Chapter 4.1: পরমাণুর গঠন (Atomic Structure)
নবম শ্রেণির ভৌতবিজ্ঞান চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম অংশ) | 50 MCQ | 40 SAQ | 10 Broad Questions
নিউক্লিয়াস বোর মডেল আইসোটোপ ইলেকট্রন বিন্যাস
⚛️
পরমাণু মডেল
রাদারফোর্ডের বিচ্ছুরণ পরীক্ষা ও নীলস বোরের কোয়ান্টাম তত্ত্ব
🧬
পারমাণবিক গঠন
আইসোটোপ, আইসোবার এবং $2n^2$ ইলেকট্রন বিন্যাস সূত্র
Interactive MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর
50 টিসঠিক উত্তর জানতে যেকোনো একটি অপশনে ক্লিক করো।
1. পদার্থের ক্ষুদ্রতম অবিভাজ্য কণা হল পরমাণু— এটি কার মতবাদ?
ক) রাদারফোর্ড
খ) ডালটন
গ) জে জে থমসন
ঘ) বোর
ব্যাখ্যা: বিজ্ঞানী জন ডালটন 1808 খ্রিস্টাব্দে প্রথম প্রস্তাব করেন যে পদার্থের ক্ষুদ্রতম অবিভাজ্য কণাই হল পরমাণু।
2. ইলেকট্রন (Electron) কে আবিষ্কার করেন?
ক) জে জে থমসন
খ) রাদারফোর্ড
গ) চ্যাডউইক
ঘ) গোল্ডস্টেইন
ব্যাখ্যা: 1897 খ্রিস্টাব্দে জে জে থমসন ক্যাথোড রশ্মি নিয়ে পরীক্ষা করার সময় ইলেকট্রন আবিষ্কার করেন।
3. প্রোটন (Proton) কে আবিষ্কার করেন?
ক) থমসন
খ) গোল্ডস্টেইন (বা রাদারফোর্ড)
গ) বোর
ঘ) চ্যাডউইক
ব্যাখ্যা: গোল্ডস্টেইন প্রথম ধনাত্মক ক্যানাল রশ্মি লক্ষ করেন, পরে রাদারফোর্ড এই কণার নামকরণ করেন প্রোটন।
4. নিউট্রন (Neutron) কে আবিষ্কার করেন?
ক) থমসন
খ) রাদারফোর্ড
গ) জেমস চ্যাডউইক
ঘ) নীলস বোর
ব্যাখ্যা: 1932 খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী জেমস চ্যাডউইক বেরিলিয়াম ধাতুকে আলফা কণা দ্বারা আঘাত করে নিস্তরিৎ নিউট্রন কণা আবিষ্কার করেন।
5. ক্যাথোড রশ্মি (Cathode Ray) আসলে কীসের স্রোত?
ক) প্রোটন
খ) ইলেকট্রন
গ) নিউট্রন
ঘ) আলফা কণা
ব্যাখ্যা: ক্যাথোড রশ্মি হল তীব্র বেগে ধাবমান ঋণাত্মক আধানযুক্ত কণা বা ইলেকট্রনের স্রোত।
6. অ্যানোড বা ক্যানাল রশ্মি কী প্রকৃতির?
ক) ধনাত্মক আধানযুক্ত
খ) ঋণাত্মক আধানযুক্ত
গ) নিস্তরিৎ
ঘ) তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ
ব্যাখ্যা: অ্যানোড বা ক্যানাল রশ্মি হল ধনাত্মক আধানযুক্ত কণার স্রোত।
7. আলফা (α) কণা কী?
ক) ইলেকট্রন
খ) হিলিয়াম আয়ন ($He^{2+}$)
গ) হাইড্রোজেন আয়ন
ঘ) নিউট্রন
ব্যাখ্যা: আলফা কণা হল দ্বি-ধনাত্মক আধানযুক্ত হিলিয়াম নিউক্লিয়াস বা হিলিয়াম আয়ন ($He^{2+}$)।
8. আলফা কণা বিচ্ছুরণ পরীক্ষাটি কে করেন?
ক) থমসন
খ) নীলস বোর
গ) রাদারফোর্ড
ঘ) ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক
ব্যাখ্যা: 1911 খ্রিস্টাব্দে রাদারফোর্ড সোনার পাতে আলফা কণা বিচ্ছুরণ পরীক্ষা করেন এবং নিউক্লিয়াস আবিষ্কার করেন।
9. পরমাণুর নিউক্লিয়াসে কোন কোন কণা থাকে?
ক) ইলেকট্রন ও প্রোটন
খ) প্রোটন ও নিউট্রন
গ) ইলেকট্রন ও নিউট্রন
ঘ) কেবল প্রোটন
ব্যাখ্যা: পরমাণুর কেন্দ্রে বা নিউক্লিয়াসে ধনাত্মক প্রোটন এবং নিস্তরিৎ নিউট্রন কণা থাকে। এদের একত্রে নিউক্লিয়ন বলে।
10. কোন পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন থাকে না?
ক) সাধারণ হাইড্রোজেন (প্রোটিয়াম)
খ) হিলিয়াম
গ) কার্বন
ঘ) অক্সিজেন
ব্যাখ্যা: সাধারণ হাইড্রোজেন বা প্রোটিয়াম (${}_1^1H$) এর নিউক্লিয়াসে কেবল 1টি প্রোটন থাকে, কোনো নিউট্রন থাকে না।
11. ইলেকট্রনের আধানের পরিমাণ কত?
ক) $-1.6 \times 10^{-19}$ C
খ) $+1.6 \times 10^{-19}$ C
গ) $9.11 \times 10^{-31}$ C
ঘ) শূন্য
ব্যাখ্যা: ইলেকট্রনের আধান ঋণাত্মক এবং এর মান $-1.6 \times 10^{-19}$ কুলম্ব।
12. পরমাণুর সবচেয়ে ভারী কণা কোনটি?
ক) ইলেকট্রন
খ) প্রোটন
গ) নিউট্রন
ঘ) পজিট্রন
ব্যাখ্যা: পরমাণুর তিনটি মূল কণার মধ্যে নিউট্রন সবচেয়ে ভারী (ভর $1.675 \times 10^{-27}$ kg)।
13. পরমাণুর সবচেয়ে হালকা কণা কোনটি?
ক) প্রোটন
খ) নিউট্রন
গ) আলফা কণা
ঘ) ইলেকট্রন
ব্যাখ্যা: ইলেকট্রনের ভর (\ $9.11 \times 10^{-31}$ kg) প্রোটন বা নিউট্রনের ভরের প্রায় 1/1837 অংশ, তাই এটি সবচেয়ে হালকা।
14. পারমাণবিক সংখ্যা বা পরমাণু ক্রমাঙ্ক (Z) বলতে কী বোঝায়?
ক) নিউট্রন সংখ্যা
খ) প্রোটন সংখ্যা
গ) ইলেকট্রন ও প্রোটনের যোগফল
ঘ) প্রোটন ও নিউট্রনের যোগফল
ব্যাখ্যা: কোনো মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে উপস্থিত প্রোটন সংখ্যাকেই তার পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic number, Z) বলে।
15. ভরসংখ্যা (Mass number, A) কার কার যোগফল?
ক) প্রোটন + ইলেকট্রন
খ) ইলেকট্রন + নিউট্রন
গ) প্রোটন + নিউট্রন
ঘ) কেবল প্রোটন
ব্যাখ্যা: নিউক্লিয়াসে উপস্থিত মোট প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যার যোগফলকে ভরসংখ্যা (A) বলে। $A = Z + N$।
16. একটি মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা 11 এবং ভরসংখ্যা 23 হলে, নিউট্রন সংখ্যা কত?
