Chapter 6: ভারত (অর্থনৈতিক পরিবেশ)
সম্পূর্ণ অধ্যায়ের গভীর বিশ্লেষণ ও প্রস্তুতি | 70 MCQ | 40 SAQ | 14 Broad Questions
কৃষি ও ফসল শিল্পাঞ্চল জনসংখ্যা পরিবহণ যোগাযোগ
🌾
ভারতের কৃষি
খরিফ ও রবি শস্য, ধান, গম, চা, কার্পাস চাষের পরিবেশ
🏭
শিল্প ও পরিবহণ
লৌহ-ইস্পাত, তথ্যপ্রযুক্তি, নগরায়ণ এবং সোনালি চতুর্ভুজ
MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর
70 টি1. ভারতের প্রধান খাদ্যফসল কোনটি?
ক) গম
খ) ধান
গ) ভুট্টা
ঘ) জোয়ার
ব্যাখ্যা: ভারতের সর্বাধিক জমিতে ধান চাষ হয় এবং এটি ভারতের প্রধান খাদ্যফসল।
2. গম উৎপাদনে ভারতের কোন্ রাজ্য প্রথম স্থান অধিকার করে?
ক) পাঞ্জাব
খ) হরিয়ানা
গ) উত্তরপ্রদেশ
ঘ) মধ্যপ্রদেশ
ব্যাখ্যা: উত্তরপ্রদেশ ভারতের সর্বাধিক গম উৎপাদনকারী রাজ্য। হেক্টর প্রতি উৎপাদনে পাঞ্জাব প্রথম।
3. শীতকালে জলসেচের সাহায্যে যে ফসলের চাষ হয়, তাকে কী বলে?
ক) খরিফ শস্য
খ) রবি শস্য
গ) জাইদ শস্য
ঘ) বাগিচা ফসল
ব্যাখ্যা: শীতকালে (অক্টোবর-নভেম্বর মাসে বোনা হয় এবং ফেব্রুয়ারি-মার্চে কাটা হয়) বৃষ্টিবিহীন শুষ্ক আবহাওয়ায় জলসেচের সাহায্যে রবি শস্য (যেমন গম, ছোলা, সর্ষে) চাষ করা হয়।
4. নিচের কোনটি একটি খরিফ শস্যের উদাহরণ?
ক) গম
খ) যব
গ) ধান (আমন)
ঘ) ছোলা
ব্যাখ্যা: বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমনের সাথে সাথে যে শস্যের চাষ শুরু হয় তাকে খরিফ শস্য বলে। আমন ধান, পাট, কার্পাস এর উদাহরণ।
5. সবুজ বিপ্লব (Green Revolution) সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছিল কোন্ ফসল উৎপাদনে?
ব্যাখ্যা: ১৯৬০-এর দশকে উচ্চফলনশীল বীজের (যেমন গমের ক্ষেত্রে লারমা রোজো, সোনারা-৬৪) ব্যবহারে ভারতে গম উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
6. ভারতের কেন্দ্রীয় ধান গবেষণাগার কোথায় অবস্থিত?
ক) কটক
খ) পুসা
গ) নাগপুর
ঘ) জোরহাট
ব্যাখ্যা: ওড়িশার কটকে (Central Rice Research Institute) ভারতের প্রধান ধান গবেষণাগার অবস্থিত।
7. ভারতের কেন্দ্রীয় গম গবেষণাগার কোথায় অবস্থিত?
ক) দেরাদুন
খ) লখনউ
গ) পুসা (দিল্লি)
ঘ) কোয়েম্বাটুর
ব্যাখ্যা: দিল্লির পুসাতে (Pusa) ভারতের কেন্দ্রীয় গম গবেষণাগার অবস্থিত।
8. জোয়ার, বাজরা ও রাগি-কে একত্রে কী বলা হয়?
ক) তৈলবীজ
খ) মিলেট (Millet)
গ) বাগিচা ফসল
ঘ) তন্তু ফসল
ব্যাখ্যা: নিকৃষ্ট বা শুষ্ক জমিতে উৎপন্ন ক্ষুদ্র দানাশস্য জোয়ার, বাজরা ও রাগিকে একত্রে মিলেট বলে। রাজস্থান মিলেট উৎপাদনে প্রথম।
9. কার্পাস বা তুলা উৎপাদনে ভারতের কোন্ রাজ্য প্রথম?
ক) মহারাষ্ট্র
খ) গুজরাট
গ) অন্ধ্রপ্রদেশ
ঘ) পাঞ্জাব
ব্যাখ্যা: কালো মাটি বা রেগুর মৃত্তিকায় তুলা ভালো হয়। গুজরাট বর্তমানে তুলা উৎপাদনে ভারতে প্রথম স্থান অধিকার করে।
10. ভারতের কার্পাস গবেষণাগার কোথায় অবস্থিত?
ক) নাগপুর
খ) আহমেদাবাদ
গ) সুরাট
ঘ) মুম্বাই
ব্যাখ্যা: মহারাষ্ট্রের নাগপুরে (Nagpur) ভারতের কেন্দ্রীয় কার্পাস গবেষণাগার অবস্থিত।
11. ইক্ষু বা আঁখ উৎপাদনে ভারতের কোন্ রাজ্য প্রথম?
ক) মহারাষ্ট্র
খ) উত্তরপ্রদেশ
গ) তামিলনাড়ু
ঘ) কর্ণাটক
ব্যাখ্যা: উত্তরপ্রদেশ ভারতের সর্বাধিক ইক্ষু বা আঁখ উৎপাদনকারী রাজ্য।
12. ভারতের ইক্ষু গবেষণাগার কোথায় অবস্থিত?
ক) লখনউ
খ) কানপুর
গ) কোয়েম্বাটুর
ঘ) চেন্নাই
ব্যাখ্যা: উত্তরপ্রদেশের লখনউতে (Lucknow) ভারতের কেন্দ্রীয় ইক্ষু গবেষণাগার অবস্থিত। (প্রজনন কেন্দ্র কোয়েম্বাটুরে অবস্থিত)।
13. চা উৎপাদনে ভারতের কোন্ রাজ্য প্রথম স্থান অধিকার করে?
ক) পশ্চিমবঙ্গ
খ) কেরালা
গ) অসম
ঘ) ত্রিপুরা
ব্যাখ্যা: অসম (Assam) ভারতের সর্বাধিক চা উৎপাদনকারী রাজ্য। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ (দার্জিলিং, ডুয়ার্স)।
14. ভারতের চা গবেষণাগার কোথায় অবস্থিত?
ক) দার্জিলিং
খ) জোরহাট
গ) ডিব্রুগড়
ঘ) শিলিগুড়ি
ব্যাখ্যা: অসমের জোরহাটে (Jorhat) ভারতের কেন্দ্রীয় চা গবেষণাগার অবস্থিত।
15. কফি উৎপাদনে ভারতের কোন্ রাজ্য প্রথম?
ক) কেরালা
খ) কর্ণাটক
গ) তামিলনাড়ু
ঘ) অন্ধ্রপ্রদেশ
ব্যাখ্যা: কর্ণাটক (Karnataka) ভারতের সর্বাধিক কফি উৎপাদনকারী রাজ্য (মোট কফির ৭১%)।
16. ভারতের কফি গবেষণাগার কোথায় অবস্থিত?
ক) কোয়েম্বাটুর
খ) চিকমাগালুর
গ) মাইসোর
ঘ) তিরুবনন্তপুরম
ব্যাখ্যা: কর্ণাটকের চিকমাগালুরে (Chikmagalur) ভারতের কেন্দ্রীয় কফি গবেষণাগার অবস্থিত।
17. নিচের কোনটি একটি বাগিচা ফসলের (Plantation Crop) উদাহরণ?
ব্যাখ্যা: চা, কফি, রবার প্রভৃতি ফসল বাগিচা বা এস্টেট তৈরি করে বৃহৎ আয়তনে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয়, তাই এদের বাগিচা ফসল বলে।
18. 'শেকড় আলগা শিল্প' (Foot-loose Industry) কাকে বলা হয়?
ক) লৌহ-ইস্পাত শিল্প
খ) কার্পাস বয়ন শিল্প
গ) পেট্রোরসায়ন শিল্প
ঘ) অ্যালুমিনিয়াম শিল্প
ব্যাখ্যা: কার্পাস বয়ন শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল (তুলা) বিশুদ্ধ প্রকৃতির অর্থাৎ এর ওজন হ্রাস পায় না। তাই এই শিল্প কাঁচামাল উৎপাদক অঞ্চল বা বাজার—যেকোনো জায়গাতেই গড়ে উঠতে পারে। একে শেকড় আলগা শিল্প বলে।
19. ভারতের বৃহত্তম ও প্রাচীনতম শিল্প কোনটি?
ক) লৌহ-ইস্পাত শিল্প
খ) কার্পাস বয়ন শিল্প
গ) পাট শিল্প
ঘ) চা শিল্প
ব্যাখ্যা: কার্পাস বয়ন শিল্প (Cotton Textile) ভারতের সর্ববৃহৎ এবং সর্বাধিক কর্মসংস্থানকারী কৃষিভিত্তিক শিল্প।
20. ভারতের প্রথম সুতাকল (Cotton mill) কোথায় স্থাপিত হয়?
ক) মুম্বাই
খ) সুরাট
গ) ঘুঁষুড়ি (হাওড়া)
ঘ) আহমেদাবাদ
ব্যাখ্যা: ১৮১৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার ঘুঁষুড়িতে (ফোর্ট গ্লস্টার) ভারতের প্রথম সুতাকল স্থাপিত হয়।
21. ভারতের ম্যাঞ্চেস্টার (Manchester of India) কাকে বলা হয়?
ক) মুম্বাই
খ) আহমেদাবাদ
গ) কানপুর
ঘ) কোয়েম্বাটুর
ব্যাখ্যা: গুজরাটের আহমেদাবাদে অসংখ্য সুতাকল গড়ে ওঠায় একে 'ভারতের ম্যাঞ্চেস্টার' বলা হয়।
22. দক্ষিণ ভারতের ম্যাঞ্চেস্টার কাকে বলা হয়?
ক) চেন্নাই
খ) বেঙ্গালুরু
গ) কোয়েম্বাটুর
ঘ) মাদুরাই
ব্যাখ্যা: তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুরকে (Coimbatore) দক্ষিণ ভারতের ম্যাঞ্চেস্টার বলা হয়।
23. উত্তর ভারতের ম্যাঞ্চেস্টার কাকে বলা হয়?
