. এল নিনো (El Nino) কোন্ মহাসাগরে দেখা যায়?
ক) আটলান্টিক
খ) ভারত
গ) প্রশান্ত
ঘ) সুমেরু
ব্যাখ্যা: প্রশান্ত মহাসাগরের পেরু ও ইকুয়েডর উপকূলে নির্দিষ্ট কয়েক বছর অন্তর যে উষ্ণ সমুদ্রস্রোত দেখা যায় তাকে এল নিনো বলে।
67. এল নিনো দেখা দিলে ভারতে কী প্রভাব পড়ে?
ক) প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়
খ) খরা বা অনাবৃষ্টি দেখা দেয়
গ) তুষারপাত হয়
ঘ) কোনো প্রভাব পড়ে না
ব্যাখ্যা: এল নিনোর প্রভাবে মৌসুমি বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে ভারতে বৃষ্টিপাত কমে খরা বা অনাবৃষ্টির সৃষ্টি হয়।
68. লা নিনা (La Nina) হলে ভারতে কী অবস্থা হয়?
ক) বন্যা বা অতিবৃষ্টি
খ) খরা
গ) শীত বাড়ে
ঘ) গ্রীষ্ম বাড়ে
ব্যাখ্যা: লা নিনা হল শীতল স্রোত। এর প্রভাবে মৌসুমি বায়ু শক্তিশালী হয়, ফলে ভারতে প্রচুর বৃষ্টিপাত ও বন্যা দেখা দেয়।
69. গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য দায়ী প্রধান গ্যাস কোনটি?
ক) মিথেন
খ) ক্লোরোফ্লুরোকার্বন
গ) কার্বন ডাইঅক্সাইড
ঘ) নাইট্রাস অক্সাইড
ব্যাখ্যা: কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2) হল প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস, যা বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য প্রায় ৪৯% দায়ী।
70. ওজোন গহ্বর (Ozone Hole) সর্বপ্রথম কোথায় আবিষ্কৃত হয়?
ক) সুমেরুর উপরে
খ) কুমেরু বা অ্যান্টার্কটিকার উপরে
গ) নিরক্ষীয় অঞ্চলে
ঘ) ভারতের উপরে
ব্যাখ্যা: ১৯৮৫ সালে ফারম্যান সর্বপ্রথম অ্যান্টার্কটিকার আকাশে ওজোন স্তরে ছিদ্র বা গহ্বর আবিষ্কার করেন।
SAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (১ ও ২ নম্বর)
50 টি1. বায়ুমণ্ডল (Atmosphere) কাকে বলে?
ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০,০০০ কিমি উচ্চতা পর্যন্ত যে অদৃশ্য গ্যাসীয় আবরণ পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে এবং পৃথিবীর আবর্তনের সাথে সাথে আবর্তিত হচ্ছে, তাকে বায়ুমণ্ডল বলে।
2. অ্যারোসল (Aerosol) কী?
বায়ুমণ্ডলে ভাসমান অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা, ছাই, ধোঁয়া, কার্বন কণা এবং সামুদ্রিক লবণের কণাকে একত্রে অ্যারোসল বলে। এটি মেঘ সৃষ্টিতে সাহায্য করে।
3. সমমণ্ডল বা হোমোস্ফিয়ার (Homosphere) কী?
ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৯০ কিমি উচ্চতা পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলে বিভিন্ন গ্যাসীয় উপাদানের অনুপাত প্রায় একই বা সমান থাকে। তাই এই স্তরটিকে সমমণ্ডল বলে।
4. বিষমমণ্ডল বা হেটারোস্ফিয়ার (Heterosphere) কাকে বলে?
৯০ কিমি থেকে ১০,০০০ কিমি উচ্চতা পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলের গ্যাসীয় উপাদানের অনুপাত সমান থাকে না, বরং বিভিন্ন উচ্চতায় বিভিন্ন গ্যাসের স্তর দেখা যায়। তাই একে বিষমমণ্ডল বলে।
5. ট্রপোস্ফিয়ারকে 'ক্ষুব্ধমণ্ডল' বলা হয় কেন?
বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন স্তর ট্রপোস্ফিয়ারে জলীয় বাষ্প ও ধূলিকণা থাকায় এখানে মেঘ, বৃষ্টি, ঝড়, বজ্রপাত প্রভৃতি আবহাওয়ার গোলযোগ দেখা যায়। তাই একে ক্ষুব্ধমণ্ডল বলে।
6. স্বাভাবিক উষ্ণতা হ্রাসের হার (Normal Lapse Rate) কী?
ট্রপোস্ফিয়ারে প্রতি ১ কিলোমিটার (বা ১০০০ মিটার) উচ্চতা বৃদ্ধিতে বায়ুর উষ্ণতা ৬.৪°C হারে হ্রাস পায়। একেই উষ্ণতা হ্রাসের স্বাভাবিক হার বা Normal Lapse Rate বলে।
7. বৈপরীত্য উত্তাপ (Inversion of Temperature) কাকে বলে?
সাধারণত উচ্চতা বাড়লে উষ্ণতা কমে। কিন্তু পার্বত্য উপত্যকায় শান্ত শীতের রাতে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে উষ্ণতা না কমে উলটে বৃদ্ধি পায়। একে বৈপরীত্য উত্তাপ বলে।
8. ট্রপোপজ (Tropopause) কী?
ট্রপোস্ফিয়ার এবং স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের মধ্যবর্তী প্রায় ৩ কিমি পুরু যে সীমানায় বায়ুর উষ্ণতা হ্রাস বা বৃদ্ধি পায় না (স্থির থাকে), তাকে ট্রপোপজ বলে।
9. স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারকে 'শান্তমণ্ডল' বলা হয় কেন?
ট্রপোস্ফিয়ারের ওপরের স্তর স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে ধূলিকণা বা জলীয় বাষ্প না থাকায় এখানে মেঘ, বৃষ্টি বা ঝড় হয় না। আবহাওয়া শান্ত থাকায় একে শান্তমণ্ডল বলে (এখান দিয়ে জেট বিমান ওড়ে)।
10. ওজোনোস্ফিয়ার (Ozonosphere) বা ওজোন স্তর কী?
স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরের ১৫ থেকে ৩০ কিমি উচ্চতায় ওজোন গ্যাসের (O3) সর্বাধিক ঘনত্ব দেখা যায়। একে ওজোন স্তর বলে। এটি সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে।
11. আয়নোস্ফিয়ার (Ionosphere) কাকে বলে?
থার্মোস্ফিয়ারের নীচের অংশে অতিবেগুনি ও এক্স রশ্মির প্রভাবে গ্যাসীয় অণুগুলি ভেঙে গিয়ে আধানযুক্ত বা আয়নিত অবস্থায় থাকে। এই স্তরটিকেই আয়নোস্ফিয়ার বলে। এখান থেকে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়।
12. মেরুজ্যোতি বা অরোরা (Aurora) কী?
আয়নোস্ফিয়ার স্তরে সৌর বায়ুর আধানযুক্ত কণা এবং গ্যাসীয় কণার সংঘর্ষের ফলে উত্তর ও দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে যে অপূর্ব আলোকচ্ছটার সৃষ্টি হয়, তাকে মেরুজ্যোতি বলে।
13. অ্যালবেডো (Albedo) কাকে বলে?
সূর্য থেকে পৃথিবীতে আগত সৌর বিকিরণের (১০০%) প্রায় ৩৪% বায়ুমণ্ডলের মেঘ, ধূলিকণা এবং ভূপৃষ্ঠ দ্বারা প্রতিফলিত হয়ে মহাশূন্যে ফিরে যায়, যা পৃথিবীকে উত্তপ্ত করে না। একে পৃথিবীর অ্যালবেডো বলে।
14. কার্যকরী সৌর বিকিরণ (Effective Insolation) কী?
আগত সৌর বিকিরণের যে ৬৬% (১০০% - ৩৪%) ভূপৃষ্ঠ ও বায়ুমণ্ডল শোষণ করে পৃথিবীকে উত্তপ্ত করে, তাকে কার্যকরী সৌর বিকিরণ বলে।
15. তাপের সমতা বা Heat Budget বলতে কী বোঝো?
ভূপৃষ্ঠ ও বায়ুমণ্ডল কার্যকরী সৌর বিকিরণের মাধ্যমে যে পরিমাণ তাপ (৬৬%) গ্রহণ করে, ঠিক সমপরিমাণ তাপ দীর্ঘ তরঙ্গরূপে মহাশূন্যে বিকিরণ করে। এতে পৃথিবীর গড় উষ্ণতা স্থির থাকে, একে তাপের সমতা বলে।
16. উষ্ণতার প্রসর (Range of Temperature) কী?
কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানে নির্দিষ্ট সময়ে (দিন বা বছর) সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্যকে উষ্ণতার প্রসর বলে। এটি দৈনিক বা বার্ষিক হতে পারে।
17. সমোষ্ণরেখা (Isotherm) কাকে বলে?
মানচিত্রে একই গড় উষ্ণতাযুক্ত স্থানগুলিকে যে কাল্পনিক রেখা দ্বারা যুক্ত করা হয়, তাকে সমোষ্ণরেখা বলে।
18. গ্রিনহাউস গ্যাস (Greenhouse gas) কী?
বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত যে সমস্ত গ্যাস (যেমন CO2, মিথেন, CFC, নাইট্রাস অক্সাইড) সূর্য থেকে আসা ক্ষুদ্র তরঙ্গকে প্রবেশ করতে দেয় কিন্তু ভূপৃষ্ঠ থেকে বিকিরিত দীর্ঘ তরঙ্গকে মহাশূন্যে ফিরে যেতে বাধা দেয়, তাদের গ্রিনহাউস গ্যাস বলে।
19. বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং (Global Warming) কাকে বলে?
মানুষের নানা অবিবেচক কাজের ফলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সমগ্র পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ক্রমশ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। একে বিশ্ব উষ্ণায়ন বলে।
20. বায়ুচাপের ঢাল (Pressure Gradient) কী?
ভূপৃষ্ঠে দুটি স্থানের মধ্যে সমচাপরেখার আড়াআড়িভাবে প্রতি একক দূরত্বে বায়ুর চাপের যে পার্থক্য বা হ্রাসের হার, তাকে বায়ুচাপের ঢাল বলে। বায়ু সবসময় উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপের দিকে বয়।
21. ডোলড্রামস্ (Doldrums) বা নিরক্ষীয় শান্তবলয় কী?
নিরক্ষরেখার উভয়পাশে ৫° অক্ষাংশের মধ্যে প্রবল উষ্ণতার কারণে বায়ু হালকা হয়ে সোজা উপরে ওঠে। অনুভূমিক বায়ুপ্রবাহ না থাকায় এই অঞ্চলে শান্ত অবস্থা বিরাজ করে, একে ডোলড্রামস্ বলে।
22. অশ্ব অক্ষাংশ (Horse Latitude) কাকে বলে?
উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধের ২৫° থেকে ৩৫° অক্ষাংশের মধ্যে (ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয়ে) বায়ুর নিম্নগমনের কারণে শান্ত অবস্থা বিরাজ করে। প্রাচীনকালে পালতোলা জাহাজে ঘোড়া নিয়ে যাওয়ার সময় জাহাজ আটকে গেলে নাবিকরা পানীয় জলের অভাবে ঘোড়াগুলিকে সমুদ্রে ফেলে দিত। তাই এই অঞ্চলকে অশ্ব অক্ষাংশ বলে।
23. করিওলিস বল (Coriolis Force) কী?
পৃথিবীর আবর্তন গতির কারণে ভূপৃষ্ঠের উপর প্রবাহমান যেকোনো গতিশীল বস্তু (যেমন বায়ু, সমুদ্রস্রোত) তার সোজাপথ থেকে বিচ্যুত হয়। দিকবিক্ষেপকারী এই কাল্পনিক বলকেই করিওলিস বল বলে।
24. ফেরেলের সূত্র (Ferrel's Law) কী?
মার্কিন আবহাওয়াবিদ ফেরেলের সূত্রানুসারে, করিওলিস বলের প্রভাবে বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত সোজা পথে না গিয়ে উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়।
25. বাইজ-ব্যালট সূত্র (Buys Ballot's Law) কী?
আবহাওয়াবিদ বাইজ-ব্যালটের সূত্রানুসারে, উত্তর গোলার্ধে বায়ু যেদিকে প্রবাহিত হয় সেদিকে পেছন ফিরে দাঁড়ালে, ডানদিকে উচ্চচাপ এবং বামদিকে নিম্নচাপ থাকে। দক্ষিণ গোলার্ধে এর বিপরীত হয়।
26. নিয়ত বায়ু (Planetary Wind) কাকে বলে?
ভূপৃষ্ঠের স্থায়ী বায়ুচাপ বলয়গুলি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে সারাবছর ধরে নির্দিষ্ট পথে এবং নির্দিষ্ট দিকে যে বায়ু প্রবাহিত হয়, তাকে নিয়ত বায়ু বলে (যেমন: আয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু)।
27. আয়ন বায়ুকে 'বাণিজ্য বায়ু' (Trade Wind) বলা হয় কেন?
প্রাচীনকালে নাবিকরা আয়ন বায়ুর নির্দিষ্ট দিক ও গতিপথ অনুসরণ করে পালতোলা জাহাজে বাণিজ্য করত বলে এই বায়ুর অপর নাম বাণিজ্য বায়ু (Trade মানে নির্দিষ্ট পথ)।
28. ITCZ বা আন্তঃক্রান্তীয় অভিসারী অঞ্চল কী?
নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ে উত্তর গোলার্ধের উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু এবং দক্ষিণ গোলার্ধের দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু এসে মিলিত হয়। এই মিলনস্থলকে ITCZ (Inter Tropical Convergence Zone) বলে।
29. গর্জনশীল চল্লিশা (Roaring Forties) কী?
দক্ষিণ গোলার্ধে বিশাল জলভাগ থাকায় পশ্চিমা বায়ু বাধাহীনভাবে প্রবল বেগে এবং সশব্দে প্রবাহিত হয়। তাই ৪০° দক্ষিণ অক্ষাংশকে গর্জনশীল চল্লিশা বলে (৫০°-কে ক্রুদ্ধ পঞ্চাশা এবং ৬০°-কে তীক্ষ্ণ চিৎকারকারী ষাট বলে)।
30. সাময়িক বায়ু (Periodic Wind) কাকে বলে?
যে বায়ু সারাবছর প্রবাহিত না হয়ে বছরের কোনো নির্দিষ্ট ঋতুতে বা দিনের নির্দিষ্ট সময়ে প্রবাহিত হয়, তাকে সাময়িক বায়ু বলে (যেমন: সমুদ্রবায়ু, স্থলবায়ু, মৌসুমি বায়ু)।
31. সমুদ্রবায়ু (Sea Breeze) কী?
দিনের বেলায় স্থলভাগ জলভাগের চেয়ে দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে নিম্নচাপের সৃষ্টি করে, অন্যদিকে সমুদ্রে উচ্চচাপ থাকে। ফলে দুপুর থেকে বিকেলবেলা সমুদ্র থেকে স্থলভাগের দিকে যে শীতল বায়ু বয়, তাকে সমুদ্রবায়ু বলে।
32. স্থলবায়ু (Land Breeze) কী?
রাত্রিকালে স্থলভাগ দ্রুত তাপ বিকিরণ করে শীতল হয়ে উচ্চচাপের সৃষ্টি করে, অন্যদিকে সমুদ্রে নিম্নচাপ থাকে। ফলে শেষ রাতে বা ভোরে স্থলভাগ থেকে সমুদ্রের দিকে যে বায়ু প্রবাহিত হয়, তাকে স্থলবায়ু বলে।
33. অ্যানাবেটিক বায়ু (Anabatic Wind) কী?
দিনের বেলায় সূর্যতাপে পর্বতের উপত্যকার বায়ু দ্রুত উত্তপ্ত ও হালকা হয়ে পর্বতের ঢাল বেয়ে উপরের দিকে উঠতে থাকে। এই ঊর্ধ্বগামী বায়ুকে অ্যানাবেটিক বা উপত্যকা বায়ু বলে।
34. ক্যাটাবেটিক বায়ু (Katabatic Wind) কী?
রাত্রিকালে পর্বতের উপরের অংশের বায়ু দ্রুত তাপ বিকিরণ করে শীতল ও ভারী হয়ে মাধ্যাকর্ষণের টানে পর্বতের ঢাল বেয়ে নীচের উপত্যকায় নেমে আসে। এই নিম্নগামী বায়ুকে ক্যাটাবেটিক বা পার্বত্য বায়ু বলে।
35. স্থানীয় বায়ু (Local Wind) কাকে বলে?
ভূপৃষ্ঠের কোনো ছোটো অঞ্চলে স্থানীয় ভূপ্রকৃতি বা উষ্ণতার তারতম্যের কারণে সাময়িকভাবে যে বায়ুর উৎপত্তি হয়, তাকে স্থানীয় বায়ু বলে (যেমন: লু, ফন, চিনুক, সিরোক্কো)।
36. লু (Loo) কী?