ব্যাখ্যা: নিউট্রন সংখ্যা (N) = ভরসংখ্যা (A) - পারমাণবিক সংখ্যা (Z) = 23 - 11 = 12।
17. যেসব পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা (Z) এক কিন্তু ভরসংখ্যা (A) আলাদা, তাদের কী বলে?
ক) আইসোবার
খ) আইসোটোন
গ) আইসোটোপ
ঘ) আইসোমার
ব্যাখ্যা: একই মৌলের ভিন্ন ভরসংখ্যা বিশিষ্ট পরমাণুগুলিকে সমস্থানিক বা আইসোটোপ (Isotopes) বলে।
18. যেসব পরমাণুর ভরসংখ্যা (A) সমান কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা (Z) আলাদা, তাদের কী বলে?
ক) আইসোটোপ
খ) আইসোবার
গ) আইসোটোন
ঘ) পলিমার
ব্যাখ্যা: ভিন্ন মৌলের যেসব পরমাণুর ভরসংখ্যা একই কিন্তু প্রোটন সংখ্যা আলাদা, তাদের আইসোবার (Isobars) বলে।
19. যেসব পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা (N) সমান কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা আলাদা, তাদের কী বলে?
ক) আইসোটোপ
খ) আইসোবার
গ) আইসোটোন
ঘ) অ্যালোট্রোপ
ব্যাখ্যা: ভিন্ন মৌলের সমান নিউট্রন সংখ্যা বিশিষ্ট পরমাণুগুলিকে আইসোটোন (Isotones) বলে।
20. ${}_{6}^{14}C$ এবং ${}_{7}^{14}N$ পরস্পরের কী?
ক) আইসোটোপ
খ) আইসোবার
গ) আইসোটোন
ঘ) আইসোমার
ব্যাখ্যা: উভয়েরই ভরসংখ্যা (14) সমান কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা (6 ও 7) ভিন্ন। তাই এরা আইসোবার।
21. হাইড্রোজেনের কয়টি প্রাকৃতিক আইসোটোপ আছে?
ক) 1 টি
খ) 2 টি
গ) 3 টি
ঘ) 4 টি
ব্যাখ্যা: হাইড্রোজেনের 3টি আইসোটোপ আছে: প্রোটিয়াম (${}_1^1H$), ডয়টেরিয়াম (${}_1^2H$) এবং ট্রিটিয়াম (${}_1^3H$)।
22. কোন আইসোটোপটি তেজস্ক্রিয়?
ক) ${}_1^1H$
খ) ${}_6^{12}C$
গ) ${}_6^{14}C$
ঘ) ${}_8^{16}O$
ব্যাখ্যা: কার্বনের আইসোটোপগুলির মধ্যে ${}_6^{14}C$ (কার্বন-14) এবং হাইড্রোজেনের মধ্যে ট্রিটিয়াম তেজস্ক্রিয়।
23. বোরের সূত্র অনুযায়ী, 'n' তম কক্ষে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা কত?
ক) $n^2$
খ) $2n^2$
গ) $2n$
ঘ) $n^3$
ব্যাখ্যা: বোর-বুরি স্কিম অনুযায়ী যেকোনো কক্ষে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন সংখ্যা $2n^2$ হতে পারে, যেখানে n হল মুখ্য কোয়ান্টাম সংখ্যা।
24. M কক্ষে (n=3) সর্বোচ্চ কয়টি ইলেকট্রন থাকতে পারে?
ব্যাখ্যা: M কক্ষের জন্য n=3। অতএব সর্বোচ্চ ইলেকট্রন সংখ্যা = $2(3)^2 = 2 \times 9 = 18$।
25. পরমাণুর সবচেয়ে বাইরের কক্ষে (যোজ্যতা কক্ষে) সর্বোচ্চ কয়টি ইলেকট্রন থাকতে পারে?
ব্যাখ্যা: ইলেকট্রন বিন্যাসের নিয়ম অনুযায়ী, পরমাণুর সবচেয়ে বাইরের কক্ষে 8 টির বেশি ইলেকট্রন থাকতে পারে না।
26. পারমাণবিক মডেলের ক্ষেত্রে 'সৌরজগতের মডেল' (Planetary model) কার দেওয়া?
ক) ডালটন
খ) থমসন
গ) রাদারফোর্ড
ঘ) বোর
ব্যাখ্যা: রাদারফোর্ড তাঁর পরমাণু মডেলে নিউক্লিয়াসকে সূর্যের সাথে এবং ইলেকট্রনগুলিকে গ্রহের সাথে তুলনা করেন।
27. রাদারফোর্ডের মডেলের প্রধান ত্রুটি কী ছিল?
ক) নিউক্লিয়াসের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে পারেনি
খ) ইলেকট্রনের অবস্থান জানাতে পারেনি
গ) পরমাণুর স্থায়িত্ব ব্যাখ্যা করতে পারেনি
ঘ) নিউট্রন আবিষ্কার করতে পারেনি
ব্যাখ্যা: ম্যাক্সওয়েলের তত্ত্ব অনুযায়ী বৃত্তাকার পথে ঘূর্ণায়মান ইলেকট্রন শক্তি বিকিরণ করে নিউক্লিয়াসে আছড়ে পড়ার কথা, যা পরমাণুর স্থায়িত্বকে অস্বীকার করে।
28. বোর মডেলে ইলেকট্রনগুলি নির্দিষ্ট শক্তিস্তরে ঘোরার সময় কী করে?
ক) শক্তি শোষণ করে
খ) শক্তি বর্জন করে
গ) শক্তি শোষণ বা বর্জন করে না
ঘ) ত্বরণ নিয়ে ঘোরে
ব্যাখ্যা: নীলস বোরের স্বীকার্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট স্থায়ী কক্ষে আবর্তনের সময় ইলেকট্রন কোনো শক্তি বিকিরণ বা শোষণ করে না।
29. ইলেকট্রন যখন উচ্চ শক্তিস্তর থেকে নিম্ন শক্তিস্তরে লাফ দেয়, তখন কী ঘটে?
ক) শক্তি শোষিত হয়
খ) শক্তি নির্গত বা বিকিরিত হয়
গ) নিউট্রন সৃষ্টি হয়
ঘ) প্রোটন সৃষ্টি হয়
ব্যাখ্যা: বোরের তত্ত্ব অনুযায়ী, উচ্চতর কক্ষ থেকে নিম্নতর কক্ষে আসার সময় ইলেকট্রন নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তি ফোটন আকারে বিকিরণ করে।
30. কোন বলের প্রভাবে নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরে প্রোটন ও নিউট্রনগুলি একসঙ্গে আবদ্ধ থাকে?
ক) মহাকর্ষ বল
খ) স্থির-তড়িৎ আকর্ষণ বল
গ) নিউক্লীয় বল (Nuclear force)
ঘ) চুম্বকীয় বল
ব্যাখ্যা: নিউক্লিয়াসের মধ্যে খুব কম দূরত্বে (ফার্মি রেঞ্জে) কণাগুলির মধ্যে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী আকর্ষণ বল কাজ করে, যাকে নিউক্লীয় বল বলে।
31. ${}_{15}^{31}P$ এবং ${}_{16}^{32}S$ পরস্পরের কী?