ক) লখনউ
খ) কানপুর
গ) দিল্লি
ঘ) মিরাট
ব্যাখ্যা: উত্তরপ্রদেশের কানপুরকে (Kanpur) উত্তর ভারতের ম্যাঞ্চেস্টার বলা হয়।
24. 'ভারতের রূঢ়' (Ruhr of India) কাকে বলা হয়?
ক) জামশেদপুর
খ) ভিলাই
গ) দুর্গাপুর
ঘ) রৌরকেল্লা
ব্যাখ্যা: জার্মানির রূঢ় শিল্পাঞ্চলের মতো পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুরে দামোদর উপত্যকার কয়লার ওপর ভিত্তি করে বৃহৎ লৌহ-ইস্পাত শিল্প গড়ে ওঠায় একে ভারতের রূঢ় বলে।
25. ভারতের বৃহত্তম সরকারি লৌহ-ইস্পাত কারখানা কোনটি?
ক) ভিলাই
খ) দুর্গাপুর
গ) বোকারো
ঘ) রাউরকেল্লা
ব্যাখ্যা: ছত্তিশগড়ের ভিলাই (Bhilai) হল ভারতের বৃহত্তম সরকারি (SAIL-এর অধীন) লৌহ-ইস্পাত কেন্দ্র।
26. ভারতের বৃহত্তম বেসরকারি লৌহ-ইস্পাত কারখানা কোনটি?
ক) TISCO (জামশেদপুর)
খ) IISCO (বার্নপুর)
গ) বিশ্বেশ্বরাইয়া আয়রন অ্যান্ড স্টিল
ঘ) সালেম
ব্যাখ্যা: ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুরে সুবর্ণরেখা ও খরকাই নদীর সঙ্গমস্থলে অবস্থিত টাটা আয়রন অ্যান্ড স্টিল কোম্পানি (TISCO) ভারতের বৃহত্তম বেসরকারি লৌহ-ইস্পাত কেন্দ্র।
27. বোকারো লৌহ-ইস্পাত কেন্দ্রটি কোন্ দেশের সহায়তায় গড়ে উঠেছে?
ক) ব্রিটেন
খ) জার্মানি
গ) রাশিয়া (সোভিয়েত ইউনিয়ন)
ঘ) জাপান
ব্যাখ্যা: ঝাড়খণ্ডের বোকারো এবং ছত্তিশগড়ের ভিলাই ইস্পাত কারখানা সোভিয়েত ইউনিয়নের সহায়তায় গড়ে উঠেছে।
28. রৌরকেল্লা লৌহ-ইস্পাত কেন্দ্রটি কোন্ দেশের সহায়তায় গড়ে উঠেছে?
ক) জার্মানি
খ) রাশিয়া
গ) ব্রিটেন
ঘ) আমেরিকা
ব্যাখ্যা: ওড়িশার রৌরকেল্লা লৌহ-ইস্পাত কেন্দ্রটি পশ্চিম জার্মানির কারিগরি সহায়তায় গড়ে উঠেছে।
29. ভারতের প্রথম পেট্রোরসায়ন শিল্পকেন্দ্র কোথায় স্থাপিত হয়?
ক) ট্রম্বে
খ) হলদিয়া
গ) জামনগর
ঘ) ভাদোদরা
ব্যাখ্যা: ১৯৬৬ সালে মহারাষ্ট্রের ট্রম্বে-তে (Trombay) ভারতের প্রথম পেট্রোরসায়ন শিল্প গড়ে ওঠে।
30. ভারতের বৃহত্তম পেট্রোরসায়ন শিল্পকেন্দ্র কোনটি?
ক) হলদিয়া
খ) জামনগর
গ) ভাদোদরা
ঘ) থানে
ব্যাখ্যা: গুজরাটের জামনগরে (Jamnagar) রিলায়েন্সের মালিকানাধীন ভারতের তথা এশিয়ার বৃহত্তম পেট্রোরসায়ন শিল্পকেন্দ্রটি অবস্থিত।
31. কোন্ শিল্পকে 'আধুনিক শিল্পদানব' (Modern Industrial Giant) বলা হয়?
ক) লৌহ-ইস্পাত
খ) তথ্যপ্রযুক্তি
গ) পেট্রোরসায়ন
ঘ) অটোমোবাইল
ব্যাখ্যা: পেট্রোরসায়ন শিল্প থেকে অসংখ্য উপজাত দ্রব্য (প্লাস্টিক, রাবার, সার, কৃত্রিম তন্তু) উৎপন্ন হয় এবং এর ওপর নির্ভর করে বহু অনুসারী শিল্প গড়ে ওঠে। তাই একে 'আধুনিক শিল্পদানব' ও 'উদীয়মান শিল্প' (Sunrise Industry) বলে।
32. ভারতের ডেট্রয়েট (Detroit of India) কাকে বলা হয়?
ক) মুম্বাই
খ) চেন্নাই
গ) পুণে
ঘ) গুরগাঁও
ব্যাখ্যা: তামিলনাড়ুর চেন্নাইকে অটোমোবাইল বা মোটরগাড়ি নির্মাণ শিল্পের চরম উন্নতির জন্য ভারতের ডেট্রয়েট বলা হয়।
33. ভারতের বৃহত্তম মোটরগাড়ি নির্মাণ কেন্দ্র কোনটি?
ক) চেন্নাই
খ) গুরগাঁও
গ) পুণে
ঘ) জামশেদপুর
ব্যাখ্যা: হরিয়ানার গুরগাঁও (মারুতি উদ্যোগ লিমিটেড) ভারতের বৃহত্তম যাত্রীবাহী মোটরগাড়ি নির্মাণ কেন্দ্র।
34. ভারতের সিলিকন ভ্যালি (Silicon Valley of India) কাকে বলা হয়?
ক) হায়দ্রাবাদ
খ) চেন্নাই
গ) বেঙ্গালুরু
ঘ) পুণে
ব্যাখ্যা: তথ্যপ্রযুক্তি (IT) বা ইলেকট্রনিক্স শিল্পে অভাবনীয় উন্নতির কারণে কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুকে (Bengaluru) ভারতের সিলিকন ভ্যালি বলা হয়।
35. ২০১১ সালের জনগণনা (Census) অনুযায়ী ভারতের মোট জনসংখ্যা কত?
ক) ১০২ কোটি
খ) ১২১.০২ কোটি
গ) ১৩৫ কোটি
ঘ) ১৪০ কোটি
ব্যাখ্যা: ২০১১ সালের ১৫তম জনগণনা অনুযায়ী ভারতের জনসংখ্যা ছিল ১২১ কোটি ১ লক্ষ ৯৩ হাজার ৪২২ জন।
36. জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বে ভারতের স্থান কততম?
ক) প্রথম
খ) দ্বিতীয়
গ) তৃতীয়
ঘ) চতুর্থ
ব্যাখ্যা: ২০১১ সালের নিরিখে চীনের পর ভারতের স্থান বিশ্বে দ্বিতীয় (যদিও বর্তমানে ভারত প্রথম স্থানে উন্নীত হয়েছে)।
37. ২০১১ সেন্সাস অনুযায়ী ভারতের সর্বাধিক জনসংখ্যা বিশিষ্ট রাজ্য কোনটি?
ক) মহারাষ্ট্র
খ) বিহার
গ) পশ্চিমবঙ্গ
ঘ) উত্তরপ্রদেশ
ব্যাখ্যা: উত্তরপ্রদেশ (প্রায় ১৯.৯ কোটি) ভারতের সর্বাধিক জনবহুল রাজ্য।
38. ভারতের সর্বনিম্ন জনসংখ্যা বিশিষ্ট রাজ্য কোনটি?
ক) গোয়া
খ) সিকিম
গ) মিজোরাম
ঘ) অরুণাচল প্রদেশ
ব্যাখ্যা: সিকিম (প্রায় ৬ লক্ষ) ভারতের সবচেয়ে কম জনসংখ্যা বিশিষ্ট রাজ্য।
39. জনঘনত্ব (Density of Population) কীভাবে পরিমাপ করা হয়?
ক) মোট জনসংখ্যা ÷ মোট আয়তন
খ) মোট আয়তন ÷ মোট জনসংখ্যা
গ) মোট পুরুষ ÷ মোট নারী
ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা: প্রতি বর্গকিলোমিটারে যতজন মানুষ বসবাস করে, তাকে ওই স্থানের জনঘনত্ব বলে। (জনঘনত্ব = মোট জনসংখ্যা / মোট জমির আয়তন)।
40. ২০১১ সেন্সাস অনুযায়ী ভারতের গড় জনঘনত্ব কত?
ক) ৩২৪ জন/বর্গকিমি
খ) ৩৮২ জন/বর্গকিমি
গ) ৪১৪ জন/বর্গকিমি
ঘ) ৪৩২ জন/বর্গকিমি
ব্যাখ্যা: ২০১১ সালের হিসাব অনুযায়ী ভারতের গড় জনঘনত্ব ৩৮২ জন/বর্গকিলোমিটার।
41. ভারতের কোন্ রাজ্যে জনঘনত্ব সর্বাধিক?
ক) পশ্চিমবঙ্গ
খ) কেরালা
গ) বিহার
ঘ) উত্তরপ্রদেশ
ব্যাখ্যা: বিহার রাজ্যে জনঘনত্ব সর্বাধিক (১১০৬ জন/বর্গকিমি)। পশ্চিমবঙ্গ দ্বিতীয় স্থানে (১০২৮ জন/বর্গকিমি)।
42. ভারতের কোন্ রাজ্যে জনঘনত্ব সর্বনিম্ন?
ক) সিকিম
খ) জম্মু ও কাশ্মীর
গ) অরুণাচল প্রদেশ
ঘ) মিজোরাম
ব্যাখ্যা: অরুণাচল প্রদেশে জনঘনত্ব সবচেয়ে কম (মাত্র ১৭ জন/বর্গকিমি)।
43. ভারতের সর্বাধিক জনঘনত্ব বিশিষ্ট কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল কোনটি?
ক) চণ্ডীগড়
খ) পুদুচেরি
গ) লাক্ষাদ্বীপ
ঘ) দিল্লি
ব্যাখ্যা: জাতীয় রাজধানী অঞ্চল দিল্লিতে জনঘনত্ব সর্বাধিক (১১,৩২০ জন/বর্গকিমি)।
44. লিঙ্গ অনুপাত (Sex Ratio) বলতে কী বোঝায়?