গ্রীষ্মকালে মে-জুন মাসে ভারতের উত্তর-পশ্চিম অংশে (রাজস্থান, গুজরাট, পাঞ্জাব) দিনের বেলায় যে অত্যন্ত শুষ্ক ও উষ্ণ বায়ু প্রবাহিত হয়, তাকে লু বলে। এর প্রভাবে হিটস্ট্রোক হয়।
37. আকস্মিক বায়ু (Sudden Wind) কাকে বলে?
ভূপৃষ্ঠের কোনো স্থানে বায়ুর চাপে হঠাৎ ব্যাপক পরিবর্তন ঘটলে সাময়িকভাবে প্রবল বেগে যে বায়ুর উৎপত্তি হয়, তাকে আকস্মিক বায়ু বলে (যেমন: ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘূর্ণবাত)।
38. ঘূর্ণবাতের চোখ (Eye of Cyclone) কী?
ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের একেবারে কেন্দ্রে যেখানে বায়ুর চাপ সর্বনিম্ন থাকে এবং বাতাস শান্ত ও আকাশ মেঘমুক্ত থাকে, সেই বৃত্তাকার শান্ত অংশকে ঘূর্ণবাতের চোখ বলে।
39. প্রতীপ ঘূর্ণবাত (Anticyclone) কাকে বলে?
উচ্চ অক্ষাংশের শীতল অঞ্চলে বায়ুর চাপ বেড়ে কেন্দ্রে প্রবল উচ্চচাপের সৃষ্টি হলে, কেন্দ্র থেকে বায়ু চারদিকের নিম্নচাপের দিকে ঘুরতে ঘুরতে বেরিয়ে যায়। একে প্রতীপ ঘূর্ণবাত বলে। এর প্রভাবে আকাশ পরিষ্কার থাকে।
40. আর্দ্রতা (Humidity) কী?
বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত জলীয় বাষ্পের পরিমাণকেই বায়ুর আর্দ্রতা বলে। হাইগ্রোমিটার যন্ত্রের সাহায্যে এটি মাপা হয়।
41. চরম বা নিরপেক্ষ আর্দ্রতা (Absolute Humidity) কী?
কোনো নির্দিষ্ট উষ্ণতায় নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে প্রকৃত যে পরিমাণ জলীয় বাষ্প উপস্থিত থাকে, তাকে চরম আর্দ্রতা বলে। এটি প্রতি ঘনমিটার বায়ুতে কত গ্রাম জলীয় বাষ্প আছে (g/m³), সেই এককে মাপা হয়।
42. আপেক্ষিক আর্দ্রতা (Relative Humidity) কাকে বলে?
কোনো নির্দিষ্ট উষ্ণতায় নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে উপস্থিত জলীয় বাষ্পের পরিমাণ এবং ওই একই উষ্ণতায় ওই বায়ুকে সম্পৃক্ত করতে প্রয়োজনীয় জলীয় বাষ্পের পরিমাণের অনুপাতকে আপেক্ষিক আর্দ্রতা বলে। এটি শতকরা (%) হিসেবে প্রকাশ করা হয়।
43. শিশিরাঙ্ক (Dew Point) কী?
যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বায়ুতে উপস্থিত জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে জলকণায় পরিণত হতে শুরু করে, সেই তাপমাত্রাকে ওই বায়ুর শিশিরাঙ্ক বলে। শিশিরাঙ্কে বায়ুর আপেক্ষিক আর্দ্রতা ১০০% হয়।
44. ঘনীভবন (Condensation) কাকে বলে?
বায়ুর তাপমাত্রা শিশিরাঙ্কের নীচে নেমে গেলে জলীয় বাষ্প তাপ বর্জন করে তরল জলকণায় বা কঠিন তুষারকণায় পরিণত হয়। এই প্রক্রিয়াকে ঘনীভবন বলে। মেঘ, কুয়াশা, শিশির এর ফল।
45. অধঃক্ষেপণ (Precipitation) কী?
বায়ুমণ্ডলের জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে মাধ্যাকর্ষণের টানে জলকণা (বৃষ্টি) বা কঠিন বরফকণা (তুষার, শিলাবৃষ্টি) রূপে ভূপৃষ্ঠে পতিত হওয়াকে অধঃক্ষেপণ বলে।
46. পরিচলন বৃষ্টিপাত (Convectional Rainfall) কী?
প্রবল সূর্যতাপে ভূপৃষ্ঠের জল বাষ্পীভূত হয়ে হালকা বায়ু হিসেবে সোজা উপরে ওঠে এবং উপরে শীতল হয়ে ঘনীভূত হয়ে যে বৃষ্টিপাত ঘটায়, তাকে পরিচলন বৃষ্টি বলে। নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রতিদিন বিকেলে এই বৃষ্টি হয়।
47. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত (Orographic Rainfall) কাকে বলে?
জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু প্রবাহপথে আড়াআড়িভাবে অবস্থিত পর্বতে বাধা পেয়ে পর্বতের ঢাল বেয়ে উপরে ওঠে। উপরে শীতল ও প্রসারিত হয়ে ঘনীভূত হয়ে পর্বতের প্রতিবাদ ঢালে যে বৃষ্টিপাত ঘটায়, তাকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত বলে।
48. বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল (Rain Shadow Area) কী?
পর্বতের প্রতিবাদ ঢালে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত ঘটানোর পর বায়ু যখন পর্বতের বিপরীত দিকে বা অনুবাত ঢালে (Leeward side) নেমে আসে, তখন বায়ু উষ্ণ হওয়ায় তাতে জলীয় বাষ্প ধারণ ক্ষমতা বাড়ে এবং বৃষ্টি প্রায় হয় না। এই শুষ্ক অঞ্চলকে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল বলে।
49. ধোঁয়াশা (Smog) কী?
শিল্পাঞ্চলে বা বড়ো শহরে বায়ুদূষণের কারণে নির্গত ধোঁয়া ও ভাসমান ধূলিকণার সাথে কুয়াশা মিশে যে অস্বচ্ছ ও বিষাক্ত পরিবেশের সৃষ্টি করে, তাকে ধোঁয়াশা (Smoke + Fog = Smog) বলে।
50. এল নিনো (El Nino) কী?