ক) আইসোটোপ
খ) আইসোবার
গ) আইসোটোন
ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা: P এর নিউট্রন = 31 - 15 = 16। S এর নিউট্রন = 32 - 16 = 16। নিউট্রন সংখ্যা সমান হওয়ায় এরা আইসোটোন।
32. অ্যালুমিনিয়াম (${}_{13}^{27}Al$) এর ইলেকট্রন বিন্যাস কোনটি?
ক) 2, 8, 3
খ) 2, 8, 8
গ) 2, 10, 1
ঘ) 2, 8, 2, 1
ব্যাখ্যা: Al এর পারমাণবিক সংখ্যা 13। তাই ইলেকট্রন বিন্যাস: K=2, L=8, M=3 (মোট 13)।
33. কোনো মৌলের রাসায়নিক ধর্ম প্রধানত কার ওপর নির্ভর করে?
ক) নিউট্রন সংখ্যা
খ) ভরসংখ্যা
গ) পারমাণবিক সংখ্যা ও ইলেকট্রন বিন্যাস
ঘ) নিউক্লীয় বল
ব্যাখ্যা: মৌলের রাসায়নিক ধর্ম তার পারমাণবিক সংখ্যা এবং বিশেষ করে যোজ্যতা কক্ষের ইলেকট্রন বিন্যাসের ওপর নির্ভর করে।
34. সমস্থানিক বা আইসোটোপগুলির কী অভিন্ন থাকে?
ক) ভৌত ধর্ম
খ) রাসায়নিক ধর্ম
গ) ভরসংখ্যা
ঘ) নিউট্রন সংখ্যা
ব্যাখ্যা: আইসোটোপগুলির ইলেকট্রন বিন্যাস একই হওয়ায় এদের রাসায়নিক ধর্ম অভিন্ন (একই) হয়।
35. অক্সিজেন (${}_{8}^{16}O$) আয়নের (${O}^{2-}$) ইলেকট্রন সংখ্যা কত?
ব্যাখ্যা: অক্সিজেন পরমাণুতে ৪টি ইলেকট্রন থাকে। 2টি ইলেকট্রন গ্রহণ করে $O^{2-}$ আয়ন তৈরি হলে মোট ইলেকট্রন হয় 8 + 2 = 10।
36. সোডিয়াম আয়ন (${Na}^+$) এর ইলেকট্রন বিন্যাস কোন নিষ্ক্রিয় গ্যাসের মতো?
ক) হিলিয়াম
খ) নিয়ন
গ) আর্গন
ঘ) ক্রিপ্টন
ব্যাখ্যা: Na এর ইলেকট্রন 11টি। $Na^+$ এর ইলেকট্রন 10টি। নিয়ন (Ne) এর ইলেকট্রনও 10টি (2, 8)।
37. K কক্ষে (n=1) সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে—
ব্যাখ্যা: K কক্ষের জন্য n=1। সূত্র $2n^2 = 2 \times 1^2 = 2$।
38. পরমাণুর কোন অংশ ধনাত্মক আধানযুক্ত?
ক) কক্ষপথ
খ) ইলেকট্রন
গ) নিউক্লিয়াস
ঘ) সম্পূর্ণ পরমাণু
ব্যাখ্যা: নিউক্লিয়াসে প্রোটন থাকে যা ধনাত্মক আধানযুক্ত, নিউট্রন নিস্তরিৎ। তাই নিউক্লিয়াস ধনাত্মক।
39. ${}_{17}^{35}Cl$ এবং ${}_{17}^{37}Cl$ এর মধ্যে কীসের পার্থক্য আছে?
ক) ইলেকট্রন সংখ্যা
খ) প্রোটন সংখ্যা
গ) নিউট্রন সংখ্যা
ঘ) রাসায়নিক ধর্ম
ব্যাখ্যা: এরা ক্লোরিনের আইসোটোপ। এদের প্রোটন সংখ্যা (17) একই কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা (18 এবং 20) ভিন্ন।
40. একটি পরমাণু ইলেকট্রন বর্জন করলে কীসে পরিণত হয়?
ক) অ্যানায়ন
খ) ক্যাটায়ন
গ) আইসোটোপ
ঘ) অণু
ব্যাখ্যা: ইলেকট্রন বর্জন করলে পরমাণুতে ধনাত্মক আধান বৃদ্ধি পায় এবং তা ক্যাটায়নে (ধনাত্মক আয়ন) পরিণত হয়।
41. যে কণা নিউক্লিয়াসকে স্থায়িত্ব প্রদান করে তার নাম কী?
ক) ইলেকট্রন
খ) পজিট্রন
গ) মেসন (নিউট্রনের আদান-প্রদান)
ঘ) আলফা কণা
ব্যাখ্যা: প্রোটন ও নিউট্রনের মধ্যে মেসন (Meson) কণার অবিরাম আদান-প্রদানের ফলে শক্তিশালী নিউক্লীয় বলের সৃষ্টি হয় যা স্থায়িত্ব দেয়।
42. পরমাণুর আয়তন নিউক্লিয়াসের আয়তনের তুলনায় প্রায় কত গুণ বড়?
ক) $10^3$ গুণ
খ) $10^5$ গুণ
গ) $10^1$ গুণ
ঘ) সমান
ব্যাখ্যা: পরমাণুর ব্যাসার্ধ প্রায় $10^{-10}$ m এবং নিউক্লিয়াসের ব্যাসার্ধ প্রায় $10^{-15}$ m। তাই পরমাণু নিউক্লিয়াসের চেয়ে প্রায় $10^5$ (এক লক্ষ) গুণ বড়।
43. কার্বন-14 (${}_{6}^{14}C$) আইসোটোপ কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
ক) ক্যানসার চিকিৎসায়
খ) রক্তাল্পতা নির্ণয়ে
গ) জীবাশ্মের বয়স নির্ণয়ে
ঘ) থাইরয়েড চিকিৎসায়
ব্যাখ্যা: তেজস্ক্রিয় কার্বন-14 ডেটিং পদ্ধতির সাহায্যে পুরোনো জীবাশ্ম, গাছ বা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের বয়স নির্ণয় করা হয়।
44. কোবাল্ট-60 আইসোটোপ কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
ক) ক্যানসার চিকিৎসায়
খ) কৃষিকাজে
গ) বয়স নির্ণয়ে
ঘ) বিদ্যুৎ উৎপাদনে
ব্যাখ্যা: কোবাল্ট-60 থেকে নির্গত গামা রশ্মি ক্যানসার বা টিউমার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
45. প্ল্যাঙ্কের ধ্রুবক (Planck's constant) এর ধারণা কোন পরমাণু মডেলে ব্যবহার করা হয়েছে?
ক) থমসন মডেল
খ) রাদারফোর্ড মডেল
গ) নীলস বোর মডেল
ঘ) ডালটন মডেল
ব্যাখ্যা: নীলস বোর তাঁর মডেলে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব ব্যবহার করে ইলেকট্রনের কৌণিক ভরবেগ ($mvr = nh/2\pi$) নির্দিষ্ট করেন।
46. নিউক্লিয়াসের ভর বলতে মূলত কাদের ভর বোঝায়?
ক) ইলেকট্রন ও প্রোটন
খ) ইলেকট্রন ও নিউট্রন
গ) প্রোটন ও নিউট্রন
ঘ) কেবল প্রোটন
ব্যাখ্যা: ইলেকট্রনের ভর নগণ্য হওয়ায়, পরমাণুর প্রায় সমস্ত ভরই নিউক্লিয়াসে থাকা প্রোটন ও নিউট্রনের ভরের সমষ্টি।
47. যোজ্যতা (Valency) নির্ণয়ে কোন ইলেকট্রন অংশগ্রহণ করে?
