Top 10 Scholarships for School Students in West Bengal (Class 1 to 12): Eligibility & How to Apply | পশ্চিমবঙ্গ স্কুল স্কলারশিপ গাইড

পশ্চিমবঙ্গের প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের জন্য সেরা ১০টি সরকারি ও বেসরকারি স্কলারশিপ। SVMCM, Nabanna, Kanyashree, Aikyashree, OASIS এবং অন্যান্য স্কলারশিপের যোগ্যতা ও আবেদন পদ্ধতি বিস্তারিত জানুন।

Science Tips Team

Science Tips Team

Expert Educator at Science Tips

Published: August 28, 2026 Updated: August 28, 2026 10 min read 1809 words
Share
Top 10 Scholarships for School Students in West Bengal (Class 1 to 12): Eligibility & How to Apply | পশ্চিমবঙ্গ স্কুল স্কলারশিপ গাইড

আর্থিক অনটন যেন কোনো মেধাবী ছাত্র বা ছাত্রীর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পথে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়—এই লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার ও বিভিন্ন বেসরকারি ট্রাস্ট স্কুলপড়ুয়াদের জন্য একাধিক আকর্ষণীয় স্কলারশিপ চালু রেখেছে। প্রথম শ্রেণি (Class 1) থেকে শুরু করে দ্বাদশ শ্রেণি (Class 12) পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে প্রতি বছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী এই আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করে নিজের পড়াশোনার খরচ জোগাড় করছে।

কিন্তু সঠিক তথ্যের অভাব এবং আবেদনের সময়সীমা না জানার কারণে অনেক যোগ্য ছাত্রছাত্রী এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। আজকের এই সম্পূর্ণ গাইডলাইনে আমরা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব পশ্চিমবঙ্গের স্কুলপড়ুয়াদের জন্য সেরা ১০টি সরকারি ও বেসরকারি স্কলারশিপ (Top 10 Scholarships for School Students in West Bengal), তাদের প্রয়োজনীয় যোগ্যতার মানদণ্ড (Eligibility Criteria), বার্ষিক বৃত্তির পরিমাণ এবং অনলাইনে আবেদনের সহজ পদ্ধতি।


এক নজরে পশ্চিমবঙ্গের সেরা ১০টি স্কুল স্কলারশিপ

নিচের তালিকায় রাজ্য সরকার, সংখ্যালঘু বিষয়ক দপ্তর, অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তর এবং শীর্ষস্থানীয় সংস্থার সেরা স্কলারশিপগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:

নং স্কলারশিপের নাম কোন শ্রেণির জন্য? ন্যূনতম নম্বর / যোগ্যতা বার্ষিক বৃত্তির পরিমাণ
১ স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপ (SVMCM) Class 11 & 12 মাধ্যমিকে ন্যূনতম ৬০% নম্বর ₹১২,০০০ / বছর
২ নবান্ন স্কলারশিপ (CMRF) Class 11 & 12 মাধ্যমিকে ৫০% - ৫৯% নম্বর ₹১০,০০০ / বছর
৩ কন্যাশ্রী প্রকল্প (K1 & K2) Class 8 to 12 (ছাত্রী) ১৩-১৮ বছর বয়সী অবিবাহিত ছাত্রী ₹১,০০০/বছর (K1) + ₹২৫,০০০ এককালীন (K2)
৪ ঐক্যশ্রী স্কলারশিপ (Aikyashree) Class 1 to 12 সংখ্যালঘু সম্প্রদায় + ৫০% নম্বর ₹১,১০০ থেকে ₹১১,০০০ / বছর
৫ ওয়েসিস স্কলারশিপ (OASIS) Class 9 to 12 SC / ST / OBC শিক্ষার্থী শ্রেণি ও কোর্স অনুযায়ী ভাতা
৬ তরুণের স্বপ্ন প্রকল্প (Taruner Swapno) Class 11 & 12 সরকারি/পর্ষদ অনুমোদিত স্কুলের পড়ুয়া ₹১০,০০০ এককালীন (ট্যাব ক্রয়ের জন্য)
৭ JBNSTS জুনিয়র ট্যালেন্ট সার্চ Class 11 (বিজ্ঞান শাখা) মাধ্যমিকে ৭৫%+ নম্বর ও মেধা পরীক্ষা ₹১,২৫০/মাস + বাৎসরিক অনুদান
৮ NMMS স্কলারশিপ Class 8 এ পাঠরত Class 7 এ ৫৫% + স্কলারশিপ টেস্ট ₹১২,০০০ / বছর (৯ম থেকে ১২শ শ্রেণি)
৯ সীতারাম জিন্দাল স্কলারশিপ Class 11 & 12 বালক ৬০% ও বালিকা ৫৫% নম্বর ₹৬,০০০ / বছর
১০ এইচডিএফসি বদহতে কদম (ECSS) Class 1 to 12 ৫৫% নম্বর ও পারিবারিক সংকট ₹১৫,০০০ থেকে ₹১৮,০০০ / বছর

স্কলারশিপে ভালো নম্বর পেতে চাও?