এল নিনো একটি স্পেনীয় শব্দ যার অর্থ 'বালক খ্রিষ্ট'। নির্দিষ্ট কয়েক বছর অন্তর (২-৭ বছর) প্রশান্ত মহাসাগরের পেরু ও ইকুয়েডর উপকূল দিয়ে যে অস্বাভাবিক দক্ষিণমুখী উষ্ণ সমুদ্রস্রোত প্রবাহিত হয়, যা বিশ্ব জলবায়ুতে ব্যাপক পরিবর্তন (যেমন ভারতে খরা) আনে, তাকে এল নিনো বলে।
Broad Questions - বড়ো প্রশ্নোত্তর (৩ ও ৫ নম্বর)
20 টি1. উষ্ণতার তারতম্যের ভিত্তিতে বায়ুমণ্ডলের স্তরবিন্যাস করো এবং যে-কোনো দুটি স্তরের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।
বায়ুমণ্ডলের স্তরবিন্যাস:
উষ্ণতার তারতম্যের ভিত্তিতে বায়ুমণ্ডলকে ৬টি স্তরে ভাগ করা যায়। যথা— ১) ট্রপোস্ফিয়ার, ২) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার, ৩) মেসোস্ফিয়ার, ৪) থার্মোস্ফিয়ার বা আয়নোস্ফিয়ার, ৫) এক্সোস্ফিয়ার এবং ৬) ম্যাগনেটোস্ফিয়ার।
দুটি স্তরের বৈশিষ্ট্য:
- ১. ট্রপোস্ফিয়ার (Troposphere): ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন সবচেয়ে নীচের স্তরটিকে ট্রপোস্ফিয়ার বলে। এর গড় উচ্চতা ১৬ কিমি (নিরক্ষীয় অঞ্চলে ১৮ কিমি এবং মেরু অঞ্চলে ৮ কিমি)।
বৈশিষ্ট্য: i) উষ্ণতা হ্রাস: এই স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রতি ১ কিমিতে ৬.৪°C হারে উষ্ণতা কমে। একে Normal Lapse Rate বলে। ii) ক্ষুব্ধমণ্ডল: বায়ুমণ্ডলের মোট গ্যাসীয় ভরের ৭৫% এবং সমস্ত জলীয় বাষ্প, ধূলিকণা এই স্তরে থাকায় এখানে মেঘ, বৃষ্টি, ঝড় ইত্যাদি আবহাওয়ার যাবতীয় গোলযোগ দেখা যায়, তাই একে ক্ষুব্ধমণ্ডল বলে। - ২. স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার (Stratosphere): ট্রপোস্ফিয়ারের ঠিক উপরে ৫০ কিমি উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত স্তরটি হল স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার।
বৈশিষ্ট্য: i) উষ্ণতা বৃদ্ধি: এই স্তরে উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে উষ্ণতা বৃদ্ধি পায় (কারণ ওজোন গ্যাস অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে)। ii) শান্তমণ্ডল: এখানে জলীয় বাষ্প ও ধূলিকণা না থাকায় মেঘ বা ঝড়বৃষ্টি হয় না। বায়ুপ্রবাহ অনুভূমিক হওয়ায় দ্রুতগামী জেট বিমানগুলি এই স্তর দিয়ে নিরাপদে চলাচল করে। iii) ওজোন স্তর: এই স্তরের ১৫-৩০ কিমি উচ্চতায় ওজোন গ্যাসের (O3) আচ্ছাদন আছে যা সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করে।
2. ওজোন স্তর কীভাবে ধ্বংস হচ্ছে এবং এর ক্ষতিকর প্রভাবগুলি আলোচনা করো।
ওজোন স্তর ধ্বংসের কারণ:
- ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC): রেফ্রিজারেটর, এসি, এবং অ্যারোসল স্প্রে থেকে নির্গত CFC গ্যাস বায়ুমণ্ডলে গিয়ে অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে ভেঙে সক্রিয় ক্লোরিন পরমাণু তৈরি করে। একটি ক্লোরিন পরমাণু লক্ষ লক্ষ ওজোন অণুকে ভেঙে অক্সিজেনে পরিণত করে।
- নাইট্রোজেন অক্সাইড (NOx): দ্রুতগামী সুপারসনিক জেট বিমান, রাসায়নিক সার কারখানা থেকে নির্গত নাইট্রিক অক্সাইড (NO) এবং নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড (NO2) ওজোন স্তরকে ব্যাপকভাবে ধ্বংস করে।
- হ্যালোন যৌগ ও অন্যান্য গ্যাস: অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রে ব্যবহৃত হ্যালোন এবং মিথাইল ব্রোমাইড, মিথাইল ক্লোরাইড প্রভৃতি রাসায়নিক পদার্থ ওজোন অণুকে ধ্বংস করে।
ওজোন স্তর ধ্বংসের প্রভাব:
- মানুষের ওপর প্রভাব: অতিবেগুনি রশ্মি (UV rays) সরাসরি ভূপৃষ্ঠে এলে মানুষের ত্বকে ক্যানসার (Melanoma), চোখে ছানি পড়া এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পাবে।
- উদ্ভিদের ওপর প্রভাব: সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে, বীজের অঙ্কুরোদ্গম কমে যাবে এবং ফসলের উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পাবে।
- জলবায়ুর পরিবর্তন: পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে (বিশ্ব উষ্ণায়ন), যার ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি পাবে এবং উপকূলীয় অঞ্চল প্লাবিত হবে।
3. বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর প্রধান কারণগুলি কী কী?
বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণ:
বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসগুলির (Greenhouse Gases) পরিমাণ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির ফলেই বিশ্ব উষ্ণায়ন ঘটছে। এর প্রধান কারণগুলি হল:
- জীবাশ্ম জ্বালানির দহন: কলকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং যানবাহনে কয়লা, খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পুড়িয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণে কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2) বায়ুমণ্ডলে মেশানো হচ্ছে, যা বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য প্রায় ৪৯% দায়ী।
- অরণ্যচ্ছেদন (Deforestation): গাছপালা CO2 শোষণ করে। কিন্তু কৃষিকাজ, নগরায়ণ ও শিল্পের জন্য নির্বিচারে বনভূমি ধ্বংস করার ফলে বায়ুমণ্ডলে CO2-এর মাত্রা দ্রুত বাড়ছে।
- CFC-এর ব্যবহার: আধুনিক জীবনে এয়ার কন্ডিশনার, রেফ্রিজারেটর, ফোম শিল্প প্রভৃতিতে ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC) ব্যবহৃত হয়, যা একটি অত্যন্ত শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাস।
- কৃষিকাজ ও পশুপালন: রাসায়নিক সারের ব্যবহার (নাইট্রাস অক্সাইড নির্গত হয়) এবং পশুপালন ও ধানখেত থেকে প্রচুর পরিমাণে মিথেন (CH4) গ্যাস উৎপন্ন হয়, যা পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ায়।
- শিল্পায়ন ও নগরায়ণ: শিল্প কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাস এবং দ্রুত নগরায়ণের ফলে ভূপৃষ্ঠের তাপ শোষণ করার ক্ষমতা কমে গিয়ে বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হচ্ছে।
4. বিশ্ব উষ্ণায়নের ক্ষতিকর প্রভাবগুলি আলোচনা করো।
বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব (Effects of Global Warming):
বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে পৃথিবীর প্রাকৃতিক পরিবেশ ও মানবজীবনে ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে:
- হিমবাহের গলন: পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে মেরু অঞ্চলের (অ্যান্টার্কটিকা ও গ্রিনল্যান্ড) বিশাল বরফের স্তূপ এবং উচ্চ পর্বতের (হিমালয়, আল্পস) হিমবাহগুলি দ্রুত গলে যাচ্ছে। ভারতের গঙ্গোত্রী, জেমু হিমবাহের দৈর্ঘ্য ক্রমশ কমছে।
- সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি (Sea-level Rise): বরফ গলে সমুদ্রের জলস্তর ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে (বার্ষিক প্রায় ৩ মিমি)। এর ফলে সুন্দরবনের লোহাচড়া, ঘোড়ামারা, নিউমুরের মতো নিচু দ্বীপগুলি এবং বিশ্বের অনেক উপকূলীয় শহর সমুদ্রগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে।
- জলবায়ু ও অধঃক্ষেপণের পরিবর্তন: বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক চক্র বিঘ্নিত হচ্ছে। কোথাও অতিবৃষ্টির ফলে ভয়াবহ বন্যা, আবার কোথাও অনাবৃষ্টির কারণে চরম খরা দেখা দিচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় বা সাইক্লোনের তীব্রতা ও সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- কৃষিকাজে প্রভাব: উষ্ণতা ও খরা বৃদ্ধির ফলে অনেক অঞ্চলে ফসলের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শস্যের ধরন ও কৃষি পদ্ধতিতে বদল আনতে হচ্ছে।
- রোগব্যাধির প্রকোপ: উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় মশা, মাছি ও জীবাণুর বংশবৃদ্ধি দ্রুত হওয়ায় ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, কলেরার মতো ক্রান্তীয় রোগগুলি নতুন নতুন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে।
- জীববৈচিত্র্য হ্রাস: তাপমাত্রা পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে না পেরে মেরুভল্লুক, পেঙ্গুইন, প্রবাল প্রাচীর (Coral bleaching) এবং সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্য ধ্বংসের মুখে।
5. ভূপৃষ্ঠে বায়ুর তাপমাত্রার তারতম্যের প্রধান কারণগুলি আলোচনা করো।
বায়ুর তাপমাত্রার তারতম্যের কারণ (Factors controlling Temperature):