ক) K কক্ষের ইলেকট্রন
খ) সবচেয়ে ভেতরের কক্ষের ইলেকট্রন
গ) সর্ববহিঃস্থ কক্ষের ইলেকট্রন
ঘ) নিউক্লিয়াসের ইলেকট্রন
ব্যাখ্যা: পরমাণুর সবচেয়ে বাইরের কক্ষের (যোজ্যতা কক্ষ) ইলেকট্রনগুলিই রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নেয় এবং যোজ্যতা নির্ধারণ করে।
48. ফ্লোরিন (Z=9) এর যোজ্যতা কক্ষের ইলেকট্রন সংখ্যা কত?
ব্যাখ্যা: F এর ইলেকট্রন বিন্যাস: K=2, L=7। সর্ববহিঃস্থ (L) কক্ষে 7টি ইলেকট্রন আছে।
49. কোনো মৌলের পরমাণু ক্রমাঙ্ক ও ভরসংখ্যা কোন ক্ষেত্রে একই হতে পারে?
ক) কখনোই সম্ভব নয়
খ) সাধারণ হাইড্রোজেনের ক্ষেত্রে
গ) অক্সিজেনের ক্ষেত্রে
ঘ) হিলিয়ামের ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা: সাধারণ হাইড্রোজেনে (${}_1^1H$) কোনো নিউট্রন না থাকায় এর পারমাণবিক সংখ্যা (1) এবং ভরসংখ্যা (1) একই হয়।
50. অ্যানোড রশ্মির উৎপত্তি কোথায় হয়?
ক) ক্যাথোড থেকে
খ) অ্যানোড থেকে
গ) টিউবের ভিতরের গ্যাসের আয়নন থেকে
ঘ) গ্লাসের দেওয়াল থেকে
ব্যাখ্যা: উচ্চ বিভবপ্রভেদে ক্যাথোড রশ্মি গ্যাসীয় অণুগুলিকে আঘাত করে ইলেকট্রন বের করে নিলে ধনাত্মক আয়নের সৃষ্টি হয়, যা অ্যানোড রশ্মি রূপে ক্যাথোডের দিকে ছোটে।
SAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (১ ও ২ নম্বর)
40 টি1. ডালটনের পরমাণুবাদ অনুযায়ী পদার্থের ক্ষুদ্রতম অবিভাজ্য কণা কী?
ডালটনের পরমাণুবাদ অনুযায়ী পদার্থের ক্ষুদ্রতম অবিভাজ্য কণা হল পরমাণু (Atom)।
2. পরমাণুর প্রাথমিক বা মৌলিক কণাগুলি কী কী?
পরমাণুর তিনটি প্রাথমিক অবপারমাণবিক কণা হলো: ইলেকট্রন, প্রোটন এবং নিউট্রন।
3. ইলেকট্রনের আধানের প্রকৃতি ও মান কত?
ইলেকট্রনের আধান ঋণাত্মক। এর মান $-1.6 \times 10^{-19}$ কুলম্ব (বা $-4.8 \times 10^{-10}$ esu)।
4. প্রোটনের আধানের প্রকৃতি ও মান কত?
প্রোটনের আধান ধনাত্মক। এর মান ইলেকট্রনের আধানের সমান কিন্তু ধনাত্মক, অর্থাৎ $+1.6 \times 10^{-19}$ কুলম্ব।
5. নিউক্লিয়ন (Nucleon) কাদের বলা হয়?
পরমাণুর নিউক্লিয়াসে উপস্থিত প্রোটন এবং নিউট্রন কণাগুলিকে একত্রে নিউক্লিয়ন বলা হয়।
6. পরমাণু নিস্তরিৎ (Electrically neutral) হয় কেন?
স্বাভাবিক অবস্থায় একটি পরমাণুতে যতগুলি ধনাত্মক আধানযুক্ত প্রোটন থাকে, ঠিক ততগুলিই ঋণাত্মক আধানযুক্ত ইলেকট্রন থাকে। মোট ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আধান সমান হওয়ায় পরমাণু নিস্তরিৎ হয়।
7. পারমাণবিক সংখ্যা বা পরমাণু ক্রমাঙ্ক (Atomic Number, Z) কাকে বলে?
কোনো মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে উপস্থিত মোট প্রোটন সংখ্যাকেই ওই মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বা পরমাণু ক্রমাঙ্ক বলে।
8. ভরসংখ্যা (Mass Number, A) কাকে বলে?
কোনো মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে উপস্থিত মোট প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যার যোগফলকে ওই মৌলের ভরসংখ্যা বলে। ($A = Z + N$)।
9. কোন পরমাণুতে নিউট্রন থাকে না?
সাধারণ হাইড্রোজেন বা প্রোটিয়াম (${}_1^1H$) পরমাণুর নিউক্লিয়াসে কেবল 1টি প্রোটন থাকে, কোনো নিউট্রন থাকে না।
10. ক্যাথোড রশ্মি কী?
নিম্নচাপে থাকা কোনো গ্যাসের মধ্য দিয়ে উচ্চ বিভবপ্রভেদ প্রয়োগ করলে ক্যাথোড থেকে অ্যানোডের দিকে তীব্র বেগে যে অদৃশ্য ঋণাত্মক কণার স্রোত নির্গত হয়, তাকে ক্যাথোড রশ্মি বলে। এটি মূলত ইলেকট্রনের স্রোত।
11. অ্যানোড রশ্মি বা ক্যানাল রশ্মি কী?
গ্যাস-মোক্ষণ নলে ছিদ্রযুক্ত ক্যাথোড ব্যবহার করলে, ক্যাথোডের ছিদ্র দিয়ে অ্যানোডের বিপরীত দিকে ধনাত্মক আধানযুক্ত কণার স্রোত নির্গত হতে দেখা যায়। একে অ্যানোড রশ্মি বা ক্যানাল রশ্মি বলে।
12. তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার কে করেন?
বিজ্ঞানী হেনরি বেকারেল 1896 খ্রিস্টাব্দে তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।
13. আলফা ($\alpha$) কণা কী?
আলফা কণা হল দ্রুতগামী দ্বি-ধনাত্মক আধানযুক্ত হিলিয়াম নিউক্লিয়াসের স্রোত ($He^{2+}$), যা তেজস্ক্রিয় মৌল থেকে নির্গত হয়।
14. রাদারফোর্ড তাঁর পরীক্ষায় সোনার পাত ব্যবহার করেছিলেন কেন?
সোনা অত্যন্ত নমনীয় ধাতু, তাই একে পিটিয়ে খুব সহজেই অত্যন্ত পাতলা (প্রায় $0.0004$ mm পুরু) পাত তৈরি করা যায়, যা এই পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ছিল।
15. আইসোটোপ বা সমস্থানিক (Isotopes) কাকে বলে?
একই মৌলের যেসব পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা (প্রোটন সংখ্যা) সমান কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন হওয়ায় ভরসংখ্যা আলাদা হয়, তাদের আইসোটোপ বা সমস্থানিক বলে।
16. আইসোটোপগুলির রাসায়নিক ধর্ম অভিন্ন হয় কেন?