ক) প্রতি ১০০০ জন নারীতে পুরুষের সংখ্যা
খ) প্রতি ১০০০ জন পুরুষে নারীর সংখ্যা
গ) মোট পুরুষ ও নারীর অনুপাত
ঘ) প্রতি ১০০ জন পুরুষে নারীর সংখ্যা
ব্যাখ্যা: প্রতি ১০০০ জন পুরুষ পিছু নারীর সংখ্যাকে লিঙ্গ অনুপাত বা নারী-পুরুষ অনুপাত বলে।
45. ২০১১ সেন্সাস অনুযায়ী ভারতের গড় লিঙ্গ অনুপাত কত?
ক) ৯৩৩ জন
খ) ৯৪০ জন
গ) ৯৪৩ জন
ঘ) ৯৪৫ জন
ব্যাখ্যা: ২০১১ সালের হিসাব অনুযায়ী ভারতে প্রতি ১০০০ জন পুরুষে নারীর সংখ্যা ৯৪৩ জন।
46. ভারতের কোন্ রাজ্যে লিঙ্গ অনুপাত সর্বাধিক (নারীর সংখ্যা পুরুষের চেয়ে বেশি)?
ক) তামিলনাড়ু
খ) কেরালা
গ) অন্ধ্রপ্রদেশ
ঘ) ছত্তিশগড়
ব্যাখ্যা: কেরালা রাজ্যে নারী-পুরুষ অনুপাত সর্বাধিক (১০৮৪ জন নারী প্রতি ১০০০ পুরুষে)।
47. ভারতের কোন্ রাজ্যে লিঙ্গ অনুপাত সর্বনিম্ন?
ক) হরিয়ানা
খ) পাঞ্জাব
গ) বিহার
ঘ) উত্তরপ্রদেশ
ব্যাখ্যা: হরিয়ানা রাজ্যে লিঙ্গ অনুপাত সর্বনিম্ন (৮৭৯ জন নারী প্রতি ১০০০ পুরুষে)।
48. ২০১১ সেন্সাস অনুযায়ী ভারতের সাক্ষরতার হার (Literacy Rate) কত?
ক) ৬৫.৩৮%
খ) ৭৩.০৪%
গ) ৭৪.০৪%
ঘ) ৮০.০৪%
ব্যাখ্যা: ২০১১ সালের হিসাব অনুযায়ী ভারতের গড় সাক্ষরতার হার ৭৪.০৪% (পুরুষ ৮২.১৪%, নারী ৬৫.৪৬%)।
49. ভারতের কোন্ রাজ্যে সাক্ষরতার হার সর্বাধিক?
ক) মিজোরাম
খ) ত্রিপুরা
গ) গোয়া
ঘ) কেরালা
ব্যাখ্যা: কেরালা রাজ্যে সাক্ষরতার হার সর্বাধিক (৯৪%)।
50. ভারতের কোন্ রাজ্যে সাক্ষরতার হার সর্বনিম্ন?
ক) বিহার
খ) ঝাড়খণ্ড
গ) অরুণাচল প্রদেশ
ঘ) রাজস্থান
ব্যাখ্যা: বিহার রাজ্যে সাক্ষরতার হার সর্বনিম্ন (৬১.৮%)।
51. জনগণনার বিচারে ভারতের একটি 'শহর' (Town) হতে গেলে ন্যূনতম জনসংখ্যা কত হওয়া প্রয়োজন?
ক) ২,০০০ জন
খ) ৪,০০০ জন
গ) ৫,০০০ জন
ঘ) ১০,০০০ জন
ব্যাখ্যা: ভারতের জনগণনা বিভাগ অনুযায়ী একটি শহর হতে গেলে ন্যূনতম জনসংখ্যা ৫,০০০ জন হতে হবে এবং জনঘনত্ব ৪০০ জন/বর্গকিমি হতে হবে।
52. কোনো শহরের জনসংখ্যা ১ লক্ষের বেশি হলে তাকে কী বলে?
ক) নগর (City)
খ) মহানগর (Metropolis)
গ) মেগাসিটি (Megacity)
ঘ) শহর (Town)
ব্যাখ্যা: ১ লক্ষ বা তার বেশি জনসংখ্যা বিশিষ্ট শহরকে নগর বা City বলে।
53. কোনো শহরের জনসংখ্যা ১০ লক্ষ বা ১ মিলিয়নের বেশি হলে তাকে কী বলে?
ক) নগর
খ) মহানগর (Metropolis)
গ) মেগাসিটি
ঘ) মেগালোপলিস
ব্যাখ্যা: ১০ লক্ষের বেশি জনসংখ্যা বিশিষ্ট শহরকে মহানগর বা মিলিয়ন সিটি বলে। ভারতে ৫৩টি মহানগর আছে (২০১১ অনুযায়ী)।
54. কোনো শহরের জনসংখ্যা ৫০ লক্ষ বা ৫ মিলিয়নের বেশি হলে তাকে কী বলে?
ক) মেগাসিটি (Megacity)
খ) মহানগর
গ) নগর
ঘ) স্মার্ট সিটি
ব্যাখ্যা: ৫০ লক্ষের বেশি জনসংখ্যা বিশিষ্ট বিশাল মহানগরকে মেগাসিটি বলে। ভারতে বর্তমানে ৩টি মেগাসিটি আছে (মুম্বাই, দিল্লি, কলকাতা)।
55. ভারতের বৃহত্তম মেগাসিটি বা মহানগর কোনটি?
ক) কলকাতা
খ) দিল্লি
গ) মুম্বাই
ঘ) চেন্নাই
ব্যাখ্যা: মুম্বাই (গ্রেটার মুম্বাই) ভারতের সর্বাধিক জনবহুল মহানগর বা মেগাসিটি (১.৮৪ কোটি)।
56. ভারতের দীর্ঘতম জাতীয় সড়ক (National Highway) কোনটি?
ক) NH 2
খ) NH 7 (বর্তমানে NH 44)
গ) NH 6
ঘ) NH 8
ব্যাখ্যা: শ্রীনগর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত বিস্তৃত NH 44 (পুরোনো নাম NH 7) হল ভারতের দীর্ঘতম জাতীয় সড়ক।
57. সোনালি চতুর্ভুজ (Golden Quadrilateral) প্রকল্পটির মাধ্যমে কোন্ চারটি মহানগরকে যুক্ত করা হয়েছে?
ক) দিল্লি, মুম্বাই, চেন্নাই, কলকাতা
খ) দিল্লি, পুণে, বেঙ্গালুরু, হায়দ্রাবাদ
গ) কলকাতা, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, দিল্লি
ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা: চার থেকে ছয় লেনের অতি দ্রুতগামী সড়কপথের মাধ্যমে ভারতের চারটি মেগাসিটি (দিল্লি, মুম্বাই, চেন্নাই, কলকাতা) যুক্ত করার প্রকল্পকে সোনালি চতুর্ভুজ বলে। (দৈর্ঘ্য ৫৮৪৬ কিমি)।
58. হীরক চতুর্ভুজ (Diamond Quadrilateral) প্রকল্পটি কোন্ পরিবহণ ব্যবস্থার সাথে যুক্ত?
ক) সড়কপথ
খ) রেলপথ
গ) জলপথ
ঘ) বিমানপথ
ব্যাখ্যা: অতি দ্রুতগামী ট্রেনের (High-speed rail) মাধ্যমে ভারতের চার মহানগরকে যুক্ত করার প্রকল্পকে হীরক চতুর্ভুজ বলে।
59. ভারতের প্রথম রেলপথ (Railway) কবে স্থাপিত হয়?
ক) ১৮৫৩ সালে
খ) ১৮৫৪ সালে
গ) ১৮৫৫ সালে
ঘ) ১৯৫৩ সালে
ব্যাখ্যা: ১৮৫৩ সালের ১৬ এপ্রিল লর্ড ডালহৌসির আমলে মুম্বাই থেকে থানে পর্যন্ত (৩৪ কিমি) ভারতের প্রথম ট্রেন চলে।
60. ভারতের দীর্ঘতম রেলপথ রুট কোনটি?
ক) হাওড়া থেকে মুম্বাই
খ) ডিব্রুগড় থেকে কন্যাকুমারী
গ) জম্মু থেকে কন্যাকুমারী
ঘ) দিল্লি থেকে চেন্নাই
ব্যাখ্যা: অসমের ডিব্রুগড় থেকে তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারী পর্যন্ত বিবেক এক্সপ্রেস (Vivek Express) ভারতের দীর্ঘতম রেলপথ রুট অতিক্রম করে।
61. ভারতের প্রথম মেট্রো রেল (Metro Rail) কোথায় চালু হয়?
ক) দিল্লি
খ) মুম্বাই
গ) কলকাতা
ঘ) চেন্নাই
ব্যাখ্যা: ১৯৮৪ সালে কলকাতায় ভারতের প্রথম পাতালরেল বা মেট্রো রেল চালু হয়।
62. ভারতের দীর্ঘতম অভ্যন্তরীণ জলপথ (National Waterway 1) কোন্ নদীতে অবস্থিত?
ক) ব্রহ্মপুত্র
খ) গোদাবরী
গ) গঙ্গা-ভাগীরথী-হুগলি
ঘ) কৃষ্ণা
ব্যাখ্যা: এলাহাবাদ (প্রয়াগরাজ) থেকে হলদিয়া পর্যন্ত গঙ্গা নদীর ১৬২০ কিমি জলপথকে NW-1 বলা হয়, যা ভারতের দীর্ঘতম।
63. ভারতের গভীরতম ও সুরক্ষিত সমুদ্রবন্দর কোনটি?
ক) মুম্বাই
খ) বিশাখাপত্তনম
গ) চেন্নাই
ঘ) পারাদ্বীপ
ব্যাখ্যা: অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম (Visakhapatnam) ভারতের গভীরতম এবং ডলফিন নোজ নামক পাহাড় দ্বারা সুরক্ষিত একটি স্বাভাবিক বন্দর।
64. ভারতের বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর কোনটি?
ক) কলকাতা
খ) চেন্নাই
গ) মুম্বাই
ঘ) কান্ডালা
ব্যাখ্যা: আরব সাগরের উপকূলে অবস্থিত মুম্বাই বন্দর (Mumbai Port) ভারতের বৃহত্তম প্রাকৃতিক বন্দর।
65. ভারতের একটি শুল্কমুক্ত (Tax-free) বন্দর কোনটি?
ক) কান্ডালা
খ) মার্মাগাঁও
গ) হলদিয়া
ঘ) কোচি
ব্যাখ্যা: গুজরাটের কান্ডালা (Kandla) বা দীনদয়াল বন্দর ভারতের প্রথম এবং প্রধান শুল্কমুক্ত (SEZ) বন্দর।
66. ভারতের হাইটেক বা নবীনতম বন্দর কোনটি?