পৃথিবীর সব জায়গায় বায়ুর উষ্ণতা সমান হয় না। এর প্রধান নিয়ন্ত্রকগুলি হল:
- অক্ষাংশ (Latitude): নিরক্ষরেখার কাছে সূর্য সারাবছর লম্বভাবে কিরণ দেয়, ফলে সেখানে বায়ুর উষ্ণতা বেশি। কিন্তু নিরক্ষরেখা থেকে মেরুর দিকে ক্রমশ তির্যকভাবে সূর্যরশ্মি পড়ায় উষ্ণতা কমতে থাকে।
- উচ্চতা (Altitude): ট্রপোস্ফিয়ারে উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে প্রতি ১০০০ মিটারে ৬.৪°C হারে উষ্ণতা কমে। এই কারণে সমভূমিতে অবস্থিত শিলিগুড়ির চেয়ে পাহাড়ে অবস্থিত দার্জিলিং-এর উষ্ণতা অনেক কম।
- সমুদ্র থেকে দূরত্ব (Distance from Sea): সমুদ্রের জল ধীরে উত্তপ্ত এবং ধীরে শীতল হয়। তাই সমুদ্র উপকূলবর্তী স্থানে সমভাবাপন্ন জলবায়ু দেখা যায় (উষ্ণতার প্রসর কম)। কিন্তু সমুদ্র থেকে দূরে মহাদেশের অভ্যন্তরে চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বিরাজ করে (গ্রীষ্মে প্রচণ্ড গরম, শীতে প্রবল ঠান্ডা)।
- সমুদ্রস্রোত (Ocean Currents): যে উপকূলের পাশ দিয়ে উষ্ণ সমুদ্রস্রোত বয়ে যায় সেখানকার বায়ুর উষ্ণতা বাড়ে (যেমন উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে উত্তর-পশ্চিম ইউরোপ উষ্ণ থাকে)। শীতল স্রোত গেলে উষ্ণতা কমে (যেমন শীতল ল্যাব্রাডর স্রোতে নিউফাউন্ডল্যান্ড শীতল থাকে)।
- বায়ুপ্রবাহ (Winds): উষ্ণ বায়ু প্রবাহিত হলে উষ্ণতা বাড়ে (যেমন লু বইলে উত্তর-পশ্চিম ভারত উত্তপ্ত হয়) এবং শীতল বায়ু প্রবাহিত হলে উষ্ণতা কমে।
- ভূমির ঢাল: উত্তর গোলার্ধে পর্বতের দক্ষিণ ঢাল সূর্যের দিকে মুখ করে থাকায় সেখানে বেশি সূর্যকিরণ পড়ে এবং উষ্ণতা বেশি হয় (যেমন হিমালয়ের দক্ষিণ ঢাল)।
6. পৃথিবীর বায়ুচাপ বলয়গুলির সচিত্র বর্ণনা দাও।
বায়ুচাপ বলয় (Pressure Belts):
ভূপৃষ্ঠে উষ্ণতা ও পৃথিবীর আবর্তন গতির প্রভাবে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট অঞ্চলে বায়ুর চাপ প্রায় একই রকম থাকে, এদের বায়ুচাপ বলয় বলে। পৃথিবীতে মোট ৭টি স্থায়ী বায়ুচাপ বলয় রয়েছে:
- ১. নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় (০°-৫° উঃ ও দঃ): নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর সূর্যকিরণ লম্বভাবে পড়ায় এখানকার বায়ু প্রচণ্ড উত্তপ্ত, হালকা ও প্রসারিত হয়ে ঊর্ধ্বে ওঠে। ফলে এই অঞ্চলে একটি স্থায়ী নিম্নচাপ বলয়ের সৃষ্টি হয়েছে (একে ডোলড্রামস্ বলে)।
- ২ ও ৩. কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় (২৫°-৩৫° উঃ ও দঃ): নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে উষ্ণ বায়ু উপরে উঠে মেরুর দিকে যাওয়ার সময় শীতল ও ভারী হয়ে ২৫°-৩৫° অক্ষাংশে নেমে আসে। এছাড়া মেরু অঞ্চল থেকে আসা শীতল বায়ুও এখানে মিলিত হয়, ফলে দুই গোলার্ধে দুটি উচ্চচাপ বলয় সৃষ্টি হয়েছে (একে অশ্ব অক্ষাংশ বলে)।
- ৪ ও ৫. সুমেরুবৃত্ত ও কুমেরুবৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয় (৬০°-৬৫° উঃ ও দঃ): পৃথিবীর আবর্তন বেগ মেরুর তুলনায় এই অঞ্চলে বেশি হওয়ায় এখানকার বায়ু বিক্ষিপ্ত হয়ে দুই পাশে (মেরু ও ক্রান্তীয় অঞ্চলের দিকে) ছিটকে যায়। ফলে দুই গোলার্ধে বায়ুর পরিমাণ কমে দুটি নিম্নচাপ বলয় সৃষ্টি করেছে।
- ৬ ও ৭. সুমেরু ও কুমেরু উচ্চচাপ বলয় (৮০°-৯০° উঃ ও দঃ): দুই মেরু অঞ্চলে সারাবছর প্রচণ্ড ঠান্ডায় বরফ জমে থাকে। তীব্র শীতের কারণে এখানকার বায়ু অত্যন্ত শীতল ও ভারী। তাই দুই মেরু অঞ্চলে দুটি স্থায়ী উচ্চচাপ বলয় সৃষ্টি হয়েছে।
(পরীক্ষায় উত্তর লেখার সময় পৃথিবীর বায়ুচাপ বলয়গুলির চিত্র অঙ্কন করা আবশ্যক।)
7. পৃথিবীর নিয়ত বায়ুপ্রবাহগুলির (Planetary Winds) বর্ণনা দাও।
নিয়ত বায়ুপ্রবাহ (Planetary Winds):
স্থায়ী বায়ুচাপ বলয়গুলি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে সারাবছর নির্দিষ্ট পথে ও নির্দিষ্ট দিকে যে বায়ু প্রবাহিত হয়, তাকে নিয়ত বায়ু বলে। এটি ৩ প্রকার:
- ১. আয়ন বায়ু (Trade Winds): কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে সারাবছর যে বায়ু প্রবাহিত হয়, তাকে আয়ন বায়ু বলে। ফেরেলের সূত্রানুসারে এই বায়ু উত্তর গোলার্ধে উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু নামে প্রবাহিত হয়। প্রাচীনকালে এই বায়ু বাণিজ্যে সাহায্য করত বলে একে 'বাণিজ্য বায়ু' বলা হয়।
- ২. পশ্চিমা বায়ু (Westerlies): কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে যথাক্রমে সুমেরুবৃত্ত ও কুমেরুবৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে যে বায়ু প্রবাহিত হয়, তাকে পশ্চিমা বায়ু বলে। উত্তর গোলার্ধে এটি দক্ষিণ-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু এবং দক্ষিণ গোলার্ধে এটি উত্তর-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু রূপে বয়। দক্ষিণ গোলার্ধে বিশাল জলভাগের উপর দিয়ে এই বায়ু প্রবল বেগে সশব্দে প্রবাহিত হয় (যেমন গর্জনশীল চল্লিশা)।
- ৩. মেরু বায়ু (Polar Winds): সুমেরু ও কুমেরু উচ্চচাপ বলয় থেকে অত্যন্ত শীতল ও ভারী যে বায়ু সুমেরুবৃত্ত ও কুমেরুবৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে মেরু বায়ু বলে। উত্তর গোলার্ধে এটি উত্তর-পূর্ব মেরু বায়ু এবং দক্ষিণ গোলার্ধে এটি দক্ষিণ-পূর্ব মেরু বায়ু নামে প্রবাহিত হয়।
8. ঘূর্ণবাত (Cyclone) ও প্রতীপ ঘূর্ণবাতের (Anticyclone) মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করো।
ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘূর্ণবাতের পার্থক্য:
| বৈশিষ্ট্য | ঘূর্ণবাত (Cyclone) | প্রতীপ ঘূর্ণবাত (Anticyclone) |
|---|
| কেন্দ্রের বায়ুর চাপ | ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে নিম্নচাপ এবং বাইরে উচ্চচাপ থাকে। | প্রতীপ ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে উচ্চচাপ এবং বাইরে নিম্নচাপ থাকে। |
| বায়ুর গতিমুখ | বায়ু বাইরে থেকে কেন্দ্রের দিকে (কেন্দ্রমুখী) প্রবল বেগে ছুটে আসে। | বায়ু কেন্দ্র থেকে বাইরের দিকে (কেন্দ্রবিমুখী) ধীর বেগে বেরিয়ে যায়। |
| বায়ুর দিকবিক্ষেপ | বায়ু উত্তর গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘোরে। | বায়ু উত্তর গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে ঘোরে। |
| আবহাওয়ার প্রকৃতি | প্রবল ঝড়, বৃষ্টিপাত এবং বজ্রবিদ্যুৎসহ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সৃষ্টি করে। | আকাশ মেঘমুক্ত থাকে এবং শান্ত ও রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া সৃষ্টি করে (বৃষ্টি হয় না)। |
| বায়ুর গতিবেগ | বায়ুর গতিবেগ অত্যন্ত বেশি এবং ধ্বংসাত্মক হয় (যেমন হ্যারিকেন, টাইফুন)। | বায়ুর গতিবেগ খুব কম ও মৃদু হয়, ধ্বংসাত্মক নয়। |
9. ট্রপোস্ফিয়ার ও স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
ট্রপোস্ফিয়ার ও স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের পার্থক্য:
| বৈশিষ্ট্য | ট্রপোস্ফিয়ার (Troposphere) | স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার (Stratosphere) |
|---|
| অবস্থান | এটি বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে নীচের বা প্রথম স্তর (ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৬ কিমি পর্যন্ত)। | এটি ট্রপোপজের ওপরের বা দ্বিতীয় স্তর (১৬ থেকে ৫০ কিমি পর্যন্ত)। |
| উষ্ণতার পরিবর্তন | উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে এই স্তরে বায়ুর উষ্ণতা হ্রাস পায় (প্রতি ১০০০ মিটারে ৬.৪°C হারে)। | উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে এই স্তরে বায়ুর উষ্ণতা বৃদ্ধি পায়। |
| আবহাওয়া | মেঘ, ধূলিকণা ও জলীয় বাষ্প থাকায় ঝড়, বৃষ্টি হয়, তাই এটি ক্ষুব্ধমণ্ডল। | ধূলিকণা ও জলীয় বাষ্প না থাকায় ঝড়বৃষ্টি হয় না, তাই এটি শান্তমণ্ডল। |
| বায়ুপ্রবাহ | বায়ু প্রধানত উলম্বভাবে (উপর-নীচ) প্রবাহিত হয়। | বায়ু প্রধানত অনুভূমিকভাবে (পাশাপাশি) প্রবাহিত হয়। |
| গুরুত্ব | জীবজগতের আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ করে। | ওজোন স্তর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে এবং জেট বিমান যাতায়াত করে। |
10. সমুদ্রবায়ু (Sea Breeze) ও স্থলবায়ুর (Land Breeze) মধ্যে পার্থক্য কী?