কোনো মৌলের রাসায়নিক ধর্ম তার পারমাণবিক সংখ্যা বা ইলেকট্রন বিন্যাসের ওপর নির্ভর করে। আইসোটোপগুলির পারমাণবিক সংখ্যা ও ইলেকট্রন সংখ্যা সমান হওয়ায় এদের রাসায়নিক ধর্ম অভিন্ন হয়।
17. আইসোবার (Isobars) কাকে বলে?
ভিন্ন মৌলের যেসব পরমাণুর ভরসংখ্যা সমান কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা আলাদা, তাদের আইসোবার বলে। (যেমন: ${}_{18}^{40}Ar$ এবং ${}_{20}^{40}Ca$)।
18. আইসোটোন (Isotones) কাকে বলে?
ভিন্ন মৌলের যেসব পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা ও ভরসংখ্যা আলাদা হলেও নিউট্রন সংখ্যা সমান হয়, তাদের আইসোটোন বলে। (যেমন: ${}_{14}^{30}Si$ এবং ${}_{15}^{31}P$)।
19. বোর-বুরি স্কিম (Bohr-Bury Scheme) অনুযায়ী কোনো কক্ষে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন সংখ্যা কত?
যেকোনো কক্ষে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন সংখ্যা $2n^2$ হতে পারে, যেখানে n হলো মুখ্য কোয়ান্টাম সংখ্যা বা কক্ষের ক্রমিক সংখ্যা (K=1, L=2 ইত্যাদি)।
20. পরমাণুর সর্ববহিঃস্থ কক্ষে সর্বোচ্চ কয়টি ইলেকট্রন থাকতে পারে?
ইলেকট্রন বিন্যাসের নিয়ম অনুযায়ী, পরমাণুর সবচেয়ে বাইরের কক্ষে (যোজ্যতা কক্ষে) ৪টির বেশি ইলেকট্রন থাকতে পারে না।
21. N কক্ষে (n=4) সর্বোচ্চ কয়টি ইলেকট্রন থাকতে পারে?
N কক্ষের জন্য n=4। সূত্রানুযায়ী সর্বোচ্চ ইলেকট্রন = $2 \times 4^2 = 2 \times 16 = 32$ টি।
22. সোডিয়াম (${}_{11}Na$) এর ইলেকট্রন বিন্যাস লেখো।
সোডিয়ামের 11টি ইলেকট্রন আছে। এর বিন্যাস হলো: K কক্ষে 2টি, L কক্ষে 8টি এবং M কক্ষে 1টি। অর্থাৎ (2, 8, 1)।
23. নিউক্লীয় বল (Nuclear force) কাকে বলে?
পরমাণুর নিউক্লিয়াসের অত্যন্ত ক্ষুদ্র পরিসরের মধ্যে নিউক্লিয়নগুলির (প্রোটন ও নিউট্রন) মধ্যে যে অত্যন্ত শক্তিশালী আকর্ষণ বল কাজ করে তাদের একত্রে বেঁধে রাখে, তাকে নিউক্লীয় বল বলে।
24. ক্যাটায়ন (Cation) কীভাবে তৈরি হয়?
কোনো নিস্তরিৎ পরমাণুর সর্ববহিঃস্থ কক্ষ থেকে এক বা একাধিক ইলেকট্রন বর্জিত হলে, পরমাণুটিতে ইলেকট্রনের ঘাটতি হয় এবং ধনাত্মক আধান বেড়ে যায়। একে ক্যাটায়ন বলে। (যেমন: $Na \rightarrow Na^+ + e^-$)
25. অ্যানায়ন (Anion) কীভাবে তৈরি হয়?
কোনো নিস্তরিৎ পরমাণুর সর্ববহিঃস্থ কক্ষে এক বা একাধিক ইলেকট্রন যুক্ত হলে, পরমাণুটিতে ঋণাত্মক আধান বেড়ে যায়। একে অ্যানায়ন বলে। (যেমন: $Cl + e^- \rightarrow Cl^-$)
26. চিকিৎসাবিদ্যায় ব্যবহৃত একটি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের নাম লেখো।
কোবাল্ট-60 (${}^{60}Co$) তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ক্যানসার বা টিউমার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। অথবা, আয়োডিন-131 থাইরয়েডের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
27. যোজ্যতা কক্ষ বা Valency shell কাকে বলে?
কোনো পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসের সবচেয়ে বাইরের কক্ষটিকে যোজ্যতা কক্ষ বলে। এই কক্ষের ইলেকট্রনগুলি রাসায়নিক বন্ধন গঠনে অংশ নেয়।
28. রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলকে 'সৌরজগতের মডেল' বলা হয় কেন?
কারণ রাদারফোর্ড তাঁর মডেলে পরমাণুর কেন্দ্রক বা নিউক্লিয়াসকে সৌরজগতের সূর্যের সাথে এবং কেন্দ্রককে প্রদক্ষিণরত ইলেকট্রনগুলিকে বিভিন্ন গ্রহের সাথে তুলনা করেছেন।
29. আলফা কণা বিচ্ছুরণ পরীক্ষায় জিঙ্ক সালফাইড (ZnS) পর্দার কাজ কী ছিল?
সোনার পাত ভেদ করে বেরিয়ে আসা আলফা কণাগুলি যাতে জিঙ্ক সালফাইড পর্দায় আঘাত করে প্রতিপ্রভা বা আলোর স্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি করতে পারে, যার সাহায্যে কণাগুলির গতিপথ ও অবস্থান বোঝা যায়।
30. অ্যালুমিনিয়াম আয়ন (${Al}^{3+}$) এর ইলেকট্রন বিন্যাস লেখো।
নিস্তরিৎ Al (13) এর বিন্যাস: 2, 8, 3। $Al^{3+}$ আয়ন তৈরি হতে 3টি ইলেকট্রন বর্জিত হয়। তাই $Al^{3+}$ এর ইলেকট্রন বিন্যাস: K=2, L=8।
31. ক্লোরিনের দুটি প্রাকৃতিক আইসোটোপের নাম ও ভরসংখ্যা লেখো।
ক্লোরিনের দুটি আইসোটোপ হলো: ক্লোরিন-35 (${}_{17}^{35}Cl$) এবং ক্লোরিন-37 (${}_{17}^{37}Cl$)।
32. ${}_{18}^{40}Ar$ এবং ${}_{20}^{40}Ca$ পরস্পরের কী? কেন?
এরা পরস্পরের আইসোবার। কারণ আর্গন (Ar) এবং ক্যালসিয়াম (Ca) উভয়েরই ভরসংখ্যা সমান (40), কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা ভিন্ন (18 এবং 20)।
33. পরমাণুর কোন অংশটি তার রাসায়নিক ধর্ম নির্ধারণ করে?
পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস, বিশেষত সবচেয়ে বাইরের যোজ্যতা কক্ষের ইলেকট্রন সংখ্যা তার রাসায়নিক ধর্ম নির্ধারণ করে।
34. আইসোটোনগুলির একটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
আইসোটোনগুলি ভিন্ন মৌলের পরমাণু হওয়ায় এদের পারমাণবিক সংখ্যা ও ইলেকট্রন বিন্যাস ভিন্ন হয়, ফলে এদের রাসায়নিক ও ভৌত ধর্ম আলাদা হয়। এদের কেবল নিউট্রন সংখ্যা সমান থাকে।
35. তেজস্ক্রিয় কার্বন ডেটিং (C-14 dating) কী?