ক) জওহরলাল নেহেরু বন্দর (নভসেবা)
খ) এন্নোর
গ) তুতিকোরিন
ঘ) ম্যাঙ্গালোর
ব্যাখ্যা: মুম্বাই বন্দরের চাপ কমানোর জন্য সম্পূর্ণ কম্পিউটারাইজড জওহরলাল নেহেরু বন্দর (Nhava Sheva) তৈরি করা হয়েছে।
67. ভারতের প্রাচীনতম কৃত্রিম বন্দর কোনটি?
ক) মুম্বাই
খ) চেন্নাই
গ) কলকাতা
ঘ) পারাদ্বীপ
ব্যাখ্যা: তামিলনাড়ুর চেন্নাই বন্দর ভারতের প্রাচীনতম কৃত্রিম (Artificial) বন্দর।
68. কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় পদার্থ (যেমন খনিজ তেল, গ্যাস) একসঙ্গে পরিবহণের সবচেয়ে সস্তা মাধ্যম কোনটি?
ক) সড়কপথ
খ) রেলপথ
গ) পাইপলাইন (Pipeline)
ঘ) জলপথ
ব্যাখ্যা: খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস বা জল পরিবহণের জন্য নলপথ বা পাইপলাইন সবচেয়ে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী মাধ্যম।
69. ভারতের প্রথম বিমান চলাচল কবে শুরু হয়?
ক) ১৯১১ সালে
খ) ১৯২১ সালে
গ) ১৯৩১ সালে
ঘ) ১৯৪৭ সালে
ব্যাখ্যা: ১৯২১ সালে এলাহাবাদ থেকে নৈনি পর্যন্ত প্রথম ডাক নিয়ে বিমান চলাচল শুরু হয়।
70. ভারতের ব্যস্ততম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কোনটি?
ক) নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
খ) ছত্রপতি শিবাজী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
গ) ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
ঘ) রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
ব্যাখ্যা: নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (IGIA) ভারতের ব্যস্ততম বিমানবন্দর।
SAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (১ ও ২ নম্বর)
40 টি1. খরিফ শস্য (Kharif Crop) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমনের সাথে সাথে (জুন-জুলাই মাসে) যে শস্যের বীজ বপন করা হয় এবং শরৎকালে (নভেম্বর-ডিসেম্বর) ফসল কাটা হয়, তাকে খরিফ শস্য বলে। উদাহরণ: আমন ধান, পাট, কার্পাস বা তুলা, ভুট্টা।
2. রবি শস্য (Rabi Crop) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
শীতকালে বৃষ্টিবিহীন শুষ্ক আবহাওয়ায় জলসেচের ওপর নির্ভর করে (অক্টোবর-নভেম্বর মাসে) যে শস্যের চাষ শুরু হয় এবং বসন্তকালে (ফেব্রুয়ারি-মার্চ) কাটা হয়, তাকে রবি শস্য বলে। উদাহরণ: গম, বোরো ধান, আলু, সর্ষে, ছোলা।
3. জাইদ শস্য (Zaid Crop) কী?
রবি শস্য কাটার পর এবং খরিফ শস্য বোনার আগে গ্রীষ্মকালে (মার্চ-জুন) যে অতি অল্প সময়ে সেচের সাহায্যে যে ফসলের চাষ হয়, তাকে জাইদ শস্য বলে। উদাহরণ: আউশ ধান, তরমুজ, শসা, শাকসবজি।
4. বাগিচা ফসল (Plantation Crop) কাকে বলে?
একবার গাছ লাগিয়ে দীর্ঘকাল ধরে যে ফসল থেকে বাণিজ্যিকভাবে ফলন পাওয়া যায় এবং যা সাধারণত পাহাড়ি ঢালে বৃহদায়তন এস্টেট বা বাগিচা তৈরি করে চাষ করা হয়, তাকে বাগিচা ফসল বলে। উদাহরণ: চা, কফি, রবার, মশলা।
5. মিলেট (Millet) কী?
অল্প বৃষ্টিপাতে এবং অনুর্বর শুষ্ক জমিতে যে ক্ষুদ্র দানাযুক্ত নিকৃষ্ট শস্যের চাষ হয়, তাদের একত্রে মিলেট বলে। জোয়ার, বাজরা ও রাগি প্রধান মিলেট। রাজস্থান মিলেট উৎপাদনে ভারতে প্রথম।
6. সবুজ বিপ্লব (Green Revolution) বলতে কী বোঝো?
১৯৬০-এর দশকে ভারতে উচ্চফলনশীল বীজ (HYV), প্রচুর রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার এবং উন্নত জলসেচের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদনের (বিশেষত গম ও ধানের) অভাবনীয় ও বৈপ্লবিক বৃদ্ধিকে সবুজ বিপ্লব বলে। ড. এম. এস. স্বামীনাথনকে ভারতের সবুজ বিপ্লবের জনক বলা হয়।
7. শ্বেত বিপ্লব ও নীল বিপ্লব কীসের সাথে যুক্ত?
দুগ্ধ বা দুধ উৎপাদনের বিপুল বৃদ্ধিকে শ্বেত বিপ্লব (White Revolution) এবং মৎস্য উৎপাদনের বৃদ্ধিকে নীল বিপ্লব (Blue Revolution) বলে।
8. বিশুদ্ধ কাঁচামাল (Pure Raw Material) কাকে বলে?
যেসব কাঁচামাল শিল্পজাত দ্রব্যে পরিণত হওয়ার পর ওজনে কমে যায় না অর্থাৎ কাঁচামাল ও উৎপন্ন দ্রব্যের ওজন প্রায় সমান থাকে, তাদের বিশুদ্ধ কাঁচামাল বলে। যেমন: তুলা, উল।
9. অবিশুদ্ধ কাঁচামাল (Impure Raw Material) কী?
যেসব কাঁচামাল শিল্পজাত দ্রব্যে পরিণত হওয়ার পর ওজনে অনেক কমে যায় (ওজন হ্রাস পায়), তাদের অবিশুদ্ধ কাঁচামাল বলে। যেমন: আকরিক লোহা, ইক্ষু বা আঁখ, কয়লা।
10. শেকড় আলগা শিল্প (Foot-loose Industry) কাকে বলে?
বিশুদ্ধ কাঁচামাল নির্ভর শিল্পগুলি (যেমন কার্পাস বয়ন শিল্প) কাঁচামাল উৎপাদক অঞ্চল বা বাজার—যেকোনো সুবিধাজনক স্থানে গড়ে উঠতে পারে। নির্দিষ্ট কোনো স্থানে আবদ্ধ থাকে না বলে এদের শেকড় আলগা বা অস্থানু শিল্প বলে।
11. ভারতের ম্যানচেস্টার (Manchester of India) কাকে এবং কেন বলা হয়?
গুজরাটের আহমেদাবাদ শহরকে ভারতের ম্যানচেস্টার বলা হয়। কারণ ব্রিটেনের ম্যাঞ্চেস্টারের মতো এখানেও উন্নত জলবায়ু ও কাঁচামালের ওপর ভিত্তি করে অসংখ্য কার্পাস বা সুতাকল গড়ে উঠেছে।
12. পেট্রোরসায়ন শিল্পকে 'উদীয়মান শিল্প' (Sunrise Industry) বলা হয় কেন?
পেট্রোরসায়ন শিল্পের ওপর নির্ভর করে অসংখ্য অনুসারী শিল্প (প্লাস্টিক, পলিমার, কৃত্রিম তন্তু, সার) গড়ে ওঠে। এই শিল্পের চাহিদা ও প্রসার ভবিষ্যতে অত্যন্ত উজ্জ্বল এবং সম্ভাবনাময় বলে একে উদীয়মান শিল্প বলে।
13. অনুসারী শিল্প (Downstream Industry) কাকে বলে?
কোনো একটি বৃহৎ শিল্পের উৎপন্ন দ্রব্যকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে যখন তার চারপাশে ছোটো ছোটো অসংখ্য শিল্প গড়ে ওঠে, তখন তাদের অনুসারী শিল্প বা ডাউনস্ট্রিম শিল্প বলে। (যেমন পেট্রোরসায়ন ও অটোমোবাইলের অনুসারী শিল্প)।
14. ভারতের ডেট্রয়েট (Detroit) কাকে বলে এবং কেন?
তামিলনাড়ুর চেন্নাইকে ভারতের ডেট্রয়েট বলা হয়। কারণ আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েট শহরের মতো চেন্নাই ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে মোটরগাড়ি বা অটোমোবাইল নির্মাণ শিল্পের অভাবনীয় উন্নতি ঘটেছে।
15. তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প (Information Technology Industry) কী?
কম্পিউটার, ইন্টারনেট, টেলিকমিউনিকেশন ইত্যাদির সাহায্যে তথ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ এবং আদানপ্রদান করার সাথে যুক্ত জ্ঞানভিত্তিক শিল্পকে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প (IT) বলে।
16. ভারতের সিলিকন ভ্যালি কাকে এবং কেন বলা হয়?
কর্ণাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুকে ভারতের সিলিকন ভ্যালি বলা হয়। কারণ আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালির মতো এখানেও ভারতের সর্বাধিক তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স শিল্পের কেন্দ্রীভবন ঘটেছে (যেমন Infosys, Wipro এর সদর দপ্তর)।
17. জনঘনত্ব (Density of Population) বলতে কী বোঝায়?
কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে প্রতি বর্গকিলোমিটারে যতজন মানুষ বসবাস করে, সেই সংখ্যাকে ওই অঞ্চলের জনঘনত্ব বলে। (জনঘনত্ব = মোট জনসংখ্যা ÷ ওই স্থানের মোট আয়তন)।
18. লিঙ্গ অনুপাত বা নারী-পুরুষ অনুপাত (Sex Ratio) কী?
কোনো দেশে বা অঞ্চলে প্রতি ১০০০ জন পুরুষ পিছু নারী বা মহিলার সংখ্যাকে লিঙ্গ অনুপাত বা Sex Ratio বলে। ২০১১ অনুযায়ী ভারতের লিঙ্গ অনুপাত ১০০০:৯৪৩।
19. সাক্ষরতার হার (Literacy Rate) কী?
৭ বছর বা তার বেশি বয়সি জনসংখ্যার মধ্যে যারা অন্তত যেকোনো একটি ভাষায় লিখতে, পড়তে ও বুঝতে পারে, তাদের শতকরা হারকে সাক্ষরতার হার বলে। ২০১১ অনুযায়ী ভারতের সাক্ষরতার হার ৭৪.০৪%।
20. কাম্য জনসংখ্যা (Optimum Population) কাকে বলে?