বোর্ড পরীক্ষায় কীভাবে ৯০% এর বেশি নম্বর পেতে হয়, টপারদের পড়ার রুটিন এবং পরীক্ষার খাতায় উত্তর লেখার সঠিক নিয়ম জেনে নাও আমাদের এক্সপার্ট গাইড থেকে।

টপারদের কৌশল দেখুন

সেরা ১০টি স্কুল স্কলারশিপের খুঁটিনাটি বিবরণ

১ স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট-কাম-মিনস স্কলারশিপ (SVMCM)

উচ্চমাধ্যমিক স্তর (Class 11-12)

পশ্চিমবঙ্গ উচ্চশিক্ষা দপ্তরের অধীনে পরিচালিত এটি রাজ্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সম্মানজনক স্কলারশিপ। মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে যারা একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান, কলা বা বাণিজ্য শাখায় ভর্তি হয়েছে, তারা এই স্কলারশিপ পায়।

যোগ্যতার মানদণ্ড:
  • পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
  • মাধ্যমিক পরীক্ষায় অন্তত ৬০% নম্বর থাকতে হবে।
  • পারিবারিক বার্ষিক আয় ₹২,৫০,০০০ টাকার মধ্যে হতে হবে।
আর্থিক সহায়তা ও আবেদন:
  • ভাতার পরিমাণ: প্রতি মাসে ₹১,০০০/- (বছরে মোট ₹১২,০০০/-)।
  • অফিসিয়াল পোর্টাল: svmcm.wb.gov.in

২ নবান্ন স্কলারশিপ (Chief Minister Relief Fund - CMRF)

Class 11 & 12

যেসব মেধাবী পড়ুয়া মাধ্যমিকে ৬০% এর কম নম্বর পাওয়ায় স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারে না, তাদের জন্য মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল (CMRF) থেকে এই এককালীন বৃত্তি প্রদান করা হয়।

যোগ্যতার মানদণ্ড:
  • মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৫০% থেকে ৫৯% নম্বর থাকতে হবে।
  • পারিবারিক বার্ষিক আয় ₹১,২০,০০০ টাকার কম হতে হবে।
  • বিধায়ক (MLA) বা সাংসদের (MP) সুপারিশপত্র আবশ্যক।
আর্থিক সহায়তা ও আবেদন:
  • ভাতার পরিমাণ: বছরে এককালীন ₹১০,০০০/- টাকা।
  • অফিসিয়াল পোর্টাল: cmrf.wb.gov.in (অনলাইন ও অফলাইনে আবেদন করা যায়)।

৩ কন্যাশ্রী প্রকল্প (Kanyashree Prakalpa - K1 & K2)

Class 8 to 12 (ছাত্রীদের জন্য)

জাতিসংঘের পুরষ্কারপ্রাপ্ত এই ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো বাল্যবিবাহ রোধ এবং মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করা। এটি স্কুল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরাসরি পরিচালিত হয়।

দুটি স্তর (Levels):
  • K1 (বার্ষিক): অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে পাঠরত ১৩-১৮ বছর বয়সী অবিবাহিত ছাত্রীদের জন্য প্রতি বছর ₹১,০০০/- টাকা।
  • K2 (এককালীন): ১৮ বছর পূর্ণ হলে অবিবাহিত ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষা বা ভোকেশনালের জন্য এককালীন ₹২৫,০০০/- টাকা।
আবেদন পদ্ধতি:
  • স্কুল থেকেই বিনামূল্যে আবেদন ফর্ম দেওয়া হয়।
  • প্রয়োজনীয় নথি (আধার, জন্ম সার্টিফিকেট, ব্যাংক পাসবুক) স্কুলে জমা দিতে হয়।

৪ ঐক্যশ্রী স্কলারশিপ (Aikyashree Scheme - WBMDFC)

Class 1 to 12 (সংখ্যালঘু পড়ুয়া)

পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও বিত্ত নিগম (WBMDFC) দ্বারা পরিচালিত এই প্রকল্পটি মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ, বৌদ্ধ, পার্সি ও জৈন সম্প্রদায়ের পড়ুয়াদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করে।

স্কলারশিপের ভাগসমূহ:
  • Pre-Matric (Class 1-10): পূর্ববর্তী পরীক্ষায় ৫০% নম্বর (প্রথম শ্রেণির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়)। ভাতা ₹১,১০০ থেকে ₹৪,৫০০/বছর।
  • Post-Matric (Class 11-12): পূর্ববর্তী পরীক্ষায় ৫০% নম্বর। ভাতা ₹১১,০০০/বছর পর্যন্ত।
  • TSP (Talent Support): ৫০% এর কম নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য।
আবেদন পোর্টাল:

আবেদন করতে হবে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট: wbmdfcscholarship.in

৫ ওয়েসিস স্কলারশিপ (OASIS SC/ST/OBC Scholarship)

Class 9 to 12

অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তর এবং আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এই স্কলারশিপে SC, ST এবং OBC ছাত্রছাত্রীদের আর্থিক ভাতা ও হোস্টেল মেইনটেন্যান্স অনুদান দেওয়া হয়।

যোগ্যতা:
  • বৈধ ডিজিটাল জাতিগত শংসাপত্র (Caste Certificate) থাকতে হবে।
  • SC/ST দের জন্য পারিবারিক আয় সর্বোচ্চ ₹২,৫০,০০০ এবং OBC দের জন্য ₹১,০০,০০০।
  • Pre-Matric (Class 9-10) ও Post-Matric (Class 11-12) উভয় স্তরেই আবেদন করা যায়।
আবেদন পোর্টাল:

আবেদন করতে ভিজিট করুন: oasis.wb.gov.in

৬ তরুণের স্বপ্ন প্রকল্প (Taruner Swapno - Free Tab Scheme)

Class 11 & 12

ডিজিটাল শিক্ষার প্রসারে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সমস্ত সরকারি, সরকার পোষিত এবং মাদ্রাসা স্কুলের একাদশ বা দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের ট্যাবলেট বা স্মার্টফোন কেনার জন্য এককালীন আর্থিক অনুদান প্রদান করে।

  • আর্থিক সহায়তা: শিক্ষার্থীর নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ₹১০,০০০/- টাকা পাঠানো হয়।
  • আবেদন পদ্ধতি: আলাদাভাবে কোনো অনলাইন পোর্টাল নেই। স্কুলের 'বাংলার শিক্ষা' (Banglar Shiksha) পোর্টালের ডেটাবেস অনুযায়ী স্কুল কর্তৃপক্ষই নাম নথিভুক্ত করে।

৭ জগদীশ বোস ন্যাশনাল সায়েন্স ট্যালেন্ট সার্চ (JBNSTS Junior Talent Search)

Class 11 (বিজ্ঞান শাখা)

বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য এটি রাজ্যের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্কলারশিপ। মাধ্যমিকের পর একাদশ শ্রেণিতে পিওর সায়েন্স (Pure Science) নিয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা একটি প্রতিযোগিতামূলক মেধা পরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচিত হয়।

  • যোগ্যতা: মাধ্যমিকে অন্তত ৭৫% নম্বর সহ একাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান শাখা নিয়ে পড়াশোনা।
  • সুবিধা: একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে প্রতি মাসে ₹১,২৫০/- টাকা স্কলারশিপ এবং বছরে ₹২,৫০০/- টাকার বুক গ্রান্ট (Book Grant)।
  • অফিসিয়াল ওয়েবসাইট: jbnsts.ac.in

৮ ন্যাশনাল মিনস-কাম-মেরিট স্কলারশিপ (NMMS Scheme)

Class 8 এ পরীক্ষা (৯ম-১২শ শ্রেণি পর্যন্ত ভাতা)

কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক পরিচালিত এই স্কলারশিপে অষ্টম শ্রেণিতে পড়াকালীন একটি রাজ্যভিত্তিক মেধা পরীক্ষা (MAT & SAT) নেওয়া হয়। সফল প্রার্থীরা নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত চার বছর লাগাতার আর্থিক সাহায্য পায়।

  • যোগ্যতা: সপ্তম শ্রেণিতে অন্তত ৫৫% নম্বর (SC/ST ৫০%) এবং পারিবারিক আয় বার্ষিক ₹৩,৫০,০০০ টাকার কম।
  • ভাতার পরিমাণ: প্রতি বছর ₹১২,০০০/- টাকা (প্রতি মাসে ₹১,০০০/- হিসাবে ৪ বছর)।
  • পোর্টাল: scholarships.wbsed.gov.in