তেজস্ক্রিয় কার্বন-14 (${}^{14}C$) আইসোটোপের অর্ধায়ু পরিমাপ করে প্রাচীনকালের জীবাশ্ম, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বা প্রাচীন গাছের সঠিক বয়স নির্ণয় করার পদ্ধতিকে কার্বন ডেটিং বলে।
36. কোয়ান্টাম মেকানিক্স-এর জনক কাকে বলা হয়?
বিজ্ঞানী ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ককে কোয়ান্টাম তত্ত্বের জনক বলা হয়। তাঁর তত্ত্বই নীলস বোর পরমাণু মডেলে প্রয়োগ করেছিলেন।
37. নিউট্রন আবিষ্কার হতে এত বেশি সময় (1932 পর্যন্ত) লেগেছিল কেন?
নিউট্রন কণা নিস্তরিৎ (চার্জহীন) হওয়ায় কোনো তড়িৎক্ষেত্র বা চৌম্বকক্ষেত্র দ্বারা এটি বিক্ষিপ্ত হয় না। তাই একে শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন ছিল।
38. বোরের মডেল অনুসারে, কক্ষপথগুলিকে কী বলা হয়?
বোরের মডেল অনুসারে নিউক্লিয়াসের চারদিকে ইলেকট্রন ঘোরার বৃত্তাকার নির্দিষ্ট কক্ষপথগুলিকে 'স্থায়ী কক্ষ' (Stationary orbit) বা 'শক্তিস্তর' (Energy level) বলা হয়।
39. Li (পারমাণবিক সংখ্যা 3) পরমাণুর বহিস্থ কক্ষের ইলেকট্রনটিকে তৃতীয় কক্ষে স্থানান্তরিত করলে শক্তির শোষণ না বর্জন ঘটবে?
Li এর ইলেকট্রন বিন্যাস (2, 1)। ২য় কক্ষের ইলেকট্রনকে উচ্চতর ৩য় কক্ষে পাঠাতে বাইরে থেকে শক্তি সরবরাহ করতে হবে। অর্থাৎ শক্তির শোষণ ঘটবে।
40. অ্যানোড রশ্মি কি সব গ্যাসের ক্ষেত্রে একই রকম কণা দেয়?
না। ক্যাথোড রশ্মি সব গ্যাসের ক্ষেত্রে একই ইলেকট্রন কণা দিলেও, অ্যানোড রশ্মি গ্যাস-মোক্ষণ নলে নেওয়া গ্যাসের প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে (কারণ এটি গ্যাসের আয়ন)।
Broad Questions - দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্ন (৩ ও ৫ নম্বর)
10 টি1. রাদারফোর্ডের আলফা ($\alpha$) কণা বিচ্ছুরণ পরীক্ষাটি সংক্ষেপে বর্ণনা করো এবং এর পর্যবেক্ষণগুলি লেখো।
পরীক্ষার বর্ণনা:
1911 খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড একটি শূন্য পাত্রের মধ্যে একটি অত্যন্ত পাতলা সোনার পাত (প্রায় $0.0004$ mm পুরু) রাখেন। এর পিছন দিকে একটি বৃত্তাকার জিঙ্ক সালফাইড (ZnS) প্রলেপযুক্ত পর্দা রাখেন। এরপর একটি তেজস্ক্রিয় মৌল (যেমন রেডিয়াম বা পোলোনিয়াম) থেকে নির্গত উচ্চগতিসম্পন্ন ধনাত্মক আলফা ($\alpha$) কণার স্রোতকে ওই সোনার পাতের ওপর চালনা করেন।
পর্যবেক্ষণ:
- অধিকাংশ কণা: প্রায় 99% আলফা কণা কোনো রকম দিক পরিবর্তন না করে সোনার পাত ভেদ করে সোজা বেরিয়ে গিয়ে পেছনের পর্দায় আঘাত করে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে।
- কিছু কণা: খুব অল্প সংখ্যক আলফা কণা তাদের সরলরৈখিক পথ থেকে সামান্য কোণে (বিক্ষিপ্ত হয়ে) বেঁকে যায়।
- খুবই সামান্য কণা: প্রায় 20,000 এর মধ্যে 1টি কণা 90° এর বেশি কোণে, এমনকি 180° কোণে সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে ফিরে আসে।
2. আলফা কণা বিচ্ছুরণ পরীক্ষার পর্যবেক্ষণগুলি থেকে রাদারফোর্ড কী কী সিদ্ধান্তে উপনীত হন?
সিদ্ধান্তসমূহ:
- ১. যেহেতু বেশিরভাগ আলফা কণা সোনার পাত ভেদ করে সোজা বেরিয়ে যায়, তাই বলা যায় পরমাণুর বেশিরভাগ অংশই ফাঁপা বা শূন্যস্থান।
- ২. আলফা কণা ধনাত্মক আধানযুক্ত। সমজাতীয় আধান পরস্পরকে বিকর্ষণ করে। যেহেতু খুব কম সংখ্যক আলফা কণা বিক্ষিপ্ত হয়ে ফিরে আসে, তাই পরমাণুর কেন্দ্রে অত্যন্ত ক্ষুদ্র স্থানে সমস্ত ধনাত্মক আধান এবং প্রায় সম্পূর্ণ ভর পুঞ্জীভূত থাকে। রাদারফোর্ড পরমাণুর এই ভারী ও ধনাত্মক কেন্দ্রের নাম দেন নিউক্লিয়াস (Nucleus) বা কেন্দ্রক।
- ৩. পরমাণুর মোট আয়তনের তুলনায় নিউক্লিয়াসের আয়তন অতি নগণ্য (পরমাণুর ব্যাসার্ধ নিউক্লিয়াসের ব্যাসার্ধের প্রায় $10^5$ গুণ বড়)।
- ৪. নিউক্লিয়াসের বাইরে থাকা ফাঁকা স্থানে অতি হালকা ঋণাত্মক ইলেকট্রনগুলি অবস্থান করে, যারা ভারী আলফা কণার গতিপথে কোনো বাধা সৃষ্টি করতে পারে না।
3. রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলটি বিবৃত করো।
রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল (Planetary Model):
আলফা কণা বিচ্ছুরণ পরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে রাদারফোর্ড যে মডেল প্রস্তাব করেন তা হলো:
- ১. নিউক্লিয়াস: পরমাণুর কেন্দ্রে একটি অতি ক্ষুদ্র, ভারী ও ধনাত্মক আধানযুক্ত অংশ আছে, যাকে নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রক বলে। পরমাণুর প্রায় সমস্ত ভর এবং ধনাত্মক আধান এখানেই অবস্থান করে।
- ২. ইলেকট্রন মহল: নিউক্লিয়াসের বাইরে পরমাণুর বিশাল ফাঁকা স্থানে ঋণাত্মক আধানযুক্ত ইলেকট্রনগুলি অবস্থান করে।
- ৩. নিস্তরিৎ পরমাণু: নিউক্লিয়াসে থাকা মোট ধনাত্মক আধানের পরিমাণ এবং বাইরে ঘূর্ণায়মান ইলেকট্রনগুলির মোট ঋণাত্মক আধানের পরিমাণ সমান হয়, তাই পরমাণু নিস্তরিৎ হয়।
- ৪. ইলেকট্রনের ঘূর্ণন: সৌরজগতে সূর্যের চারদিকে গ্রহগুলি যেমন ঘোরে, তেমনি ইলেকট্রনগুলি নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বৃত্তাকার কক্ষপথে প্রচণ্ড বেগে ঘোরে। এর ফলে সৃষ্ট অপকেন্দ্র বল এবং নিউক্লিয়াসের স্থির-তড়িৎ আকর্ষণ বল পরস্পর সমান হয়।
4. রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের প্রধান ত্রুটি বা সীমাবদ্ধতাগুলি কী কী?