কোনো দেশের উপলব্ধ প্রাকৃতিক সম্পদের সাথে সেখানকার জনসংখ্যার আকার যদি সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, অর্থাৎ সম্পদ ও মানুষের মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়, তবে তাকে কাম্য জনসংখ্যা বলে।
21. জনবিস্ফোরণ (Population Explosion) কী?
যখন কোনো দেশে জন্মহারের তুলনায় মৃত্যুহার আচমকা অনেকটা কমে যায়, তখন জনসংখ্যা অতি দ্রুত ও অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পায়। জনসংখ্যার এই অনিয়ন্ত্রিত দ্রুত বৃদ্ধিকে জনবিস্ফোরণ বলে।
22. নগরায়ণ (Urbanization) কাকে বলে?
গ্রামের মানুষের শহরে স্থানান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়া, গ্রামীণ এলাকার শহর বা নগরে রূপান্তরিত হওয়া এবং শহরের জীবনযাত্রা ও পরিকাঠামোর সম্প্রসারণের সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে নগরায়ণ বলে।
23. পৌরবসতি বা শহর (Town) হওয়ার শর্তগুলি কী কী?
ভারতের জনগণনা বিভাগ অনুযায়ী একটি শহর হতে গেলে: ১) জনসংখ্যা ন্যূনতম ৫,০০০ জন হতে হবে, ২) জনঘনত্ব অন্তত ৪০০ জন/বর্গকিমি হতে হবে, এবং ৩) পুরুষ কর্মীদের অন্তত ৭৫% অকৃষিজ কাজে নিযুক্ত থাকতে হবে।
24. মহানগর বা মিলিয়ন সিটি (Metropolis) কাকে বলে? ভারতের বৃহত্তম মহানগর কোনটি?
যে শহরের জনসংখ্যা ১০ লক্ষ (১ মিলিয়ন) বা তার বেশি, তাকে মহানগর বলে। ভারতের বৃহত্তম মহানগর বা মেগাসিটি হল মুম্বাই।
25. মেগাসিটি (Megacity) কী? ভারতে কয়টি মেগাসিটি আছে?
যেসব সুবিশাল মহানগরের জনসংখ্যা ৫০ লক্ষ (৫ মিলিয়ন) বা তার বেশি, তাদের মেগাসিটি বলে। ২০১১ সালের সেন্সাস অনুযায়ী ভারতে ৩টি মেগাসিটি আছে— মুম্বাই, দিল্লি এবং কলকাতা। (বর্তমানে চেন্নাই, বেঙ্গালুরু ও হায়দ্রাবাদও মেগাসিটি)।
26. সোনালি চতুর্ভুজ (Golden Quadrilateral) কী?
চার থেকে ছয় লেনের অতি আধুনিক ও দ্রুতগামী জাতীয় সড়কের মাধ্যমে ভারতের চার প্রান্তের চারটি প্রধান মহানগরকে (দিল্লি, মুম্বাই, চেন্নাই ও কলকাতা) যুক্ত করার বৃহৎ সড়ক প্রকল্পকে সোনালি চতুর্ভুজ বলে। இதன் মোট দৈর্ঘ্য ৫৮৪৬ কিমি।
27. উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্ব-পশ্চিম করিডর (NS-EW Corridor) কী?
ভারতের উত্তর প্রান্ত শ্রীনগরের সাথে দক্ষিণ প্রান্ত কন্যাকুমারী (উত্তর-দক্ষিণ করিডর) এবং পশ্চিম প্রান্ত পোরবন্দরের (গুজরাট) সাথে পূর্ব প্রান্ত শিলচরকে (অসম) অতি দ্রুতগামী সড়কপথের দ্বারা যুক্ত করার প্রকল্প। এই দুটি করিডর ঝাঁসিতে একে অপরকে ছেদ করেছে।
28. হীরক চতুর্ভুজ (Diamond Quadrilateral) কী?
ভারতের চারটি প্রধান মেগাসিটিকে (দিল্লি, মুম্বাই, চেন্নাই, কলকাতা) হাই-স্পিড রেল নেটওয়ার্ক বা অতি দ্রুতগামী ট্রেনের (যেমন বুলেট ট্রেন) মাধ্যমে যুক্ত করার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে হীরক চতুর্ভুজ বলে।
29. রজ্জুপথ বা রোপওয়ে (Ropeway) কী?
পার্বত্য বা দুর্গম অঞ্চলে যেখানে সড়কপথ বা রেলপথ নির্মাণ সম্ভব নয়, সেখানে শক্তিশালী স্টিলের তারের (রোপ) সাহায্যে ঝোলানো ট্রলি বা কেবিনের মাধ্যমে যাত্রী ও মালপত্র পরিবহণের মাধ্যমকে রজ্জুপথ বা রোপওয়ে বলে।
30. নলপথ বা পাইপলাইন (Pipeline) পরিবহণের সুবিধা কী?
তরল পদার্থ (খনিজ তেল, জল) এবং গ্যাসীয় পদার্থ (প্রাকৃতিক গ্যাস) নিরাপদে, দ্রুত এবং সবচেয়ে কম খরচে পরিবহণ করার জন্য মাটির তলা দিয়ে বা ওপর দিয়ে তৈরি পাইপলাইন হল সেরা মাধ্যম। এতে যানজটের বা আবহাওয়ার কোনো প্রভাব পড়ে না।
31. আভ্যন্তরীণ জলপথ (Inland Waterways) কাকে বলে?
দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন বড়ো নদী, খাল, হ্রদ ইত্যাদির ওপর দিয়ে নৌকা, স্টিমার বা লঞ্চের মাধ্যমে যে জলপথ পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে, তাকে অভ্যন্তরীণ জলপথ বলে। (যেমন গঙ্গা নদীর NW-1)।
32. পশ্চাৎভূমি (Hinterland) কাকে বলে?
কোনো সমুদ্রবন্দরের পেছনে অবস্থিত যে বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে ওই বন্দরে রপ্তানি করার জন্য মালপত্র আসে এবং ওই বন্দরে আমদানিকৃত পণ্য যে অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়, সেই সমগ্র অঞ্চলটিকে ওই বন্দরের পশ্চাৎভূমি বলে। পশ্চাৎভূমি উন্নত হলে বন্দরেরও উন্নতি হয়।
33. স্বাভাবিক ও কৃত্রিম বন্দরের পার্থক্য কী?
প্রাকৃতিকভাবে সমুদ্র উপকূল যদি ভগ্ন হয় এবং গভীর জলের সুবিধাযুক্ত হয়, তবে তাকে স্বাভাবিক বন্দর বলে (যেমন মুম্বাই, বিশাখাপত্তনম)। আর মানুষের দ্বারা সমুদ্রের পাড় খুঁড়ে বা কংক্রিট দিয়ে তৈরি বন্দরকে কৃত্রিম বন্দর বলে (যেমন চেন্নাই)।
34. শুল্কমুক্ত বন্দর (Free Trade Port) কাকে বলে?
যে সমুদ্রবন্দরে আমদানি ও রপ্তানিকৃত পণ্যের ওপর সরকারকে কোনো বাণিজ্য শুল্ক বা ট্যাক্স দিতে হয় না, তাকে শুল্কমুক্ত বন্দর বলে। গুজরাটের কান্ডালা (Kandla) বন্দর এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
35. ইন্টারনেট (Internet) কী?
ইন্টারনেট হল বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত অসংখ্য কম্পিউটার নেটওয়ার্কের একটি আন্তর্জাতিক সংযুক্তিকরণ (Network of networks), যার মাধ্যমে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে নিমেষের মধ্যে তথ্য বা খবর আদানপ্রদান করা যায়।
36. ই-মেইল (E-mail) কী?
ই-মেইল বা ইলেকট্রনিক মেইল হল ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে কম্পিউটার বা স্মার্টফোনের সাহায্যে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে খুব দ্রুত ও কম খরচে ডিজিটাল চিঠি বা মেসেজ পাঠানোর আধুনিক ব্যবস্থা।
37. জিআইএস (GIS) ও জিপিএস (GPS) এর পুরো নাম কী?
GIS এর পুরো নাম Geographical Information System এবং GPS এর পুরো নাম Global Positioning System।
38. ভারতের একটি বেসরকারি বিমান সংস্থার নাম লেখো।
ভারতের একটি জনপ্রিয় বেসরকারি বিমান সংস্থা (Airlines) হল ইন্ডিগো (IndiGo) বা স্পাইসজেট (SpiceJet)।
39. ভারতের দীর্ঘতম জাতীয় সড়ক কোনটি?
শ্রীনগর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত বিস্তৃত NH 44 (ন্যাশনাল হাইওয়ে ৪৪) হল ভারতের দীর্ঘতম জাতীয় সড়ক। এর আগের নাম ছিল NH 7।
40. মেট্রো রেলের সুবিধা কী?