৯ সীতারাম জিন্দাল ফাউন্ডেশন স্কলারশিপ (Sitaram Jindal Scholarship)

Class 11 & 12 (বেসরকারি ট্রাস্ট)

একটি স্বনামধন্য দাতব্য ট্রাস্ট কর্তৃক পরিচালিত এই স্কলারশিপে সারা ভারতের সাথে পশ্চিমবঙ্গের দুঃস্থ ও মেধাবী পড়ুয়ারাও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে পড়াশোনার জন্য আর্থিক অনুদান পায়।

  • যোগ্যতা: মাধ্যমিকে বালকদের জন্য অন্তত ৬০% নম্বর এবং বালিকাদের জন্য ৫৫% নম্বর।
  • ভাতার পরিমাণ: প্রতি মাসে ₹৫০০/- (বছরে মোট ₹৬,০০০/-)।
  • ওয়েবসাইট: sitaramjindalfoundation.org

১০ HDFC Bank পরিবর্তন - পারভর্শ স্কলারশিপ (ECSS Scheme)

Class 1 to 12 (CSR স্কলারশিপ)

এইচডিএফসি ব্যাংকের শিক্ষামূলক স্কলারশিপটি বিশেষ করে সেই সমস্ত স্কুলপড়ুয়াদের জন্য, যাদের পরিবার সাম্প্রতিক সময়ে কোনো বড় ধরনের আর্থিক সংকট বা ব্যক্তিগত বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে।

  • যোগ্যতা: পূর্ববর্তী শ্রেণিতে অন্তত ৫৫% নম্বর এবং পারিবারিক বার্ষিক আয় ₹২,৫০,০০০ টাকার মধ্যে।
  • ভাতার পরিমাণ: প্রথম থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ₹১৫,০০০ এবং সপ্তম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির জন্য ₹১৮,০০০/- টাকা পর্যন্ত।
  • আবেদন মাধ্যম: Buddy4Study পোর্টাল।

স্কলারশিপে আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস তালিকা

যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি স্কলারশিপের আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করার আগে নিচের ডকুমেন্টগুলোর স্পষ্ট স্ক্যান কপি নিজের কাছে গুছিয়ে রাখুন:

ব্যক্তিগত ও পরিচয়পত্র
  • শিক্ষার্থীর আধার কার্ডের (Aadhaar Card) জেরক্স।
  • রঙিন পাসপোর্ট সাইজ ছবি ও ডিজিটাল স্বাক্ষর।
  • ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেট বা বয়সের প্রমাণপত্র।
ব্যাংক ও একাডেমিক নথি
  • সর্বশেষ উত্তীর্ণ পরীক্ষার মার্কশিট (Marksheet)।
  • বর্তমান ক্লাসে ভর্তির রসিদ (School Admission Receipt)।
  • নিজস্ব ব্যাংক পাসবুকের প্রথম পাতার কপি (Aadhaar Seeded)।
ইনকাম ও ক্যাটাগরি সার্টিফিকেট
  • গেজেটেড অফিসার (BDO / SDO / Municipality Executive Officer) কর্তৃক প্রদত্ত পারিবারিক ইনকাম সার্টিফিকেট।
  • জাতিগত শংসাপত্র (SC/ST/OBC Certificate) — OASIS স্কলারশিপের ক্ষেত্রে আবশ্যিক।
সতর্কবার্তা (Aadhaar NPCI Linking): আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি আধার এবং NPCI ম্যাপার-এর সাথে সিডেড (Seeded) আছে কি না তা আগে নিশ্চিত করে নিন। অ্যাকাউন্ট আধার লিঙ্কড না থাকলে স্কলারশিপ মঞ্জুর হওয়া সত্ত্বেও অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে না।

কীভাবে অনলাইনে আবেদন করবেন? (ধাপে ধাপে পদ্ধতি)