সমুদ্রবায়ু ও স্থলবায়ুর পার্থক্য:
| বৈশিষ্ট্য | সমুদ্রবায়ু (Sea Breeze) | স্থলবায়ু (Land Breeze) |
|---|
| প্রবাহের দিক | সমুদ্র বা জলভাগ থেকে স্থলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়। | স্থলভাগ থেকে সমুদ্র বা জলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়। |
| প্রবাহের সময় | দিনের বেলায় প্রবাহিত হয় (বিশেষত দুপুর থেকে বিকেলে বেগ বেশি থাকে)। | রাত্রিকালে প্রবাহিত হয় (বিশেষত ভোরবেলায় বেগ সবচেয়ে বেশি থাকে)। |
| বায়ুচাপের অবস্থা | দিনের বেলায় স্থলভাগে নিম্নচাপ এবং সমুদ্রে উচ্চচাপ সৃষ্টির কারণে বয়। | রাত্রে স্থলভাগে উচ্চচাপ এবং সমুদ্রে নিম্নচাপ সৃষ্টির কারণে বয়। |
| প্রকৃতি | সমুদ্রের ওপর দিয়ে আসে বলে এটি তুলনামূলকভাবে আর্দ্র ও শীতল বায়ু। | স্থলভাগের ওপর দিয়ে আসে বলে এটি তুলনামূলকভাবে শুষ্ক বায়ু। |
| জীবনের ওপর প্রভাব | উপকূলীয় অঞ্চলে বিকেলে আরামদায়ক আবহাওয়া সৃষ্টি করে। | জেলেদের পালতোলা নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে গভীর সমুদ্রে যেতে সাহায্য করে। |
11. আপেক্ষিক আর্দ্রতা (Relative Humidity) ও চরম আর্দ্রতার (Absolute Humidity) পার্থক্য লেখো।
আপেক্ষিক আর্দ্রতা ও চরম আর্দ্রতার পার্থক্য:
| বৈশিষ্ট্য | আপেক্ষিক আর্দ্রতা (Relative Humidity) | চরম আর্দ্রতা (Absolute Humidity) |
|---|
| সংজ্ঞা | নির্দিষ্ট উষ্ণতায় বায়ুতে উপস্থিত জলীয় বাষ্প এবং বায়ুকে সম্পৃক্ত করতে প্রয়োজনীয় জলীয় বাষ্পের অনুপাতকে বোঝায়। | নির্দিষ্ট উষ্ণতায় নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে প্রকৃত যে পরিমাণ জলীয় বাষ্প উপস্থিত থাকে, তাকে বোঝায়। |
| প্রকাশের একক | এটি দুটি পরিমাণের অনুপাত, তাই একে সর্বদা শতকরা হার বা শতাংশে (%) প্রকাশ করা হয়। | একে প্রতি ঘনমিটার বায়ুতে কত গ্রাম জলীয় বাষ্প আছে (গ্রাম/ঘনমিটার বা g/m³) এককে প্রকাশ করা হয়। |
| গুরুত্ব | আবহাওয়ার পূর্বাভাস, বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা এবং মানুষের আরামবোধ নির্ধারণে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। | বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা বা আবহাওয়া নির্ণয়ে এর বিশেষ কোনো গুরুত্ব নেই। |
| তাপমাত্রার সাথে সম্পর্ক | তাপমাত্রা বাড়লে আপেক্ষিক আর্দ্রতা কমে এবং তাপমাত্রা কমলে আপেক্ষিক আর্দ্রতা বাড়ে (ব্যস্তানুপাতিক সম্পর্ক)। | নির্দিষ্ট পরিমাণ বায়ুতে নতুন জলীয় বাষ্প যুক্ত না হলে, তাপমাত্রা পরিবর্তিত হলেও চরম আর্দ্রতা একই থাকে। |
12. পরিচলন বৃষ্টিপাত (Convectional Rainfall) কীভাবে সংঘটিত হয় তা চিত্রসহ আলোচনা করো।
পরিচলন বৃষ্টিপাত (Convectional Rainfall):
প্রবল উত্তাপে ভূপৃষ্ঠের জল বাষ্পীভূত হয়ে ঊর্ধ্বে উঠে মেঘ সৃষ্টি করে যে বৃষ্টিপাত ঘটায়, তাকে পরিচলন বৃষ্টিপাত বলে।
সংঘটনের প্রক্রিয়া:
- বাষ্পীভবন ও বায়ুর ঊর্ধ্বগমন: নিরক্ষীয় অঞ্চলে স্থলভাগের চেয়ে জলভাগের পরিমাণ বেশি এবং সূর্য সারাবছর লম্বভাবে কিরণ দেয়। প্রবল উত্তাপে নদনদী, সাগর, মহাসাগরের জল প্রচুর পরিমাণে বাষ্পীভূত হয়। জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু হালকা হয়ে সোজা উপরের দিকে (পরিচলন স্রোত রূপে) উঠতে থাকে।
- শীতলীকরণ ও ঘনীভবন: ঊর্ধ্বগামী এই বায়ু উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে ক্রমশ শীতল ও প্রসারিত হয়। একসময় বায়ু শিশিরাঙ্কে পৌঁছালে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে জলকণায় পরিণত হয় এবং কিউমুলোনিম্বাস মেঘ সৃষ্টি করে।
- বৃষ্টিপাত: বিকেলবেলার দিকে ওই মেঘ থেকে বজ্রবিদ্যুৎসহ মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয়। নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রতিদিন বিকেল ৪টের সময় এই বৃষ্টি হয় বলে একে 'Four o’clock rain' বলা হয়। কঙ্গো অববাহিকা, আমাজন অববাহিকা, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় এই বৃষ্টিপাত সারাবছর দেখা যায়।
13. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত (Orographic Rainfall) কীভাবে ঘটে তা চিত্রসহ ব্যাখ্যা করো।
শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত (Orographic Rainfall):
জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু প্রবাহপথে পর্বতে বাধা পেয়ে উপরে উঠে ঘনীভূত হয়ে যে বৃষ্টিপাত ঘটায়, তাকে শৈলোৎক্ষেপ (শৈল = পর্বত, উৎক্ষেপ = উপরে ওঠা) বৃষ্টিপাত বলে।
সংঘটনের প্রক্রিয়া:
- বায়ুর পর্বতগাত্রে বাধা পাওয়া: সমুদ্রের দিক থেকে আসা উষ্ণ ও জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু স্থলভাগের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়ার সময় তার গতিপথে আড়াআড়িভাবে কোনো সুউচ্চ পর্বত বা মালভূমি থাকলে বায়ু তাতে বাধা পায়।
- প্রতিবাদ ঢালে বৃষ্টিপাত: বাধা পেয়ে বায়ু পর্বতের যে ঢাল বেয়ে উপরের দিকে ওঠে, তাকে প্রতিবাদ ঢাল (Windward side) বলে। বায়ু উপরে উঠলে শীতল ও প্রসারিত হয়। এরপর বায়ু শিশিরাঙ্কে পৌঁছে ঘনীভূত হয় এবং পর্বতের প্রতিবাদ ঢালে প্রচুর শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত ঘটায়। (যেমন: দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু পশ্চিমঘাট পর্বতে বাধা পেয়ে ভারতের পশ্চিম উপকূলে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়)।
- বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল সৃষ্টি: প্রতিবাদ ঢালে প্রচুর বৃষ্টিপাতের পর বায়ু যখন পর্বতের বিপরীত ঢাল বা অনুবাত ঢাল (Leeward side) বেয়ে নীচে নামে, তখন বায়ুর উষ্ণতা বাড়ে এবং জলীয় বাষ্প ধারণ ক্ষমতা বাড়ে। কিন্তু বায়ুতে আর জলীয় বাষ্প না থাকায় অনুবাত ঢালে বৃষ্টিপাত প্রায় হয় না বললেই চলে। তাই এই অঞ্চলকে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল (Rain Shadow Area) বলে। (যেমন: দাক্ষিণাত্য মালভূমি)।
14. মৌসুমি বায়ুর ওপর জেট বায়ুর (Jet Stream) প্রভাব আলোচনা করো।
মৌসুমি বায়ুর ওপর জেট বায়ুর প্রভাব:
জেট বায়ু হল ট্রপোস্ফিয়ারের ঊর্ধ্বস্তরে (১০-১২ কিমি উঁচুতে) প্রবল বেগে প্রবাহিত সংকীর্ণ ও সর্পিল বায়ুপ্রবাহ। ভারতীয় মৌসুমি বায়ুর আগমন ও প্রত্যাবর্তনের ওপর দুটি জেট বায়ুর গভীর প্রভাব রয়েছে:
- পুবালি জেট বায়ুর প্রভাব (মৌসুমি বায়ুর আগমন): গ্রীষ্মকালে মে-জুন মাসে তিব্বত মালভূমি প্রচণ্ড উত্তপ্ত হলে সেখান থেকে উষ্ণ বায়ু উপরে উঠে ঊর্ধ্ব ট্রপোস্ফিয়ারে ক্রান্তীয় পুবালি জেট বায়ু (Tropical Easterly Jet) সৃষ্টি করে। এই বায়ু দক্ষিণ ভারতের ওপর দিয়ে বয়ে গিয়ে ভারত মহাসাগরের ওপর উচ্চচাপকে আরও শক্তিশালী করে। এর ফলে ভারত মহাসাগর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবল বেগে ভারতের স্থলভাগের নিম্নচাপের দিকে ছুটে আসে এবং ভারতে বর্ষাকাল শুরু হয়।
- উপক্রান্তীয় পশ্চিমা জেট বায়ুর প্রভাব (মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাবর্তন): শীতকালে (অক্টোবর-নভেম্বর) সূর্যের দক্ষিণায়নের ফলে উপক্রান্তীয় পশ্চিমা জেট বায়ু (Sub-tropical Westerly Jet) হিমালয়ের দক্ষিণে উত্তর ভারতের সমভূমির ওপর দিয়ে বইতে শুরু করে। এটি শীতল হওয়ায় উত্তর ভারতে উচ্চচাপের সৃষ্টি করে। এর প্রভাবে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে শীতল ও শুষ্ক উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু ভারতের স্থলভাগ থেকে সমুদ্রের দিকে প্রত্যাবর্তন করে।
15. বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল (Rain shadow area) কীভাবে সৃষ্টি হয় তা উদাহরণসহ বুঝিয়ে দাও।
বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল সৃষ্টি:
পর্বতের যে ঢালে বায়ু বাধা পেয়ে উপরে ওঠে (প্রতিবাদ ঢাল), সেখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটানোর পর সেই বায়ু যখন পর্বতের বিপরীত ঢাল বা অনুবাত ঢালে (Leeward side) নেমে আসে, তখন সেখানে বৃষ্টিপাত প্রায় হয় না। এই বৃষ্টিহীন শুষ্ক অঞ্চলকেই বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল বলে।
সৃষ্টির কারণ:
- জলীয় বাষ্পের অভাব: বায়ু প্রতিবাদ ঢালেই তার বেশিরভাগ জলীয় বাষ্প বৃষ্টিরূপে ঝরিয়ে ফেলে। ফলে অনুবাত ঢালে পৌঁছানোর সময় বায়ুতে জলীয় বাষ্প প্রায় থাকে না।
- বায়ুর উষ্ণতা বৃদ্ধি: পর্বত পার হয়ে বায়ু যখন অনুবাত ঢাল বেয়ে নীচের দিকে নামতে থাকে, তখন বায়ুর চাপ বাড়ে এবং বায়ু সংকুচিত হয়ে উষ্ণ হতে শুরু করে। বায়ুর উষ্ণতা বাড়লে তার জলীয় বাষ্প ধারণ ক্ষমতা বেড়ে যায়, ফলে ঘনীভবন ও বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যায়।
উদাহরণ:
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু পশ্চিমঘাট পর্বতের পশ্চিম ঢালে (প্রতিবাদ ঢালে) প্রচুর বৃষ্টিপাত (২৫০-৩০০ সেমি) ঘটায়। কিন্তু পর্বত পার হয়ে দাক্ষিণাত্য মালভূমিতে (অনুবাত ঢালে) নামলে বৃষ্টিপাত অনেক কমে যায় (৫০-৬০ সেমি)। তাই দাক্ষিণাত্য মালভূমি (পুণে) একটি বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল। একইভাবে মেঘালয়ের খাসি পাহাড়ের চেরাপুঞ্জিতে প্রচুর বৃষ্টি হলেও, উলটোদিকে অবস্থিত শিলং একটি বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল।
16. বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হওয়ার প্রধান পদ্ধতি বা প্রক্রিয়াগুলি আলোচনা করো।
বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হওয়ার প্রক্রিয়া:
সূর্যরশ্মি সরাসরি বায়ুমণ্ডলকে বিশেষ উত্তপ্ত করতে পারে না। প্রধানত তিনটি পদ্ধতিতে ভূপৃষ্ঠ থেকে বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হয়:
- বিকিরণ (Radiation): সূর্য থেকে আগত ক্ষুদ্র তরঙ্গের সৌর বিকিরণ বায়ুমণ্ডল ভেদ করে ভূপৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করে। এরপর উত্তপ্ত ভূপৃষ্ঠ সেই তাপ দীর্ঘ তরঙ্গরূপে মহাশূন্যে বিকিরণ করতে থাকে। ভূপৃষ্ঠ থেকে বিকিরিত এই তাপ বায়ুমণ্ডলের জলীয় বাষ্প, ধূলিকণা ও গ্রিনহাউস গ্যাসগুলি শোষণ করে এবং বায়ুমণ্ডল নীচ থেকে উপরের দিকে উত্তপ্ত হয়। বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হওয়ার এটিই প্রধান পদ্ধতি।
- পরিবহন (Conduction): উত্তপ্ত ভূপৃষ্ঠের সরাসরি সংস্পর্শে থাকা নীচের স্তরের বায়ু প্রথমে উত্তপ্ত হয়। এরপর সেই উত্তপ্ত স্তর থেকে তাপ তার ঠিক উপরের অপেক্ষাকৃত শীতল বায়ুর স্তরে পরিবাহিত হয়। এইভাবে অণুগুলির পারস্পরিক সংস্পর্শের মাধ্যমে তাপ সঞ্চালিত হওয়াকে পরিবহন বলে।
- পরিচলন (Convection): ভূপৃষ্ঠের সংস্পর্শে এসে নীচের স্তরের বায়ু উত্তপ্ত, হালকা ও প্রসারিত হয়ে সোজা উপরের দিকে উঠে যায়। ওই শূন্যস্থান পূরণের জন্য উপরের শীতল ও ভারী বায়ু নীচে নেমে আসে এবং পুনরায় উত্তপ্ত হয়ে উপরে ওঠে। বায়ুপ্রবাহের এই চক্রাকার চলাচলের মাধ্যমে সমগ্র বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হওয়ার পদ্ধতিকে পরিচলন বলে।
17. এল নিনো (El Nino) ও লা নিনার (La Nina) বৈশিষ্ট্য এবং ভারতীয় জলবায়ুতে এদের প্রভাব আলোচনা করো।
এল নিনো ও লা নিনা:
- এল নিনো (El Nino): এটি একটি উষ্ণ সমুদ্রস্রোত, যা নির্দিষ্ট কয়েক বছর অন্তর (২-৭ বছর) প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব উপকূলে (পেরু ও ইকুয়েডর) দক্ষিণমুখী প্রবাহিত হয়। এটি একটি স্পেনীয় শব্দ যার অর্থ 'বালক খ্রিষ্ট' (Little Boy)।
- লা নিনা (La Nina): এটি এল নিনোর ঠিক বিপরীত অবস্থা। এর অর্থ 'বালিকা' (Little Girl)। এই সময়ে প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব উপকূলে অতি শীতল স্রোতের আবির্ভাব ঘটে এবং পশ্চিমাংশে উষ্ণ স্রোত শক্তিশালী হয়।
ভারতীয় জলবায়ুতে প্রভাব:
- এল নিনোর প্রভাব (খরা): এল নিনো বছরগুলিতে প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বে নিম্নচাপ এবং পশ্চিমে (ভারত মহাসাগর সংলগ্ন) উচ্চচাপ সৃষ্টি হয়। এর ফলে ভারতের দিকে আগত দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে। মৌসুমি বায়ু দুর্বল হওয়ায় ভারতে বৃষ্টিপাত খুব কম হয় এবং ভয়াবহ খরা বা অনাবৃষ্টির সৃষ্টি হয়।
- লা নিনার প্রভাব (বন্যা): লা নিনা বছরগুলিতে প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম অংশে গভীর নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়। এর ফলে ভারতীয় মৌসুমি বায়ু অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং নির্দিষ্ট সময়ের আগেই প্রবল বেগে ভারতে প্রবেশ করে। এর ফলে ভারতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বৃষ্টিপাত হয় এবং ভয়াবহ বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হয়।
18. ঘূর্ণবাত বৃষ্টিপাত (Cyclonic Rainfall) বলতে কী বোঝো? ক্রান্তীয় ও নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাত বৃষ্টির পার্থক্য কী?