বড়ো শহরগুলিতে যানজট এড়িয়ে প্রচুর সংখ্যক যাত্রীকে মাটির তলা দিয়ে বা উড়ালপুল দিয়ে দ্রুত, নিরাপদে এবং দূষণহীনভাবে যাতায়াত করতে মেট্রো রেল সাহায্য করে।
Broad Questions - বড়ো প্রশ্নোত্তর (৩ ও ৫ নম্বর)
14 টি1. ভারতে ধান চাষের অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশ আলোচনা করো।
ধান চাষের অনুকূল পরিবেশ:
ধান একটি ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চলের ফসল। এটি উৎপাদনে ভারত বিশ্বে দ্বিতীয়। এর চাষের জন্য নিম্নলিখিত পরিবেশ প্রয়োজন:
- উষ্ণতা: ধান চাষের জন্য বেশি উষ্ণতার প্রয়োজন। বীজ রোপণের সময় ২০°-২২°C, বৃদ্ধির সময় ২৩°-২৫°C এবং ফসল পাকার সময় ২৫°-৩০°C উষ্ণতা আদর্শ।
- বৃষ্টিপাত: ধানকে 'তৃষ্ণার্ত ফসল' বলা হয়। তাই প্রচুর বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন হয়, সাধারণত ১০০-২০০ সেমি বার্ষিক বৃষ্টিপাত আদর্শ। গাছের গোড়ায় জল দাঁড়িয়ে থাকা ধান চাষের পক্ষে ভালো।
- মৃত্তিকা: নদীর পলিমাটি, বদ্বীপ অঞ্চলের দোআঁশ মাটি এবং এঁটেল মাটি ধান চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। মাটির জলধারণ ক্ষমতা বেশি হওয়া প্রয়োজন।
- ভূমিরূপ: জমিতে জল ধরে রাখার জন্য জমিটি সমতল ও নিচু হওয়া প্রয়োজন। তবে পাহাড়ের ঢালে ধাপ কেটেও (টেরাস) ধানের চাষ হয়।
- শ্রমিক ও মূলধন: ধান চাষে বীজ বোনা, চারা পোঁতা, ফসল কাটা প্রভৃতি কাজে প্রচুর সস্তা ও দক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। এছাড়া উন্নত বীজ, সার ও সেচের জন্য মূলধনেরও দরকার হয়।
2. ভারতে গম চাষের অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশ আলোচনা করো।
গম চাষের অনুকূল পরিবেশ:
গম একটি নাতিশীতোষ্ণ ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলের রবি শস্য। ভারত গম উৎপাদনে বিশ্বে দ্বিতীয়। এর চাষের জন্য প্রয়োজন:
- উষ্ণতা: গম চাষের প্রথম অবস্থায় (শীতকালে) ১৪°-১৫°C এবং ফসল পাকার সময় (বসন্তকালে) রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া ও ২০°-২৫°C উষ্ণতা আদর্শ।
- বৃষ্টিপাত: গম চাষে খুব বেশি জলের প্রয়োজন হয় না। বার্ষিক ৫০-১০০ সেমি মাঝারি বৃষ্টিপাত যথেষ্ট। শীতকালে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার সামান্য বৃষ্টিপাত গম চাষের খুব উপকার করে। বৃষ্টি কম হলে জলসেচের সাহায্য নেওয়া হয়।
- মৃত্তিকা: নাইট্রোজেন যুক্ত উর্বর দোআঁশ মাটি, ভারী পলিমাটি এবং কৃষ্ণ মৃত্তিকা গম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
- ভূমিরূপ: গমের জমিতে জল দাঁড়ালে গাছের গোড়া পচে যায়। তাই জলনিকাশি ব্যবস্থাযুক্ত ইষৎ ঢালু বা তরঙ্গায়িত সমতলভূমি গম চাষের পক্ষে আদর্শ।
- অর্থনৈতিক পরিবেশ: জমি তৈরি ও ফসল কাটার জন্য ট্রাক্টর, হারভেস্টার প্রভৃতি উন্নত যন্ত্রপাতির ব্যবহার বেশি হয়, তাই মূলধন ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োজন হয়।
3. ভারতে চা চাষের অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশ বর্ণনা করো।
চা চাষের অনুকূল পরিবেশ:
চা একটি অন্যতম প্রধান পানীয় ও বাগিচা ফসল। ভারত চা উৎপাদনে পৃথিবীতে দ্বিতীয়। এর অনুকূল পরিবেশগুলি হল:
- উষ্ণতা: চা গাছ উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু পছন্দ করে। সারাবছর ২১°-২৭°C উষ্ণতা চা চাষের পক্ষে আদর্শ। খুব বেশি ঠান্ডা বা তুষারপাত চা গাছের ক্ষতি করে।
- বৃষ্টিপাত: চা চাষে প্রচুর বৃষ্টির প্রয়োজন, বার্ষিক ১৫০-২৫০ সেমি বা তার বেশি বৃষ্টিপাত দরকার। তবে সারাবছর ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়া খুব ভালো।
- মৃত্তিকা: লোহা ও ম্যাঙ্গানিজ যুক্ত উর্বর অম্লধর্মী (Acidic) পডসল মাটি এবং হিউমাস বা জৈব পদার্থ মিশ্রিত বনভূমির মাটি চা চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী।
- ভূমিরূপ: চা গাছের গোড়ায় জল দাঁড়ালে গাছের শেকড় পচে যায়। তাই জলনিকাশি ব্যবস্থাযুক্ত পাহাড় বা পর্বতের ঢালু জমি চা বাগিচা তৈরির জন্য সবচেয়ে আদর্শ (যেমন দার্জিলিং, অসমের পাহাড়ের ঢাল)।
- ছায়াপ্রদায়ী বৃক্ষ: সরাসরি প্রখর রোদ বা প্রবল বাতাস চা গাছের ক্ষতি করে। তাই চা বাগানে ছায়া দেওয়ার জন্য বড়ো পাতার গাছ (যেমন সিলভার ওক) লাগানো হয়।
- শ্রমিক: চা পাতা তোলার জন্য প্রচুর সস্তা ও দক্ষ মহিলা শ্রমিকের প্রয়োজন হয়, কারণ পাতা তোলার কাজ যন্ত্রের সাহায্যে করা যায় না।
4. ভারতে কার্পাস বা তুলা চাষের অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ আলোচনা করো।
কার্পাস বা তুলা চাষের অনুকূল পরিবেশ:
তুলা একটি ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলের তন্তু বা আঁশজাতীয় ফসল। এর চাষের অনুকূল পরিবেশ হল:
- উষ্ণতা: তুলা চাষের জন্য প্রচুর উত্তাপের প্রয়োজন হয়। সাধারণত ২০°-২৫°C উষ্ণতা তুলা চাষের পক্ষে আদর্শ। ফসল পাকার সময় রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া খুব জরুরি।
- তুহিনমুক্ত দিন: তুলা গাছ তুষারপাত বা তুহিন একেবারেই সহ্য করতে পারে না। তাই বছরে অন্তত ২০০-২১০টি তুহিনমুক্ত দিন তুলা চাষের জন্য অপরিহার্য।
- বৃষ্টিপাত: মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত, অর্থাৎ বার্ষিক ৫০-১০০ সেমি বৃষ্টি তুলা চাষের জন্য যথেষ্ট। গুটি পাকার সময় বৃষ্টি হলে তুলার মান নষ্ট হয়ে যায়।
- মৃত্তিকা: চুন ও টাইটানিয়াম যুক্ত উর্বর কালো মাটি বা রেগুর মৃত্তিকা তুলা চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী (যেমন দাক্ষিণাত্যের মালভূমি)। এছাড়া উর্বর দোআঁশ মাটিতেও তুলা চাষ হয়।
- ভূমিরূপ: গাছের গোড়ায় জল দাঁড়ালে ক্ষতি হয়, তাই জলনিকাশি ব্যবস্থাযুক্ত ইষৎ ঢালু সমতলভূমি প্রয়োজন।
- শ্রমিক: তুলার গুটি গাছ থেকে তোলার জন্য প্রচুর সুলভ শ্রমিকের প্রয়োজন হয়।
5. ভারতীয় কৃষির প্রধান সমস্যাগুলি কী কী? এর সমাধানের উপায়গুলি লেখো।
ভারতীয় কৃষির সমস্যা:
- মৌসুমি বায়ুর খামখেয়ালিপনা: ভারতীয় কৃষি মূলত প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। মৌসুমি বায়ু অনিয়মিত হওয়ায় অতিবৃষ্টিতে বন্যা এবং অনাবৃষ্টিতে খরার কারণে কৃষির ব্যাপক ক্ষতি হয়।
- জলসেচের অভাব: ভারতের সর্বত্র এখনো উন্নত জলসেচ ব্যবস্থা পৌঁছায়নি, ফলে বৃষ্টিপাতহীন অঞ্চলে বা শীতকালে চাষাবাদ ব্যাহত হয়।
- ক্ষুদ্র ও খণ্ডিত কৃষিজোত: উত্তরাধিকার আইনের কারণে ভারতের কৃষিজমিগুলি খণ্ডিত হয়ে অত্যন্ত ছোটো হয়ে গেছে। ফলে সেখানে ট্রাক্টর বা আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষ করা কঠিন হয়।
- মূলধন ও প্রযুক্তির অভাব: অধিকাংশ দরিদ্র কৃষকের কাছে উন্নত সার, বীজ ও আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি কেনার মতো পর্যাপ্ত মূলধন থাকে না, ফলে ফলন কম হয়।
- মৃত্তিকা ক্ষয় ও উর্বরতা হ্রাস: ক্রমাগত একই ফসলের চাষ এবং অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতির কারণে মাটির উর্বরতা কমছে এবং মৃত্তিকা ক্ষয় বাড়ছে।
সমাধানের উপায়:
- জলসেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং বৃষ্টির জল সংরক্ষণের (Rainwater harvesting) মাধ্যমে জলের অভাব দূর করা।
- কৃষকদের সহজ শর্তে ও কম সুদে কৃষিঋণ বা লোন প্রদান করা।
- উচ্চফলনশীল বীজ (HYV), জৈব সার ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করা।
- সমবায় প্রথার মাধ্যমে ক্ষুদ্র জমিগুলিকে একত্রিত করে বড়ো জমিতে বৈজ্ঞানিক চাষাবাদ করা।
6. পূর্ব ও মধ্য ভারতে লৌহ-ইস্পাত শিল্পের কেন্দ্রীভবনের প্রধান কারণগুলি আলোচনা করো।
পূর্ব ও মধ্য ভারতে লৌহ-ইস্পাত শিল্পের কেন্দ্রীভবন:
ভারতের অধিকাংশ বৃহৎ লৌহ-ইস্পাত শিল্পকেন্দ্র (যেমন জামশেদপুর, ভিলাই, দুর্গাপুর, রৌরকেল্লা, বোকারো) পূর্ব ও মধ্য ভারতের ছোটোনাগপুর মালভূমি সংলগ্ন অঞ্চলে গড়ে উঠেছে। এর প্রধান কারণগুলি হল:
- কাঁচামালের সহজলভ্যতা: লৌহ-ইস্পাত একটি অবিশুদ্ধ কাঁচামাল নির্ভর শিল্প (ওজন হ্রাস পায়)। এই অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে উৎকৃষ্ট মানের আকরিক লোহা (গুয়া, নোয়ামুণ্ডি), কয়লা (রানিগঞ্জ, ঝরিয়া, বোকারো), চুনাপাথর, ডলোমাইট এবং ম্যাঙ্গানিজ পাওয়া যায়। কাঁচামালের খনির কাছাকাছি হওয়ায় পরিবহণ খরচ অনেক কম হয়।
- বিদ্যুৎ ও জলের জোগান: শিল্পে প্রয়োজনীয় তাপবিদ্যুৎ স্থানীয় কয়লা থেকে এবং দামোদর উপত্যকা নিগম (DVC) থেকে জলবিদ্যুৎ সহজেই পাওয়া যায়। এছাড়া দামোদর, সুবর্ণরেখা, ব্রাহ্মণী প্রভৃতি নদী থেকে কারখানায় প্রয়োজনীয় প্রচুর জলের জোগান মেলে।
- উন্নত পরিবহণ ব্যবস্থা: এই অঞ্চলটি দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব রেলপথ এবং ২ ও ৬ নং (বর্তমানে ১৯ ও ১৬) জাতীয় সড়কের দ্বারা কলকাতা, হলদিয়া, পারাদ্বীপ বন্দরের সাথে ভালোভাবে যুক্ত। ফলে যন্ত্রপাতি আমদানি ও উৎপাদিত দ্রব্য রপ্তানি করা সহজ।
- সুলভ শ্রমিক: ঝাড়খণ্ড, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা প্রভৃতি ঘনবসতিপূর্ণ রাজ্যগুলি থেকে প্রচুর সস্তা ও দক্ষ শ্রমিক সহজেই পাওয়া যায়।
- বন্দর ও বাজার: কলকাতা, হলদিয়া ও পারাদ্বীপ বন্দরের নৈকট্য এবং কলকাতা, দুর্গাপুর, আসানসোল শিল্পাঞ্চলে লৌহ-ইস্পাতের ব্যাপক চাহিদা বা বাজার এই শিল্পের উন্নতিতে সাহায্য করেছে।
7. পশ্চিম ভারতে কার্পাস বয়ন শিল্পের (Cotton Textile Industry) একদেশীভবন বা উন্নতির কারণগুলি কী কী?