রাদারফোর্ড মডেলের ত্রুটিসমূহ:
- ১. পরমাণুর স্থায়িত্বের ব্যাখ্যায় ব্যর্থতা: ম্যাক্সওয়েলের তড়িৎচুম্বকীয় তত্ত্ব অনুযায়ী, কোনো আধানযুক্ত কণা (যেমন ইলেকট্রন) বৃত্তাকার পথে ত্বরণ নিয়ে ঘুরলে তা নিরবচ্ছিন্নভাবে শক্তি বিকিরণ করবে। ফলে ইলেকট্রনের শক্তি কমতে থাকবে এবং তার কক্ষপথের ব্যাসার্ধ ছোটো হতে হতে একসময় তা সর্পিলাকার পথে নিউক্লিয়াসে আছড়ে পড়বে। এর ফলে পরমাণুর ধ্বংস হওয়ার কথা, কিন্তু বাস্তবে পরমাণু অত্যন্ত স্থায়ী। রাদারফোর্ডের মডেল এর কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি।
- ২. বর্ণালির ব্যাখ্যায় ব্যর্থতা: ইলেকট্রন নিরবচ্ছিন্নভাবে শক্তি বিকিরণ করলে পরমাণুর বর্ণালি নিরবচ্ছিন্ন (Continuous spectrum) হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে মৌলের বর্ণালি রেখা-বর্ণালি (Line spectrum) বা বিচ্ছিন্ন হয়। রাদারফোর্ড মডেল এটি ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ হয়।
- ৩. কক্ষপথের সুনির্দিষ্ট ধারণা নেই: ইলেকট্রনগুলি ঠিক কোন্ কক্ষপথে ঘুরবে এবং তাদের বেগ বা শক্তি কেমন হবে, সে সম্পর্কে এই মডেলে কোনো স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয়নি।
5. নীলস বোরের পরমাণু মডেলের প্রধান স্বীকার্যগুলি (Postulates) বর্ণনা করো।
বোরের পরমাণু মডেলের স্বীকার্য:
রাদারফোর্ড মডেলের ত্রুটি দূর করতে নীলস বোর প্ল্যাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাহায্যে নতুন মডেল প্রস্তাব করেন:
- ১. নির্দিষ্ট স্থায়ী কক্ষপথ (Stationary Orbits): ইলেকট্রনগুলি নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে যে-কোনো বৃত্তাকার কক্ষপথে ঘুরতে পারে না। তারা কেবল কয়েকটি নির্দিষ্ট ব্যাসার্ধের এবং নির্দিষ্ট শক্তিসম্পন্ন বৃত্তাকার কক্ষপথেই আবর্তন করে। এই কক্ষপথগুলিকে স্থায়ী কক্ষ বা শক্তিস্তর (K, L, M, N...) বলে।
- ২. শক্তির অবিকিরণ: একটি নির্দিষ্ট স্থায়ী কক্ষপথে আবর্তনের সময় ইলেকট্রন কোনো শক্তি বিকিরণ বা শোষণ করে না। অর্থাৎ প্রতিটি কক্ষপথের শক্তি নির্দিষ্ট থাকে।
- ৩. কৌণিক ভরবেগের কোয়ান্টাইজেশন: স্থায়ী কক্ষপথে ঘূর্ণায়মান ইলেকট্রনের কৌণিক ভরবেগ (\(mvr\)) সর্বদা \(\frac{h}{2\pi}\) এর সরল গুণিতক হয়। অর্থাৎ, $mvr = \frac{nh}{2\pi}$ (যেখানে n=1, 2, 3... এবং h=প্ল্যাঙ্কের ধ্রুবক)।
- ৪. শক্তির বিকিরণ বা শোষণ: ইলেকট্রন যখন কোনো উচ্চ শক্তিস্তর থেকে নিম্ন শক্তিস্তরে লাফ দেয়, তখনই কেবল নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তি ফোটন আকারে বিকিরিত হয়। বিপরীতভাবে, শক্তি শোষণ করে ইলেকট্রন নিম্ন থেকে উচ্চ শক্তিস্তরে যেতে পারে।
6. আইসোটোপ, আইসোবার ও আইসোটোন কাকে বলে? প্রত্যেকটির একটি করে উদাহরণ দাও।
১. আইসোটোপ (Isotopes):
একই মৌলের যেসব পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা (প্রোটন সংখ্যা) সমান কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন হওয়ায় ভরসংখ্যা আলাদা হয়, তাদের আইসোটোপ বা সমস্থানিক বলে। এদের রাসায়নিক ধর্ম একই হয়।
উদাহরণ: সাধারণ হাইড্রোজেন (${}_{1}^{1}H$) এবং ডয়টেরিয়াম (${}_{1}^{2}H$)।
২. আইসোবার (Isobars):
ভিন্ন মৌলের যেসব পরমাণুর ভরসংখ্যা সমান কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা আলাদা, তাদের আইসোবার বলে। এদের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম আলাদা হয়।
উদাহরণ: আর্গন (${}_{18}^{40}Ar$) এবং ক্যালসিয়াম (${}_{20}^{40}Ca$)।
৩. আইসোটোন (Isotones):
ভিন্ন মৌলের যেসব পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা ও ভরসংখ্যা আলাদা, তাদের আইসোটোন বলে।
উদাহরণ: সিলিকন (${}_{14}^{30}Si$) এবং ফসফরাস (${}_{15}^{31}P$)। (উভয়েরই নিউট্রন সংখ্যা 16)।
7. বোর-বুরি (Bohr-Bury) স্কিম বা ইলেকট্রন বিন্যাসের নিয়মগুলি লেখো।
ইলেকট্রন বিন্যাসের নিয়মাবলী:
- ১. কোনো পরমাণুর বিভিন্ন কক্ষে (K, L, M...) সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা $2n^2$ সূত্র মেনে চলে (যেখানে n হলো কক্ষের ক্রমিক সংখ্যা)।
K কক্ষে (n=1) সর্বোচ্চ: $2(1)^2 = 2$ টি।
L কক্ষে (n=2) সর্বোচ্চ: $2(2)^2 = 8$ টি।
M কক্ষে (n=3) সর্বোচ্চ: $2(3)^2 = 18$ টি। - ২. পরমাণুর সর্ববহিঃস্থ কক্ষে (যোজ্যতা কক্ষে) 8 টির বেশি ইলেকট্রন থাকতে পারে না (এমনকি $2n^2$ সূত্র অনুযায়ী তার ধারণ ক্ষমতা বেশি হলেও)। যদি সবচেয়ে বাইরের কক্ষটি K-কক্ষ হয়, তবে সেখানে 2 টির বেশি ইলেকট্রন থাকতে পারে না।
- ৩. পরমাণুর সর্বশেষ কক্ষের আগের কক্ষে (Penultimate shell) 18 টির বেশি ইলেকট্রন থাকতে পারে না।
- ৪. ভিতরের কক্ষগুলি ইলেকট্রন দ্বারা পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বাইরের নতুন কোনো কক্ষে ইলেকট্রন প্রবেশ করতে পারে না।
8. তিনটি পরমাণুর ভরসংখ্যা 31, 32 ও 34। এদের পরমাণু ক্রমাঙ্ক যথাক্রমে 15, 16 এবং 16। পরমাণুগুলিতে নিউট্রন সংখ্যা নির্ণয় করো। এদের মধ্যে কোন্ দুটি আইসোটোপ ও কোন্ দুটি আইসোটোন?