  1. সঠিক স্কলারশিপ নির্বাচন: আপনার শ্রেণি, প্রাপ্ত নম্বর এবং পারিবারিক ক্যাটাগরি অনুযায়ী উপযুক্ত স্কলারশিপটি বেছে নিন।
  2. অফিসিয়াল পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন: নির্দিষ্ট স্কলারশিপের সরকারি পোর্টালে গিয়ে 'Student Registration' অপশনে ক্লিক করুন এবং নিজের নাম, মোবাইল নম্বর, ইমেল ও আধার নম্বর দিয়ে রেজিস্টার করুন।
  3. ফর্ম পূরণ (Application Form): ব্যক্তিগত তথ্য, পরিবারের বাৎসরিক আয়, বর্তমান স্কুলের নাম ও রোল নম্বর নির্ভুলভাবে ইনপুট করুন।
  4. ডকুমেন্টস আপলোড: মার্কশিট, ইনকাম সার্টিফিকেট এবং ব্যাংক পাসবুকের পরিষ্কার PDF/JPG কপি নির্দিষ্ট সাইজে আপলোড করুন।
  5. চূড়ান্ত সাবমিশন ও ভেরিফিকেশন: ফর্মটি ফাইনাল সাবমিট করে অ্যাপ্লিকেশন ফর্মের প্রিন্টআউট কপি নিয়ে নিজের স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দিন। স্কুল থেকে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হলেই জেলা ও রাজ্য স্তর হয়ে আপনার টাকা ব্যাংকে আসবে।

"শিক্ষা হলো আলোর দিশারী। সরকারি আর্থিক সহায়তার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করো এবং নিজের লক্ষ্য অর্জনে অবিচল থাকো।"

— Science Tips Scholarship Desk

উপসংহার (Conclusion)

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের SVMCM, Kanyashree, Aikyashree, OASIS এবং Taruner Swapno প্রকল্পগুলোর কারণে আজ রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রান্তিক পরিবারের ছাত্রছাত্রীরাও নিজেদের পড়াশোনা নির্বিঘ্নে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছে। আপনি যদি কোনো ক্লাসের যোগ্য শিক্ষার্থী হয়ে থাকেন, তবে শেষ তারিখের জন্য অপেক্ষা না করে নির্দিষ্ট পোর্টালে গিয়ে সময়মতো আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফেলুন।

স্কলারশিপের নতুন নোটিফিকেশন, আবেদন শুরু ও শেষ হওয়ার তারিখ এবং স্ট্যাটাস চেকিং সংক্রান্ত যেকোনো নতুন আপডেটের জন্য নিয়মিত আমাদের Science Tips ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। আপনার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা!


প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQs)

মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৬০% বা তার বেশি নম্বর পেলে উচ্চমাধ্যমিক (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি) স্তরের পড়ুয়ারা স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট-কাম-মিনস স্কলারশিপ (SVMCM)-এর জন্য আবেদন করতে পারে। যেখানে বছরে ১২,০০০ টাকা (প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা) দেওয়া হয়। এছাড়া ৫০% থেকে ৫৯% নম্বর থাকলে নবান্ন (Chief Minister Relief Fund) স্কলারশিপের জন্য আবেদন করা যায়।

না। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একজন শিক্ষার্থী একই শিক্ষাবর্ষে একটির বেশি রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকারি স্কলারশিপ (যেমন SVMCM এবং OASIS একসাথে) গ্রহণ করতে পারে না। তবে কন্যাশ্রী বা তরুণের স্বপ্ন ট্যাবের টাকা অন্য যেকোনো স্কলারশিপের সাথেই একসাথে পাওয়া যায় কারণ সেগুলো আর্থিক ইনসেন্টিভ বা বিশেষ প্রকল্প।

বর্তমানে সমস্ত সরকারি স্কলারশিপের টাকা Direct Benefit Transfer (DBT)-এর মাধ্যমে সরাসরি শিক্ষার্থীর আধার-লিঙ্কড ব্যাংক অ্যাকাউন্টে (Aadhaar Seeded Bank Account) পাঠানো হয়। তাই ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সাথে আধার সিডিং থাকা বাধ্যতামূলক।

পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন ও পার্সি সম্প্রদায়ের ছাত্রছাত্রীদের জন্য রয়েছে 'ঐক্যশ্রী' (Aikyashree) স্কলারশিপ। এর অধীনে প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রি-ম্যাট্রিক এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে পোস্ট-ম্যাট্রিক ও টিএসপি সুবিধা দেওয়া হয়।

পশ্চিমবঙ্গের তফসিলি জাতি (SC), তফসিলি উপজাতি (ST) এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (OBC)-ভুক্ত পড়ুয়াদের 'OASIS' পোর্টাল (oasis.wb.gov.in)-এর মাধ্যমে প্রি-ম্যাট্রিক ও পোস্ট-ম্যাট্রিক স্কলারশিপে আবেদন করতে হয়।

Discussion 0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

No comments yet. Be the first to share your thoughts!