পশ্চিম ভারতে কার্পাস বয়ন শিল্পের উন্নতির কারণ:
ভারতের পশ্চিমাংশে বিশেষত মহারাষ্ট্র (মুম্বাই) এবং গুজরাটে (আহমেদাবাদ, সুরাট) ভারতের অধিকাংশ সুতাকল বা কার্পাস বয়ন শিল্প গড়ে উঠেছে। এর প্রধান কারণগুলি হল:
- কাঁচামালের প্রাচুর্য: কার্পাস বয়ন শিল্পের প্রধান কাঁচামাল হল তুলা। দাক্ষিণাত্যের লাভা গঠিত কালো মাটি বা রেগুর মৃত্তিকা তুলা চাষের জন্য আদর্শ। ফলে মহারাষ্ট্র ও গুজরাট থেকে প্রচুর পরিমাণে উৎকৃষ্ট লম্বা আঁশের তুলা সহজেই পাওয়া যায়।
- আর্দ্র জলবায়ু: সুতো কাটার সময় সুতো যাতে ছিঁড়ে না যায়, তার জন্য আর্দ্র জলবায়ুর প্রয়োজন। আরব সাগরের উপকূলবর্তী হওয়ায় এখানকার সামুদ্রিক আর্দ্র জলবায়ু এই শিল্পের পক্ষে অত্যন্ত অনুকূল।
- বিদ্যুতের জোগান: টাটা ও ভিভপুরি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রচুর ও সস্তা বিদ্যুতের জোগান এই শিল্পের উন্নতিতে সাহায্য করেছে।
- উন্নত পরিবহণ ও বন্দর: এই অঞ্চলটি ব্রডগেজ রেলপথ এবং হাইওয়ের দ্বারা ভারতের অন্যান্য অংশের সাথে যুক্ত। এছাড়া মুম্বাই, নভসেবা এবং কান্ডালা বন্দরের মাধ্যমে বিদেশ থেকে আধুনিক যন্ত্রপাতি আমদানি করা এবং উৎপন্ন কাপড় বিদেশে রপ্তানি করা সহজ হয়েছে।
- মূলধন ও বাজার: মুম্বাই ভারতের আর্থিক রাজধানী হওয়ায় পারসি, ভাটিয়া ও গুজরাটি ব্যবসায়ীদের প্রচুর মূলধন বিনিয়োগ এবং দেশ-বিদেশের বিশাল বাজার এই শিল্পের একদেশীভবন ঘটিয়েছে।
8. পেট্রোরসায়ন শিল্পকে (Petrochemical Industry) 'উদীয়মান শিল্প' বা 'আধুনিক শিল্পদানব' বলা হয় কেন?
পেট্রোরসায়ন শিল্প - আধুনিক শিল্পদানব ও উদীয়মান শিল্প:
খনিজ তেল শোধনাগার বা ন্যাফথা থেকে প্রাপ্ত কাঁচামাল ব্যবহার করে যে শিল্প গড়ে ওঠে, তাকে পেট্রোরসায়ন শিল্প বলে। একে নিম্নলিখিত কারণে উদীয়মান শিল্প বলা হয়:
- বহুমুখী উৎপাদন: এই শিল্পের প্রধান উৎপাদিত দ্রব্যগুলি (যেমন প্লাস্টিক, পলিথিন, কৃত্রিম রবার, পলিয়েস্টার, সিন্থেটিক তন্তু, রাসায়নিক সার, রং, ওষুধ) মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। কাঁচ থেকে কাঠ, লোহা থেকে সুতো—সবকিছুর বিকল্প হিসেবে পেট্রোরসায়ন দ্রব্য ব্যবহৃত হচ্ছে।
- অনুসারী শিল্পের বিকাশ (Downstream Industries): পেট্রোরসায়ন শিল্পের উৎপাদিত দ্রব্যগুলিকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে এর আশেপাশে অসংখ্য ছোটো-বড়ো অনুসারী শিল্প (যেমন খেলনা, পাইপ, প্যাকেট, প্রসাধন শিল্প) গড়ে ওঠে, যা ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে।
- অফুরন্ত সম্ভাবনা: বর্তমান যুগে এই শিল্পের চাহিদা এত দ্রুত হারে বাড়ছে এবং ভবিষ্যতে এর প্রসারের সম্ভাবনা এত বেশি যে একে উদীয়মান শিল্প (Sunrise Industry) বলা হয়।
- আধুনিক শিল্পদানব: এই শিল্পের বিশাল আকার, ব্যাপক উৎপাদন ক্ষমতা, প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতিতে বিরাট অবদানের জন্য একে আধুনিক শিল্পদানব (Modern Industrial Giant) আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
9. তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের (Information Technology) উন্নতির প্রধান কারণগুলি কী কী? বেঙ্গালুরুকে সিলিকন ভ্যালি বলার কারণ লেখো।
তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের উন্নতির কারণ:
কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের সাহায্যে তথ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ ও সরবরাহের সাথে যুক্ত জ্ঞানভিত্তিক শিল্পকে IT শিল্প বলে। ভারতে এর উন্নতির কারণগুলি হল:
- মেধাবী ও দক্ষ মানবসম্পদ: এই শিল্পের জন্য প্রচুর শিক্ষিত, ইংরেজি ভাষায় দক্ষ, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ও টেকনিক্যাল কর্মীর প্রয়োজন। ভারতে প্রচুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থাকায় সুলভে ও প্রচুর সংখ্যায় দক্ষ মানবসম্পদ পাওয়া যায়।
- উন্নত পরিকাঠামো: দ্রুত গতির ইন্টারনেট, ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ, স্যাটেলাইট লিঙ্ক এবং অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক এই শিল্পের প্রধান ভিত্তি, যা ভারতের বড়ো শহরগুলিতে উপলব্ধ।
- সরকারি আনুকূল্য: ভারত সরকারের বিশেষ সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক (STPI) তৈরি, কর ছাড়, এবং বিদেশি বিনিয়োগের (FDI) সহজ নীতি এই শিল্পের দ্রুত বিকাশ ঘটিয়েছে।
- সময় অঞ্চলের সুবিধা: আমেরিকা ও ইউরোপের সাথে ভারতের সময়ের ১২ ঘণ্টার পার্থক্য থাকায়, বিদেশি কোম্পানিগুলি তাদের কাজ রাতে ভারতে পাঠিয়ে দেয় এবং সকালে তা সম্পন্ন হয়ে যায়।
বেঙ্গালুরু - ভারতের সিলিকন ভ্যালি:
আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালি যেমন তথ্যপ্রযুক্তিতে বিশ্বে প্রথম, তেমনি কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু ভারতে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। মনোরম জলবায়ু, আইআইএসসি (IISc) এর মতো বিশ্বমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এবং ইনফোসিস, উইপ্রো প্রভৃতি দেশি-বিদেশি কোম্পানির সদর দপ্তর থাকায় একে ভারতের সিলিকন ভ্যালি বলা হয়।
10. ভারতে জনসংখ্যার অসম বণ্টনের (Uneven Distribution of Population) প্রধান প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক কারণগুলি আলোচনা করো।
জনসংখ্যার অসম বণ্টনের কারণ:
ভারতের সর্বত্র সমান সংখ্যক মানুষ বাস করে না। কোথাও জনঘনত্ব খুব বেশি (গঙ্গা উপত্যকা) আবার কোথাও খুব কম (মরুভূমি বা পাহাড়)। এর কারণগুলি হল:
ক) প্রাকৃতিক কারণ:- ভূপ্রকৃতি: হিমালয়ের মতো খাড়া পার্বত্য অঞ্চল বা এবড়োখেবড়ো মালভূমিতে কৃষিকাজ ও যাতায়াত কষ্টকর বলে জনবসতি বিরল। কিন্তু গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র সমভূমি সমতল হওয়ায় সেখানে কৃষিকাজ ও যাতায়াত সহজ, তাই সেখানে নিবিড় জনবসতি গড়ে উঠেছে।
- জলবায়ু: রাজস্থানের চরমভাবাপন্ন শুষ্ক ও উষ্ণ মরু জলবায়ু বা কাশ্মীরের অতি শীতল জলবায়ুতে মানুষ কম বাস করে। কিন্তু পরিমিত উষ্ণতা ও বৃষ্টিপাত যুক্ত সমভাবাপন্ন অঞ্চলে মানুষ বেশি বাস করে।
- মৃত্তিকা: উর্বর পলিমাটি যুক্ত অঞ্চলে (যেমন গঙ্গা অববাহিকায়) কৃষিকাজ ভালো হয় বলে জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি। অনুর্বর পাথুরে বা বালুকাময় মাটিতে জনবসতি কম।
- জলের প্রাপ্যতা: নদী বা হ্রদের কাছাকাছি পানীয় ও সেচের জল সহজে পাওয়া যায় বলে সেখানে প্রচুর মানুষ বাস করে।
খ) অর্থনৈতিক ও অন্যান্য কারণ:- কৃষি ও শিল্প: উন্নত কৃষিব্যবস্থা (পাঞ্জাব) এবং শিল্পাঞ্চলগুলিতে (মুম্বাই, দুর্গাপুর) প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকায় জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি হয়।
- পরিবহণ ও নগরায়ণ: উন্নত রেলপথ, সড়কপথ যুক্ত শহর ও নগরগুলিতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বিনোদনের সুযোগ বেশি থাকায় মানুষ সেখানে ভিড় করে (যেমন মেগাসিটিগুলি)।