নিউট্রন সংখ্যা নির্ণয়:
আমরা জানি, নিউট্রন সংখ্যা (N) = ভরসংখ্যা (A) - পরমাণু ক্রমাঙ্ক (Z)।
- প্রথম পরমাণু (ধরি X): A = 31, Z = 15। নিউট্রন (N) = 31 - 15 = 16। পরমাণুটি হলো ${}_{15}^{31}X$।
- দ্বিতীয় পরমাণু (ধরি Y): A = 32, Z = 16। নিউট্রন (N) = 32 - 16 = 16। পরমাণুটি হলো ${}_{16}^{32}Y$।
- তৃতীয় পরমাণু (ধরি Z'): A = 34, Z = 16। নিউট্রন (N) = 34 - 16 = 18। পরমাণুটি হলো ${}_{16}^{34}Z'$।
আইসোটোপ ও আইসোটোন চিহ্নিতকরণ:
আইসোটোপ: দ্বিতীয় (${}_{16}^{32}Y$) এবং তৃতীয় (${}_{16}^{34}Z'$) পরমাণু দুটির পরমাণু ক্রমাঙ্ক (16) সমান কিন্তু ভরসংখ্যা আলাদা। তাই দ্বিতীয় ও তৃতীয় পরমাণু দুটি হলো আইসোটোপ (এরা মূলত সালফারের আইসোটোপ)।
আইসোটোন: প্রথম (${}_{15}^{31}X$) এবং দ্বিতীয় (${}_{16}^{32}Y$) পরমাণু দুটির নিউট্রন সংখ্যা সমান (উভয়েরই 16)। তাই প্রথম ও দ্বিতীয় পরমাণু দুটি হলো আইসোটোন।
9. ক্যাথোড রশ্মি ও অ্যানোড রশ্মির বৈশিষ্ট্যগুলি তুলনা করে লেখো।
বৈশিষ্ট্যের তুলনা:
| বৈশিষ্ট্য | ক্যাথোড রশ্মি (Cathode Rays) | অ্যানোড বা ক্যানাল রশ্মি (Anode Rays) |
|---|
| প্রকৃতি ও আধান | তীব্র বেগে ধাবমান ঋণাত্মক আধানযুক্ত কণা বা ইলেকট্রনের স্রোত। | তীব্র বেগে ধাবমান ধনাত্মক আধানযুক্ত গ্যাসীয় আয়নের স্রোত। |
| উৎপত্তি | ক্যাথোড পাত থেকে উৎপন্ন হয়ে অ্যানোডের দিকে সরলরেখায় গমন করে। | গ্যাস-মোক্ষণ নলের ভেতরের গ্যাসের অণুর আয়ননের ফলে উৎপন্ন হয় এবং ক্যাথোডের দিকে যায়। |
| গ্যাসের প্রকৃতির ওপর নির্ভরতা | গ্যাস-মোক্ষণ নলে যে গ্যাসই নেওয়া হোক না কেন, ক্যাথোড রশ্মির কণা (ইলেকট্রন) সর্বদা একই থাকে ($\frac{e}{m}$ ধ্রুবক)। | নলে নেওয়া গ্যাসের প্রকৃতির ওপর অ্যানোড রশ্মির কণা নির্ভর করে। ভিন্ন গ্যাসে ভিন্ন ভরের আয়ন তৈরি হয় ($\frac{e}{m}$ পরিবর্তনশীল)। |
| ভর | কণাগুলির (ইলেকট্রন) ভর অত্যন্ত নগণ্য। | কণাগুলির ভর ইলেকট্রনের তুলনায় অনেক বেশি (গ্যাসীয় অণুর ভরের সমানুপাতিক)। |
| চৌম্বক ও তড়িৎক্ষেত্রের প্রভাব | উভয় ক্ষেত্র দ্বারাই বিক্ষিপ্ত হয় এবং ঋণাত্মক কণা হিসেবে আচরণ করে। | উভয় ক্ষেত্র দ্বারাই বিক্ষিপ্ত হয়, কিন্তু ক্যাথোড রশ্মির বিপরীত দিকে (ধনাত্মক কণা হিসেবে) বিক্ষিপ্ত হয়। |
10. নিউক্লিয়াসের স্থায়িত্ব কীভাবে বজায় থাকে তা নিউক্লীয় বলের সাহায্যে ব্যাখ্যা করো। মেসন (Meson) তত্ত্ব কী?
নিউক্লিয়াসের স্থায়িত্বের সমস্যা:
পরমাণুর কেন্দ্রে অতি ক্ষুদ্র আয়তনের নিউক্লিয়াসের মধ্যে একাধিক প্রোটন (ধনাত্মক আধান) এবং নিউট্রন (নিস্তরিৎ) গাদাগাদি করে অবস্থান করে। কুলম্বের স্থির-তড়িৎ সূত্র অনুযায়ী, সমজাতীয় আধানযুক্ত প্রোটনগুলির মধ্যে তীব্র বিকর্ষণ বল কাজ করার কথা, যার ফলে নিউক্লিয়াসটি ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়। কিন্তু বাস্তবে নিউক্লিয়াস অত্যন্ত স্থায়ী।
নিউক্লীয় বল ও মেসন তত্ত্ব:
জাপানি বিজ্ঞানী হিদেকি ইউকাওয়া (Hideki Yukawa) মেসন তত্ত্বের সাহায্যে নিউক্লিয়াসের এই স্থায়িত্ব ব্যাখ্যা করেন। তাঁর মতে:
- ১. নিউক্লিয়াসের মধ্যে প্রোটন ও নিউট্রনগুলির মধ্যে অবিরাম পায়-মেসন ($\pi$-meson) নামক একপ্রকার অতিপারমাণবিক কণার আদান-প্রদান চলতে থাকে।
- ২. এই অবিরাম আদান-প্রদানের ফলে প্রোটনগুলি নিউট্রনে এবং নিউট্রনগুলি প্রোটনে খুব দ্রুত রূপান্তরিত হতে থাকে।
- ৩. এই দ্রুত রূপান্তরের ফলে নিউক্লিয়নগুলির (প্রোটন ও নিউট্রন) মধ্যে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী আকর্ষণ বলের সৃষ্টি হয়, যাকে নিউক্লীয় বল (Nuclear force) বলে।
- ৪. এই নিউক্লীয় আকর্ষণ বল প্রোটনগুলির পারস্পরিক স্থির-তড়িৎ বিকর্ষণ বলের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয় (প্রায় 100 গুণ বেশি)। ফলে নিউক্লিয়নগুলি দৃঢ়ভাবে একসঙ্গে আবদ্ধ থাকে এবং নিউক্লিয়াস স্থায়িত্ব লাভ করে। এটি কেবল খুব কম দূরত্বেই (ফার্মি রেঞ্জ, $10^{-15}$ m) কার্যকর হয়।
মাস্টার টিপস!
পরীক্ষায় মনে রেখো: আইসোটোপে প্রোটন (P) সমান, আইসোবারে ভরসংখ্যা (A) সমান এবং আইসোটোনে নিউট্রন (N) সমান থাকে। বোর-বুরি স্কিম অনুযায়ী সবচেয়ে বাইরের কক্ষে কখনোই 8 টির বেশি ইলেকট্রন থাকতে পারে না।