ঘূর্ণবাত বৃষ্টিপাত (Cyclonic Rainfall):
ভূপৃষ্ঠের কোনো স্থানে গভীর নিম্নচাপের সৃষ্টি হলে চারপাশের উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে বায়ু প্রবল বেগে কুণ্ডলাকারে ওই নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে ছুটে আসে এবং উষ্ণ হয়ে ঘূর্ণবাতের সৃষ্টি করে। এই ঊর্ধ্বগামী বায়ু শীতল ও ঘনীভূত হয়ে যে বৃষ্টিপাত ঘটায়, তাকে ঘূর্ণবাত বৃষ্টিপাত বা আবর্ত বৃষ্টিপাত বলে।
ক্রান্তীয় ও নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাতের পার্থক্য:
- উৎপত্তি অঞ্চল: ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত উষ্ণ ক্রান্তীয় অঞ্চলে (৫°-৩০° অক্ষাংশ) প্রধানত উষ্ণ সমুদ্রের ওপর সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে, নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাত মধ্য অক্ষাংশে (৩০°-৬৫° অক্ষাংশ) উষ্ণ ও শীতল বায়ুপুঞ্জের মিলনস্থলে (সীমান্তে) সৃষ্টি হয়।
- বৃষ্টিপাতের প্রকৃতি: ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতে প্রবল বজ্রবিদ্যুৎ ও প্রলয়ংকরী ঝড়সহ মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয়, তবে তা অল্পক্ষণ স্থায়ী হয়। অন্যদিকে, নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাতে ঝড়ের প্রকোপ কম থাকে, কিন্তু হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত একটানা কয়েক দিন ধরে চলতে থাকে।
- বিস্তৃতি: ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের বিস্তৃতি কম থাকে (ব্যাস ১০০-৫০০ কিমি)। কিন্তু নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাত বিশাল অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত থাকে (ব্যাস প্রায় ১০০০-২০০০ কিমি)।
19. ভূপৃষ্ঠে বায়ুর চাপের তারতম্যের প্রধান কারণগুলি কী কী?
বায়ুর চাপের তারতম্যের কারণ:
বায়ুর নিজস্ব ওজন আছে, যা ভূপৃষ্ঠের ওপর চাপ দেয়। কিন্তু পৃথিবীর সব জায়গায় বায়ুর চাপ সমান নয়, এর প্রধান কারণগুলি হল:
- বায়ুর উষ্ণতা: উষ্ণতার সাথে বায়ুর চাপের ব্যস্তানুপাতিক সম্পর্ক। বায়ু উত্তপ্ত হলে হালকা ও প্রসারিত হয়ে উপরে ওঠে, ফলে বায়ুর চাপ কমে (নিম্নচাপ হয়)। বায়ু শীতল হলে সংকুচিত ও ভারী হয়, ফলে বায়ুর চাপ বাড়ে (উচ্চচাপ হয়)। (যেমন নিরক্ষীয় অঞ্চলে নিম্নচাপ এবং মেরু অঞ্চলে উচ্চচাপ)।
- উচ্চতা (Altitude): ভূপৃষ্ঠ থেকে যত উপরের দিকে ওঠা যায়, বায়ুর ঘনত্ব ও ওজন তত কমতে থাকে। ফলে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে বায়ুর চাপ হ্রাস পায় (প্রতি ২৭৩ মিটারে ১ ইঞ্চি বা ৩৪ মিলিবার হারে চাপ কমে)। এই কারণে সমভূমির তুলনায় পাহাড়ে বায়ুর চাপ কম।
- জলীয় বাষ্প: জলীয় বাষ্প সাধারণ শুষ্ক বায়ুর চেয়ে হালকা। তাই বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি হলে বায়ুর চাপ কমে যায় (বর্ষাকালে নিম্নচাপ হয়)। বায়ুতে জলীয় বাষ্প কম থাকলে বায়ু ভারী হয় এবং চাপ বাড়ে (শীতকালে উচ্চচাপ হয়)।
- পৃথিবীর আবর্তন গতি: পৃথিবীর আবর্তন গতির কারণে ভূপৃষ্ঠের বায়ু ছিটকে বাইরের দিকে চলে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। নিরক্ষীয় ও উপমেরু অঞ্চলে আবর্তন বেগ বেশি হওয়ায় বায়ু বিক্ষিপ্ত হয়ে বায়ুর চাপ কমিয়ে দেয়।
- স্থলভাগ ও জলভাগের বণ্টন: গ্রীষ্মকালে মহাদেশগুলি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে নিম্নচাপ এবং মহাসাগরগুলি শীতল থাকায় উচ্চচাপ সৃষ্টি করে। শীতকালে এর ঠিক বিপরীত অবস্থা হয়।
20. ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে শীতকালে বৃষ্টিপাত হয় কেন?
ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুতে শীতকালে বৃষ্টিপাতের কারণ:
ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলগুলি মহাদেশের পশ্চিমভাগে ৩০° থেকে ৪৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত। এই অঞ্চলে গ্রীষ্মকাল শুষ্ক থাকে কিন্তু শীতকালে বৃষ্টিপাত হয়। এর প্রধান কারণগুলি হল:
- বায়ুচাপ বলয়ের স্থান পরিবর্তন: সূর্যের উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়নের সাথে সাথে বায়ুচাপ বলয়গুলিও ৫°-১০° উত্তরে বা দক্ষিণে সরে যায়।
- শীতকালে পশ্চিমা বায়ুর প্রভাব: শীতকালে সূর্যের দক্ষিণায়নের সময় কর্কটীয় উচ্চচাপ বলয়টি কিছুটা দক্ষিণ দিকে সরে যায়। ফলে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলটি তখন দক্ষিণ-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ুর প্রভাব বলয়ের মধ্যে চলে আসে।
- সমুদ্রের ওপর দিয়ে জলীয় বাষ্প সংগ্রহ: এই পশ্চিমা বায়ু আটলান্টিক মহাসাগর বা ভূমধ্যসাগরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করে।
- ঘূর্ণবাত বৃষ্টিপাত: জলীয় বাষ্পপূর্ণ এই পশ্চিমা বায়ু ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের স্থলভাগে প্রবেশ করে শৈলোৎক্ষেপ এবং ঘূর্ণবাত প্রক্রিয়ায় শীতকালে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত (৫০-৭৫ সেমি) ঘটায়। এই কারণেই ইউরোপের ইতালি, ফ্রান্স বা আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায় শীতকালে বৃষ্টি হয়।
মনে রেখো!
বায়ুর স্তর: ট্রপোস্ফিয়ার (ক্ষুব্ধমণ্ডল), স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার (শান্তমণ্ডল, ওজোন স্তর)।
বায়ুচাপ ও প্রবাহ: বায়ু সর্বদা উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপের দিকে বয়। ফেরেলের সূত্রানুসারে উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে বাঁকে।
বৃষ্টিপাত: নিরক্ষীয় অঞ্চলে পরিচলন বৃষ্টিপাত, পর্বতের প্রতিবাদ ঢালে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত হয়।
এল নিনো: এর প্রভাবে ভারতে খরা দেখা দেয়, আর লা নিনার প্রভাবে বন্যা হয়।