11. ভারতে দ্রুত নগরায়ণের (Urbanization) প্রধান কারণ এবং সমস্যাগুলি আলোচনা করো।
নগরায়ণের কারণ:
গ্রাম থেকে শহরে মানুষের স্থানান্তরিত হওয়া এবং শহর আয়তনে বৃদ্ধি পাওয়াকে নগরায়ণ বলে। এর কারণগুলি হল:
- কর্মসংস্থানের সুযোগ: গ্রামের কৃষিকাজে সারা বছর কাজ থাকে না এবং আয় কম। কিন্তু শহরে শিল্প, কলকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পরিষেবামূলক কাজে প্রচুর কর্মসংস্থান থাকায় মানুষ কাজের খোঁজে শহরে আসে।
- উন্নত পরিকাঠামো: শহর ও নগরগুলিতে উন্নত স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, বড়ো হাসপাতাল, উন্নত পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকায় মানুষ উন্নত জীবনের আশায় শহরে ভিড় করে।
- শিল্পায়ন: নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠলে তাকে কেন্দ্র করে দ্রুত নতুন শহরের সৃষ্টি হয় (যেমন দুর্গাপুর, ভিলাই)।
নগরায়ণের প্রধান সমস্যাসমূহ:
- বাসস্থানের অভাব ও বস্তি সৃষ্টি: শহরে মাত্রাতিরিক্ত মানুষের ভিড়ে বাসস্থানের তীব্র সংকট দেখা দেয়। এর ফলে শহরের একপাশে অপরিষ্কার ও অস্বাস্থ্যকর বস্তি বা স্লাম (Slum) গড়ে ওঠে, যা রোগের আঁতুড়ঘর।
- পরিবহণ ও যানজট: রাস্তার তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় শহরে তীব্র যানজট (Traffic jam) সৃষ্টি হয়, যা সময় নষ্ট করে এবং দূষণ বাড়ায়।
- জলনিকাশি ও বর্জ্যের সমস্যা: অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে একটু বৃষ্টিতেই শহরে জল জমে যায়। প্রতিদিন উৎপন্ন বিপুল পরিমাণ কঠিন বর্জ্য অপসারণ ও নর্দমার জলের শোধন করা শহরের বড়ো সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
- পরিবেশ দূষণ: প্রচুর গাড়ি ও কলকারখানার ধোঁয়ায় বায়ুদূষণ এবং শিল্পবর্জ্যে জলদূষণ শহরের মানুষের স্বাস্থ্যকে বিপন্ন করে তুলছে।
12. সড়কপথ ও রেলপথ পরিবহণের সুবিধা ও অসুবিধাগুলি আলোচনা করো।
সড়কপথ (Roadways):
- সুবিধা: ১) সড়কপথের সবচেয়ে বড়ো সুবিধা হল এটি ঘরে ঘরে বা দরজায় দরজায় (Door-to-door) পরিষেবা পৌঁছে দেয়। ২) অল্প দূরত্বে যাতায়াত এবং হালকা মালপত্র পরিবহণের জন্য এটি সবচেয়ে সস্তা ও সুবিধাজনক। ৩) পাহাড়, জঙ্গল বা দুর্গম অঞ্চলেও সড়কপথ নির্মাণ করা সম্ভব (যা রেলপথের ক্ষেত্রে কঠিন)। ৪) কাঁচামাল সরাসরি কৃষিক্ষেত্র থেকে কারখানায় নিয়ে যাওয়া যায়।
- অসুবিধা: ১) ভারী জিনিস নিয়ে অনেক বেশি দূরত্বে যাওয়ার ক্ষেত্রে সড়কপথে খরচ অনেক বেশি হয়। ২) যানজট ও পথ দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি থাকে। ৩) বর্ষাকালে কাঁচা রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে।
রেলপথ (Railways):
- সুবিধা: ১) দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে অনেক দূরবর্তী স্থানে যাতায়াতের জন্য রেলপথ সবচেয়ে সস্তা ও আরামদায়ক মাধ্যম। ২) কয়লা, লোহা, খনিজ তেলের মতো ভারী ও বিপুল পরিমাণ পণ্য পরিবহণের জন্য রেলপথ অপরিহার্য (লাইফলাইন অফ ইন্ডিয়া)। ৩) ঝড়বৃষ্টি বা কুয়াশাতেও রেল পরিবহণ খুব একটা ব্যাহত হয় না।
- অসুবিধা: ১) রেলপথ নির্মাণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল। ২) খাড়া পাহাড় বা খুব দুর্গম অঞ্চলে রেললাইন পাতা প্রায় অসম্ভব। ৩) রেলপথ ঘরে ঘরে পরিষেবা দিতে পারে না, স্টেশন থেকে মাল আবার সড়কপথেই নিয়ে যেতে হয়।
13. জলপথ (Waterways) পরিবহণের সুবিধাগুলি আলোচনা করো। ভারতের কয়েকটি অভ্যন্তরীণ জলপথের উল্লেখ করো।
জলপথ পরিবহণের সুবিধা:
নদী, খাল, সমুদ্রের মাধ্যমে জাহাজ বা নৌকায় পরিবহণকে জলপথ বলে। এর সুবিধাগুলি হল:
- সবচেয়ে সস্তা মাধ্যম: জলপথে রাস্তা তৈরি বা মেরামতের কোনো খরচ নেই। এছাড়া জাহাজে প্রচুর পরিমাণ মাল একসাথে নেওয়া যায় এবং জলের ঘর্ষণ কম হওয়ায় জ্বালানি খরচ খুব কম হয়। তাই এটি পরিবহণের সবচেয়ে সস্তা মাধ্যম।
- ভারী পণ্য পরিবহণ: লোহা, কয়লা, খনিজ তেল, যন্ত্রপাতি প্রভৃতি অতি ভারী ও বৃহদায়তন পণ্য আন্তর্জাতিক বা দূরপাল্লায় পরিবহণের একমাত্র উপায় হল জলপথ বা সমুদ্রপথ।
- নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব: অন্যান্য মাধ্যমের তুলনায় জলপথে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কম এবং এটি বেশি পরিবেশবান্ধব।
অসুবিধা:
এর গতিবেগ অত্যন্ত ধীর, তাই পচনশীল দ্রব্য বা দ্রুত যাত্রী পরিবহণে এটি অনুপযোগী।
ভারতের অভ্যন্তরীণ জলপথ (National Waterways):
দেশের ভেতরের নদী বা খালের ওপর দিয়ে যাতায়াতকে অভ্যন্তরীণ জলপথ বলে। ভারতে বর্তমানে ১১১টি জাতীয় জলপথ রয়েছে। প্রধান কয়েকটি হল:
- NW-1: গঙ্গা-ভাগীরথী-হুগলি নদীতে এলাহাবাদ থেকে হলদিয়া পর্যন্ত (১৬২০ কিমি - দীর্ঘতম)।
- NW-2: ব্রহ্মপুত্র নদে সাদিয়া থেকে ধুবরি পর্যন্ত (৮৯১ কিমি)।
- NW-3: কেরালার পশ্চিম উপকূলীয় খালে কোল্লাম থেকে কোট্টাপুরম পর্যন্ত।
14. আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা (Modern Communication System) হিসেবে ইন্টারনেট (Internet) ও ই-মেইল (E-mail) এর গুরুত্ব আলোচনা করো।
যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইন্টারনেট ও ই-মেইলের গুরুত্ব:
খবর, তথ্য বা সংবাদ একস্থান থেকে অন্যস্থানে আদানপ্রদান করাকে যোগাযোগ বলে। বর্তমান যুগে কৃত্রিম উপগ্রহ (Satellite) নির্ভর ইন্টারনেট ও ই-মেইল এই ব্যবস্থায় বিপ্লব এনেছে:
- ইন্টারনেট (Internet): এটি বিশ্বব্যাপী কম্পিউটার নেটওয়ার্কের একটি বিশাল জাল। এর গুরুত্ব হল:
i) বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের যেকোনো তথ্য নিমেষের মধ্যে সার্চ ইঞ্জিন (যেমন Google) থেকে পাওয়া যায়।
ii) ই-কমার্স (অনলাইন শপিং), ই-ব্যাংকিং (টাকা লেনদেন), ই-লার্নিং (অনলাইন ক্লাস) সবকিছুই ইন্টারনেটের মাধ্যমে ঘরে বসে করা সম্ভব হচ্ছে।
iii) সোশ্যাল মিডিয়া ও ভিডিও কলিং-এর মাধ্যমে পৃথিবীর যেকোনো মানুষের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করা যাচ্ছে। - ই-মেইল (E-mail): ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক বা ডিজিটাল চিঠি পাঠানোকে ই-মেইল বলে। এর গুরুত্ব হল:
i) ডাকঘরের সাধারণ চিঠির তুলনায় ই-মেইলে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে মেসেজ বা ডকুমেন্ট পৌঁছে যায়।
ii) এটি অত্যন্ত সস্তা, নিরাপদ এবং বিশ্বাসযোগ্য।
iii) শুধু টেক্সট নয়, এর সাথে ছবি, ভিডিও এবং গুরুত্বপূর্ণ ফাইল বা পিডিএফ (Attachment) একসাথে অনেককে পাঠানো যায়। আধুনিক ব্যবসা ও সরকারি কাজে এটি অপরিহার্য মাধ্যম।
মনে রেখো!
শিল্প নগরী: আহমেদাবাদকে ভারতের ম্যানচেস্টার, চেন্নাইকে ডেট্রয়েট এবং বেঙ্গালুরুকে সিলিকন ভ্যালি বলা হয়।
জনসংখ্যা: ২০১১ অনুযায়ী ভারতের সর্বাধিক জনবহুল রাজ্য উত্তরপ্রদেশ এবং সর্বাধিক জনঘনত্ব বিহারে।
পরিবহণ: সড়কপথ সবচেয়ে সস্তা স্বল্প দূরত্বে, কিন্তু ভারী শিল্পের কাঁচামাল পরিবহণে রেলপথ অপরিহার্য (লাইফলাইন)।
কৃষি: সবুজ বিপ্লব গমের উৎপাদনে সর্বাধিক প্রভাব ফেলে। কার্পাস বা তুলা চাষ কালো মাটিতে সবচেয়ে ভালো হয়।